নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় সড়কের দুই পাশে অবাধে মুরগির বর্জ্য ফেলার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবাদ পুকুর থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক এবং আবাদ পুকুর চারমাথা থেকে মাদারতলী পর্যন্ত সড়কের দুই ধারে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে মুরগির নাড়িভুঁড়ি, পালক, রক্ত ও পচা বর্জ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পাশে স্তূপ হয়ে থাকা এসব বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। দিনের পর দিন আবর্জনা জমে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে দুর্গন্ধময় পরিবেশে চলাচল করছেন। অনেকেই মুখে কাপড় চেপে পথ অতিক্রম করছেন।

পথচারীরা জানান, সন্ধ্যার পর বর্জ্যের কারণে শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে যায় এবং কখনও কখনও পথচারীদের আক্রমণের ঘটনাও ঘটে। এছাড়া কুকুরের আনাগোনার কারণে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
পচা বর্জ্য থেকে মশা-মাছির বংশবিস্তার ঘটছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের পরিবেশে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে এসব বর্জ্য আশপাশের জমি ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়লে পরিবেশ দূষণ আরও বাড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে মুরগি ব্যবসায়ীরা জানান, নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলছেন।
সচেতন মহলের দাবি, মুরগির বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, সড়কের পাশে আবর্জনা ফেলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করলে এ সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

রানীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 


















