সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ঠিকাদারি কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় যুবককে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ, জলঢাকায় মানববন্ধন

নীলফামারীর জলঢাকায় পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলমান সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সফিকুল ইসলাম সোহাগ (৩৪) নামে এক যুবককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে উপজেলার বাবুপাড়া সড়কে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাথাভাঙ্গা এলাকাবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আহত সোহাগের স্বজন ও স্থানীয়রা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আহত সোহাগের বাবা আব্দুস সোলেমান, ছোট ভাই সেলিম মিয়াসহ অন্যরা। বক্তারা অভিযোগ করেন, পৌরসভার চলমান আরসিসি ঢালাই সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোয় সোহাগের ওপর হামলা চালানো হয়। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

আব্দুস সোলেমান বলেন, সড়ক নির্মাণকাজের অনিয়ম নিয়ে কথা বলার কারণে তার ছেলের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সড়কের নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা উচিত। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও সতর্ক করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে মাথাভাঙ্গা এলাকায় চলমান সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করেন স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম সোহাগ। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও হামলার অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মাইজদীতে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

নোয়াখালীতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে সুধারাম মডেল থানাধীন নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদী এলাকার গ্র্যান্ড হোটেলের ৪ নম্বর কেবিনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নোয়াখালী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড চন্দ্রপুর এলাকার আবুল হোসেন (৪০) ও একই এলাকার রোমান হোসেন (৩১)।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) অনুপ চক্রবর্তী সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় আসামিদের দেহ তল্লাশি করে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

রাণীনগরে দুই বছর ধরে দাপ্তরিক কাজ না করেই বেতন তুলছেন একাডেমিক সুপারভাইজার

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার পদে থাকা কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক কাজ না করেই নিয়মিত বেতন উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। গত দুই বছর ধরে কাগজে-কলমে এই পদে বহাল থাকলেও বাস্তবে তিনি টাঙ্গাইল জেলায় কর্মরত, যা গুরুত্বপূর্ণ এই পদের কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, কামরুল হাসান ২০১৫ সালের ১৫ মে রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে যোগদান করেন। তৎকালীন সরকারের স্থানীয় নেতাদের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে দীর্ঘ দশ বছর তিনি এই পদে প্রভাব বিস্তার করে রাখেন। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি অজ্ঞাত কারণে উপজেলার দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে অনুপস্থিত হয়ে যান, যদিও পদটি তার দখলেই থেকে যায়।
মাউশির ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিলের অফিস আদেশে তাকে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত করা হয়। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবরের আদেশে তাকে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসে স্থানান্তর করা হয়। অথচ এই দুই বছরে তিনি রাণীনগর উপজেলার পদটি ছাড়েননি এবং নিয়মিত সেখান থেকেই বেতন-ভাতা তুলে যাচ্ছেন। ফলে পদটি শূন্য না হওয়ায় নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না, যার প্রভাবে উপজেলার একাডেমিক শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ফারুক আহমেদ মোল্লা বলেন, অফিসে বর্তমানে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নেই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য, এবং একাডেমিক সুপারভাইজার পদটি কাগজে থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যক্রম নেই, কারণ তিনি টাঙ্গাইলে কর্মরত। এ কারণে অফিসের নিয়মিত কাজেও সমস্যা হচ্ছে, এমনকি বেতন তুলতেও কয়েক দিন সময় লেগে যাচ্ছে। তবে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কামরুল হাসান টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসে সংযুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বেতন তোলার প্রশ্নে তিনি বলেন, নিয়মানুযায়ী তিনি বেতন তুলছেন। তবে রাণীনগরে দাপ্তরিক কাজ কে সামাল দেবে—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন এবং একটি মিটিংয়ে থাকার কথা বলে কথা শেষ করেন।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাকিবুল হাসান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, তদারকি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম সচল রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ফেরাতে জরুরি ভিত্তিতে একজন একাডেমিক সুপারভাইজার নিয়োগ প্রয়োজন।

আগৈলঝাড়ায় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন নিয়ে অবহিতকরণ সভা

আগামী ২৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করার লক্ষ্যে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশিক্ষণ হলরুমে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোর্শেদ সজিব। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক।

 

 

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শিশির কুমার গাইন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডা. মিরন হালদার, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীম, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ইপিআই) মো. সাহাত হোসেন ও স্যানেটারি ইন্সপেক্টর সুকলাল সিকদার।

 

 

মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শিশির কুমার গাইন। তিনি ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং অপুষ্টি প্রতিরোধে ভিটামিন-এ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

 

 

সভায় জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের দিন আগৈলঝাড়া উপজেলার ১২১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১ হাজার ৮০০ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১৪ হাজার ৮৮৯ জন শিশুসহ মোট ১৬ হাজার ৬৮৯ জন শিশুকে ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

 

 

 

ক্যাম্পেইন সফল করতে গণমাধ্যমকর্মী, ইমাম-খতিব, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ শিশু মানেই একটি সমৃদ্ধ আগামীর বাংলাদেশ। তাই কোনো শিশুই যেন ভিটামিন-এ ক্যাপসুল গ্রহণ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

 

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগৈলঝাড়ায় জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং উপজেলার প্রতিটি শিশু এর সুফল লাভ করবে।

 

নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে পুশইন চেষ্টা, ১২ ঘণ্টা ধরে খোলা আকাশের নিচে ৯ জন

নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি।
বুধবার (২৪ জুন) ভোর চারটার দিকে সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্তের ২৪৪/এমপি পিলারের উত্তর পাতাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ওই নয়জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে আদাতলা বিওপির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের শনাক্ত করে এবং প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে তারা বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
পুশইন চেষ্টার ১২ ঘণ্টা পার হলেও এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। শূন্যরেখায় অবস্থানরত নয়জনের মধ্যে রয়েছেন তিনজন নারী, তিনজন শিশু ও তিনজন পুরুষ। খাবার-পানি ছাড়াই তপ্ত রোদে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে তাদের।
দুপুর আড়াইটার দিকে বিএসএফের একটি দল বিজিবিকে জানায়, তাদের কোম্পানি কমান্ডার (সিও) চান যেন এই ব্যক্তিদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু এই দাবিতে সাড়া না দিয়ে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
পাতাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, ভোররাত থেকে তারা খোলা আকাশের নিচে আছেন, সঙ্গে নেই কোনো খাবার বা পানি। তাদের সঙ্গে থাকা তিন শিশুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই তপ্ত রোদে দীর্ঘ সময় থাকলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি সরকারের কাছে দ্রুত এই সীমান্ত সমস্যার সমাধান চেয়েছেন।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিএসএফের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হলো

বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় এবং অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রতিরোধে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালতের রায়ে ৯ জন গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে ৫ জন গ্রাহকের মিটার খুলে নেয়া হয়।

 

 

গতকাল বুধবার সকালে থানা পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন ও আগৈলঝাড়া জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ আহমেদ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আগৈলঝাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ছিদ্দিকুর রহমান, এজিএম মো. আরিফুল ইসলাম, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, আগৈলঝাড়া থানার এসআই মো. তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।

 

 

 

ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ছিদ্দিকুর রহমান জানান, আগৈলঝাড়ায় পূর্বের বকেয়া এবং চলতি বকেয়াসহ ৭ কোটি ৮৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ৩৭৮ টাকা গ্রাহকদের কাছে পাওনা রয়েছে। চলতি জুন মাসে বকেয়া টাকা আদায়ের লক্ষে আগৈলঝাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে দীর্ঘদিন থেকে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় ৯ জন গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে ৫ জন গ্রাহকের মিটার খুলে নেয়া হয়। বিদ্যুৎখাতের শৃঙ্খলা রক্ষা, বকেয়া বিল আদায় এবং অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রতিরোধে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, অভিযানে শুধু বকেয়া বিল আদায় বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কার্যক্রম নয় বরং এটি ছিল বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সকলের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং নিয়মিত বিল পরিশোধ অত্যন্ত জরুরী।

 

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধকে পিটিয়ে আহত

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আইয়ুব আলী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা।

 

 

 

বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেয়।​

 

 

 

আটককৃত আইয়ুব আলী ওই ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের নছরউদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্রী। মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে আইয়ুব আলী তার সঙ্গে ‘নানা-নাতনি’র সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বুধবার সকালে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে কৌশলে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় ওই বৃদ্ধ। একপর্যায়ে সে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আইয়ুব আলীকে হাতেনাতে আটক করেন।

এ ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত বৃদ্ধকে গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে রাজারহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়রা আইয়ুব আলীকে তাদের হাতে সোপর্দ করেন।

 

 

এদিকে ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এ জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

 

 

রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামনুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্রাজিল, যেভাবে দেখবেন ম্যাচ

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা ও উত্তেজনার কোনো সীমা নেই। আর যদি হয় ব্রাজিলের ম্যাচ, তবে তো ভক্তদের আগ্রহের কোনো কমতি থাকে না।

 

 

আজ দিবাগত রাত অর্থাৎ আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোর ৪টায় স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল।

 

 

ঘরে বসেই টিভিতে দেশের তিনটি চ্যানেলে দেখা যাবে ব্রাজিল-স্কটল্যান্ডের খেলা। রাষ্ট্রীয় চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ছাড়াও এই ফুটবল মহাযজ্ঞের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস ও সময় টেলিভিশন।

 

 

এছাড়া মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ থেকেও ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। তবে সেক্ষেত্রে সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে। নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপে ঘরে বসেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ উপভোগ করতে পারবেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। এছাড়া পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছে বিশ্বকাপ।

‘দ্য প্যারাডাইস’ কবে আসছে প্রেক্ষাগৃহে?

