সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই পুলিশ সদস্যকে পিটুনি দিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা Logo হিলি স্থলবন্দরে শনিবার আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, স্বাভাবিক থাকবে ইমিগ্রেশন Logo কারাগারে নিরাপত্তা জোরদারে ৭ দফা নির্দেশনা জারি Logo নারীর অগ্রগতিতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ চান জুবাইদা রহমান Logo শরীয়তপুরের জাজিরায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ালো মানবতার আলো ফাউন্ডেশন Logo ভারতীয় ভিসায় নতুন নিয়ম, আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা Logo টেকনাফে মানব পাচারকারীদের সঙ্গে যৌথবাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত Logo মরিশাসে কাচের বাক্সে চাপা পড়ে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু Logo বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে লাহোর, চতুর্থ ঢাকা Logo একটি ব্যাংক ধসের জেরে পদত্যাগ করছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট

ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই পুলিশ সদস্যকে পিটুনি দিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির সময় ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই পুলিশ সদস্য ও এক পুলিশ সোর্সকে ধরে ক্যাম্পাসে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে লিখিত সমঝোতার মাধ্যমে ঘটনার নিষ্পত্তি হয়।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক হওয়া তিনজন হলেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হানিফ, কনস্টেবল শ্যামল ও পুলিশ সোর্স জাহিদ।

 

 

 

 

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের সিফাত হোসেন সিয়াম ও অর্প।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিউশন শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে রেসকোর্স এলাকায় সিফাত ও অর্পের পথরোধ করেন তিন ব্যক্তি। এ সময় তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের তল্লাশি শুরু করেন। তবে শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখিয়ে নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।

 

 

এ নিয়ে দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। পরে ঘটনাস্থলে অন্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। একপর্যায়ে ছিনতাইকারী সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে তুলে তিনজনকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। বাস থেকে নামানোর পর তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

 

পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নেওয়া হলে পরিচয় শনাক্ত হয়। সেখানে কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস তাদের পুলিশ সদস্য ও সোর্স হিসেবে নিশ্চিত করেন।

 

 

 

 

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ কর্মকর্তারা উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে লিখিত সমঝোতা হয়।

 

 

 

 

 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়াম বলেন, “আমি আর আমার বন্ধু অর্প হাঁটছিলাম। অর্প একটু সামনে ছিল। হঠাৎ একজন এসে অর্পের বুকে হাত দিয়ে বলেন, ‘আমরা পুলিশ, আপনাদের চেক করব।’ বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অর্পের পকেটে হাত দেন। পরে তারা আমাদের পরিচয় ও কোথায় থাকি জানতে চান। আমরা নিজেদের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড দেখানোর প্রস্তাব দিই। তখন কালো টি-শার্ট পরা আরেকজন পেছন থেকে আমার কলার টেনে ধরে বলেন, তারাও পুলিশ।”

 

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের আইডি কার্ড দেখাতে বললে তারা তা না দেখিয়ে বারবার হ্যান্ডকাফ দেখাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে একজন স্থানীয় ব্যক্তি এসে বলেন, পুলিশ হলেও এভাবে আচরণ করা উচিত নয়। পরে আমি তাদের পাশে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে গিয়ে তল্লাশি করার কথা বলি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস এলে তাদের ওই বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি।’

 

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, এখানে উভয় পক্ষেরই কিছু ভুল ছিল। পুলিশ সদস্যরাও তাদের পরিচয় দিতে চাননি। তাদের কাছে আইডি কার্ড ছিল না। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদেরও ভুল ছিল। তারা যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অথবা আমাদের প্রক্টরিয়াল বডিকে বিষয়টি জানাতেন, তাহলে ভালো হতো। তা না করে জোরপূর্বক তাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা উচিত হয়নি। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আমরা একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছেছি। উভয় পক্ষই সেটি মেনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন আর না ঘটে।

 

 

 

 

 

পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে লিখিতভাবে সমঝোতা সম্পন্ন হয় বলে তিনি জানান।

 

 

 

 

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তাদের প্রক্টর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

 

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই পুলিশ সদস্যকে পিটুনি দিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা

ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই পুলিশ সদস্যকে পিটুনি দিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা

আপডেট টাইম : ১১:৩৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির সময় ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই পুলিশ সদস্য ও এক পুলিশ সোর্সকে ধরে ক্যাম্পাসে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে লিখিত সমঝোতার মাধ্যমে ঘটনার নিষ্পত্তি হয়।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক হওয়া তিনজন হলেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হানিফ, কনস্টেবল শ্যামল ও পুলিশ সোর্স জাহিদ।

 

 

 

 

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের সিফাত হোসেন সিয়াম ও অর্প।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিউশন শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে রেসকোর্স এলাকায় সিফাত ও অর্পের পথরোধ করেন তিন ব্যক্তি। এ সময় তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের তল্লাশি শুরু করেন। তবে শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখিয়ে নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।

 

 

এ নিয়ে দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। পরে ঘটনাস্থলে অন্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। একপর্যায়ে ছিনতাইকারী সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে তুলে তিনজনকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। বাস থেকে নামানোর পর তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

 

পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নেওয়া হলে পরিচয় শনাক্ত হয়। সেখানে কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস তাদের পুলিশ সদস্য ও সোর্স হিসেবে নিশ্চিত করেন।

 

 

 

 

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ কর্মকর্তারা উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে লিখিত সমঝোতা হয়।

 

 

 

 

 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়াম বলেন, “আমি আর আমার বন্ধু অর্প হাঁটছিলাম। অর্প একটু সামনে ছিল। হঠাৎ একজন এসে অর্পের বুকে হাত দিয়ে বলেন, ‘আমরা পুলিশ, আপনাদের চেক করব।’ বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অর্পের পকেটে হাত দেন। পরে তারা আমাদের পরিচয় ও কোথায় থাকি জানতে চান। আমরা নিজেদের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড দেখানোর প্রস্তাব দিই। তখন কালো টি-শার্ট পরা আরেকজন পেছন থেকে আমার কলার টেনে ধরে বলেন, তারাও পুলিশ।”

 

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের আইডি কার্ড দেখাতে বললে তারা তা না দেখিয়ে বারবার হ্যান্ডকাফ দেখাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে একজন স্থানীয় ব্যক্তি এসে বলেন, পুলিশ হলেও এভাবে আচরণ করা উচিত নয়। পরে আমি তাদের পাশে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে গিয়ে তল্লাশি করার কথা বলি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস এলে তাদের ওই বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি।’

 

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, এখানে উভয় পক্ষেরই কিছু ভুল ছিল। পুলিশ সদস্যরাও তাদের পরিচয় দিতে চাননি। তাদের কাছে আইডি কার্ড ছিল না। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদেরও ভুল ছিল। তারা যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অথবা আমাদের প্রক্টরিয়াল বডিকে বিষয়টি জানাতেন, তাহলে ভালো হতো। তা না করে জোরপূর্বক তাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা উচিত হয়নি। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আমরা একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছেছি। উভয় পক্ষই সেটি মেনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন আর না ঘটে।

 

 

 

 

 

পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে লিখিতভাবে সমঝোতা সম্পন্ন হয় বলে তিনি জানান।

 

 

 

 

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তাদের প্রক্টর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

 

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