রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জুন অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার আনুষ্ঠানিকভাবে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এর আগে সোমবার (৮ জুন) এক প্রজ্ঞাপণে তাহমিনা আখতারকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ওইদিন বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুল খালেক-এর নিকট তিনি যোগদানপত্র জমা দেন।
বুধবার (১০ জুন) রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-এ স্থাপিত শহিদ মিনার ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার পঁয়ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পদেয় দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (ISWR)-এর পরিচালক, রোকেয়া হল, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রভোস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক, সিনেট সদস্য এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজ করেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য হিসেবেও অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ও হল সংসদের কুয়েত মৈত্রী হলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, বাংলাদেশ কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশনের মহাসচিব এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (UTAB)-এর প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব, এশিয়ান ও প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশন (APASWE)-এর সদস্য হিসেবেও তিনি সক্রিয়। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উপদেষ্টা এবং বোর্ড অফ গভর্নেন্সের সদস্য হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম আয়োজন, অংশগ্রহণ, প্রবন্ধ উপস্থাপন, সেশন চেয়ারসহ প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি Sage, Palgrave Macmillan (মালয়েশিয়া), Taylor & Francis, Oxford University Press সহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ জার্নালে পঞ্চাশটিরও অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন।
অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার এসএসসিতে ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থান এবং এইচএসসিতে ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় ১০ম স্থান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (ISWR) থেকে বিএসএস (সম্মান)-এ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান এবং এমএসএস-এ প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং বিষয়ে ফেলোশিপ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এর ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেন, “রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং জনসম্পৃক্ততার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চার উৎকর্ষের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করতে চাই।
সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইন্নাকে নিয়ে ফেসবুকে ভুয়া তথ্য পোস্ট করায় যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম ইন্নাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দিয়ে পোস্ট করায় হাসান আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানা আমলী আদালতে শরীফুল ইসলাম ইন্না বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে আসামি হাসান আলীর বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন। এই আদালতের পেশকার স্বপন এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আসামি হাসান আলী সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার একডালা মধ্যপাড়া মহল্লার জামাল উদ্দিনের ছেলে।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেছেন, তিনি সাংবাদিকতা করে সত্য ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ করিয়া থাকেন। সত্য ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দুষ্কৃতিকারীদের বিপদের কারণ হয়ে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় আসামি হাসান আলী গত ৩০ মে তার ফেসবুক আইডি থেকে বাদী শরীফুল ইসলাম ইন্নার বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ভাইরাল (প্রকাশ) করে দেয়।
ওই ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করে ছাত্রলীগ নেতা আসিফ হত্যাকে কেন্দ্র করে মামলা বানিজ্য ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা সরদার শরীফুল ইসলাম ইন্না।
শরীফুল ইসলাম ইন্না কৌশলে মামলা বানিজ্য করে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মামলা বানিজ্যের কৌশল-প্রথমে নিহত আসিফকে বিএনপি সাজিয়ে ফেসবুকে প্রচার করে ইন্না। এরপর নিহত আসিফ এর মা আসমানীকে দিয়ে মামলা করার প্রস্তুতি গ্রহন করে ইন্না। জেলার সকল আওয়ামীলীগ নেতা ও তার পরিবারকে আসামী করা হবে মর্মে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ইন্না। অনেকে আওয়ামীলীগ নেতা ও তার পরিবারকে ইন্নার সাথে যোগাযোগ করে মোটা টাকা প্রদান করিলে সেই আওয়ামীলীগ নেতাদের নাম মামলায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে নাই ইন্না।
মামলা বানিজ্য করে ছাত্রলীগ নেতা আসিফ নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। উপরোক্ত সকল কথোপকথন সম্পূর্ন মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট। হেনরির বাসায় আগুনে পুড়ে নিহত হয় আসিফ। সেই ঘটনা দিয়ে আসিফের মা বাদী হয়ে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেই মামলায় প্রশাসন তদন্ত করে এবং আদালতে উক্ত মামলা চলমান রহিয়াছে। সেক্ষেত্রে শরীফুল ইসলাম ইন্না কিভাবে মামলা বানিজ্য এবং ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। নামিক আসামী আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে জন সম্মুখে শরীফুল ইসলাম ইন্নার ভাবমুর্তি ও সাংবাদিকতা পেশার সম্মান ক্ষুন্ন করার অসৎ উদ্দেশ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে শরীফুল ইসলাম ইন্নার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্মানহানী করেছে।
আসামী হাসান আলী ভুয়া তথ্য প্রকাশ করায় তার বিরুদ্ধে শরীফুল ইসলাম ইন্না বাদী মামলা দায়ের করেন।

