সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকট চরমে: সেবা বঞ্চিত ৩ লক্ষ মানুষ!

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার প্রায় তিন লক্ষ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র সরকারি ভরসা ‘৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে হাসপাতালটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে জরুরি ও স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা, যার ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এর মধ্যে রয়েছে:
​বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট: চক্ষু, অর্থোপেডিক সার্জারি, জেনারেল সার্জারি এবং নাক-কান-গলা (ENT) বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট পদগুলো ফাঁকা।
​প্রেষণে বদলি: চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ থাকলেও তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেষণে কর্মরত।
​ল্যাব সংকট: ৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের (ল্যাব) বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। ফলে সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
পরিচ্ছন্নতা ও সহায়ক কর্মী: আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যেই আউটডোরে রোগীর সংখ্যা ৩২০ ছাড়িয়ে গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা জাহানারা বেগম (৫০) আক্ষেপ করে বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ঠিকমতো ডাক্তার পাওয়া যায় না, সব ওষুধও মেলে না।”
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন হওয়ায় এবং শিল্প-কারখানার বিপুল শ্রমিক উপস্থিতির কারণে এই হাসপাতালের গুরুত্ব অপরিসীম। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে গজারিয়াবাসীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকট চরমে: সেবা বঞ্চিত ৩ লক্ষ মানুষ!

আপডেট টাইম : ১১:৫৫:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার প্রায় তিন লক্ষ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র সরকারি ভরসা ‘৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে হাসপাতালটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে জরুরি ও স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা, যার ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এর মধ্যে রয়েছে:
​বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট: চক্ষু, অর্থোপেডিক সার্জারি, জেনারেল সার্জারি এবং নাক-কান-গলা (ENT) বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট পদগুলো ফাঁকা।
​প্রেষণে বদলি: চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ থাকলেও তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেষণে কর্মরত।
​ল্যাব সংকট: ৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের (ল্যাব) বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। ফলে সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
পরিচ্ছন্নতা ও সহায়ক কর্মী: আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যেই আউটডোরে রোগীর সংখ্যা ৩২০ ছাড়িয়ে গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা জাহানারা বেগম (৫০) আক্ষেপ করে বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ঠিকমতো ডাক্তার পাওয়া যায় না, সব ওষুধও মেলে না।”
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন হওয়ায় এবং শিল্প-কারখানার বিপুল শ্রমিক উপস্থিতির কারণে এই হাসপাতালের গুরুত্ব অপরিসীম। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে গজারিয়াবাসীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।