সাউথ ইন্ডিয়ান ন্যাচারাল স্টার ন্যানি অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত প্যান-ইন্ডিয়ান সিনেমা ‘দ্য প্যারাডাইস’ আগামী ২১ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। ‘দসরা’খ্যাত পরিচালক শ্রীকান্ত ওদেলার এই সিনেমাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

 

 

শুরুতে সিনেমাটির মুক্তির তারিখ ২৬ মার্চ ঘোষণা করা হলেও পরে তা পরিবর্তন করে ২১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসএলভি সিনেমাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত পোস্টারেও এই তারিখ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে আগামী আগস্টেই বড় পর্দায় ন্যানির নতুন চমক দেখতে পাবেন দর্শকরা।

 

 

সম্প্রতি সিনেমাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলিউড অভিনেতা ও ড্যান্সার রাঘব জুয়ালের ফার্স্ট লুক। ‘বিক্রম মালিক’ নামের ভয়ংকর এক ভিলেন চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। গলায় ভারী সোনার গহনা ও হিংস্র অভিব্যক্তিতে প্রকাশিত ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে রাঘব বলেন, “শ্রীকান্ত ওদেলার সঙ্গে কাজ করা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। ‘দসরা’ যারা দেখেছেন তারা জানেন, তিনি কতটা নিখুঁতভাবে কাজ করেন। ‘দ্য প্যারাডাইস’ দর্শকদের জন্য বড় এক চমক হতে যাচ্ছে।”

২০২৩ সালের ব্লকবাস্টার ‘দসরা’র পর এটি ন্যানি ও শ্রীকান্ত ওদেলার দ্বিতীয় যৌথ প্রজেক্ট। নির্মাতাদের দাবি, ন্যানিকে এবার সম্পূর্ণ নতুন রূপে দেখা যাবে। অ্যাকশন, ড্রামা এবং বাস্তবধর্মী গল্পে ভরপুর এই সিনেমা নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশাও আকাশছোঁয়া।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২১ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘দ্য প্যারাডাইস’।

পেনশন ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের ইঙ্গিত দিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর পেনশন পেতে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও হয়রানি কমাতে ‘অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (ওপিটিএমএস) চালু করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পেনশনভোগীরা ঘরে বসেই আবেদন জমা দিতে, আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’বিষয়ক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

 

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা পেনশনসংক্রান্ত কাজে প্রায়ই বিলম্ব, প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং অপ্রয়োজনীয় অফিস যাতায়াতের মুখোমুখি হন। ওপিটিএমএস পুরোপুরি চালু হলে তারা ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করতে ও আবেদনের অগ্রগতি জানতে পারবেন। এর ফলে দ্রুততম সময়ে পেনশন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি অফিসে না গিয়ে অনলাইনে সেবা পাওয়া গেলে তা দুর্নীতি কমানোর কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী পেনশনভোগীদের বিষয়ে মো. আব্দুল বারী বলেন, বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী ১৫ বছরের পুনঃস্থাপন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো পেনশনভোগী মারা গেলে তার পরিবার পেনশন পুনঃস্থাপনের সুবিধা পায় না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে এ নীতি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী।

সভাপতির বক্তব্যে মো. এহছানুল হক বলেন, আগে সরকারি কর্মচারীদের কোনো সমন্বিত ডেটাবেস ছিল না। ফলে পেনশন মঞ্জুরির প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠত। হালনাগাদ কর্মচারী ডেটাবেস সংরক্ষণ করা গেলে পেনশন অনুমোদনের প্রক্রিয়া অনেক সহজ হবে। তিনি পেনশনভোগীদের জন্য পৃথক হেল্প ডেস্ক স্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন, যাতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও পারিবারিক পেনশনভোগীরা সহজে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন।

 

 

অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, অবসরের পর অনেক পেনশনভোগী নানা জটিলতার কারণে অসহায় অবস্থায় পড়েন। ওপিটিএমএস ঝামেলামুক্ত সেবা নিশ্চিত করে তাদের আস্থা বাড়াবে। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের নিয়মিত পেনশন মামলার ক্ষেত্রে পাইলট ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা চালু হবে। পরবর্তী সময়ে এটি অর্থ বিভাগ, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, সব মন্ত্রণালয়, সংযুক্ত দপ্তর এবং মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা চালু করা গেলে বৈষম্য কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।

 

 

হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী বলেন, পেনশন-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পেনশনভোগীরা এখন পুরোপুরি ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পেনশন ব্যবস্থাপনার মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে, যা সেবাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করছে।

 

 

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের বাজেট-১ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও এসপিএফএমএস কর্মসূচির জাতীয় কর্মসূচি পরিচালক ড. জিয়াউল আবেদীন। তিনি বলেন, জিপিএফ অটোমেশন, পেনশন-পরবর্তী সুবিধার অটোমেশন, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট মডিউল, টিএ/ডিএ মডিউল, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড ডেটাবেস এবং এলপিসি মডিউলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইবাস++ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ওপিটিএমএস চালু হলে অবসর-পূর্ব পেনশন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং অবসরপ্রত্যাশী কর্মচারীরা উন্নত সেবা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন অর্থ বিভাগের বাজেট ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসপিএফএমএসের পেনশন, ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়নের মান ও সময়ানুবর্তিতা বিষয়ক স্কিমের প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ ও কো-অর্ডিনেটর ড. মাহফুজা বেগম।

বাংলাদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখ: অর্থমন্ত্রী

 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ২৩২টি। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি এবং ঋণ হিসাবের সংখ্যা এক কোটি ৫৩ লাখ ৭৬৭টি।

 

 

 

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে চাঁদপুর-৩ আসনের শেখ ফরিদ আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

 

 

 

ওই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্য সরকার জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল (এনএফআইএস) প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমান আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

 

কুড়িগ্রাম-১ আসনের আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংকিং সেক্টরে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক তাদের ঋণের অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যাংকগুলো ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সাথে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করে ‘নো উইন নো ফি’ শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

 

তিনি আরও বলেন, এ সকল আইনি প্রতিষ্ঠান অভিযুক্ত ঋণ খেলাপিদের নামে বিদেশে থাকা অর্থ-সম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং তা ফেরত আনার বিষয়ে ব্যাংকসমূহকে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। প্রথম পর্যায়ে ৬টি কেইস (সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস. আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ) নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরবর্তীকালে আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

 

জামালপুর-৩ আসনের মুস্তফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ৭৮ হাজার ২৩৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে কনসেশনাল এবং নন-কনসেশনাল ঋণের অনুপাত যথাক্রমে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও ৩৮ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

 

 

 

ময়মনসিংহ-৮ আসনের লুৎফুল্লাহেল মাজেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজস্ব প্রদানকারী নিবন্ধিত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৬। আগের অর্থ বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

 

 

গাইবান্ধা-৪ আসনের মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের আওতায় চলতি অর্থ বছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৩১ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

 

 

 

সংরক্ষিত আসনের মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তারের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেসব ব্যাংক অর্থ সংকটের কারণে গ্রাহকের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, তাদের গ্রাহকদের অর্থ প্রদানের লক্ষে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জরুরী তারল্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। জরুরি তারল্য সহায়তা হিসেবে গত ১৫ জুন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের আমিরুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৬৩টি ব্যাংক তাদের ১১ হাজার ৩২৬টি শাখা এবং চার হাজার ৯২৯টি উপশাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

 

 

সংরক্ষিত আসনের সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫টি কোটি টাকা। এর বিপরীতে এক লাখ ২৯ হাজার ৯০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা (৭৫.৩০ শতাংশ)।

 

 

 

সরকারি ও বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংক নিয়ে পৃথক প্রশ্ন করেন। এসব প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি বা এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে ব্যাংক রেজোল্যুশন স্কিম, ২০২৫ এর আওতায় নেওয়া হয়েছে। রেজোল্যুশনের আওতায় থাকা এই পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী ওই পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আরও যেসব ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ কাজ করছে। প্রয়োজন হলে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

তিনি বলেছেন, আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এর আওতায় সুরক্ষিত আমানতের সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রাহকের অর্থ দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত জরুরি তারল্য সহায়তা হিসেবে ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

মুদির দোকানও আসবে ভ্যাটের আওতায়

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মুদির দোকান ও বিউটি পার্লারসহ বেশ কয়েক ধরনের ব্যবসায়িক খাতকে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

 

 

মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী মুদির দোকান ও বিউটি পার্লারসহ যেসব ব্যবসায়ী খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে- তা হলো তৈরি পোশাক বা কাপড়ের বিক্রেতা, কনফেকশনারী, কসমেটিক্সের দোকান, প্লাস্টিকের ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রেতা, পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার এবং সেনিটারি ও ফিটিংস, টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্ট, ফার্নিচার, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও রেস্টুরেন্ট। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ভ্যাট বাবদ এক লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

 

নিখোঁজ মাদক ব্যবসায়ীর সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন, বন্ধ রেল চলাচল

 

হবিগঞ্জের মাধবপুরে নিখোঁজ এক মাদক ব্যবসায়ীকে জীবিত উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন ও রেলপথ অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে উপজেলার হরষপুর রেলস্টেশন এলাকায় শত শত গ্রামবাসী এ কর্মসূচি পালন করেন। এসময় উত্তেজিত জনতা সিলেটগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন প্রায় ৭ মিনিট আটকে রাখেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

 

 

নিখোঁজ ফুয়াদ হাসান সাকিব উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের সোয়াবই গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ আলীর ছেলে।

 

 

 

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সাকিবকে জীবিত উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বক্তারা বলেন, নিখোঁজের কয়েকদিন পার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

 

 

সাকিবের বাবা সিরাজ আলী ও স্বজনদের অভিযোগ, গত ২১ জুন গন্ধবপুর এলাকায় সাকিবের মাছের খামারে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালিয়ে ফুয়াদকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তারা এ ঘটনার জন্য রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়া ও তার সহযোগীদের দায়ী করছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ সাকিব দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি মাছের খামার পরিচালনা করতেন। আসন্ন ধর্মঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড, দান-অনুদান এবং রাস্তাঘাট সংস্কারে অর্থ ব্যয় করতেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।

 

 

গ্রামবাসী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাকিব ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়ার পরিবারের সদস্যরা একসময় একই চক্রে চলাফেরা ও ব্যবসা করতেন। তবে প্রায় এক মাস আগে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

 

 

 

নিখোঁজের ঘটনায় সাকিবের বাবা সিরাজ আলী বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ধর্মঘর এলাকার মনির, রুবেল, জুয়েল এবং সোয়াবই গ্রামের মাহফুজ মিয়ার ছেলে মামুন, শিমুলসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

 

এদিকে সাকিবের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার জেরে সোমবার সকালে রাজেন্দ্রপুর গ্রামে মাহফুজ মিয়ার পাকা বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সাকিবের স্বজন ও সমর্থকদের একটি অংশ এ হামলা চালায়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

 

 

 

মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, সাকিব নিখোঁজের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে মাহফুজ মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

 

ইরানের যুদ্ধ থামানোর পাশাপাশি লেবাননেও শান্তি চান গালিবাফ

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের কাছে তার নিজ দেশের যুদ্ধ বন্ধের মতোই গুরুত্বপূর্ণ লেবাননের যুদ্ধের অবসান ঘটানো। বুধবার (২৪ জুন) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে একটি সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের নিউজ নেটওয়ার্কে সরাসরি সম্প্রচারিত এই ভাষণে তিনি বলেন, আমাদের জন্য লেবাননের যুদ্ধবিরতি ইরানের যুদ্ধবিরতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, লেবাননের যুদ্ধের অবসান ইরানের যুদ্ধের অবসানের মতোই জরুরি।

 

 

গত ১৪ই জুন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে যে সমঝোতায় পৌঁছেছে তাতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রধান গালিবাফ বলেন, ইসলামাবাদ চুক্তিটি আমেরিকার পরাজয়ের ঘোষণায় পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ কোনো সামরিক সংঘাত নয়, বরং অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্য পরিবর্তন করে একটি স্বাধীন জাতির ওপর নিজেদের ইচ্ছাকে চাপিয়ে দেওয়ার একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা।

গালিবাফ ঘোষণা করেন, ইরান পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে সকল ইসলামী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রস্তুত।

 

 

 

ভাইয়ের মৃত্যুতে শোকাহত শোয়েব আখতার

সাবেক পাকিস্তানি গতিদানব শোয়েব আখতারের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পাকিস্তানের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটারের বড় ভাই শহীদ আখতার মারা গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোয়েব আখতার নিজেই তার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে পারিবারিক সূত্র থেকে এখনো সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।

 

 

বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়ে শোয়েব আখতার তার পোস্টে লিখেছেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমার প্রিয় বড় ভাই শহীদ আখতার আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে চলে গেছেন।

 

 

সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক রশিদ লতিফও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শহীদ আখতারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং জানাজার সময় ও স্থান নিয়ে তথ্য শেয়ার করেছেন।

পাকিস্তানের হয়ে ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম ডেলিভারির রেকর্ড গড়া এই পেসারের পরিবারে এটিই প্রথম বড় আঘাত নয়। এর আগে প্রায় পাঁচ বছর আগে শোয়েব আখতার তার মাকে হয়েছিলেন। মায়ের পর এবার বড় ভাইকে হারিয়ে শোয়েব ও তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এই মর্মান্তিক খবরের পর ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোয়েব ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর শোয়েব আখতার একজন বিশ্লেষক হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও পাকিস্তানি গণমাধ্যমে ক্রিকেট পণ্ডিত হিসেবে নিয়মিত উপস্থিত থেকে ম্যাচ বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। মাঠের ক্রিকেট ও ক্রিকেট প্রশাসনের নানা অসংগতি নিয়ে সব সময় অকপট এই কিংবদন্তি এখন জীবনের এক কঠিন শোকের মুহূর্ত পার করছেন।

বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে সহ সভাপতির সংবাদ সম্মেলন

বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি,  কাজের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের  গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন  করেছে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা।
বুধবার (২৪ জুন)  দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর চৌরাস্তা বাজারে  ইউনিয়ন বিএনপি ও সকল অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জিয়াউদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আব্দুল কাদির বাবুল, আসাদ ও স্বপন মিয়া। তারা লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে চলেছেন। এ কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে নেতাকর্মীরা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বক্তারা অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম মাজহারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ তদন্ত করে সত্যতা পান, তাহলে সাংগঠনিকভাবে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমি তা মেনে নেব।
উল্লেখ্য, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছিল। এবারের সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঢাকার কাছে একের পর এক ভূমিকম্প, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানীর খুব কাছাকাছি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে— এগুলো কি কেবল স্বাভাবিক ভূ-তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি ভবিষ্যতের বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাৎক্ষণিক আতঙ্কের কারণ না থাকলেও বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

 

 

উৎপত্তিস্থল ঘুরেফিরে ঢাকার আশপাশেই

সর্বশেষ ভূমিকম্পটি গত ২২ জুন রাত ৮টা ২৮ মিনিটে অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৬ কিলোমিটার গভীরে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে, যা ঢাকা থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পূর্বে।

 

 

উৎপত্তিস্থল নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর বলেন, নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে গেলে সেটি রূপগঞ্জ এলাকার মধ্যেই পড়ে।

 

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ২২শে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘটিত বেশ কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার কাছাকাছি।

 

 

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৩ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। এর কেন্দ্র ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে।

 

 

এর আগে ২০২৫ সালের ২১শে নভেম্বর রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে মাধবদী এলাকায়, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ছিল মাত্র ১৩ কিলোমিটার।

 

 

গত কয়েক দশকে দেশের অভ্যন্তরে উৎপত্তি হওয়া অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত ওই ঘটনায় ঢাকায় চারজন, নরসিংদীতে পাঁচজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন নিহত হন। আহত হন সাড়ে চার শতাধিক মানুষ, যার মধ্যে গাজীপুরেই ছিলেন ২৫২ জন।

 

 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। চারটি ভূমিকম্পের মধ্যে তিনটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় এবং একটি ছিল ঢাকার বাড্ডায়।

 

 

পরদিন ২২ নভেম্বর নরসিংদীর পলাশে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার, ঢাকার বাড্ডায় ৩ দশমিক ৭ মাত্রার এবং পরে নরসিংদীতে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরও দুটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। এর কয়েকদিন পর ২৭ নভেম্বর ঘোড়াশালে ৩ দশমিক ৬ মাত্রার এবং ৪ ডিসেম্বর শিবপুরে ৪ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক এসব ভূমিকম্প টেকটোনিক কার্যকলাপের ফল হতে পারে, আবার কোনো সক্রিয় ফল্টের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।

 

 

তার ভাষায়, অনেক সময় নতুন ফল্ট সৃষ্টি হয়, আবার দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা কোনো পুরোনো ফল্টও পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

 

 

বাংলাদেশের অবস্থান ইউরেশিয়ান, ইন্ডিয়ান এবং বার্মিজ— এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের প্রভাব বলয়ের মধ্যে হওয়ায় দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে বলে জানান রুবায়েত কবীর।

 

 

এগুলো কি বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারীর মতে, সম্প্রতি ঢাকার আশপাশে হওয়া ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো থেকে বড় ধরনের ভবনধস বা ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা নেই।

