সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ৭৫ গ্রাম বিদ্যুৎহীন, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার গ্রাহক

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। বুধবার দুপুরে বয়ে যাওয়া আকস্মিক ঝড়ে উপজেলার অন্তত ৭৫টি গ্রাম বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক। প্রায় ২০ ঘণ্টা পার হলেও অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

স্থানীয় ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর সোয়া একটার দিকে আকস্মিক ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে ও ভেঙে পড়ে। অসংখ্য স্থানে বড় বড় গাছ বিদ্যুতের লাইনের ওপর উপড়ে পড়ায় তার ছিঁড়ে ফিডার লাইনগুলো অকেজো হয়ে যায়। আক্কেলপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৪৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

​দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকরা। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন অনেকে। সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে ফ্রিজে রাখা খাবার নিয়ে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ পরিবারগুলোর সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

​পৌরশহরের পালপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মাহমুদুর রহমান (মানু) বলেন, বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাইনি। আমাদের সেকশনে সামান্য ঝড়েই লাইন বন্ধ হয়ে যায়। ফ্রিজের সব খাবার নষ্ট হওয়ার পথে।একই চিত্র গোপীনাথপুর ও রায়কালী ইউনিয়নসহ উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদে।

​ঝড়ের কয়েক ঘণ্টা পর পৌরশহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলেও হাস্তাবসন্তপুর, পালপাড়া, জিয়ানীপাড়া, শ্রীকৃষ্টপুর ও শান্তা মহল্লাসহ অনেক এলাকায় এখনো অন্ধকার বিরাজ করছে। মাঠপর্যায়ে পল্লী বিদ্যুতের একাধিক কারিগরি দল মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

​জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুর রহমান জানান, ঝড়ে বিপুল সংখ্যক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেরামত কাজে সময় লাগছে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন আছেন। আমাদের কর্মীরা নিরলস কাজ করছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরো উপজেলায় সরবরাহ সচল করার চেষ্টা চলছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ৭৫ গ্রাম বিদ্যুৎহীন, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার গ্রাহক

আপডেট টাইম : ০৫:০৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। বুধবার দুপুরে বয়ে যাওয়া আকস্মিক ঝড়ে উপজেলার অন্তত ৭৫টি গ্রাম বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক। প্রায় ২০ ঘণ্টা পার হলেও অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

স্থানীয় ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর সোয়া একটার দিকে আকস্মিক ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে ও ভেঙে পড়ে। অসংখ্য স্থানে বড় বড় গাছ বিদ্যুতের লাইনের ওপর উপড়ে পড়ায় তার ছিঁড়ে ফিডার লাইনগুলো অকেজো হয়ে যায়। আক্কেলপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৪৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

​দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকরা। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন অনেকে। সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে ফ্রিজে রাখা খাবার নিয়ে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ পরিবারগুলোর সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

​পৌরশহরের পালপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মাহমুদুর রহমান (মানু) বলেন, বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাইনি। আমাদের সেকশনে সামান্য ঝড়েই লাইন বন্ধ হয়ে যায়। ফ্রিজের সব খাবার নষ্ট হওয়ার পথে।একই চিত্র গোপীনাথপুর ও রায়কালী ইউনিয়নসহ উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদে।

​ঝড়ের কয়েক ঘণ্টা পর পৌরশহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলেও হাস্তাবসন্তপুর, পালপাড়া, জিয়ানীপাড়া, শ্রীকৃষ্টপুর ও শান্তা মহল্লাসহ অনেক এলাকায় এখনো অন্ধকার বিরাজ করছে। মাঠপর্যায়ে পল্লী বিদ্যুতের একাধিক কারিগরি দল মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

​জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুর রহমান জানান, ঝড়ে বিপুল সংখ্যক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেরামত কাজে সময় লাগছে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন আছেন। আমাদের কর্মীরা নিরলস কাজ করছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরো উপজেলায় সরবরাহ সচল করার চেষ্টা চলছে।