তাড়াশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই গোডাউন সহ একাধিক বাসাবাড়ি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দৈনিক সমকাল পত্রিকার তাড়াশ উপজেলা প্রতিনিধির কার্যালয় সহ একটি প্লাস্টিক পণ্যের গোডাউন ও বেশ কয়েকটি বাসাবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে তাড়াশ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মৃত সম্বু মালের বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই বাড়িতে মেসার্স মাবিয়া ট্রেডার্স নামে আরএফএল পণ্যের ডিলার গোডাউন ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করতেন প্রোপাইটার মো. রফিকুল ইসলাম।
আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। এতে গোডাউনের পাশে থাকা দৈনিক সমকাল পত্রিকার তাড়াশ উপজেলা প্রতিনিধি এম আতিকুল ইসলাম বুলবুলের কার্যালয়, আরও কয়েকটি ব্যক্তিগত অফিস ও বাসাবাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
খবর পেয়ে তাড়াশ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ঘন্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর মো. মনজুরুল আলম বলেন, “আমরা সংবাদ পেয়ে দ্রুতই ঘটনাস্থলে আসি এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। তবে প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা যায়নি।

পশুর মাথাকে শিল্পকর্মে রূপ দিলেন কসাই রিপন

চল্লিশ বছর বয়সী কসাই রিপন আলী। গত ১ দশক ধরে গবাদি পশুর মাথা সংগ্রহের পর তা ব্যবহার করে অত্যন্ত নান্দনিক শোপিস তৈরির এক ব্যতিক্রমী কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। মাটি বা কাঠের শোপিসের প্রথাগত ধারণার বাইরে গিয়ে তিনি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার মাথাকে প্রক্রিয়াজাত করে শৈল্পিক শিল্পকর্মে রূপ দিচ্ছেন। বর্তমানে তার সংগ্রহে শতাধিক এমন শৈল্পিক শোপিস রয়েছে।
শুরুর দিকে অনেক উপহাস পোহানোসহ নানা বাধার সম্মুখীন হলেও অবশেষে এই কঠিন কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন তিনি। তার এই উদ্ভাবন এখন স্থানীয় দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
রিপনের মূল লক্ষ্য- তার এই কাজকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া, যাতে বন্যপ্রাণী নিধন হ্রাস পায় এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
রোববার (৮ জুন) বিকেলে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে একটি রুমে তিনি এসব পশুর শিংসহ মাথাগুলো থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন।
রিপন আলী বলেন, এ বিষয়ে মানুষ এখনো সেইভাবে জানে না। এখানে গরু ও ছাগলের মাথা থেকে তৈরি শোপিস বেশি। তার পরে ভেড়া ও মহিষের রয়েছে। সবাই শিং ওয়ালা মাথা নেয় না। যে শিং ওয়ালা মাথা দেখতে আকর্ষণীয় শুধু সেগুলোই নেয়।
