সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

আলু যেন গলার কাঁটা

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৮:২২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • 53

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

গাইবান্ধার সবজি ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সাদুল্লাপুর এলাকা। এখানে অন্য ফসলের পাশাপাশি অধিক পরিমাণ জমিতে আবাদ হয় আলুর। স্থানীয়ভাবে চাহিদা মিটিয়ে এ ফসল বিক্রি করে অনেকটা লাভবান হয়ে থাকেন কৃষকরা। কিন্তু এ বছর ধস নেমেছে আলুর বাজারে।

ফলে স্টোরেজে রাখা আলু যেন কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকরাও।

এদিকে আলু চাষিরা বলছেন, আগের বছরে আলু ফসল নিয়ে বেশ লাভবান হয়েছিলেন। কিন্তু এ বছর মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত দামে বীজ ক্রয় করেছেন। একই অবস্থা সার-কিটনাশকেও। তবুও ভালো দামের আশায় ধারদেনা করে আলুর আবাদ করেছেন।

এতে বাম্পার ফলন পেয়ে হাসি ফুটছিল তাদের মুখে। কিন্তু এসব আলু বিভিন্ন স্টোরেজে সংরক্ষণ করে এখন সেই হাসি ম্লান হয়েছে তাদের।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা জানায়, লাভের আশায় বেশি পরিমাণ আলু হিমাগারে মজুত করেছিলেন তারা। এ আলু উৎপাদনসহ হিমাগারের ভাড়া মিলে প্রতি কেজিতে ২৩ টাকা খরচ পড়লেও বর্তমানে প্রতি কেজির পাইকারি বাজার মূল্য ৯ টাকা। এরপরও মিলছে না ক্রেতা।

আর আলুগুলো যদি বাইরে রপ্তানি করা যেতো তাহলে কেউই লোকশানে পড়তেন না। এ ব্যর্থতায় আসছে রবি মৌসুমে আলু উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।

ধাপেরহাটের আরভি কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত ৪০ হাজার বস্তা আলু খলাস পেয়েছে। বাজার ধসের কারণে অবশিষ্ঠ ৯০ হাজার বস্তা আলু কৃষক-ব্যবসায়ীরা বের করছেন না। এতে করে কোটি টাকা ক্ষতির শঙ্কায় এ প্রতিষ্ঠান।

সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য্য জানান, চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি হওয়ায় এবার আলুর দাম কমেছে। আমরা কৃষকদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করব।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

আলু যেন গলার কাঁটা

আপডেট টাইম : ০৮:২২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

গাইবান্ধার সবজি ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সাদুল্লাপুর এলাকা। এখানে অন্য ফসলের পাশাপাশি অধিক পরিমাণ জমিতে আবাদ হয় আলুর। স্থানীয়ভাবে চাহিদা মিটিয়ে এ ফসল বিক্রি করে অনেকটা লাভবান হয়ে থাকেন কৃষকরা। কিন্তু এ বছর ধস নেমেছে আলুর বাজারে।

ফলে স্টোরেজে রাখা আলু যেন কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকরাও।

এদিকে আলু চাষিরা বলছেন, আগের বছরে আলু ফসল নিয়ে বেশ লাভবান হয়েছিলেন। কিন্তু এ বছর মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত দামে বীজ ক্রয় করেছেন। একই অবস্থা সার-কিটনাশকেও। তবুও ভালো দামের আশায় ধারদেনা করে আলুর আবাদ করেছেন।

এতে বাম্পার ফলন পেয়ে হাসি ফুটছিল তাদের মুখে। কিন্তু এসব আলু বিভিন্ন স্টোরেজে সংরক্ষণ করে এখন সেই হাসি ম্লান হয়েছে তাদের।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা জানায়, লাভের আশায় বেশি পরিমাণ আলু হিমাগারে মজুত করেছিলেন তারা। এ আলু উৎপাদনসহ হিমাগারের ভাড়া মিলে প্রতি কেজিতে ২৩ টাকা খরচ পড়লেও বর্তমানে প্রতি কেজির পাইকারি বাজার মূল্য ৯ টাকা। এরপরও মিলছে না ক্রেতা।

আর আলুগুলো যদি বাইরে রপ্তানি করা যেতো তাহলে কেউই লোকশানে পড়তেন না। এ ব্যর্থতায় আসছে রবি মৌসুমে আলু উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।

ধাপেরহাটের আরভি কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত ৪০ হাজার বস্তা আলু খলাস পেয়েছে। বাজার ধসের কারণে অবশিষ্ঠ ৯০ হাজার বস্তা আলু কৃষক-ব্যবসায়ীরা বের করছেন না। এতে করে কোটি টাকা ক্ষতির শঙ্কায় এ প্রতিষ্ঠান।

সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য্য জানান, চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি হওয়ায় এবার আলুর দাম কমেছে। আমরা কৃষকদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করব।