 

 

যদিও তিনি মনে করেন, এসব ঘটনা মানুষকে ভূমিকম্প সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

 

 

তার মতে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো এমন ফল্টগুলো, যেগুলো অতীতে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করেছে।

 

 

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং ঢাকার কাছাকাছি শ্রীমঙ্গল ও বগুড়ার শেরপুর এলাকায়। কারণ ইতিহাসে এসব অঞ্চলে ৭-এর বেশি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেকর্ড রয়েছে।

 

 

১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার এবং ১৮৮৫ সালে শেরপুরে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।

 

 

মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, এগুলো ঢাকা থেকে দেড়শো থেকে দু’শো কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে। বাকি বড় ভূমিকম্পগুলো ঢাকা থেকে আরও দূরে হয়েছিল।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি ভূমিকম্পের একটি রিটার্ন পিরিয়ড বা পুনরাবৃত্তির চক্র থাকে। সাত মাত্রার ভূমিকম্প হয়তো আরও হয়েছে, কিন্তু আমাদের কাছে তথ্য নেই। সে কারণেই আমরা বলি, ঢাকার জন্য সাত মাত্রার একটি ভূমিকম্প ভবিষ্যতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি কবে হবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ২০ বছরও লেগে যেতে পারে।

 

 

নরসিংদীতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন ভূমিকম্পকে বড় কোনো ঘটনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে উল্লেখ করলেও তিনি বলেন, ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী নরসিংদীতে অতীতে বড় কোনো ভূমিকম্পের রেকর্ড নেই।

 

 

নরসিংদী বা ঢাকার আশপাশের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের হিসেবে ঢাকা ঝুঁকিপূর্ণ না, কিন্তু অতীতের বড় ভূমিকম্পগুলোর বিচারে ঢাকা খুবই ঝুঁকির মধ্যে আছে। বড় কোনো ভূমিকম্প হলে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে, বলেন তিনি।

 

 

রুবায়েত কবীরও বলেন, ঢাকাকেন্দ্রিক বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস নেই। কিন্তু সীমান্ত অঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস আছে। আর গত এক-দুই বছর ধরে আমাদের এই অঞ্চলে ভূমিকম্পপ্রবণতা কিছুটা বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।

 

 

ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকা তুলনামূলক নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এলাকা কতটা নিরাপদ তা নির্ভর করে মূলত দুই বিষয়ের ওপর—ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং অবকাঠামোর মান।

 

 

ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের মতে, ঢাকা ও আশপাশের অধিকাংশ এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন প্রায় একই হলেও উত্তরাংশে মধুপুরের শক্ত লাল মাটি রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।

 

 

তার মতে, শুধু ভূতাত্ত্বিক গঠন বিবেচনায় রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান ও তেজগাঁওয়ের মতো এলাকা তুলনামূলক নিরাপদ।

 

 

যদিও বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী মনে করেন, কেবল মাটির গঠন দেখে কোনো এলাকা নিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ বলা সম্ভব নয়।

 

 

যতক্ষণ না ভবনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, ততক্ষণ বলা যাবে না কোনটা ঝুঁকিপূর্ণ বা ঝুঁকিমুক্ত- বলেন তিনি।

 

 

তার মতে, পুরান ঢাকাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও মূল সমস্যা ভবনের চেয়ে সরু রাস্তা। দুর্যোগের সময় দ্রুত মানুষ সরিয়ে নেওয়া সেখানে কঠিন হতে পারে।

 

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শত বছরের বেশি পুরোনো অনেক ভবন এখনো টিকে আছে এবং বিভিন্ন ভূমিকম্পেও ধসে পড়েনি। তাই কাঠামোগত মানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

 

ঢাকার জন্য বাড়তি শঙ্কা ‘ব্লাইন্ড ফল্ট’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার ভেতরে কোনো পরিচিত ফল্ট লাইন নেই। তবে বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি প্রধান ফল্ট বা চ্যুতি রেখা রয়েছে।

 

 

এর মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত প্লেট বাউন্ডারি, নরসিংদীর ওপর দিয়ে যাওয়া আরেকটি প্লেট বাউন্ডারি, সিলেট হয়ে ভারতের দিকে বিস্তৃত ফল্ট অঞ্চল, ডাউকি ফল্ট এবং মধুপুর ফল্ট।

 

 

অতীতে এসব অঞ্চলে ৭ থেকে ৮ দশমিক ৫ মাত্রা পর্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে।

 

 

গবেষকদের মতে, এসব ফল্টে কয়েকশ বছর পরপর বড় ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

 

 

তবে আরও উদ্বেগের বিষয় হলো ‘ব্লাইন্ড ফল্ট’ বা অদৃশ্য ফল্ট। এ ধরনের ফল্ট ভূ-পৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায় না, ফলে সাধারণ ভূতাত্ত্বিক মানচিত্রে সহজে শনাক্ত করা যায় না।

 

 

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চলে দুটি ব্লাইন্ড ফল্ট শনাক্ত করা হয়েছে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ফল্ট শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় আগে থেকে সতর্কবার্তা পাওয়াও প্রায় অসম্ভব। তাই ভবিষ্যতের ভূমিকম্প ঝুঁকি মূল্যায়নে ব্লাইন্ড ফল্টগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার আশপাশে ঘন ঘন ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বিশেষজ্ঞদের নজর কাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে এগুলোকে দেখা হচ্ছে না।

 

 

তবে বাংলাদেশের ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থান, অতীতের শক্তিশালী ভূমিকম্পের ইতিহাস এবং বিভিন্ন সক্রিয় ও অদৃশ্য ফল্টের উপস্থিতি রাজধানীসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকাকে দীর্ঘমেয়াদে ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রেখেছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, ভবনের মান নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

 

শূন্যরেখার সংকট কাটিয়ে ফিরলেন ৬ জন, আটকে আছেন আরও ৩ জন

 

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের শিকার হওয়া ছয় বাংলাদেশি নাগরিকের সবাই অবশেষে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছেন।

 

 

 

তবে একই ঘটনায় সীমান্তের আরেক পয়েন্টে পুশইনের শিকার হওয়া আরও তিন বাংলাদেশি এখনো আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

 

 

 

বিজিবি ও বিএসএফের কড়া নজরদারির মধ্যে দীর্ঘ ১০ দিন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানের পর বুধবার (২৪ জুন) ভোরে সেখান থেকে সরে যান দুই যুবক। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়, তারা নিরাপদে নিজ বাড়িতে পৌঁছেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন ভোরে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক ১০৬০ মেইন পিলারের ১ এস সাব-পিলার দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা-মানকারচর জেলার ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ছয় বাংলাদেশিকে পুশইনের চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয় জনতার বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পেরে সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়েন।

 

খোলা আকাশের নিচে টানা কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল পরিবেশে অবস্থানের কারণে একই পরিবারের দুই শিশুসহ চারজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ মেডিকেল টিম তাদের চিকিৎসাসেবা দেয়।

 

 

পরে মানবিক কারণে বিজিবি ওই দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করে রৌমারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।

 

 

 

উদ্ধার হওয়া চারজন হলেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কংশেরকুল গ্রামের মো. বেলাল হোসেন (২৮), তার স্ত্রী সুমি আক্তার (২৬) এবং তাদের দুই সন্তান ফাইমা (৫ মাস) ও ফাতেমা আক্তার (৪)।

 

 

 

পরিবারের চার সদস্য বাড়ি ফিরে গেলেও বাকি দুই যুবক সীমান্তের শূন্যরেখায় দীর্ঘ ১০ দিন অবস্থান করছিলেন। তারা হলেন, একই গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে মো. সজিব হোসেন (২৫) ও মৃত শামসুল হকের ছেলে মো. হিমেল (১৮)।

 

 

 

বুধবার ভোর থেকে তাদের আর সীমান্তে দেখা না যাওয়ায় নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেন, তারাও এখন নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।

 

 

 

শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, ‘গত রাত পর্যন্ত দুই যুবক শূন্যরেখায় ছিল। সকালে গিয়ে আর তাদের দেখা যায়নি। পরে জানতে পেরেছি, তারা পরিবারের কাছে ফিরে গেছে।’

 

 

 

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছামছুল হোসাইন বলেন, ‘পুশইনের শিকার হওয়া ছয়জনই এখন বাড়িতে রয়েছে। আগে চারজন ফিরেছিল, পরে বাকি দুই যুবকও নিরাপদে বাড়ি ফিরে এসেছে।’

 

 

 

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, কাজের সন্ধানে প্রায় সাত মাস আগে তারা সীমান্তপথে ভারতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দিলে তারা এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েন।

 

 

 

তবে একদিকে ছয়জনের বাড়ি ফেরা স্বস্তি এনে দিলেও সীমান্তে এখনো অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে আরও তিন বাংলাদেশির।

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, একই দিন গভীর রাতে রৌমারী সদর ইউনিয়নের ভন্দুরচর সীমান্তে আন্তর্জাতিক ১০৬৬ মেইন পিলার এলাকা দিয়ে আরও তিন বাংলাদেশিকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির বাধার মুখে তারাও শূন্যরেখায় আটকে পড়েন।

 

 

 

গত ১১ দিন ধরে তারা বিজিবি ও বিএসএফের কড়া পাহারার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

 

 

আটকে থাকা তিনজন হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২)।

 

 

এদিকে, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুই যুবকের সরে যাওয়া এবং তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

 

 

 

লাল কার্ডের নিয়ম থাকলেও বেলিংহ্যামের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন?

