সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

এআই প্রযুক্তিতে নজরদারি শুরু শরীয়তপুরে

শরীয়তপুর শহরের প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে ১২০টি সিসি ক্যামেরা। ছবি : সংগৃহীত

নাগরিকদের নিরাপদে বসবাস ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে শরীয়তপুর জেলা শহরে আধুনিক নজরদারি নিরাপত্তা কার্যক্রম চালু করেছে জেলা প্রশাসন। শহরের প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে ১২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। যার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি।

 

 

তিনটি প্রধান সড়কে বিভক্ত শরীয়তপুর জেলা শহর। এর একটি আংগারিয়া সেতু থেকে শহরের ওপর দিয়ে ঢাকামুখী। অপরটি মনোহর বাজার হয়ে চাঁদপুরমুখী সড়ক এবং অন্যটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাকারমাথা, বটতলা ও পালং বাজার হয়ে পালং স্কুলমুখী সড়ক। এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগ সড়কের প্রবেশ ও বাহির মুখে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

 

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম এর উদ্যোগে পুরো জেলা শহরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে এতে যুক্ত করা হয়েছে এআই প্রযুক্তি। যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সংকেত পাঠাবে।

 

এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড, ধর্মীয় উপাসনালয়, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও বাজারগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। কীর্তিনাশা নদী এর কোটাপাড়া এলাকায় ক্যামেরা বসিয়ে নৌপথও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে স্থাপিত ক্যামেরাগুলোতে বিদ্যুৎ ও সোলার সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ভিডিও সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম। যেখান থেকে সার্বক্ষণিকভাবে পুরো শহর মনিটরিং করা হবে।

 

এআই প্রযুক্তি সংযুক্ত ক্যামেরাগুলো দুর্ঘটনা, যানজট, অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ, বিকট শব্দ, হট্টগোল, সন্দেহজনক চলাফেরা, চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা শনাক্ত করতে সক্ষম। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বর শনাক্ত করে ডিজিটাল মামলা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ভিড়ের মধ্যেও চিহ্নিত অপরাধী শনাক্ত করে কন্ট্রোল রুমে সংকেত পাঠাতে পারবে এআই সিস্টেম।

 

 

জানা গেছে, এ সিস্টেমে ভিডিও ধারনের পাশাপাশি শব্দ ও গলার স্বর বিশ্লেষণ, হাঁটার ধরন ও ফেশিয়াল ডাটা বিশ্লেষণের সুবিধা রয়েছে। কোনো অস্বাভাবিক গতিবিধি শনাক্ত হলেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে সতর্কবার্তা পাঠাবে সিস্টেমটি।

 

 

আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা পুলিশের কাছেও এই নজরদারি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ থাকবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগের ফলে শহরে অপরাধ দমন, যানজট নিরসন এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান উন্নতি আসবে।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও জজকোর্টের পিপি মনিরুজ্জামান দিপু বলেন, জেলা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে শহরের যে কোনো স্থানে কোনো অপরাধ কার্যক্রম ঘটলে অপরাধীদের সহজে শনাক্ত করা যাবে। ফলে শহরবাসীর নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

 

 

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ইভটিজার, মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাংসহ নানা ধরনের অপরাধীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সড়ক ব্যবহার করে থাকে। তাদের শনাক্ত করতে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ১৪ কিলোমিটার সড়কে ১২০ টি এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যাতে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যায়।

 

 

তিনি আরও বলেন, ব্যবহৃত এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ফেরারি আসামি এই নজরদারির আওতায় এলে তাকেও শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগ সফল হলে ধীরে ধীরে পুরো জেলাকে এই প্রযুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

এআই প্রযুক্তিতে নজরদারি শুরু শরীয়তপুরে

আপডেট টাইম : ০৪:২৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাগরিকদের নিরাপদে বসবাস ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে শরীয়তপুর জেলা শহরে আধুনিক নজরদারি নিরাপত্তা কার্যক্রম চালু করেছে জেলা প্রশাসন। শহরের প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে ১২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। যার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি।

 

 

তিনটি প্রধান সড়কে বিভক্ত শরীয়তপুর জেলা শহর। এর একটি আংগারিয়া সেতু থেকে শহরের ওপর দিয়ে ঢাকামুখী। অপরটি মনোহর বাজার হয়ে চাঁদপুরমুখী সড়ক এবং অন্যটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাকারমাথা, বটতলা ও পালং বাজার হয়ে পালং স্কুলমুখী সড়ক। এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগ সড়কের প্রবেশ ও বাহির মুখে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

 

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম এর উদ্যোগে পুরো জেলা শহরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে এতে যুক্ত করা হয়েছে এআই প্রযুক্তি। যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সংকেত পাঠাবে।

 

এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড, ধর্মীয় উপাসনালয়, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও বাজারগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। কীর্তিনাশা নদী এর কোটাপাড়া এলাকায় ক্যামেরা বসিয়ে নৌপথও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে স্থাপিত ক্যামেরাগুলোতে বিদ্যুৎ ও সোলার সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ভিডিও সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম। যেখান থেকে সার্বক্ষণিকভাবে পুরো শহর মনিটরিং করা হবে।

 

এআই প্রযুক্তি সংযুক্ত ক্যামেরাগুলো দুর্ঘটনা, যানজট, অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ, বিকট শব্দ, হট্টগোল, সন্দেহজনক চলাফেরা, চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা শনাক্ত করতে সক্ষম। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বর শনাক্ত করে ডিজিটাল মামলা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ভিড়ের মধ্যেও চিহ্নিত অপরাধী শনাক্ত করে কন্ট্রোল রুমে সংকেত পাঠাতে পারবে এআই সিস্টেম।

 

 

জানা গেছে, এ সিস্টেমে ভিডিও ধারনের পাশাপাশি শব্দ ও গলার স্বর বিশ্লেষণ, হাঁটার ধরন ও ফেশিয়াল ডাটা বিশ্লেষণের সুবিধা রয়েছে। কোনো অস্বাভাবিক গতিবিধি শনাক্ত হলেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে সতর্কবার্তা পাঠাবে সিস্টেমটি।

 

 

আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা পুলিশের কাছেও এই নজরদারি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ থাকবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগের ফলে শহরে অপরাধ দমন, যানজট নিরসন এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান উন্নতি আসবে।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও জজকোর্টের পিপি মনিরুজ্জামান দিপু বলেন, জেলা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে শহরের যে কোনো স্থানে কোনো অপরাধ কার্যক্রম ঘটলে অপরাধীদের সহজে শনাক্ত করা যাবে। ফলে শহরবাসীর নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

 

 

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ইভটিজার, মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাংসহ নানা ধরনের অপরাধীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সড়ক ব্যবহার করে থাকে। তাদের শনাক্ত করতে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ১৪ কিলোমিটার সড়কে ১২০ টি এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যাতে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যায়।

 

 

তিনি আরও বলেন, ব্যবহৃত এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ফেরারি আসামি এই নজরদারির আওতায় এলে তাকেও শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগ সফল হলে ধীরে ধীরে পুরো জেলাকে এই প্রযুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।