সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের যমুনা চরের ৩ টি গ্রাম ঠুটিয়া, ভাটদিঘুলিয়া এবং চৌরপাড়া। শহর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এই ৩ টি গ্রামের হাজারো মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন নৌকা। বিশাল চরের উর্বর জমিতে ফলানো কৃষি পন্য আনা নেওয়া এবং শহরের সাথে মোলাকাতের জন্য নৌকাই একমাত্র সেতু। সেইসাথে যমুনা চরের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর নিত্যদিনের যাতায়াতের মাধ্যমও এটাই।
আর এই যাতায়াতের জন্য নিয়মিত গুনতে হয় বিরাট অঙ্কের টাকা চরের দরিদ্র কৃষক আর কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থীদের জন্য এই ব্যায় মেটানো দুঃসাধ্য ব্যাপার। তাই চরবাসীর কষ্ট লাঘব করতে ব্যায় কমানোর জন্য খেয়াঘাটের ইজারাদারদের সাথে সমন্বয় করে ইজারা মূল্য কমানোর চেষ্টা করছিলেন কৈজুরি ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা। কিন্তু সেই সমন্বয়ের চেষ্টাকে ব্যর্থ করতে ইজারা পেতে অসুস্থ প্রতিযোগীতায় মেতে ওঠে হামীম নামের এক ইজারাদার।
চরবাসীকে অতিরিক্ত খরচের হাত থেকে রক্ষা করতে দরপত্রে অতিরিক্ত মূল্য দাখিল না করার অনুরোধ করলে তা হুমকি হিসেবে প্রচার করে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের চরিত্র হননের চেষ্টা করে হামীম নামের ঐ ইজারাদার।
চরবাসীর যাতায়াতে অতিরিক্ত খরচের হাত থেকে রক্ষার দাবী জানিয়ে কৈজুরি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মীর আইয়ুব আলী, সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী মোহাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সবুর সরকার জানান, যমুনা চরের ৩ টি গ্রাম ঠুটিয়া, ভাট দিঘুলিয়া এবং চৌরপাড়ার মানুষদের নদী পারাপারে প্রতিজনের দিতে হয় চল্লিশ টাকা। দরিদ্র চরবাসীর যাতায়াতে এই খরচ মেটানো দুঃসাধ্য ব্যাপার।
সেইসাথে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী, দরিদ্র কৃষক এবং নিত্যদিনের বাজার করার জন্য যাতায়াতে এমন বাড়তি খরচ মেটানো সত্যি কঠিন।
তাই চরবাসীর কষ্টের কথা মাথায় নিয়ে খেয়াঘাটের স্থানীয় ইজারাদারদের সাথে সমন্বয় করে কম মূল্য দাখিল করে ইজারা নিয়ে ভাড়া অর্ধেকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
এরমধ্যেই হামীম নামের একজন অসুস্থ প্রতিযোগীতায় মেতে উঠে অতিরিক্ত মূল্য দাখিল করে বসে।যা চরবাসীর যাতায়াতের জন্য আগের মতোই গুনতে হবে অতিরিক্ত টাকা। তাকে অতিরিক্ত মূল্য দাখিল না করার অনুরোধ জানালে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি হিসেবে প্রচার করে বিএনপি নেতাদের চরিত্র হননের চেষ্টা করে। এমন চরিত্র হনন এবং অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানান তারা।
এ বিষয়ে যমুনা চরের কৃষকেরা জানান, ইজারাদারদের অতি বাড়াবাড়ি এবং অসুস্থ প্রতিযোগীতার খেসারত দিতে হয় চরবাসীকে। চর থেকে এসে কৈজুরি বাজারে ৫০ টাকার সবজি বিক্রি করে ৪০ টাকা নৌকা ভাড়া দিয়ে ১০ টাকা পকেটে নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। এছাড়াও প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী পারাপারে এতো পরিমাণ টাকা দেওয়া অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার অভিভাবকদের জন্য। ইজারাদারদের এমন অসুস্থ প্রতিযোগীতার বলি থেকে রক্ষা পেতে সহযোগিতা কামনা করেন।

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 

