ফিফা বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচে ড্রয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন জুড বেলিংহ্যাম। ম্যাচ চলাকালে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় এই ইংলিশ মিডফিল্ডারকে। চলতি বিশ্বকাপে ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী এমন আচরণের জন্য সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার বিধান থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো শাস্তি পাননি তিনি।

 

 

ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় ঘানার ডাগআউটের সদস্যদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বেলিংহ্যাম। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসতে হয় সতীর্থ মর্গান রজার্সকে। এমনকি ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজের সঙ্গেও তাকে তর্ক করতে দেখা যায়।

 

 

তবে ম্যাচের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয় ঘানার ফরোয়ার্ড জর্ডান আইউর সঙ্গে বেলিংহ্যামের একটি মুহূর্ত। কথোপকথনের সময় তিনি নিজের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। আর এটিই নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

চলতি বিশ্বকাপ থেকে ফিফা একটি নতুন নিয়ম চালু করেছে। কোনো উত্তপ্ত বা বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় যদি মুখ আড়াল করে কথা বলেন, তাহলে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন। এর পেছনের যুক্তি হলো, মুখ ঢেকে কথা বললে কী বলা হচ্ছে তা বোঝা কঠিন হয়ে যায় এবং অনেক সময় আপত্তিকর মন্তব্যও আড়ালে থেকে যেতে পারে।

ইতোমধ্যে এই নিয়মের প্রয়োগও দেখা গেছে। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরনকে ভিএআরের সহায়তায় সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। ফলে বেলিংহ্যামের ঘটনাটি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

তবে ম্যাচ কর্মকর্তারা মনে করেন, জর্ডান আইউর সঙ্গে বেলিংহ্যামের কথোপকথন কোনোভাবেই উত্তপ্ত বা মারমুখী ছিল না। সেটি ছিল সাধারণ আলাপচারিতা। ফলে ঘটনাটি নতুন নিয়মের আওতায় পড়েনি এবং তাকে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি।

 

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফার রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কোলিনা জানিয়েছিলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ বা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বললে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এমন আচরণ করলে সেটি সরাসরি লাল কার্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

 

এদিকে ম্যাচে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও ঘানার রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি ইংল্যান্ড। ফলে গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে থ্রি লায়ন্সরা। দুই ম্যাচ শেষে এক জয় ও এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এল’র শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ঘানা।

 

 

গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে পানামার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে জয় পেলেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রুপ সেরা হওয়ার সুযোগও থাকবে বেলিংহ্যামদের সামনে।

 

 

 

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

চীনের রাজধানী বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় ডালিয়ান থেকে হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে করে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিং পৌঁছান। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

 

 

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ডালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এর বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন। চীনের ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নসের এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ অংশ নেন। সম্মেলনটিতে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও অধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

 

 

‘গ্রীষ্মকালীন দাভোসে’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একদিকে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের সেরা অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করবে।

 

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া সফর শেষে গত সোমবার (২২ জুন) চীনের ডালিয়ানে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সফরচিত্রে নিজের গান ব্যবহারে যা বললেন হাবিব

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের একটি ভিডিও প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘মহাজাদু’ গানটি। ভিডিওটির আবহসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কোক স্টুডিও বাংলার জনপ্রিয় এই গান। এটি গেয়েছিলেন হাবিব ওয়াহিদ ।

 

 

ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন হাবিব ওয়াহিদ। তিনি জানান, আগে থেকে এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠে মোবাইলে পাঠানো কয়েকটি লিংকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন।

 

 

 

হাবিব বলেন, ‘লিংকে ক্লিক করে দেখি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্বপূর্ণ ভিডিওতে আমার গান ব্যবহার করা হয়েছে। এটা দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের ভিডিওতে আমার গান ব্যবহৃত হওয়ায় আমি সম্মানিত বোধ করছি। নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’

গানটি ব্যবহারের বিষয়ে কেউ আগে থেকে যোগাযোগ করেননি বলেও জানান এই সংগীতশিল্পী। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে এ নিয়ে কেউ কথা বলেনি। হঠাৎ করেই বিষয়টি জানতে পেরে আমি নিজেই সারপ্রাইজ হয়ে গেছি।’

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও হাবিব জানান, তিনি নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করেন না। তাই সরাসরি প্রতিক্রিয়াগুলো দেখতে না পারলেও বিভিন্নজনের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা শুনছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভক্তদের যদি ভালো লাগে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি ভক্তদের জন্যই গান করি। তাদের ভালো লাগা মানেই আমারও ভালো লাগা।’

 

 

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার সঙ্গে কোনো সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিব স্পষ্ট করে বলেন, ‘না, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখা হয়নি, কথাও হয়নি। এ কারণেই বিষয়টি আমাকে আরও বেশি অবাক করেছে।’

 

 

বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে হাবিব ওয়াহিদ জানান, তিনি নতুন গান নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি তার ‘প্রেমের কলঙ্ক’ শিরোনামের একটি গান প্রকাশিত হয়েছে, যা শ্রোতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ঠিকাদারি কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় যুবককে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ, জলঢাকায় মানববন্ধন

আপডেট টাইম : ০৭:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

নীলফামারীর জলঢাকায় পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলমান সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সফিকুল ইসলাম সোহাগ (৩৪) নামে এক যুবককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে উপজেলার বাবুপাড়া সড়কে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাথাভাঙ্গা এলাকাবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আহত সোহাগের স্বজন ও স্থানীয়রা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আহত সোহাগের বাবা আব্দুস সোলেমান, ছোট ভাই সেলিম মিয়াসহ অন্যরা। বক্তারা অভিযোগ করেন, পৌরসভার চলমান আরসিসি ঢালাই সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোয় সোহাগের ওপর হামলা চালানো হয়। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

আব্দুস সোলেমান বলেন, সড়ক নির্মাণকাজের অনিয়ম নিয়ে কথা বলার কারণে তার ছেলের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সড়কের নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা উচিত। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও সতর্ক করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে মাথাভাঙ্গা এলাকায় চলমান সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করেন স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম সোহাগ। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও হামলার অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মাইজদীতে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

নোয়াখালীতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে সুধারাম মডেল থানাধীন নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদী এলাকার গ্র্যান্ড হোটেলের ৪ নম্বর কেবিনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নোয়াখালী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড চন্দ্রপুর এলাকার আবুল হোসেন (৪০) ও একই এলাকার রোমান হোসেন (৩১)।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) অনুপ চক্রবর্তী সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় আসামিদের দেহ তল্লাশি করে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

রাণীনগরে দুই বছর ধরে দাপ্তরিক কাজ না করেই বেতন তুলছেন একাডেমিক সুপারভাইজার

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার পদে থাকা কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক কাজ না করেই নিয়মিত বেতন উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। গত দুই বছর ধরে কাগজে-কলমে এই পদে বহাল থাকলেও বাস্তবে তিনি টাঙ্গাইল জেলায় কর্মরত, যা গুরুত্বপূর্ণ এই পদের কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, কামরুল হাসান ২০১৫ সালের ১৫ মে রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে যোগদান করেন। তৎকালীন সরকারের স্থানীয় নেতাদের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে দীর্ঘ দশ বছর তিনি এই পদে প্রভাব বিস্তার করে রাখেন। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি অজ্ঞাত কারণে উপজেলার দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে অনুপস্থিত হয়ে যান, যদিও পদটি তার দখলেই থেকে যায়।
মাউশির ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিলের অফিস আদেশে তাকে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত করা হয়। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবরের আদেশে তাকে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসে স্থানান্তর করা হয়। অথচ এই দুই বছরে তিনি রাণীনগর উপজেলার পদটি ছাড়েননি এবং নিয়মিত সেখান থেকেই বেতন-ভাতা তুলে যাচ্ছেন। ফলে পদটি শূন্য না হওয়ায় নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না, যার প্রভাবে উপজেলার একাডেমিক শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ফারুক আহমেদ মোল্লা বলেন, অফিসে বর্তমানে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নেই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য, এবং একাডেমিক সুপারভাইজার পদটি কাগজে থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যক্রম নেই, কারণ তিনি টাঙ্গাইলে কর্মরত। এ কারণে অফিসের নিয়মিত কাজেও সমস্যা হচ্ছে, এমনকি বেতন তুলতেও কয়েক দিন সময় লেগে যাচ্ছে। তবে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কামরুল হাসান টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসে সংযুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বেতন তোলার প্রশ্নে তিনি বলেন, নিয়মানুযায়ী তিনি বেতন তুলছেন। তবে রাণীনগরে দাপ্তরিক কাজ কে সামাল দেবে—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন এবং একটি মিটিংয়ে থাকার কথা বলে কথা শেষ করেন।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাকিবুল হাসান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, তদারকি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম সচল রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ফেরাতে জরুরি ভিত্তিতে একজন একাডেমিক সুপারভাইজার নিয়োগ প্রয়োজন।

