সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
জলবায়ু সংকট

আসছে তীব্র গরম, ভয়াবহ বাস্তবতার মুখে দেশ

ছবি : সংগৃহীত

২০২৫ সাল ছিল বিশ্ব ইতিহাসে তৃতীয় উষ্ণতম বছর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কপেরনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (থ্রিসিএস) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট হাইলাইটস ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের গড় তাপমাত্রা ছিল ২০২৪ সালের তুলনায় মাত্র দশমিক ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। ২০২৪ সাল ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণ বছর। এর আগে ২০২৩ সালও ছিল প্রায় একই রকম উষ্ণ। প্রথমবারের মতো টানা তিন বছর ২০২৩ থেকে ২০২৫ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের (১৮৫০–১৯০০) তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়েছে।

 

প্রতিদিনই বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা

প্রতিবেদনের একটি চার্টে দেখা যায়, ১৯৪০ সাল থেকে প্রতিদিনের গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এল নিনো ও লা নিনার মতো প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো তাপমাত্রায় সাময়িক প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৫ সাল ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ লা নিনা বছর। সাধারণত লা নিনা তাপমাত্রা কমায়, কিন্তু এবার তা হয়নি।

 

বিশ্বের বেশির ভাগ অঞ্চলেই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি

২০২৫ সালের বৈশ্বিক মানচিত্রে দেখা গেছে, পৃথিবীর অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চল এবং পশ্চিম রাশিয়ায় তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

আসছে মাথা ঘুরানো গরম, ভয়ংকর কিছু বাস্তবতা

ভয়াবহ সংকটে সমুদ্রের বরফ

আর্কটিক অঞ্চলে মার্চ মাসে বরফের পরিমাণ ছিল স্যাটেলাইট রেকর্ডের ৪৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সেপ্টেম্বর মাসে বরফের পরিমাণ ছিল ১৩তম সর্বনিম্ন। অ্যান্টার্কটিকায় ফেব্রুয়ারিতে বরফের পরিমাণ ছিল চতুর্থ সর্বনিম্ন এবং সেপ্টেম্বরে তৃতীয় সর্বনিম্ন।

ফেব্রুয়ারি মাসে আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিক দুই মেরুর বরফ মিলিয়ে বৈশ্বিক সমুদ্রবরফের পরিমাণ ছিল ইতিহাসের সর্বনিম্ন।

আসছে মাথা ঘুরানো গরম, ভয়ংকর কিছু বাস্তবতা

সমুদ্রের পানিও অস্বাভাবিক উষ্ণ

এল নিনো না থাকলেও ২০২৫ সালে মেরু অঞ্চল বাদে বিশ্বের সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে কিছুটা কম তাপমাত্রা দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে সমুদ্র উষ্ণ ছিল।

 

সারা বছরই ১ ডিগ্রির বেশি উষ্ণ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রতিটি দিনই শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় অন্তত ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ ছিল। এর মধ্যে ১৫১ দিন তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছাড়িয়েছে।

আসছে মাথা ঘুরানো গরম, ভয়ংকর কিছু বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালের মতো চরম না হলেও ২০২৫ সালও বৈশ্বিক উষ্ণতার আশঙ্কা ও বাস্তবতা দেখিয়ে দিয়েছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সাল বিশ্ব ইতিহাসের চারটি উষ্ণতম বছরের একটি হতে পারে। ।

কপেরনিকাসে বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও সব চার্টের তথ্য পেতে নিচে ক্লিক করুন-

Global Climate Highlights 2025

Graphics from the report

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

জলবায়ু সংকট

আসছে তীব্র গরম, ভয়াবহ বাস্তবতার মুখে দেশ

আপডেট টাইম : ১১:৩০:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৫ সাল ছিল বিশ্ব ইতিহাসে তৃতীয় উষ্ণতম বছর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কপেরনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (থ্রিসিএস) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট হাইলাইটস ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের গড় তাপমাত্রা ছিল ২০২৪ সালের তুলনায় মাত্র দশমিক ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। ২০২৪ সাল ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণ বছর। এর আগে ২০২৩ সালও ছিল প্রায় একই রকম উষ্ণ। প্রথমবারের মতো টানা তিন বছর ২০২৩ থেকে ২০২৫ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের (১৮৫০–১৯০০) তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়েছে।

 

প্রতিদিনই বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা

প্রতিবেদনের একটি চার্টে দেখা যায়, ১৯৪০ সাল থেকে প্রতিদিনের গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এল নিনো ও লা নিনার মতো প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো তাপমাত্রায় সাময়িক প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৫ সাল ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ লা নিনা বছর। সাধারণত লা নিনা তাপমাত্রা কমায়, কিন্তু এবার তা হয়নি।

 

বিশ্বের বেশির ভাগ অঞ্চলেই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি

২০২৫ সালের বৈশ্বিক মানচিত্রে দেখা গেছে, পৃথিবীর অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চল এবং পশ্চিম রাশিয়ায় তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

আসছে মাথা ঘুরানো গরম, ভয়ংকর কিছু বাস্তবতা

ভয়াবহ সংকটে সমুদ্রের বরফ

আর্কটিক অঞ্চলে মার্চ মাসে বরফের পরিমাণ ছিল স্যাটেলাইট রেকর্ডের ৪৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সেপ্টেম্বর মাসে বরফের পরিমাণ ছিল ১৩তম সর্বনিম্ন। অ্যান্টার্কটিকায় ফেব্রুয়ারিতে বরফের পরিমাণ ছিল চতুর্থ সর্বনিম্ন এবং সেপ্টেম্বরে তৃতীয় সর্বনিম্ন।

ফেব্রুয়ারি মাসে আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিক দুই মেরুর বরফ মিলিয়ে বৈশ্বিক সমুদ্রবরফের পরিমাণ ছিল ইতিহাসের সর্বনিম্ন।

আসছে মাথা ঘুরানো গরম, ভয়ংকর কিছু বাস্তবতা

সমুদ্রের পানিও অস্বাভাবিক উষ্ণ

এল নিনো না থাকলেও ২০২৫ সালে মেরু অঞ্চল বাদে বিশ্বের সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে কিছুটা কম তাপমাত্রা দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে সমুদ্র উষ্ণ ছিল।

 

সারা বছরই ১ ডিগ্রির বেশি উষ্ণ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রতিটি দিনই শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় অন্তত ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ ছিল। এর মধ্যে ১৫১ দিন তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছাড়িয়েছে।

আসছে মাথা ঘুরানো গরম, ভয়ংকর কিছু বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালের মতো চরম না হলেও ২০২৫ সালও বৈশ্বিক উষ্ণতার আশঙ্কা ও বাস্তবতা দেখিয়ে দিয়েছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সাল বিশ্ব ইতিহাসের চারটি উষ্ণতম বছরের একটি হতে পারে। ।

কপেরনিকাসে বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও সব চার্টের তথ্য পেতে নিচে ক্লিক করুন-

Global Climate Highlights 2025

Graphics from the report