সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

কৃষি কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে রাণীনগরের এডব্লিউডি প্রকল্প হুমকিতে

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কৃষি অফিসের দুর্বল মনিটরিং, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্ব প্রাপ্তদের অবহেলার কারণে রাণীনগর উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় কমিয়ে কাঙ্খিত ধান উৎপাদন এবং পানির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করণে চলমান এডব্লিউডি প্রকল্প ভেস্তে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানাগেছে, প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) এর আওতায় রাণীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে উপজেলায় ক্লাস্টার অল্টারনেটিভ ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং বা পর্যায় ক্রমে জমি ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি) প্রযুক্তি প্রদর্শনী উপজেলার ৪ জন কৃষকের ৮ একর জমিতে দেওয়া হয়েছে।
কৃষকরা হলেন জলকৈ গ্রামের শাহাদত আলীর ছেলে কৃষক কামরুল ইসলাম,চকবলরাম গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে কৃষক ওসমান আলী,কালীগ্রাম কসবাপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে কৃষক বাবু সরদার এবং আতাইকুলা গ্রামের লেদু সরদারের ছেলে কৃষক আমিনুল ইসলামক।
প্রদর্শনীর উপকরন হিসেবে প্রতি দুই একর জমি চাষের জন্য ২০কেজি ব্রি-ধান ১০২ জাতের ধান বীজ,ইউরিয়া সার ২বস্তা,ডিএপি সার ২বস্তা,পটাশ সার ২বস্তা,জৈব সার ২বস্তা,জীবসাম ৫০কেজি,দস্তা ৪কেজি,বরুন সার৫কেজি,১০ইঞ্চি ব্যাসের ৬টি পাইপ ও কিটনাশকসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রদর্শনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতি দুই একর জমিতে ধান রোপনের ১২-১৫ দিনের মধ্যে জমির ৪টি ধানের গোছার মাঝখানে এডব্লিউডি ১০ইঞ্চির ৬টি পিভিসি পাইপ স্থাপন করতে হবে। ১০ইঞ্চি পাইপের ৬ইঞ্চি ছিদ্রযুক্ত অংশ মাটির নিচে এবং ৪ইঞ্চি মাটির উপরে থাকবে। জমিতে একবার সেচ দেয়ার পর যতক্ষন পর্যন্ত পাইপের ভিতরের তলায় পানি দেখা যাবে ততক্ষন নতুন করে সেচের প্রয়োজন হবেনা। এভাবেই ধান রোপনের পর থেকে থোর আসা পর্যন্ত সেচ দিতে হবে। এছাড়া থোর আসার পর থেকে জমিতে হালকা পানি রাখতে হবে। এতে প্রায় ৩৫-৫০শতাংশ পর্যন্ত কম পানি সেচ দিয়ে কাঙ্খিত ফলনসহ ধান ঘরে তোলা যায়। এতে একদিকে যেমন ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় কম হয়,অন্যদিকে ধানে রোগ বালাই রোধসহ ফলন ভাল পাওয়া যায়। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বদ্ধ করতে সরকার এমন উদ্যোগ নিলেও শুধুমাত্র কৃষকদের উপকরণ দিয়েই কৃষি কর্মকর্তারা দায়িত্ব শেষ করেছেন।
কৃষকদের অভিযোগ ,জমিতে কিভাবে পাইপ স্থাপন করতে হয় বা কি নিয়মে পানি সেচ দিতে হয় কৃষি অফিস থেকে এসব কিছুই জানানো হয়নি। ফলে আগের মতোই জমিতে সেচ দিয়ে ধান চাষ করছেন ।
চকবলরাম গ্রামের কৃষক ওসমান আলী জানান,কৃষি অফিস থেকে অন্যান্য উপকরনের সাথে ১০ইঞ্চির ৬টি পাইপ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পাইপগুলো কিভাবে জমিতে বসাতে হবে তা জানা নেই। ফলে কাদার মধ্যে বসিয়ে রেখে আগের মতোই সনাতন পদ্ধতিতে পানি সেচ দিয়ে ধান চাষ করছি।