আগৈলঝাড়ায় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন নিয়ে অবহিতকরণ সভা

আগামী ২৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করার লক্ষ্যে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশিক্ষণ হলরুমে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোর্শেদ সজিব। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক।

 

 

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শিশির কুমার গাইন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডা. মিরন হালদার, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীম, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ইপিআই) মো. সাহাত হোসেন ও স্যানেটারি ইন্সপেক্টর সুকলাল সিকদার।

 

 

মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শিশির কুমার গাইন। তিনি ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং অপুষ্টি প্রতিরোধে ভিটামিন-এ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

 

 

সভায় জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের দিন আগৈলঝাড়া উপজেলার ১২১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১ হাজার ৮০০ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১৪ হাজার ৮৮৯ জন শিশুসহ মোট ১৬ হাজার ৬৮৯ জন শিশুকে ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

 

 

 

ক্যাম্পেইন সফল করতে গণমাধ্যমকর্মী, ইমাম-খতিব, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ শিশু মানেই একটি সমৃদ্ধ আগামীর বাংলাদেশ। তাই কোনো শিশুই যেন ভিটামিন-এ ক্যাপসুল গ্রহণ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

 

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগৈলঝাড়ায় জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং উপজেলার প্রতিটি শিশু এর সুফল লাভ করবে।

 

নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে পুশইন চেষ্টা, ১২ ঘণ্টা ধরে খোলা আকাশের নিচে ৯ জন

নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি।
বুধবার (২৪ জুন) ভোর চারটার দিকে সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্তের ২৪৪/এমপি পিলারের উত্তর পাতাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ওই নয়জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে আদাতলা বিওপির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের শনাক্ত করে এবং প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে তারা বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
পুশইন চেষ্টার ১২ ঘণ্টা পার হলেও এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। শূন্যরেখায় অবস্থানরত নয়জনের মধ্যে রয়েছেন তিনজন নারী, তিনজন শিশু ও তিনজন পুরুষ। খাবার-পানি ছাড়াই তপ্ত রোদে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে তাদের।
দুপুর আড়াইটার দিকে বিএসএফের একটি দল বিজিবিকে জানায়, তাদের কোম্পানি কমান্ডার (সিও) চান যেন এই ব্যক্তিদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু এই দাবিতে সাড়া না দিয়ে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
পাতাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, ভোররাত থেকে তারা খোলা আকাশের নিচে আছেন, সঙ্গে নেই কোনো খাবার বা পানি। তাদের সঙ্গে থাকা তিন শিশুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই তপ্ত রোদে দীর্ঘ সময় থাকলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি সরকারের কাছে দ্রুত এই সীমান্ত সমস্যার সমাধান চেয়েছেন।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিএসএফের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হলো

বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় এবং অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রতিরোধে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালতের রায়ে ৯ জন গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে ৫ জন গ্রাহকের মিটার খুলে নেয়া হয়।

 

 

গতকাল বুধবার সকালে থানা পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন ও আগৈলঝাড়া জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ আহমেদ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আগৈলঝাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ছিদ্দিকুর রহমান, এজিএম মো. আরিফুল ইসলাম, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, আগৈলঝাড়া থানার এসআই মো. তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।

 

 

 

ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ছিদ্দিকুর রহমান জানান, আগৈলঝাড়ায় পূর্বের বকেয়া এবং চলতি বকেয়াসহ ৭ কোটি ৮৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ৩৭৮ টাকা গ্রাহকদের কাছে পাওনা রয়েছে। চলতি জুন মাসে বকেয়া টাকা আদায়ের লক্ষে আগৈলঝাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে দীর্ঘদিন থেকে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় ৯ জন গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে ৫ জন গ্রাহকের মিটার খুলে নেয়া হয়। বিদ্যুৎখাতের শৃঙ্খলা রক্ষা, বকেয়া বিল আদায় এবং অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রতিরোধে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, অভিযানে শুধু বকেয়া বিল আদায় বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কার্যক্রম নয় বরং এটি ছিল বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সকলের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং নিয়মিত বিল পরিশোধ অত্যন্ত জরুরী।

 

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধকে পিটিয়ে আহত

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আইয়ুব আলী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা।

 

 

 

বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেয়।​

 

 

 

আটককৃত আইয়ুব আলী ওই ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের নছরউদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্রী। মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে আইয়ুব আলী তার সঙ্গে ‘নানা-নাতনি’র সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বুধবার সকালে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে কৌশলে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় ওই বৃদ্ধ। একপর্যায়ে সে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আইয়ুব আলীকে হাতেনাতে আটক করেন।

এ ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত বৃদ্ধকে গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে রাজারহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়রা আইয়ুব আলীকে তাদের হাতে সোপর্দ করেন।

 

 

এদিকে ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এ জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

 

 

রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামনুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্রাজিল, যেভাবে দেখবেন ম্যাচ

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা ও উত্তেজনার কোনো সীমা নেই। আর যদি হয় ব্রাজিলের ম্যাচ, তবে তো ভক্তদের আগ্রহের কোনো কমতি থাকে না।

 

 

আজ দিবাগত রাত অর্থাৎ আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোর ৪টায় স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল।

 

 

ঘরে বসেই টিভিতে দেশের তিনটি চ্যানেলে দেখা যাবে ব্রাজিল-স্কটল্যান্ডের খেলা। রাষ্ট্রীয় চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ছাড়াও এই ফুটবল মহাযজ্ঞের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস ও সময় টেলিভিশন।

 

 

এছাড়া মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ থেকেও ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। তবে সেক্ষেত্রে সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে। নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপে ঘরে বসেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ উপভোগ করতে পারবেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। এছাড়া পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছে বিশ্বকাপ।

‘দ্য প্যারাডাইস’ কবে আসছে প্রেক্ষাগৃহে?

সাউথ ইন্ডিয়ান ন্যাচারাল স্টার ন্যানি অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত প্যান-ইন্ডিয়ান সিনেমা ‘দ্য প্যারাডাইস’ আগামী ২১ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। ‘দসরা’খ্যাত পরিচালক শ্রীকান্ত ওদেলার এই সিনেমাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

 

 

শুরুতে সিনেমাটির মুক্তির তারিখ ২৬ মার্চ ঘোষণা করা হলেও পরে তা পরিবর্তন করে ২১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসএলভি সিনেমাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত পোস্টারেও এই তারিখ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে আগামী আগস্টেই বড় পর্দায় ন্যানির নতুন চমক দেখতে পাবেন দর্শকরা।

 

 

সম্প্রতি সিনেমাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলিউড অভিনেতা ও ড্যান্সার রাঘব জুয়ালের ফার্স্ট লুক। ‘বিক্রম মালিক’ নামের ভয়ংকর এক ভিলেন চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। গলায় ভারী সোনার গহনা ও হিংস্র অভিব্যক্তিতে প্রকাশিত ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে রাঘব বলেন, “শ্রীকান্ত ওদেলার সঙ্গে কাজ করা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। ‘দসরা’ যারা দেখেছেন তারা জানেন, তিনি কতটা নিখুঁতভাবে কাজ করেন। ‘দ্য প্যারাডাইস’ দর্শকদের জন্য বড় এক চমক হতে যাচ্ছে।”

২০২৩ সালের ব্লকবাস্টার ‘দসরা’র পর এটি ন্যানি ও শ্রীকান্ত ওদেলার দ্বিতীয় যৌথ প্রজেক্ট। নির্মাতাদের দাবি, ন্যানিকে এবার সম্পূর্ণ নতুন রূপে দেখা যাবে। অ্যাকশন, ড্রামা এবং বাস্তবধর্মী গল্পে ভরপুর এই সিনেমা নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশাও আকাশছোঁয়া।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২১ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘দ্য প্যারাডাইস’।

পেনশন ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের ইঙ্গিত দিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর পেনশন পেতে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও হয়রানি কমাতে ‘অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (ওপিটিএমএস) চালু করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পেনশনভোগীরা ঘরে বসেই আবেদন জমা দিতে, আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’বিষয়ক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

 

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা পেনশনসংক্রান্ত কাজে প্রায়ই বিলম্ব, প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং অপ্রয়োজনীয় অফিস যাতায়াতের মুখোমুখি হন। ওপিটিএমএস পুরোপুরি চালু হলে তারা ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করতে ও আবেদনের অগ্রগতি জানতে পারবেন। এর ফলে দ্রুততম সময়ে পেনশন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি অফিসে না গিয়ে অনলাইনে সেবা পাওয়া গেলে তা দুর্নীতি কমানোর কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী পেনশনভোগীদের বিষয়ে মো. আব্দুল বারী বলেন, বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী ১৫ বছরের পুনঃস্থাপন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো পেনশনভোগী মারা গেলে তার পরিবার পেনশন পুনঃস্থাপনের সুবিধা পায় না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে এ নীতি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী।

