গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বেতন বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ-আন্দোলন নাশকতায় রূপ নিয়েছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কমপক্ষে ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২ এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, শ্রমিকরা কিছুদিন ধরে বেতন বাড়ানোর দাবি নিয়ে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও অবরোধ করে আসছেন।
সরকার তাদের বেতন বাড়ানোর বিষয় নিয়ে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এরপরও শ্রমিকরা বিক্ষোভ অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
দফায় দফায় পুলিশ ও সাংবাদিকরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনায় সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে।
তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এছাড়া তারা শ্রমিক নাকি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত এবং দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে বিক্ষোভ করছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে, দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে ও সাধারণ শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে কেউ এ ধরনের নাশকতা সৃষ্টি করছে।
সর্বশেষ দুপুর ১টা পর্যন্ত গাজীপুরের নাওজুর ও চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
দুপুরে শফিপুরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর মহানগরের নাওজোর এলাকায় ফ্লাইওভারের ওপর পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন শ্রমিকরা। সোমবার সকাল থেকে কোনাবাড়ী, মৌচাক, পল্লীবিদ্যুৎ, চন্দ্রা, ভোগড়া, নাওজোর ও সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে দুপুরে নাওজোর ফ্লাইওভারের ওপর পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন শ্রমিকরা। এ ছাড়া শফিপুরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়া হয়।
জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