সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

জমির কারণেই স্ব-পরিবারে আপন দুলাভাই-ভাগ্নের হাতে খুন হন হাবিবুর

সংগৃহীত ছবি

নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার পেছনে রয়েছে জমিজমার ভাগ বাটোয়ারা। পুলিশ বলছে আপন ভাগ্নে আর দুলাভাই হচ্ছে মূল হত্যাকারী।

 

 

এ ঘটনায় নিহত হাবিবুরের আপন দুই ভাগিনা সবুজ হোসেন ও শাহীন রানা এবং বড় বোনের স্বামী শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।

 

 

 

দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।

 

তিনি জানান, ২০ এপ্রিল রাতে হাবিবুর, তার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং তার দুই ভাগিনা সবুজ ও শাহীন একসঙ্গে রাতের খাবার খায়। এরপর ওইদিন রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের খোলা মাঠে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা।
সেসময় দুই ভাগ্নে ছাড়াও অংশ নেয় হাবিবুরের দুলাভাই শহিদুলসহ আরও কয়েকজন। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ১টার দিকে বাড়িতে ঢুকে দরজা আটকিয়ে দেয় তারা।
এরপর প্রথমে মামা হাবিবুরকে গলা কেটে হত্যা করে দুই ভাগ্নে। কিছু পরে মামি পপি আক্তার শৌচ কাজে বাইরে বের হলে তাকে বাড়ির আঙিনাতেই গলা কেটে হত্যা করা হয়। সবশেষে মামাতো দুই ভাই বোনকে ঘুমের ঘোরেই হত্যা করে পালিয়ে যায় তারা।

 

 

 

পুলিশ সুপার আরও বলেন, মূলত ১৭ বিঘা জমির ভাগবাটোয়ারা নিয়েই শুরু হয় ঝামেলা। পাঁচ বোনের পর একমাত্র ছোট ভাই হাবিবুর। বাবা-মা’র কাছ থেকে জমির ভাগ বেশি পাওয়ায় কাল হয় হাবিবুরের। এ নিয়ে আদালাতে মামলাও হয় কয়েকটি। সব ঝামেলা মিটাতে হাবিবুরকে নির্বংশ করতেই এই কিলিং মিশন হয়।

 

 

অন্যদিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নিজ গ্রামে। সেখানে দাফনের জন্য বাড়ির সামনে পাশাপাশি প্রস্তুত করা হয়েছে চারটি কবর। বিকেলে জানাজার নামাজ শেষে তাদের দাফন করার কথা রয়েছে৷

 

 

এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তিনজনকে। পুলিশ বলছে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

 

অন্যদিকে ভাগ্নে সবুজের বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

জমির কারণেই স্ব-পরিবারে আপন দুলাভাই-ভাগ্নের হাতে খুন হন হাবিবুর

আপডেট টাইম : ০৬:৩৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার পেছনে রয়েছে জমিজমার ভাগ বাটোয়ারা। পুলিশ বলছে আপন ভাগ্নে আর দুলাভাই হচ্ছে মূল হত্যাকারী।

 

 

এ ঘটনায় নিহত হাবিবুরের আপন দুই ভাগিনা সবুজ হোসেন ও শাহীন রানা এবং বড় বোনের স্বামী শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।

 

 

 

দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।

 

তিনি জানান, ২০ এপ্রিল রাতে হাবিবুর, তার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং তার দুই ভাগিনা সবুজ ও শাহীন একসঙ্গে রাতের খাবার খায়। এরপর ওইদিন রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের খোলা মাঠে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা।
সেসময় দুই ভাগ্নে ছাড়াও অংশ নেয় হাবিবুরের দুলাভাই শহিদুলসহ আরও কয়েকজন। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ১টার দিকে বাড়িতে ঢুকে দরজা আটকিয়ে দেয় তারা।
এরপর প্রথমে মামা হাবিবুরকে গলা কেটে হত্যা করে দুই ভাগ্নে। কিছু পরে মামি পপি আক্তার শৌচ কাজে বাইরে বের হলে তাকে বাড়ির আঙিনাতেই গলা কেটে হত্যা করা হয়। সবশেষে মামাতো দুই ভাই বোনকে ঘুমের ঘোরেই হত্যা করে পালিয়ে যায় তারা।

 

 

 

পুলিশ সুপার আরও বলেন, মূলত ১৭ বিঘা জমির ভাগবাটোয়ারা নিয়েই শুরু হয় ঝামেলা। পাঁচ বোনের পর একমাত্র ছোট ভাই হাবিবুর। বাবা-মা’র কাছ থেকে জমির ভাগ বেশি পাওয়ায় কাল হয় হাবিবুরের। এ নিয়ে আদালাতে মামলাও হয় কয়েকটি। সব ঝামেলা মিটাতে হাবিবুরকে নির্বংশ করতেই এই কিলিং মিশন হয়।

 

 

অন্যদিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নিজ গ্রামে। সেখানে দাফনের জন্য বাড়ির সামনে পাশাপাশি প্রস্তুত করা হয়েছে চারটি কবর। বিকেলে জানাজার নামাজ শেষে তাদের দাফন করার কথা রয়েছে৷

 

 

এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তিনজনকে। পুলিশ বলছে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

 

অন্যদিকে ভাগ্নে সবুজের বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।