সিরাজগঞ্জ , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ট্রাক–মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩, আহত ১১ Logo যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে হামলা চালাল ইসরায়েল, ৮ জন নিহত Logo যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ: সারাহ কুক Logo চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে, পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা Logo বাড়ির দরজায় কাফনের কাপড়, চিরকুটে হত্যার হুমকি: আতঙ্কে পরিবার Logo আজ সন্ধ্যার আগেই দেশের ২০ জেলায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনা Logo ঝড়ের তাণ্ডবে কুমিল্লায় ৩৫টি ট্রান্সফর্মার অচল, বিপাকে ১৭ উপজেলা Logo রাণীনগরে সড়কের পাশে মুরগির বর্জ্য, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্ভোগে জনজীবন Logo রায়গঞ্জে অটোরিকশা চালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, ছিনতাই সন্দেহ Logo বাবরের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে পিএসএলের ফাইনালে উঠলো পেশোয়ার

ঝড়ের তাণ্ডবে কুমিল্লায় ৩৫টি ট্রান্সফর্মার অচল, বিপাকে ১৭ উপজেলা

ক্ষতিগ্রস্ত বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার। ছবি : সংগৃহীত

কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলাজুড়ে বৈদ্যুতিক সংযোগে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ো বাতাসে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়া, তার ছিঁড়ে যাওয়া, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার গ্রাহক ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়েন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে জেলার দক্ষিণাঞ্চলের উপজেলাগুলো।

 

 

এই দুর্যোগের সরাসরি প্রভাব পড়ে চলমান এসএসসি পরীক্ষায়। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অনেক কেন্দ্রেই বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের অন্ধকারে, চার্জার লাইট ও মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে, যা চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করে।

 

 

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সূত্রে জানা যায়, আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া—এই ছয় উপজেলায় গত দুই দিনে ৭১টি খুঁটি ভেঙে গেছে। ১০২৫টি স্থানে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর গাছ পড়ে, ৭৩৮টি স্থানে তার ছিঁড়ে যায় এবং ৫৫০টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অন্তত ২৭ হাজার গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী জানান, রোববারের পর সংযোগ স্বাভাবিক করা হলেও মঙ্গলবারের ঝড়ে আবারও বিপর্যয় নেমে আসে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ পুনরুদ্ধারে দিন-রাত কাজ চলছে।

এদিকে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর অধীন চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় মঙ্গলবার সকালে প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে বিকেলে জাতীয় গ্রিডের প্রধান সংযোগ মেরামত করা হয়।

 

বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি জানান, ভবানীপুর ও এগারোগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে, যা অপসারণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক ইউনিয়ন এখনো বিদ্যুৎহীন রয়েছে, তবে দ্রুত সংযোগ পুনঃস্থাপনে কাজ চলছে।

 

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুমিল্লার চারটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে আরও সময় লাগবে। একই সঙ্গে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও এখনো পুরোপুরি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

 

 

 

কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, ২৮ এপ্রিল সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ট্রাক–মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩, আহত ১১

ঝড়ের তাণ্ডবে কুমিল্লায় ৩৫টি ট্রান্সফর্মার অচল, বিপাকে ১৭ উপজেলা

আপডেট টাইম : ১১:৪৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলাজুড়ে বৈদ্যুতিক সংযোগে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ো বাতাসে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়া, তার ছিঁড়ে যাওয়া, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার গ্রাহক ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়েন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে জেলার দক্ষিণাঞ্চলের উপজেলাগুলো।

 

 

এই দুর্যোগের সরাসরি প্রভাব পড়ে চলমান এসএসসি পরীক্ষায়। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অনেক কেন্দ্রেই বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের অন্ধকারে, চার্জার লাইট ও মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে, যা চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করে।

 

 

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সূত্রে জানা যায়, আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া—এই ছয় উপজেলায় গত দুই দিনে ৭১টি খুঁটি ভেঙে গেছে। ১০২৫টি স্থানে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর গাছ পড়ে, ৭৩৮টি স্থানে তার ছিঁড়ে যায় এবং ৫৫০টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অন্তত ২৭ হাজার গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী জানান, রোববারের পর সংযোগ স্বাভাবিক করা হলেও মঙ্গলবারের ঝড়ে আবারও বিপর্যয় নেমে আসে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ পুনরুদ্ধারে দিন-রাত কাজ চলছে।

এদিকে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর অধীন চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় মঙ্গলবার সকালে প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে বিকেলে জাতীয় গ্রিডের প্রধান সংযোগ মেরামত করা হয়।

 

বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি জানান, ভবানীপুর ও এগারোগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে, যা অপসারণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক ইউনিয়ন এখনো বিদ্যুৎহীন রয়েছে, তবে দ্রুত সংযোগ পুনঃস্থাপনে কাজ চলছে।

 

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুমিল্লার চারটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে আরও সময় লাগবে। একই সঙ্গে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও এখনো পুরোপুরি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

 

 

 

কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, ২৮ এপ্রিল সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।