সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

গত ৮ বছর ধরে বন্ধ ছিল হামের টিকাদান কর্মসূচি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ছবি : সংগৃহীত

দেশে দীর্ঘ ৮ বছর হামের টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকার কথা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন করে টিকা সংগ্রহে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

 

 

রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক ওষুধশিল্প মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, ‘মিজেলসের রোগী অনেক বেড়েছে। আট বছর আগে শেষবার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। এরপর আর কোনো সরকার এই টিকা দেয়নি।’

 

 

তিনি জানান, ‘ইতোমধ্যে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, পারচেজ কমিটি পাস হয়েছে। খুব দ্রুত আমরা ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করব।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া বিশেষ ক্যাম্পেইনের সময় ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হয়। তবে দীর্ঘদিন এই কার্যক্রম স্থবির থাকায় নতুন করে সংক্রমণ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছরের শুরুতেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের রোগী শনাক্ত হয় এবং ১০ জানুয়ারি সতর্কতা জারি করা হয়। পরে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতেও রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

 

গত শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি- যাদের বড় অংশই হামে আক্রান্ত শিশু।

 

 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকার ডিএনসিসির ওয়ার্ডগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সংযুক্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেলে। এছাড়া মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকাতেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

 

 

সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে শিশুমৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নতুন ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করছে বলেও জানান তিনি। ইতোমধ্যে পাঁচটি ভেন্টিলেটর পাওয়া গেছে, যার চারটি রাজশাহীতে পাঠানো হবে।

 

 

মন্ত্রী আরও জানান, ‘দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো শিগগিরই আরও ১২টির বেশি ভেন্টিলেটর সরবরাহ করবে। এসব সরঞ্জাম হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

গত ৮ বছর ধরে বন্ধ ছিল হামের টিকাদান কর্মসূচি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৫:৫৮:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

দেশে দীর্ঘ ৮ বছর হামের টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকার কথা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন করে টিকা সংগ্রহে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

 

 

রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক ওষুধশিল্প মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, ‘মিজেলসের রোগী অনেক বেড়েছে। আট বছর আগে শেষবার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। এরপর আর কোনো সরকার এই টিকা দেয়নি।’

 

 

তিনি জানান, ‘ইতোমধ্যে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, পারচেজ কমিটি পাস হয়েছে। খুব দ্রুত আমরা ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করব।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া বিশেষ ক্যাম্পেইনের সময় ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হয়। তবে দীর্ঘদিন এই কার্যক্রম স্থবির থাকায় নতুন করে সংক্রমণ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছরের শুরুতেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের রোগী শনাক্ত হয় এবং ১০ জানুয়ারি সতর্কতা জারি করা হয়। পরে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতেও রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

 

গত শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি- যাদের বড় অংশই হামে আক্রান্ত শিশু।

 

 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকার ডিএনসিসির ওয়ার্ডগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সংযুক্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেলে। এছাড়া মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকাতেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

 

 

সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে শিশুমৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নতুন ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করছে বলেও জানান তিনি। ইতোমধ্যে পাঁচটি ভেন্টিলেটর পাওয়া গেছে, যার চারটি রাজশাহীতে পাঠানো হবে।

 

 

মন্ত্রী আরও জানান, ‘দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো শিগগিরই আরও ১২টির বেশি ভেন্টিলেটর সরবরাহ করবে। এসব সরঞ্জাম হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।’