সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

জলবায়ু পরিবর্তন ও দখলে বিপর্যস্ত চলনবিল বিলীন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ১১:২৮:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
  • 54
মোঃসোহাগ হোসেন তাড়াশ,( সিরাজগঞ্জ ) প্রতিনিধি । জনতার কণ্ঠ.কম
দেশের বৃহত্তম জলাভূমি চলনবিল, তিন জেলা জুড়ে বিস্তৃত এই বিলে এক সময় বছর জুড়েই পানি প্রবাহ থাকলেও বর্তমানে বর্ষা মৌসুমেই জৌলস ফিরে পায়  বিলটি। পানির এই স্থায়িত্ব থাকে ২ থেকে ৩ মাস। স্থানীয়রা বলছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও বিলের বুকে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে চলনবিল হারাচ্ছে তার চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য।
 এছাড়াও অবাধে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ, ও জলজ প্রাণী। প্রতিদিন আহরন হচ্ছে টনকে টন শামুক-ঝিনুক। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।
বিস্তৃর্ণ জলরাশির মাঝে দিগন্ত রেখায় সবুজের আলপনা। শান্ত জলরাশির সাথে ভেসে বেড়াচ্ছে শরতের সাদা মেঘের ভেলা। এরমধ্যেই ঢেউ ভেঙে ছুটে চলেছে নৌকা। রয়েছে নানা প্রজাতির পাখির অবাধ বিচরণ। বর্ষার স্বচ্ছ জলের সাথে প্রকৃতির যেন এক অপরূপ মেলবন্ধন। এটিই দেশের বৃহতম জলরাশি চলনবিল। যা সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলা জুড়ে বিস্তৃত।
প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ এই বিলটি বর্ষা এলেই এর বিশালতা বৃদ্ধি পায়। পানিতে টইটম্বুর হয়ে ওঠে পুরো বিল এলাকা। আর এই বিল কে কেন্দ্র করেই জীবিকা নির্বাহ করে কয়েক লাখ মানুষ।
চলনবিল ঘুরে দেখা যায় মাছ-ধরার বিচিত্র আয়োজন। বিলের উন্মুক্ত জলরাশিতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন এ বিলের প্রায় ১০ হাজার জেলে পরিবার। জেলারা জানান, বন্যার পানি এলেও আগের মত আর দেশীয় মাছের দেখা মেলে না। রিং জাল, চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল সহ নিষিদ্ধ সব উপকরণ দিয়ে মাছ শিকার করায় হারিয়ে গেছে বাঁচা,  গজার, ভেদা, সরপুটি, বৌপুটি,এ্যালং, চেক্যা, কড়ি কাইট্যা, কাছিম , ভোদর, জলকলা, গেচু, ভাত শোলা সহ মস, ফার্ণ ও শৈবাল সহ ৪০ থেকে ৫০ প্রজাতির দেশীয় মাছ।
চলনবিলে মাছের সাথে বিলুপ্ত হচ্ছে বিলের জেলেদের পেশাও। জীবিকার তাগিদে অনেক জেলেই এখন শামুক-ঝিনুক ও কাঁকড়া নিধন করে বিক্রি করছেন মাছ ও হাঁসের খাবার হিসেবে। তাড়াশের কুন্দুইল এলাকায় প্রতিদিন বসছে শামুকের হাট। রাত ভর জাল দিয়ে শামুক নিধন করে এই হাটে প্রতি বস্তা শামুক বিক্রি হচ্ছে ২শ থেকে ৩শ টাকায়। প্রতিদিন কয়েক টন শামুক সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
স্থানীয়রা বলছেন, চলনবিল এলাকায় বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করায় দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে বিলের আকার। অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও যত্রতত্র পুকুর খনন করায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে চলনবিলের পানি প্রবাহের, পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে মাছ ও জলজ প্রাণী শিকার করায় দেশীয় মাছের উৎপাদন কমার পাশাপাশি প্রভাব পড়ছে বিলের পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্যে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, কোন ভাবেই চলনবিলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করা যাবেনা। এর জন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেনতাও বৃদ্ধি করতে কাজ করতে হবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মোকাররম হোসেন বলেন, দেশীয় মাছ পুণরুদ্ধারে চলনবিলে অভয়াশ্রম তৈরির পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। তবে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
চলনবিলের বিচিত্র, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সকলে এগিয়ে আসবে এমটাই প্রত্যাশা বিল পাড়ের মানুষের।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