রিপন আলীর এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম তৈরির পেছনের গল্পটি দীর্ঘ ১০ বছরের। ধৈর্য, মেধা এবং একাগ্রতার এক অনন্য কাহিনি। তিনি জানান, কসাইয়ের কাজ করতে করতে একদিন মহিষের অনেক বড় শিং ওয়ালা মাথা দেখতে পান রাজশাহীর শালবাগান কসাইপট্টিতে। সেখানকার কসাই মাথা থেকে শিং আলাদা করে ফেলে। এরপরে শিংটি সংগ্রহ করেন তিনি। বিশাল শিং দেখে তার কয়েকজন বন্ধু সংরক্ষনের ধারণাটি দেন যে- প্রাণীর মাথা থেকে তৈরি জিনিসগুলো ভবিষ্যতে মূল্যবান শোপিস হতে পারে। এই ভাবনা থেকেই তিনি ২০১৭ সালে এই কাজ শুরু করেন।
রিপন আলী আরও জানান- শুরুর দিকে অনেকেই তাকে নিয়ে উপহাস ও অসহযোগিতা করেছিলেন। এমনকি তার পরিবারও পশুর হাড়ের দুর্গন্ধ এবং এতে প্রচুর অর্থ ব্যয় হওয়ার কারণে বিরক্ত ছিল। তবে এখন দৃশ্যপট বদলেছে; এখন তার পরিবার এবং দর্শনার্থীরা তার এই নান্দনিক কাজের প্রশংসা করছেন।
তিনি জানান, এই শিল্পকর্ম তৈরির সঠিক পদ্ধতি বা প্রসেস জানার জন্য তিনি অনেক বিশেষজ্ঞ এবং এমনকি ডাক্তারদের পেছনেও ঘুরেছেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিজের কঠোর পরিশ্রম এবং গবেষণার মাধ্যমে তিনি এই বিশেষ পদ্ধতিটি আয়ত্ত করেন।
উপকরণ সংগ্রহ হিসেবে তিনি তার কাজের জন্য কেবল দেশি গৃহপালিত পশুর (যেমন গরু, মহিষ ছাগল, ভেড়া) মাথা ব্যবহার করেন। যা তিনি বাজার থেকে কিনে নেন। এছাড়া বাঘ বা হরিণের মতো অন্য কোনো বন্যপ্রাণীর অঙ্গ ব্যবহার করেন না, যা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ বা অবৈধ।
অনেকেই এসেছেন তার এমন শিল্পকর্ম দেখতে। তবে তারা জানান- পশুর মাথা এমন ভাবে রাখা তারা দেখে এরআগে। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা থেকে দেখতে এসেছেন মোকসেদ আলী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন থেকে জানি রিপন এই জিনিসগুলো তৈরি করে রেখেছে। জিনিসগুলা খুব ভালো, অনেক মূল্যবান জিনিস। বিশেষ করে রিপন কিছু ব্যয় করছে বা অনেক যত্ন করেছে। তো জিনিসগুলো আসলে খুব ভালো। সে কারণে আমার আসা। পছন্দ হলে আমি একটা নিয়ে যাব।
সুমাইয়া আক্তার বলেন- আমরা অনেক ধরনের শোপিস দেখেছি। পশুর মাথা ও শিং দিয়ে শোপিস তৈরি করা এই প্রথম দেখলাম। আইডিয়াটা আসল ইউনিট। এমন সাধারণত দেখা যায় না। এখানে আসার পরে দেখে অনেক ভালো লাগছে।
রাজশাহীর চারঘাট এলাকা থেকে রিপনের শোপিস দেখতে এসেছেন রাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, এমন শোপিস সচরাচর চোখে পড়ে না। বড়লোকদের বাসায় হরিণের মাথা, চামড়া এ ধরনের শোপিস দেখা যায়। এটি রিপনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। শিংগুলা দেখে একদম জীবন্ত মনে হচ্ছে। তার এখানে পশুর শুধু মাথার দাঁতসহ বিভিন্ন অংশের জিনিসপত্র পার্ট-পার্ট করে খুলে রাখা আছে।
এই উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়াই রিপন আলীর স্বপ্ন। তিনি মনে করেন, গৃহপালিত পশুর হাড় দিয়ে তৈরি এই শোপিসগুলো যদি সহজলভ্য হয়, তবে মানুষ বন থেকে বাঘ বা হরিণের মাথা ও চামড়া সংগ্রহের মতো অবৈধ কাজ বন্ধ করবে, যা বন্যপ্রাণী হত্যা রোধে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে তিনি সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে একে একটি নতুন শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান।

