সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে উত্তাল ইউরোপ, দেশে দেশে চলছে বিক্ষোভ

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। ছবি : সংগৃহীত

ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) জাতিসংঘ ঘোষিত ফিলিস্তিনি মানুষের সঙ্গে সংহতির আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এসব বিক্ষোভে গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞ বন্ধে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।

 

রোববার (৩০ নভেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। শনিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বানি সুহেইলায় ড্রোন হামলায় আট ও দশ বছর বয়সী দুই শিশু নিহত হয়।

আলজাজিরা জানিয়েছে, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভ পালিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সমাবেশে অংশ নেন। তারা ‘গাজা, গাজা, প্যারিস তোমার সঙ্গে’ এবং ‘প্যারিস থেকে গাজা— প্রতিরোধ’ স্লোগান দেন। অংশগ্রহণকারীরা ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ তোলেন।

ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অ্যান তুয়াইয়ো বলেন, ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সাত সপ্তাহ পরও ‘কিছুই সমাধান হয়নি’। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল প্রতিদিন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং মানবিক সাহায্যে বাধা দিচ্ছে।

লন্ডন, জেনেভা, রোম ও লিসবনেও বিক্ষোভ

লন্ডনে আয়োজকরা জানান, সেখানে প্রায় ১ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষার দাবি জানান।

 

ইতালির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত প্রধান বিক্ষোভে যোগ দেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রানচেসকা আলবানেসে এবং জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। বিক্ষোভের আগে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, সেখানে প্রায় ১ লাখ মানুষের সমাবেত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

 

আলবানেসে এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েল শুধু গাজায় নয়, পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছে।

 

আলজাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েল সেনারা গাজার ভেতরে একটি ‘হলুদ রেখা’ পর্যন্ত পিছিয়ে গেলেও এখনো ভূখণ্ডের অর্ধেকের বেশি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলের অন্তত ৫০০টি লঙ্ঘন রেকর্ড হয়েছে। এ সময়ে ৩৪৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৮৮৯ জন আহত হয়েছে।

 

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এত মানুষ হত্যা, বারবার পুরো জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত করা এবং মানবিক সাহায্য বাধাগ্রস্ত করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

আল জাজিরার গাজা সিটি প্রতিনিধি জানান, আন্তর্জাতিক সংহতি ফিলিস্তিনিদের মনোবল বাড়ালেও সেখানে মানুষের প্রধান লড়াই এখন বেঁচে থাকা। তিনি বলেন, হাজারো মানুষ এখনো তাঁবুতে বাস করছে। পানি, ওষুধ, শিক্ষা— কোনোটাই যথেষ্ট নেই।

 

বৃহস্পতিবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে জানায়, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে উত্তাল ইউরোপ, দেশে দেশে চলছে বিক্ষোভ

আপডেট টাইম : ০৭:৪৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) জাতিসংঘ ঘোষিত ফিলিস্তিনি মানুষের সঙ্গে সংহতির আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এসব বিক্ষোভে গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞ বন্ধে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।

 

রোববার (৩০ নভেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। শনিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বানি সুহেইলায় ড্রোন হামলায় আট ও দশ বছর বয়সী দুই শিশু নিহত হয়।

আলজাজিরা জানিয়েছে, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভ পালিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সমাবেশে অংশ নেন। তারা ‘গাজা, গাজা, প্যারিস তোমার সঙ্গে’ এবং ‘প্যারিস থেকে গাজা— প্রতিরোধ’ স্লোগান দেন। অংশগ্রহণকারীরা ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ তোলেন।

ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অ্যান তুয়াইয়ো বলেন, ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সাত সপ্তাহ পরও ‘কিছুই সমাধান হয়নি’। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল প্রতিদিন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং মানবিক সাহায্যে বাধা দিচ্ছে।

লন্ডন, জেনেভা, রোম ও লিসবনেও বিক্ষোভ

লন্ডনে আয়োজকরা জানান, সেখানে প্রায় ১ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষার দাবি জানান।

 

ইতালির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত প্রধান বিক্ষোভে যোগ দেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রানচেসকা আলবানেসে এবং জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। বিক্ষোভের আগে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, সেখানে প্রায় ১ লাখ মানুষের সমাবেত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

 

আলবানেসে এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েল শুধু গাজায় নয়, পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছে।

 

আলজাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েল সেনারা গাজার ভেতরে একটি ‘হলুদ রেখা’ পর্যন্ত পিছিয়ে গেলেও এখনো ভূখণ্ডের অর্ধেকের বেশি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলের অন্তত ৫০০টি লঙ্ঘন রেকর্ড হয়েছে। এ সময়ে ৩৪৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৮৮৯ জন আহত হয়েছে।

 

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এত মানুষ হত্যা, বারবার পুরো জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত করা এবং মানবিক সাহায্য বাধাগ্রস্ত করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

আল জাজিরার গাজা সিটি প্রতিনিধি জানান, আন্তর্জাতিক সংহতি ফিলিস্তিনিদের মনোবল বাড়ালেও সেখানে মানুষের প্রধান লড়াই এখন বেঁচে থাকা। তিনি বলেন, হাজারো মানুষ এখনো তাঁবুতে বাস করছে। পানি, ওষুধ, শিক্ষা— কোনোটাই যথেষ্ট নেই।

 

বৃহস্পতিবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে জানায়, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করছে।