সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

গজারিয়ায় তেলের কৃত্রিম সংকটে জনদুর্ভোগ: পাম্পে দীর্ঘ লাইন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে নিয়মিত তেল বিক্রি না হওয়ায় মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভবেরচর ইউনিয়নের আনারপুরা এলাকায় অবস্থিত একটি ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকশ মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বিশেষ করে অকটেন সংকটে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৭-৮টি ফিলিং স্টেশন থাকলেও অধিকাংশ পাম্পে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করা হয় না। ফলে চালকদের একটি নির্দিষ্ট পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনদিন পর তেল পাওয়ার খবর শুনে সকাল ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু বিকেল পর্যন্ত তেলের গাড়ি আসেনি। আরেক চালক ওমর ফারুক জানান, তেলের জন্য দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, অনেক সময় না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়, এতে আয়-রোজগার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবহন চালক আমিনুরের অভিযোগ, কিছু পাম্পে তেল মজুদ রেখে বিক্রি করা হচ্ছে না—এমন কথা অনেকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করা জরুরি। একই অভিযোগ করেন মোটরসাইকেল চালক মোহন মিয়াজী। তার মতে, সব পাম্পে নিয়মিত তেল বিক্রি হলে এ ধরনের ভিড় তৈরি হতো না।
এদিকে, কয়েকদিন আগে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে সতর্ক করেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না। তেল মজুদ রেখে বিক্রি বন্ধ বা সীমিত করার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট একটি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জানান, তারা প্রাপ্ত তেল গ্রাহকদের মধ্যে নিয়মিত বিতরণ করছেন এবং বিষয়টি ট্যাগ অফিসারকে অবহিত করা হচ্ছে। তার দাবি, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকাই মূল সমস্যার কারণ।
ভুক্তভোগীদের দাবি, উপজেলার সব ফিলিং স্টেশনে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রি নিশ্চিত করা হলে বর্তমান দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

গজারিয়ায় তেলের কৃত্রিম সংকটে জনদুর্ভোগ: পাম্পে দীর্ঘ লাইন

আপডেট টাইম : ১০:২৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে নিয়মিত তেল বিক্রি না হওয়ায় মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভবেরচর ইউনিয়নের আনারপুরা এলাকায় অবস্থিত একটি ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকশ মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বিশেষ করে অকটেন সংকটে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৭-৮টি ফিলিং স্টেশন থাকলেও অধিকাংশ পাম্পে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করা হয় না। ফলে চালকদের একটি নির্দিষ্ট পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনদিন পর তেল পাওয়ার খবর শুনে সকাল ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু বিকেল পর্যন্ত তেলের গাড়ি আসেনি। আরেক চালক ওমর ফারুক জানান, তেলের জন্য দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, অনেক সময় না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়, এতে আয়-রোজগার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবহন চালক আমিনুরের অভিযোগ, কিছু পাম্পে তেল মজুদ রেখে বিক্রি করা হচ্ছে না—এমন কথা অনেকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করা জরুরি। একই অভিযোগ করেন মোটরসাইকেল চালক মোহন মিয়াজী। তার মতে, সব পাম্পে নিয়মিত তেল বিক্রি হলে এ ধরনের ভিড় তৈরি হতো না।
এদিকে, কয়েকদিন আগে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে সতর্ক করেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না। তেল মজুদ রেখে বিক্রি বন্ধ বা সীমিত করার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট একটি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জানান, তারা প্রাপ্ত তেল গ্রাহকদের মধ্যে নিয়মিত বিতরণ করছেন এবং বিষয়টি ট্যাগ অফিসারকে অবহিত করা হচ্ছে। তার দাবি, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকাই মূল সমস্যার কারণ।
ভুক্তভোগীদের দাবি, উপজেলার সব ফিলিং স্টেশনে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রি নিশ্চিত করা হলে বর্তমান দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।