ফুটবলে সাফল্যের স্বীকৃতি, ঋতুপর্ণাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহনির্মাণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঋতুপর্ণা চাকমার হাতে গৃহনির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের নির্দেশনায় ক্যানসারে আক্রান্ত ঋতুপর্ণার মা ভূজোপতি চাকমার চিকিৎসার জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পরিবারের হাতে চিকিৎসা সহায়তার অর্থ তুলে দেয়।
পাহাড়ি অঞ্চলের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ঋতুপর্ণা চাকমা কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও প্রতিভার মাধ্যমে জাতীয় নারী ফুটবল দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ২০২২ ও ২০২৪ সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ঋতুপর্ণা। এছাড়া ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার অভিযানে তার অবদান ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
ক্রীড়াক্ষেত্রে তার এই সাফল্য শুধু দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেনি, বরং পার্বত্য অঞ্চলের অসংখ্য তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। একজন সংগ্রামী নারী ফুটবলারের জীবনমান উন্নয়নে গৃহনির্মাণ সহায়তার এই উদ্যোগকে ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও আগ্রহী করে তুলবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঋতুপর্ণা চাকমার এই সম্মাননা ও সহায়তা দেশের নারী ফুটবলের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় এই বিশেষ উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়।
ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিভাবান যুবসমাজকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে এবং তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঋতুপর্ণাকে দেওয়া এই উপহার তারই একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত।

‘রকস্টার’ প্রযোজক স্বর্ণাকে কি এবার দেখা যাবে নায়িকারূপে?

পর্দার পেছনের কারিগর যখন নিজেই সৌন্দর্যের আলো ছড়ান, তখন ক্যামেরার সামনে তাঁর দাঁড়ানো স্রেফ সময়ের ব্যাপার মাত্র! বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে ঠিক তেমনই এক নতুন ঝড় তুলেছেন রিজুতি আহমেদ স্বর্ণা। তবে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের চেনা ছক ভেঙে পর্দার সামনে নয়, ঢালিউডে তাঁর পা রাখা রাজকীয়ভাবে—একদম প্রযোজকের আসনে বসে। মেগাস্টার শাকিব খানের সাম্প্রতিক ব্লকবাস্টার ‘রকস্টার’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালী পর্দায় আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন এই সুন্দরী। আর প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত! ‘রকস্টার’-এর আকাশচুম্বী সাফল্যের পর এবার নতুন এক গুঞ্জন ডালপালা মেলছে ঢালিউডের আনাচে-কানাচে। প্রযোজক স্বর্ণা কি তবে এবার নিজেই নতুন নায়িকা হিসেবে ধরা দিতে যাচ্ছেন ক্যামেরার সামনে?
নিজের এই নতুন পথচলা নিয়ে উচ্ছ্বসিত রিজুতি আহমেদ স্বর্ণা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এই যাত্রা আমার জীবনের নতুন এক অধ্যায়। দীর্ঘদিন মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার পর বাংলা সিনেমায় কাজ শুরু করলাম, তাও আবার মেগাস্টারের সঙ্গে! তবে ‘রকস্টার’-এর এই যাত্রাটা মোটেও মসৃণ ছিল না। কঠিন হলেও এই পথচলা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। দর্শকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পাচ্ছি, তাতে পুরো ‘রকস্টার’ টিম মুগ্ধ ও কৃতজ্ঞ।‘
সময়ের এই আলোচিত প্রযোজক আগামীতে নিজেই নায়িকারূপে পর্দায় হাজির হবেন কিনা—এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নেটিজেনদের মনে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে স্বর্ণা বেশ রহস্যই জিইয়ে রাখলেন। মৃদু হেসে তিনি বলেন, ‘আসলে একটি সাক্ষাৎকারের পর দর্শকদের অনেকেই দেখছি সেই ভিডিওটি শেয়ার করে আমাকে অভিনয় করার উৎসাহ দিচ্ছেন। সবার এই আগ্রহ আমাকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। এখন দেখা যাক, সময় আসলে আমাকে কোন দিকে নিয়ে যায়।‘
অভিনয় নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু না জানালেও, ভিজ্যুয়াল মিডিয়া নিয়ে নিজের বড় স্বপ্নের কথা লুকাননি এই নারী প্রযোজক। কাজের প্রতি নিজের তাড়না প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, শেখার কোনো শেষ নেই। তাই আগামী দিনগুলোতেও বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র এবং এই সৃজনশীল মিডিয়া জগতের জন্য কাজ করে যেতে চাই। নতুন গল্প বলতে চাই, নতুন স্বপ্ন গড়তে চাই। আমার মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের কনটেন্ট ও চলচ্চিত্রকে বিশ্ব দরবারে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া।‘
সিনেমার পেছনে থেকে যিনি প্রথমবারেই বাজিমাত করেছেন, তিনি সামনের দিনে পর্দার সামনে আসেন নাকি পেছনেই রাজত্ব করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে স্বর্ণার ভাষায়, ‘এই যাত্রা এখনও শেষ হয়নি। বরং মনে হয়, সত্যিকারের যাত্রা এখনই শুরু।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ বিষয়ক কর্মশালা উপজেলা মডেল মসজিদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ৯ জুন ২০২৬ অনুষ্ঠিত এ কর্মশালা বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ – ৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার [ভূমি] সানাউল মোর্শেদ ও ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ আঃ বারিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার নাসিমউদ্দিন। এ কর্মশালায় বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে উপস্থিত প্রতিনিধিরা মতামত প্রদান করেন।
মতামত সমূহের মধ্যে অন্যতম ছিল, যে ক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বিচারের রায় মানতে তালবাহানা করে বা বিচারকালীন নোটিশে সাড়া দেয় না বা বিচার কার্যে অংশগ্রহণ করে না, এমতাবস্থায় গ্রাম আদালতের রায় থানা পুলিশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। জবাবে সহকারী কমিশনার, ভূমি বলেন, সরকার আইন প্রণয়ন করলেই সেটা করা যাবে। গ্রাম আদালতের সেবা নিতে জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন গ্রাম আদালত প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী সন্ধ্যা রানী।