জলবায়ু পরিবর্তন ও দখলে বিপর্যস্ত চলনবিল বিলীন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য

আপডেট টাইম : ১১:২৮:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
মোঃসোহাগ হোসেন তাড়াশ,( সিরাজগঞ্জ ) প্রতিনিধি । জনতার কণ্ঠ.কম
দেশের বৃহত্তম জলাভূমি চলনবিল, তিন জেলা জুড়ে বিস্তৃত এই বিলে এক সময় বছর জুড়েই পানি প্রবাহ থাকলেও বর্তমানে বর্ষা মৌসুমেই জৌলস ফিরে পায়  বিলটি। পানির এই স্থায়িত্ব থাকে ২ থেকে ৩ মাস। স্থানীয়রা বলছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও বিলের বুকে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে চলনবিল হারাচ্ছে তার চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য।
 এছাড়াও অবাধে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ, ও জলজ প্রাণী। প্রতিদিন আহরন হচ্ছে টনকে টন শামুক-ঝিনুক। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।
বিস্তৃর্ণ জলরাশির মাঝে দিগন্ত রেখায় সবুজের আলপনা। শান্ত জলরাশির সাথে ভেসে বেড়াচ্ছে শরতের সাদা মেঘের ভেলা। এরমধ্যেই ঢেউ ভেঙে ছুটে চলেছে নৌকা। রয়েছে নানা প্রজাতির পাখির অবাধ বিচরণ। বর্ষার স্বচ্ছ জলের সাথে প্রকৃতির যেন এক অপরূপ মেলবন্ধন। এটিই দেশের বৃহতম জলরাশি চলনবিল। যা সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলা জুড়ে বিস্তৃত।
প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ এই বিলটি বর্ষা এলেই এর বিশালতা বৃদ্ধি পায়। পানিতে টইটম্বুর হয়ে ওঠে পুরো বিল এলাকা। আর এই বিল কে কেন্দ্র করেই জীবিকা নির্বাহ করে কয়েক লাখ মানুষ।
চলনবিল ঘুরে দেখা যায় মাছ-ধরার বিচিত্র আয়োজন। বিলের উন্মুক্ত জলরাশিতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন এ বিলের প্রায় ১০ হাজার জেলে পরিবার। জেলারা জানান, বন্যার পানি এলেও আগের মত আর দেশীয় মাছের দেখা মেলে না। রিং জাল, চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল সহ নিষিদ্ধ সব উপকরণ দিয়ে মাছ শিকার করায় হারিয়ে গেছে বাঁচা,  গজার, ভেদা, সরপুটি, বৌপুটি,এ্যালং, চেক্যা, কড়ি কাইট্যা, কাছিম , ভোদর, জলকলা, গেচু, ভাত শোলা সহ মস, ফার্ণ ও শৈবাল সহ ৪০ থেকে ৫০ প্রজাতির দেশীয় মাছ।
চলনবিলে মাছের সাথে বিলুপ্ত হচ্ছে বিলের জেলেদের পেশাও। জীবিকার তাগিদে অনেক জেলেই এখন শামুক-ঝিনুক ও কাঁকড়া নিধন করে বিক্রি করছেন মাছ ও হাঁসের খাবার হিসেবে। তাড়াশের কুন্দুইল এলাকায় প্রতিদিন বসছে শামুকের হাট। রাত ভর জাল দিয়ে শামুক নিধন করে এই হাটে প্রতি বস্তা শামুক বিক্রি হচ্ছে ২শ থেকে ৩শ টাকায়। প্রতিদিন কয়েক টন শামুক সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
স্থানীয়রা বলছেন, চলনবিল এলাকায় বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করায় দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে বিলের আকার। অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও যত্রতত্র পুকুর খনন করায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে চলনবিলের পানি প্রবাহের, পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে মাছ ও জলজ প্রাণী শিকার করায় দেশীয় মাছের উৎপাদন কমার পাশাপাশি প্রভাব পড়ছে বিলের পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্যে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, কোন ভাবেই চলনবিলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করা যাবেনা। এর জন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেনতাও বৃদ্ধি করতে কাজ করতে হবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মোকাররম হোসেন বলেন, দেশীয় মাছ পুণরুদ্ধারে চলনবিলে অভয়াশ্রম তৈরির পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। তবে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
চলনবিলের বিচিত্র, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সকলে এগিয়ে আসবে এমটাই প্রত্যাশা বিল পাড়ের মানুষের।