কালীগ্রাম কসবাপড়া গ্রামের কৃষক বাবু সরদার,আতাইকুলা গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম এবং জলকৈ গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, প্রদর্শনীর বিভিন্ন উপকরণ পাইলেও পাইপ পাইনি। পাইপ দিয়ে কি কাজ হবে তাও জানা নেই। এছাড়া কেন,কি উদ্দেশ্যে এই প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে কৃষি অফিস থেকে বলা বা বোঝানো হয়নি। ফলে আগের মত করেই জমিতে ধান চাষ করছি।
তবে ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সানারুল ইসলাম,ওয়াজেদ আলী এবং আফাজ উদ্দীন জানান, কৃষকদের বার বার ফোন করেও আসেনি। ফলে পাইপগুলো এখনো আমাদের কাছেই আছে।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাকিমা খাতুন সাংবাদিকদের নিকট জানান, প্রদর্শনী সর্ম্পকিত অন্যান্য উপকরন দেয়া হলেও ব্লক সুপার ভাইজাররা পাইপ গুলো কৃষকের কাছে পৌছাইনি। তিনি বলেন, ব্লক সুপার ভাইজারদের অসহযোগিতার কারনেই কৃষকরা এমন সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে তাদের উপর দায় চাপিয়ে পাস কাটানোর চেষ্টা করেন।
  নওগাঁ জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ পরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন,এখানে শুধু ব্লক সুপার ভাইজারদের একার দায়িত্ব নয়,কৃষি কর্মকর্তা প্রতি সপ্তাহে বা ১৫দিন পরপর মিটিং করবেন এবং প্রদর্শনী মনিটরিং করবেন। এরপরেও কেন এই প্রকল্পের অবস্থা এরকম হলো তা সরেজমিন পরিদর্শণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কৃষকদের অভিযোগ ,জমিতে কিভাবে পাইপ স্থাপন করতে হয় বা কি নিয়মে পানি সেচ দিতে হয় কৃষি অফিস থেকে এসব কিছুই জানানো হয়নি। ফলে আগের মতোই জমিতে সেচ দিয়ে ধান চাষ করছেন ।
চকবলরাম গ্রামের কৃষক ওসমান আলী জানান,কৃষি অফিস থেকে অন্যান্য উপকরনের সাথে ১০ইঞ্চির ৬টি পাইপ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পাইপগুলো কিভাবে জমিতে বসাতে হবে তা জানা নেই। ফলে কাদার মধ্যে বসিয়ে রেখে আগের মতোই সনাতন পদ্ধতিতে পানি সেচ দিয়ে ধান চাষ করছি।
কালীগ্রাম কসবাপড়া গ্রামের কৃষক বাবু সরদার,আতাইকুলা গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম এবং জলকৈ গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, প্রদর্শনীর বিভিন্ন উপকরণ পাইলেও পাইপ পাইনি। পাইপ দিয়ে কি কাজ হবে তাও জানা নেই। এছাড়া কেন,কি উদ্দেশ্যে এই প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে কৃষি অফিস থেকে বলা বা বোঝানো হয়নি। ফলে আগের মত করেই জমিতে ধান চাষ করছি।
তবে ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সানারুল ইসলাম,ওয়াজেদ আলী এবং আফাজ উদ্দীন জানান, কৃষকদের বার বার ফোন করেও আসেনি। ফলে পাইপগুলো এখনো আমাদের কাছেই আছে।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাকিমা খাতুন সাংবাদিকদের নিকট জানান, প্রদর্শনী সর্ম্পকিত অন্যান্য উপকরন দেয়া হলেও ব্লক সুপার ভাইজাররা পাইপ গুলো কৃষকের কাছে পৌছাইনি। তিনি বলেন, ব্লক সুপার ভাইজারদের অসহযোগিতার কারনেই কৃষকরা এমন সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে তাদের উপর দায় চাপিয়ে পাস কাটানোর চেষ্টা করেন।
  নওগাঁ জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ পরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন,এখানে শুধু ব্লক সুপার ভাইজারদের একার দায়িত্ব নয়,কৃষি কর্মকর্তা প্রতি সপ্তাহে বা ১৫দিন পরপর মিটিং করবেন এবং প্রদর্শনী মনিটরিং করবেন। এরপরেও কেন এই প্রকল্পের অবস্থা এরকম হলো তা সরেজমিন পরিদর্শণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

