ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার অসহায় বৃদ্ধা আয়েশা খাতুনকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরপরই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাদ্দাম হোসেন ও ২ নং বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জুলফিকার আলী (ভুট্টু) বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বৃদ্ধার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাঁর খোঁজখবর নেন এবং শুকনো খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেন।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে দৈনিক যুগের আলো পত্রিকায় “সন্তানের উপর ভরসা নেই মায়ের, তাই নিজের কবর তৈরি করলেন বৃদ্ধা” শিরোনামে একটি হৃদয়বিদারক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও জনমতের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাড়িতে গিয়ে ইউএনও মোঃ সাদ্দাম হোসেন বৃদ্ধা আয়েশা খাতুনের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁর বর্তমান অবস্থা ও পারিবারিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি বলেন, “সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা সরেজমিনে এসে দেখলাম এটি মূলত একটি পারিবারিক সমস্যা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হবে। উপজেলা প্রশাসন সবসময় অসহায় মানুষের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”
ইউএনও আরও বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই এ ধরনের একটি মানবিক বিষয় সামনে আসায় দ্রুত ঘটনাস্থলে এসেছেন, যাতে বৃদ্ধা কোনোভাবেই অবহেলিত না থাকেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায়।
এ সময় উপস্থিত চেয়ারম্যান মোঃ জুলফিকার আলী (ভুট্টু) বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এটি পারিবারিক বিরোধ হলেও একজন মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। স্থানীয়ভাবে মুরব্বি, জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান করা হবে। আয়েশা খাতুনের পাশে ইউনিয়ন পরিষদ সবসময় থাকবে।”
জানা যায়, বৃদ্ধা আয়েশা খাতুনের তিনজন সন্তান থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে আলাদা একটি ছোট্ট ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সন্তানদের অবহেলা ও অনিশ্চয়তার কারণে তিনি নিজের মৃত্যুর পর দাফনের চিন্তা করে আগেই নিজের কবর তৈরি করেছেন বলে স্থানীয়দের কাছে জানিয়েছেন। এই ঘটনাই এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আবেগ ও আলোচনার জন্ম দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এমন দ্রুত মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সংবাদ প্রকাশের পরপরই ইউএনও ও চেয়ারম্যানের ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া প্রমাণ করে যে প্রশাসন সাধারণ মানুষের কষ্টকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বৃদ্ধা আয়েশা খাতুন তাঁর প্রাপ্য পারিবারিক অধিকার ও সম্মান ফিরে পাবেন।
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

শাহিন আলম, ভূল্লী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 




















