সিরাজগঞ্জ , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সিরাজগঞ্জে এক সপ্তাহে ৪ শিশু ধর্ষণ-বলাৎকারের শিকার Logo ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫৭ দিন পর ফ্লাইট চালু হলো Logo রায়গঞ্জে ভ্যানচালক জাহের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি Logo ব্রহ্মপুত্র নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু Logo কারণ দর্শানোর নোটিশ পেলেন বেলকুচি পৌরসভার সেই প্রকৌশলী Logo কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ট্রাক–মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩, আহত ১১ Logo যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে হামলা চালাল ইসরায়েল, ৮ জন নিহত Logo যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ: সারাহ কুক Logo চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে, পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা Logo বাড়ির দরজায় কাফনের কাপড়, চিরকুটে হত্যার হুমকি: আতঙ্কে পরিবার

ট্রাম্পের থাবা থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে পারে রবীন্দ্র দর্শন: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের উন্মাদনা আর পুঁজিবাদের করাল গ্রাস থেকে মানবতাকে বাঁচাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই এখন একমাত্র ‘পরমাণু শক্তি’ বলে মনে করেন প্রাবন্ধিক ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ‘দানবীয়’ নেতৃত্বের বিপরীতে রবীন্দ্রনাথের শান্তিবাদ ও সংস্কৃতিই আগামীর মুক্তির পথ।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত ৪৪তম জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলনের প্রথম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এসব কথা বলেন।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে এই প্রাবন্ধিক বলেন, আজ ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো শাসকরা উন্মাদের মতো পৃথিবীকে ছারখার করতে চাইছে।

 

তিনি ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার দম্ভোক্তি করেন। কিন্তু ট্রাম্প বুঝতে পারেননি, আণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী হলো মানুষের সংস্কৃতি।

 

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ইউরোপের দেউলিয়াত্ব দেখেছিলেন। আজকের আমেরিকা সেই দেউলিয়া সাম্রাজ্যবাদেরই প্রতিচ্ছবি।

 

তারা সভ্যতাকে চেনে, কিন্তু মায়ের মমতা মাখানো সংস্কৃতিকে চেনে না। সভ্যতাকে ‘পিতৃতান্ত্রিক’ এবং সংস্কৃতিকে ‘মাতৃতান্ত্রিক’ হিসেবে তুলনা করে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্র শাসকের মতো নিষ্ঠুর হতে পারে, কিন্তু সংস্কৃতি মায়ের মতো আশ্রয় দেয়। রবীন্দ্রনাথ তার ‘রক্তকরবী’ থেকে ‘বিসর্জন’— সবখানেই এই পিতৃতান্ত্রিক শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আজকের ফ্যাসিবাদী যুগে রবীন্দ্র-দর্শনই আমাদের সবচেয়ে বড় ঢাল।

 

​দেশে বর্তমান সাংস্কৃতিক সংকটের কথা তুলে ধরে এই প্রবীণ চিন্তাবিদ বলেন, একসময় ঘরে ঘরে রবীন্দ্রচর্চা হতো, আজ তা সংকীর্ণ হয়ে আসছে। ২১ ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরি এখন মধ্যরাতে চলে গেছে, বৈশাখের চেয়ে থার্টি ফার্স্ট নাইট বড় হয়ে উঠছে। এই গানহীন ও প্রাণহীন সমাজই মৌলবাদীদ জন্মানোর উর্বর ভূমি।

 

​অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সতর্ক করে বলেন, ছায়ানট বা উদীচীর ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি বাঙালির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।

 

সংগীত, কবিতা আর দ্রোহের আবহে দুই দিনব্যাপী জতীয় রবীন্দ্র সম্মেলনের প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মফিদুল হক।

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পরিষদের নির্বাহী সভাপতি বুলবুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক লিলি ইসলাম।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

সিরাজগঞ্জে এক সপ্তাহে ৪ শিশু ধর্ষণ-বলাৎকারের শিকার

ট্রাম্পের থাবা থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে পারে রবীন্দ্র দর্শন: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

আপডেট টাইম : ০২:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের উন্মাদনা আর পুঁজিবাদের করাল গ্রাস থেকে মানবতাকে বাঁচাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই এখন একমাত্র ‘পরমাণু শক্তি’ বলে মনে করেন প্রাবন্ধিক ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ‘দানবীয়’ নেতৃত্বের বিপরীতে রবীন্দ্রনাথের শান্তিবাদ ও সংস্কৃতিই আগামীর মুক্তির পথ।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত ৪৪তম জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলনের প্রথম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এসব কথা বলেন।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে এই প্রাবন্ধিক বলেন, আজ ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো শাসকরা উন্মাদের মতো পৃথিবীকে ছারখার করতে চাইছে।

 

তিনি ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার দম্ভোক্তি করেন। কিন্তু ট্রাম্প বুঝতে পারেননি, আণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী হলো মানুষের সংস্কৃতি।

 

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ইউরোপের দেউলিয়াত্ব দেখেছিলেন। আজকের আমেরিকা সেই দেউলিয়া সাম্রাজ্যবাদেরই প্রতিচ্ছবি।

 

তারা সভ্যতাকে চেনে, কিন্তু মায়ের মমতা মাখানো সংস্কৃতিকে চেনে না। সভ্যতাকে ‘পিতৃতান্ত্রিক’ এবং সংস্কৃতিকে ‘মাতৃতান্ত্রিক’ হিসেবে তুলনা করে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্র শাসকের মতো নিষ্ঠুর হতে পারে, কিন্তু সংস্কৃতি মায়ের মতো আশ্রয় দেয়। রবীন্দ্রনাথ তার ‘রক্তকরবী’ থেকে ‘বিসর্জন’— সবখানেই এই পিতৃতান্ত্রিক শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আজকের ফ্যাসিবাদী যুগে রবীন্দ্র-দর্শনই আমাদের সবচেয়ে বড় ঢাল।

 

​দেশে বর্তমান সাংস্কৃতিক সংকটের কথা তুলে ধরে এই প্রবীণ চিন্তাবিদ বলেন, একসময় ঘরে ঘরে রবীন্দ্রচর্চা হতো, আজ তা সংকীর্ণ হয়ে আসছে। ২১ ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরি এখন মধ্যরাতে চলে গেছে, বৈশাখের চেয়ে থার্টি ফার্স্ট নাইট বড় হয়ে উঠছে। এই গানহীন ও প্রাণহীন সমাজই মৌলবাদীদ জন্মানোর উর্বর ভূমি।

 

​অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সতর্ক করে বলেন, ছায়ানট বা উদীচীর ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি বাঙালির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।

 

সংগীত, কবিতা আর দ্রোহের আবহে দুই দিনব্যাপী জতীয় রবীন্দ্র সম্মেলনের প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মফিদুল হক।

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পরিষদের নির্বাহী সভাপতি বুলবুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক লিলি ইসলাম।