কৃষি কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে রাণীনগরের এডব্লিউডি প্রকল্প হুমকিতে

আপডেট টাইম : ১২:২৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কৃষি অফিসের দুর্বল মনিটরিং, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্ব প্রাপ্তদের অবহেলার কারণে রাণীনগর উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় কমিয়ে কাঙ্খিত ধান উৎপাদন এবং পানির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করণে চলমান এডব্লিউডি প্রকল্প ভেস্তে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানাগেছে, প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) এর আওতায় রাণীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে উপজেলায় ক্লাস্টার অল্টারনেটিভ ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং বা পর্যায় ক্রমে জমি ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি) প্রযুক্তি প্রদর্শনী উপজেলার ৪ জন কৃষকের ৮ একর জমিতে দেওয়া হয়েছে।
কৃষকরা হলেন জলকৈ গ্রামের শাহাদত আলীর ছেলে কৃষক কামরুল ইসলাম,চকবলরাম গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে কৃষক ওসমান আলী,কালীগ্রাম কসবাপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে কৃষক বাবু সরদার এবং আতাইকুলা গ্রামের লেদু সরদারের ছেলে কৃষক আমিনুল ইসলামক।
প্রদর্শনীর উপকরন হিসেবে প্রতি দুই একর জমি চাষের জন্য ২০কেজি ব্রি-ধান ১০২ জাতের ধান বীজ,ইউরিয়া সার ২বস্তা,ডিএপি সার ২বস্তা,পটাশ সার ২বস্তা,জৈব সার ২বস্তা,জীবসাম ৫০কেজি,দস্তা ৪কেজি,বরুন সার৫কেজি,১০ইঞ্চি ব্যাসের ৬টি পাইপ ও কিটনাশকসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রদর্শনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতি দুই একর জমিতে ধান রোপনের ১২-১৫ দিনের মধ্যে জমির ৪টি ধানের গোছার মাঝখানে এডব্লিউডি ১০ইঞ্চির ৬টি পিভিসি পাইপ স্থাপন করতে হবে। ১০ইঞ্চি পাইপের ৬ইঞ্চি ছিদ্রযুক্ত অংশ মাটির নিচে এবং ৪ইঞ্চি মাটির উপরে থাকবে। জমিতে একবার সেচ দেয়ার পর যতক্ষন পর্যন্ত পাইপের ভিতরের তলায় পানি দেখা যাবে ততক্ষন নতুন করে সেচের প্রয়োজন হবেনা। এভাবেই ধান রোপনের পর থেকে থোর আসা পর্যন্ত সেচ দিতে হবে। এছাড়া থোর আসার পর থেকে জমিতে হালকা পানি রাখতে হবে। এতে প্রায় ৩৫-৫০শতাংশ পর্যন্ত কম পানি সেচ দিয়ে কাঙ্খিত ফলনসহ ধান ঘরে তোলা যায়। এতে একদিকে যেমন ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় কম হয়,অন্যদিকে ধানে রোগ বালাই রোধসহ ফলন ভাল পাওয়া যায়। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বদ্ধ করতে সরকার এমন উদ্যোগ নিলেও শুধুমাত্র কৃষকদের উপকরণ দিয়েই কৃষি কর্মকর্তারা দায়িত্ব শেষ করেছেন।
কৃষকদের অভিযোগ ,জমিতে কিভাবে পাইপ স্থাপন করতে হয় বা কি নিয়মে পানি সেচ দিতে হয় কৃষি অফিস থেকে এসব কিছুই জানানো হয়নি। ফলে আগের মতোই জমিতে সেচ দিয়ে ধান চাষ করছেন ।
চকবলরাম গ্রামের কৃষক ওসমান আলী জানান,কৃষি অফিস থেকে অন্যান্য উপকরনের সাথে ১০ইঞ্চির ৬টি পাইপ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পাইপগুলো কিভাবে জমিতে বসাতে হবে তা জানা নেই। ফলে কাদার মধ্যে বসিয়ে রেখে আগের মতোই সনাতন পদ্ধতিতে পানি সেচ দিয়ে ধান চাষ করছি।