সভাপতির বক্তব্যে মো. এহছানুল হক বলেন, আগে সরকারি কর্মচারীদের কোনো সমন্বিত ডেটাবেস ছিল না। ফলে পেনশন মঞ্জুরির প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠত। হালনাগাদ কর্মচারী ডেটাবেস সংরক্ষণ করা গেলে পেনশন অনুমোদনের প্রক্রিয়া অনেক সহজ হবে। তিনি পেনশনভোগীদের জন্য পৃথক হেল্প ডেস্ক স্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন, যাতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও পারিবারিক পেনশনভোগীরা সহজে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন।

 

 

অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, অবসরের পর অনেক পেনশনভোগী নানা জটিলতার কারণে অসহায় অবস্থায় পড়েন। ওপিটিএমএস ঝামেলামুক্ত সেবা নিশ্চিত করে তাদের আস্থা বাড়াবে। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের নিয়মিত পেনশন মামলার ক্ষেত্রে পাইলট ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা চালু হবে। পরবর্তী সময়ে এটি অর্থ বিভাগ, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, সব মন্ত্রণালয়, সংযুক্ত দপ্তর এবং মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা চালু করা গেলে বৈষম্য কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।

 

 

হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী বলেন, পেনশন-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পেনশনভোগীরা এখন পুরোপুরি ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পেনশন ব্যবস্থাপনার মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে, যা সেবাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করছে।

 

 

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের বাজেট-১ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও এসপিএফএমএস কর্মসূচির জাতীয় কর্মসূচি পরিচালক ড. জিয়াউল আবেদীন। তিনি বলেন, জিপিএফ অটোমেশন, পেনশন-পরবর্তী সুবিধার অটোমেশন, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট মডিউল, টিএ/ডিএ মডিউল, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড ডেটাবেস এবং এলপিসি মডিউলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইবাস++ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ওপিটিএমএস চালু হলে অবসর-পূর্ব পেনশন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং অবসরপ্রত্যাশী কর্মচারীরা উন্নত সেবা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন অর্থ বিভাগের বাজেট ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসপিএফএমএসের পেনশন, ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়নের মান ও সময়ানুবর্তিতা বিষয়ক স্কিমের প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ ও কো-অর্ডিনেটর ড. মাহফুজা বেগম।

বাংলাদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখ: অর্থমন্ত্রী

 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ২৩২টি। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি এবং ঋণ হিসাবের সংখ্যা এক কোটি ৫৩ লাখ ৭৬৭টি।

 

 

 

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে চাঁদপুর-৩ আসনের শেখ ফরিদ আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

 

 

 

ওই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্য সরকার জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল (এনএফআইএস) প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমান আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

 

কুড়িগ্রাম-১ আসনের আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংকিং সেক্টরে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক তাদের ঋণের অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যাংকগুলো ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সাথে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করে ‘নো উইন নো ফি’ শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

 

তিনি আরও বলেন, এ সকল আইনি প্রতিষ্ঠান অভিযুক্ত ঋণ খেলাপিদের নামে বিদেশে থাকা অর্থ-সম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং তা ফেরত আনার বিষয়ে ব্যাংকসমূহকে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। প্রথম পর্যায়ে ৬টি কেইস (সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস. আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ) নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরবর্তীকালে আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

 

জামালপুর-৩ আসনের মুস্তফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ৭৮ হাজার ২৩৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে কনসেশনাল এবং নন-কনসেশনাল ঋণের অনুপাত যথাক্রমে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও ৩৮ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

 

 

 

ময়মনসিংহ-৮ আসনের লুৎফুল্লাহেল মাজেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজস্ব প্রদানকারী নিবন্ধিত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৬। আগের অর্থ বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

 

 

গাইবান্ধা-৪ আসনের মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের আওতায় চলতি অর্থ বছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৩১ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

 

 

 

সংরক্ষিত আসনের মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তারের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেসব ব্যাংক অর্থ সংকটের কারণে গ্রাহকের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, তাদের গ্রাহকদের অর্থ প্রদানের লক্ষে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জরুরী তারল্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। জরুরি তারল্য সহায়তা হিসেবে গত ১৫ জুন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের আমিরুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৬৩টি ব্যাংক তাদের ১১ হাজার ৩২৬টি শাখা এবং চার হাজার ৯২৯টি উপশাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

 

 

সংরক্ষিত আসনের সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫টি কোটি টাকা। এর বিপরীতে এক লাখ ২৯ হাজার ৯০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা (৭৫.৩০ শতাংশ)।

 

 

 

সরকারি ও বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংক নিয়ে পৃথক প্রশ্ন করেন। এসব প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি বা এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে ব্যাংক রেজোল্যুশন স্কিম, ২০২৫ এর আওতায় নেওয়া হয়েছে। রেজোল্যুশনের আওতায় থাকা এই পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী ওই পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আরও যেসব ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ কাজ করছে। প্রয়োজন হলে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

তিনি বলেছেন, আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এর আওতায় সুরক্ষিত আমানতের সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রাহকের অর্থ দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত জরুরি তারল্য সহায়তা হিসেবে ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

মুদির দোকানও আসবে ভ্যাটের আওতায়

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মুদির দোকান ও বিউটি পার্লারসহ বেশ কয়েক ধরনের ব্যবসায়িক খাতকে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

 

 

মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী মুদির দোকান ও বিউটি পার্লারসহ যেসব ব্যবসায়ী খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে- তা হলো তৈরি পোশাক বা কাপড়ের বিক্রেতা, কনফেকশনারী, কসমেটিক্সের দোকান, প্লাস্টিকের ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রেতা, পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার এবং সেনিটারি ও ফিটিংস, টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্ট, ফার্নিচার, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও রেস্টুরেন্ট। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ভ্যাট বাবদ এক লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

 

নিখোঁজ মাদক ব্যবসায়ীর সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন, বন্ধ রেল চলাচল

 

হবিগঞ্জের মাধবপুরে নিখোঁজ এক মাদক ব্যবসায়ীকে জীবিত উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন ও রেলপথ অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে উপজেলার হরষপুর রেলস্টেশন এলাকায় শত শত গ্রামবাসী এ কর্মসূচি পালন করেন। এসময় উত্তেজিত জনতা সিলেটগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন প্রায় ৭ মিনিট আটকে রাখেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

 

 

নিখোঁজ ফুয়াদ হাসান সাকিব উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের সোয়াবই গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ আলীর ছেলে।

 

 

 

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সাকিবকে জীবিত উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বক্তারা বলেন, নিখোঁজের কয়েকদিন পার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

 

 

সাকিবের বাবা সিরাজ আলী ও স্বজনদের অভিযোগ, গত ২১ জুন গন্ধবপুর এলাকায় সাকিবের মাছের খামারে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালিয়ে ফুয়াদকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তারা এ ঘটনার জন্য রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়া ও তার সহযোগীদের দায়ী করছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ সাকিব দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি মাছের খামার পরিচালনা করতেন। আসন্ন ধর্মঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড, দান-অনুদান এবং রাস্তাঘাট সংস্কারে অর্থ ব্যয় করতেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।

 

 

গ্রামবাসী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাকিব ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়ার পরিবারের সদস্যরা একসময় একই চক্রে চলাফেরা ও ব্যবসা করতেন। তবে প্রায় এক মাস আগে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

 

 

 

নিখোঁজের ঘটনায় সাকিবের বাবা সিরাজ আলী বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ধর্মঘর এলাকার মনির, রুবেল, জুয়েল এবং সোয়াবই গ্রামের মাহফুজ মিয়ার ছেলে মামুন, শিমুলসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

 

এদিকে সাকিবের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার জেরে সোমবার সকালে রাজেন্দ্রপুর গ্রামে মাহফুজ মিয়ার পাকা বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সাকিবের স্বজন ও সমর্থকদের একটি অংশ এ হামলা চালায়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

 

 

 

মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, সাকিব নিখোঁজের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে মাহফুজ মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

 

ইরানের যুদ্ধ থামানোর পাশাপাশি লেবাননেও শান্তি চান গালিবাফ

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের কাছে তার নিজ দেশের যুদ্ধ বন্ধের মতোই গুরুত্বপূর্ণ লেবাননের যুদ্ধের অবসান ঘটানো। বুধবার (২৪ জুন) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে একটি সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের নিউজ নেটওয়ার্কে সরাসরি সম্প্রচারিত এই ভাষণে তিনি বলেন, আমাদের জন্য লেবাননের যুদ্ধবিরতি ইরানের যুদ্ধবিরতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, লেবাননের যুদ্ধের অবসান ইরানের যুদ্ধের অবসানের মতোই জরুরি।

 

 