প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে নারীর রহস্যজনক মৃত্যু

ঢাকার ধামরাইয়ে প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে এসে লক্ষ্মী রানী (৩০) নামের এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিক স্বপন (৪০) অধিকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (০৯ জুন) দুপুরে উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের কান্দিকুল গ্রামের চিত্ত রায়ের বাড়ি থেকে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত লক্ষ্মী রানী টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকার বীরেন্দ্র মন্ডলের মেয়ে। এদিকে আটক স্বপন অধিকারী একই জেলার সখিপুর গ্রামের রবীন্দ্র অধিকারীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে প্রেমের টানে প্রেমিক স্বপনের হাত ধরে ধামরাইয়ে আসেন লক্ষ্মী রানী। রাতে কান্দিকুল গ্রামে চিত্ত রায়ের বাড়িতে অবস্থানকালে উভয়ের মধ্যে চরম মনমালিন্য হয়। একপর্যায়ে প্রেমিক স্বপন কৌশলে লক্ষ্মী রানীকে ঘরে একা রেখে অন্যত্র চলে যান। পরবর্তীতে ঘরের ভেতর ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লক্ষ্মী রানীর মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে রহস্য লুকিয়ে রয়েছে-এ নিয়ে আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বেতন-ভাতা বাড়ার আভাস, বাজেটে সুখবর

পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রথম ধাপের বরাদ্দ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে থাকছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে ‘মিড ডে মিল’ ও ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ চালুর উদ্যোগও থাকছে নতুন বাজেটে।
এদিকে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি বিদেশি ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে নতুন বাজেটে; নতুন ভাষা শিখতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটের মোট আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা; রাজস্ব সংগ্রহ লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া এনবিআরের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যার ৪৮ শতাংশ পূরণ হবে বৈদেশিক উৎস থেকে আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে ৫২ শতাংশ। এবার সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ থাকছে ৩০ শতাংশ। মেট্রোরেলেও ২৮ সাল পর্যন্ত থাকছে ভ্যাট অব্যাহতি। ঋণ ও আমানতে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারী শুল্ক মওকুফ। আগে ছিল ৩ লাখ টাকা। তবে স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ভ্যাট বসছে ২৫০০ টাকা। আর নতুন করে দেশীয় মদে লিটার প্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট দিতে হবে।

আরও ৩ শিশুর হামের উপসর্গে মৃত্যু
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৪ জনের মধ্যে হাম বা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) সারা দেশে নতুন করে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৮০ জন, যাদের মধ্যে ৯৩৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৫৪ জন। সব মিলিয়ে গত ৮৬ দিনে সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৮৪ জনে। এদের মধ্যে ৬৬ হাজার ১৭০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ছাড়া একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৮৩৩ জন।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া ১ হাজার ১৪ জনসহ এখন পর্যন্ত মোট ৬২ হাজার ২৯২ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
One thought on “গাঁজা সেবন করায় ৪ মাসের জন্য জেলে যেতে হলো তাদের!”