সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

আসামি দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি, না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি রাজশাহীর সাংবাদিক নেতাদের

রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার নগরীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা এবং এর মাধ্যমে সাংবাদিক সমাজকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বলেন, আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সন্ত্রাসী চক্রের হামলার শিকার হয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে একটি গোষ্ঠী আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করায় তারা অস্ত্র নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করে হামলা চালায়।
তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমার মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হলে আত্মরক্ষার চেষ্টা করি। এতে আমি গুরুতর আহত হই এবং এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা হতাশ।
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অবিলম্বে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা না হলে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর আন্দোলনে নামবে।”
এ সময় বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শেখ রহমতুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ মামুনুর রশীদসহ অন্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে যানবাহন ভাড়া করে সন্ত্রাসীরা এ হামলা সংঘটিত করেছে।
রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রাব্বানী বলেন, ঘটনার পরও প্রধান অভিযুক্ত নূরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলী গ্রেপ্তার হয়নি। তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
এদিকে, রাজশাহী প্রেসক্লাব থেকে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনো কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান বক্তারা।
ঘটনার পর বোয়ালিয়া মডেল থানায় নূরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাংবাদিক নেতারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে রাজশাহীতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ মার্চ রাত ৮টার দিকে নগরীর শিরোইল কাঁচাবাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। দাবি প্রত্যাখ্যান করায় হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার সময় নূরে ইসলাম মিলন আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে এবং সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করলে রেজাউল করিম প্রতিরোধ করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার শরীরে ১৩টি সেলাই দিতে হয়।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. জিললুর রহমানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে আরএমপি পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র গাজিউর রহমান (উপ-পুলিশ কমিশনার) বলেন, “ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

আসামি দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি, না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি রাজশাহীর সাংবাদিক নেতাদের

আপডেট টাইম : ০৫:০৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার নগরীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা এবং এর মাধ্যমে সাংবাদিক সমাজকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বলেন, আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সন্ত্রাসী চক্রের হামলার শিকার হয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে একটি গোষ্ঠী আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করায় তারা অস্ত্র নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করে হামলা চালায়।
তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমার মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হলে আত্মরক্ষার চেষ্টা করি। এতে আমি গুরুতর আহত হই এবং এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা হতাশ।
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অবিলম্বে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা না হলে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর আন্দোলনে নামবে।”
এ সময় বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শেখ রহমতুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ মামুনুর রশীদসহ অন্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে যানবাহন ভাড়া করে সন্ত্রাসীরা এ হামলা সংঘটিত করেছে।
রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রাব্বানী বলেন, ঘটনার পরও প্রধান অভিযুক্ত নূরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলী গ্রেপ্তার হয়নি। তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
এদিকে, রাজশাহী প্রেসক্লাব থেকে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনো কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান বক্তারা।
ঘটনার পর বোয়ালিয়া মডেল থানায় নূরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাংবাদিক নেতারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে রাজশাহীতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ মার্চ রাত ৮টার দিকে নগরীর শিরোইল কাঁচাবাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। দাবি প্রত্যাখ্যান করায় হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার সময় নূরে ইসলাম মিলন আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে এবং সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করলে রেজাউল করিম প্রতিরোধ করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার শরীরে ১৩টি সেলাই দিতে হয়।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. জিললুর রহমানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে আরএমপি পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র গাজিউর রহমান (উপ-পুলিশ কমিশনার) বলেন, “ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”