রাজবাড়ীর পাংশায় চাঁদা না দেওয়ায় এক প্রবাসীর মাছের প্রজেক্টে হামলা, ভাঙচুর ও পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কালাম মন্ডল নামে এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে কালাম মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের নিভাকেষ্টপুর গ্রামে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মো. আসাদ মন্ডলের মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার কালাম মন্ডল যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে বহিরাগত লোকজন নিয়ে আসাদ মন্ডলের মাছের প্রজেক্টে হামলা চালানো হয়। এ সময় প্রজেক্টের চারপাশের ঘের ভাঙচুরের পাশাপাশি পুকুরপাড়ের প্রায় ৫০ কাঁদি কলা কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে হামলাকারীরা যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে যায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। ওই রাতেই পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়।
বিষ প্রয়োগের ঘটনায় পুকুরের প্রায় সব মাছ মারা যায়। এতে অন্তত ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আসাদ মন্ডল।
ভুক্তভোগী আসাদ মন্ডল বলেন, ১৬-১৭ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে শ্রম দিয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি এলাকায় দুই বিঘা জমির ওপর মাছের প্রজেক্ট গড়ে তুলেছেন। সম্প্রতি যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডল দাবি করেন, প্রজেক্টের মধ্যে তারা জমি কিনেছেন। এ নিয়ে রাজবাড়ীর আদালতে মামলাও চলমান।
আসাদের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে প্রজেক্টে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর রাতে পুকুরে বিষ দেওয়া হয়।
প্রজেক্টের কর্মচারী সুমন মন্ডল বলেন, বিষ প্রয়োগের পর পুকুরের মাছ মরে গেছে। এতে শুধু মালিকই নন, প্রজেক্টে কর্মরত প্রায় ২০ জন শ্রমিকও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিকের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
পাংশা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার ঘোষ বলেন, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কালাম মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশ বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 



