কালীগ্রাম কসবাপড়া গ্রামের কৃষক বাবু সরদার,আতাইকুলা গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম এবং জলকৈ গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, প্রদর্শনীর বিভিন্ন উপকরণ পাইলেও পাইপ পাইনি। পাইপ দিয়ে কি কাজ হবে তাও জানা নেই। এছাড়া কেন,কি উদ্দেশ্যে এই প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে কৃষি অফিস থেকে বলা বা বোঝানো হয়নি। ফলে আগের মত করেই জমিতে ধান চাষ করছি।
তবে ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সানারুল ইসলাম,ওয়াজেদ আলী এবং আফাজ উদ্দীন জানান, কৃষকদের বার বার ফোন করেও আসেনি। ফলে পাইপগুলো এখনো আমাদের কাছেই আছে।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাকিমা খাতুন সাংবাদিকদের নিকট জানান, প্রদর্শনী সর্ম্পকিত অন্যান্য উপকরন দেয়া হলেও ব্লক সুপার ভাইজাররা পাইপ গুলো কৃষকের কাছে পৌছাইনি। তিনি বলেন, ব্লক সুপার ভাইজারদের অসহযোগিতার কারনেই কৃষকরা এমন সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে তাদের উপর দায় চাপিয়ে পাস কাটানোর চেষ্টা করেন।
  নওগাঁ জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ পরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন,এখানে শুধু ব্লক সুপার ভাইজারদের একার দায়িত্ব নয়,কৃষি কর্মকর্তা প্রতি সপ্তাহে বা ১৫দিন পরপর মিটিং করবেন এবং প্রদর্শনী মনিটরিং করবেন। এরপরেও কেন এই প্রকল্পের অবস্থা এরকম হলো তা সরেজমিন পরিদর্শণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কৃষকদের অভিযোগ ,জমিতে কিভাবে পাইপ স্থাপন করতে হয় বা কি নিয়মে পানি সেচ দিতে হয় কৃষি অফিস থেকে এসব কিছুই জানানো হয়নি। ফলে আগের মতোই জমিতে সেচ দিয়ে ধান চাষ করছেন ।
চকবলরাম গ্রামের কৃষক ওসমান আলী জানান,কৃষি অফিস থেকে অন্যান্য উপকরনের সাথে ১০ইঞ্চির ৬টি পাইপ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পাইপগুলো কিভাবে জমিতে বসাতে হবে তা জানা নেই। ফলে কাদার মধ্যে বসিয়ে রেখে আগের মতোই সনাতন পদ্ধতিতে পানি সেচ দিয়ে ধান চাষ করছি।
কালীগ্রাম কসবাপড়া গ্রামের কৃষক বাবু সরদার,আতাইকুলা গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম এবং জলকৈ গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, প্রদর্শনীর বিভিন্ন উপকরণ পাইলেও পাইপ পাইনি। পাইপ দিয়ে কি কাজ হবে তাও জানা নেই। এছাড়া কেন,কি উদ্দেশ্যে এই প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে কৃষি অফিস থেকে বলা বা বোঝানো হয়নি। ফলে আগের মত করেই জমিতে ধান চাষ করছি।
তবে ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সানারুল ইসলাম,ওয়াজেদ আলী এবং আফাজ উদ্দীন জানান, কৃষকদের বার বার ফোন করেও আসেনি। ফলে পাইপগুলো এখনো আমাদের কাছেই আছে।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাকিমা খাতুন সাংবাদিকদের নিকট জানান, প্রদর্শনী সর্ম্পকিত অন্যান্য উপকরন দেয়া হলেও ব্লক সুপার ভাইজাররা পাইপ গুলো কৃষকের কাছে পৌছাইনি। তিনি বলেন, ব্লক সুপার ভাইজারদের অসহযোগিতার কারনেই কৃষকরা এমন সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে তাদের উপর দায় চাপিয়ে পাস কাটানোর চেষ্টা করেন।
  নওগাঁ জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ পরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন,এখানে শুধু ব্লক সুপার ভাইজারদের একার দায়িত্ব নয়,কৃষি কর্মকর্তা প্রতি সপ্তাহে বা ১৫দিন পরপর মিটিং করবেন এবং প্রদর্শনী মনিটরিং করবেন। এরপরেও কেন এই প্রকল্পের অবস্থা এরকম হলো তা সরেজমিন পরিদর্শণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।