সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, সর্বত্রই পদ্ম ফুটেছে : নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে গিয়ে তিনি বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, সর্বত্র পদ্ম ফুটেছে। বিহারের ভোটের ফলের দিনই বলেছিলাম, গঙ্গা বিহার হয়ে গঙ্গাসাগরে যায়।

 

 

 

সোমবার (০৪ মে) আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

নরেন্দ্র মোদি বলেন, গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক। এটি গণতন্ত্রের জয়, সংবিধানের জয়। পশ্চিমবঙ্গে ৯৩ শতাংশ ভোটদানের হারকে তিনি ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে। বাংলায় পরিবর্তন হয়ে গেছে, আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হলো। এ সময় তিনি বিজেপির কোটি কোটি কর্মীকে ধন্যবাদ জানান।

এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, ফলাফলের এই ধারা সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে বিজেপির নেতাকর্মীরা বিজয় উদ্‌যাপনে মেতে উঠেছেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন বাঙালি।

 

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর তালিকায় যেসব নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং স্বপন দাশগুপ্ত।

 

 

উল্লেখ্য, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধীরে ধীরে বাংলার ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজেপির কাছে হেরে গেছে তার দল।

 

 

ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি এখন পর্যন্ত ১৯৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। মমতার তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮৯টি আসন।

 

 

 

দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে মমতার রাজনীতির বড় অংশজুড়ে ছিল জনকল্যাণের ভাষা—নারী ভাতা, বেকার সহায়তা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার নানা প্রকল্প। মাঠে-ময়দানে তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা এক নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ফলে তার প্রতি মানুষের এক ধরনের আবেগ তৈরি হয়েছিল, যা রাজনৈতিক হিসাবের বাইরেও ছিল।

 

 

 

কিন্তু এই বিধানসভার পরিসংখ্যান বলছে, রাজনীতি স্থির থাকে না। সময় বদলায়। মাটির নিচে জমে থাকা অসন্তোষও ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি এমন যে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে রয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত তাই হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দলটি সরকার গঠন করবে—যাকে প্রতীকীভাবে বলা হচ্ছে ‘পদ্মফুলের উত্থান’।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, সর্বত্রই পদ্ম ফুটেছে : নরেন্দ্র মোদি

আপডেট টাইম : ০৯:২৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে গিয়ে তিনি বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, সর্বত্র পদ্ম ফুটেছে। বিহারের ভোটের ফলের দিনই বলেছিলাম, গঙ্গা বিহার হয়ে গঙ্গাসাগরে যায়।

 

 

 

সোমবার (০৪ মে) আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

নরেন্দ্র মোদি বলেন, গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক। এটি গণতন্ত্রের জয়, সংবিধানের জয়। পশ্চিমবঙ্গে ৯৩ শতাংশ ভোটদানের হারকে তিনি ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে। বাংলায় পরিবর্তন হয়ে গেছে, আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হলো। এ সময় তিনি বিজেপির কোটি কোটি কর্মীকে ধন্যবাদ জানান।

এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, ফলাফলের এই ধারা সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে বিজেপির নেতাকর্মীরা বিজয় উদ্‌যাপনে মেতে উঠেছেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন বাঙালি।

 

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর তালিকায় যেসব নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং স্বপন দাশগুপ্ত।

 

 

উল্লেখ্য, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধীরে ধীরে বাংলার ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজেপির কাছে হেরে গেছে তার দল।

 

 

ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি এখন পর্যন্ত ১৯৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। মমতার তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮৯টি আসন।

 

 

 

দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে মমতার রাজনীতির বড় অংশজুড়ে ছিল জনকল্যাণের ভাষা—নারী ভাতা, বেকার সহায়তা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার নানা প্রকল্প। মাঠে-ময়দানে তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা এক নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ফলে তার প্রতি মানুষের এক ধরনের আবেগ তৈরি হয়েছিল, যা রাজনৈতিক হিসাবের বাইরেও ছিল।

 

 

 

কিন্তু এই বিধানসভার পরিসংখ্যান বলছে, রাজনীতি স্থির থাকে না। সময় বদলায়। মাটির নিচে জমে থাকা অসন্তোষও ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি এমন যে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে রয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত তাই হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দলটি সরকার গঠন করবে—যাকে প্রতীকীভাবে বলা হচ্ছে ‘পদ্মফুলের উত্থান’।