গত ১৪ই জুন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে যে সমঝোতায় পৌঁছেছে তাতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রধান গালিবাফ বলেন, ইসলামাবাদ চুক্তিটি আমেরিকার পরাজয়ের ঘোষণায় পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ কোনো সামরিক সংঘাত নয়, বরং অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্য পরিবর্তন করে একটি স্বাধীন জাতির ওপর নিজেদের ইচ্ছাকে চাপিয়ে দেওয়ার একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা।

গালিবাফ ঘোষণা করেন, ইরান পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে সকল ইসলামী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রস্তুত।

 

 

 

ভাইয়ের মৃত্যুতে শোকাহত শোয়েব আখতার

সাবেক পাকিস্তানি গতিদানব শোয়েব আখতারের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পাকিস্তানের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটারের বড় ভাই শহীদ আখতার মারা গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোয়েব আখতার নিজেই তার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে পারিবারিক সূত্র থেকে এখনো সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।

 

 

বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়ে শোয়েব আখতার তার পোস্টে লিখেছেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমার প্রিয় বড় ভাই শহীদ আখতার আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে চলে গেছেন।

 

 

সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক রশিদ লতিফও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শহীদ আখতারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং জানাজার সময় ও স্থান নিয়ে তথ্য শেয়ার করেছেন।

পাকিস্তানের হয়ে ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম ডেলিভারির রেকর্ড গড়া এই পেসারের পরিবারে এটিই প্রথম বড় আঘাত নয়। এর আগে প্রায় পাঁচ বছর আগে শোয়েব আখতার তার মাকে হয়েছিলেন। মায়ের পর এবার বড় ভাইকে হারিয়ে শোয়েব ও তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এই মর্মান্তিক খবরের পর ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোয়েব ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর শোয়েব আখতার একজন বিশ্লেষক হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও পাকিস্তানি গণমাধ্যমে ক্রিকেট পণ্ডিত হিসেবে নিয়মিত উপস্থিত থেকে ম্যাচ বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। মাঠের ক্রিকেট ও ক্রিকেট প্রশাসনের নানা অসংগতি নিয়ে সব সময় অকপট এই কিংবদন্তি এখন জীবনের এক কঠিন শোকের মুহূর্ত পার করছেন।

বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে সহ সভাপতির সংবাদ সম্মেলন

বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি,  কাজের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের  গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন  করেছে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা।
বুধবার (২৪ জুন)  দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর চৌরাস্তা বাজারে  ইউনিয়ন বিএনপি ও সকল অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জিয়াউদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আব্দুল কাদির বাবুল, আসাদ ও স্বপন মিয়া। তারা লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে চলেছেন। এ কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে নেতাকর্মীরা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বক্তারা অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম মাজহারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ তদন্ত করে সত্যতা পান, তাহলে সাংগঠনিকভাবে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমি তা মেনে নেব।
উল্লেখ্য, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছিল। এবারের সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঢাকার কাছে একের পর এক ভূমিকম্প, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানীর খুব কাছাকাছি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে— এগুলো কি কেবল স্বাভাবিক ভূ-তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি ভবিষ্যতের বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাৎক্ষণিক আতঙ্কের কারণ না থাকলেও বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

 

 

উৎপত্তিস্থল ঘুরেফিরে ঢাকার আশপাশেই

সর্বশেষ ভূমিকম্পটি গত ২২ জুন রাত ৮টা ২৮ মিনিটে অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৬ কিলোমিটার গভীরে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে, যা ঢাকা থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পূর্বে।

 

 

উৎপত্তিস্থল নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর বলেন, নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে গেলে সেটি রূপগঞ্জ এলাকার মধ্যেই পড়ে।

 

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ২২শে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘটিত বেশ কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার কাছাকাছি।

 

 

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৩ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। এর কেন্দ্র ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে।

 

 

এর আগে ২০২৫ সালের ২১শে নভেম্বর রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে মাধবদী এলাকায়, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ছিল মাত্র ১৩ কিলোমিটার।

 

 

গত কয়েক দশকে দেশের অভ্যন্তরে উৎপত্তি হওয়া অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত ওই ঘটনায় ঢাকায় চারজন, নরসিংদীতে পাঁচজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন নিহত হন। আহত হন সাড়ে চার শতাধিক মানুষ, যার মধ্যে গাজীপুরেই ছিলেন ২৫২ জন।

 

 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। চারটি ভূমিকম্পের মধ্যে তিনটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় এবং একটি ছিল ঢাকার বাড্ডায়।

 

 

পরদিন ২২ নভেম্বর নরসিংদীর পলাশে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার, ঢাকার বাড্ডায় ৩ দশমিক ৭ মাত্রার এবং পরে নরসিংদীতে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরও দুটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। এর কয়েকদিন পর ২৭ নভেম্বর ঘোড়াশালে ৩ দশমিক ৬ মাত্রার এবং ৪ ডিসেম্বর শিবপুরে ৪ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক এসব ভূমিকম্প টেকটোনিক কার্যকলাপের ফল হতে পারে, আবার কোনো সক্রিয় ফল্টের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।

 

 

তার ভাষায়, অনেক সময় নতুন ফল্ট সৃষ্টি হয়, আবার দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা কোনো পুরোনো ফল্টও পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

 

 

বাংলাদেশের অবস্থান ইউরেশিয়ান, ইন্ডিয়ান এবং বার্মিজ— এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের প্রভাব বলয়ের মধ্যে হওয়ায় দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে বলে জানান রুবায়েত কবীর।

 

 

এগুলো কি বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারীর মতে, সম্প্রতি ঢাকার আশপাশে হওয়া ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো থেকে বড় ধরনের ভবনধস বা ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা নেই।

 

 

যদিও তিনি মনে করেন, এসব ঘটনা মানুষকে ভূমিকম্প সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

 

 

তার মতে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো এমন ফল্টগুলো, যেগুলো অতীতে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করেছে।

 

 

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং ঢাকার কাছাকাছি শ্রীমঙ্গল ও বগুড়ার শেরপুর এলাকায়। কারণ ইতিহাসে এসব অঞ্চলে ৭-এর বেশি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেকর্ড রয়েছে।

 

 

১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার এবং ১৮৮৫ সালে শেরপুরে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।

 

 

মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, এগুলো ঢাকা থেকে দেড়শো থেকে দু’শো কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে। বাকি বড় ভূমিকম্পগুলো ঢাকা থেকে আরও দূরে হয়েছিল।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি ভূমিকম্পের একটি রিটার্ন পিরিয়ড বা পুনরাবৃত্তির চক্র থাকে। সাত মাত্রার ভূমিকম্প হয়তো আরও হয়েছে, কিন্তু আমাদের কাছে তথ্য নেই। সে কারণেই আমরা বলি, ঢাকার জন্য সাত মাত্রার একটি ভূমিকম্প ভবিষ্যতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি কবে হবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ২০ বছরও লেগে যেতে পারে।

 

 

নরসিংদীতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন ভূমিকম্পকে বড় কোনো ঘটনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে উল্লেখ করলেও তিনি বলেন, ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী নরসিংদীতে অতীতে বড় কোনো ভূমিকম্পের রেকর্ড নেই।

 

 

নরসিংদী বা ঢাকার আশপাশের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের হিসেবে ঢাকা ঝুঁকিপূর্ণ না, কিন্তু অতীতের বড় ভূমিকম্পগুলোর বিচারে ঢাকা খুবই ঝুঁকির মধ্যে আছে। বড় কোনো ভূমিকম্প হলে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে, বলেন তিনি।

 

 

রুবায়েত কবীরও বলেন, ঢাকাকেন্দ্রিক বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস নেই। কিন্তু সীমান্ত অঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস আছে। আর গত এক-দুই বছর ধরে আমাদের এই অঞ্চলে ভূমিকম্পপ্রবণতা কিছুটা বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।

 

 

ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকা তুলনামূলক নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এলাকা কতটা নিরাপদ তা নির্ভর করে মূলত দুই বিষয়ের ওপর—ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং অবকাঠামোর মান।

 

 

ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের মতে, ঢাকা ও আশপাশের অধিকাংশ এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন প্রায় একই হলেও উত্তরাংশে মধুপুরের শক্ত লাল মাটি রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।

 

 

তার মতে, শুধু ভূতাত্ত্বিক গঠন বিবেচনায় রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান ও তেজগাঁওয়ের মতো এলাকা তুলনামূলক নিরাপদ।

 

 

যদিও বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী মনে করেন, কেবল মাটির গঠন দেখে কোনো এলাকা নিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ বলা সম্ভব নয়।

 

 

যতক্ষণ না ভবনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, ততক্ষণ বলা যাবে না কোনটা ঝুঁকিপূর্ণ বা ঝুঁকিমুক্ত- বলেন তিনি।

 

 

তার মতে, পুরান ঢাকাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও মূল সমস্যা ভবনের চেয়ে সরু রাস্তা। দুর্যোগের সময় দ্রুত মানুষ সরিয়ে নেওয়া সেখানে কঠিন হতে পারে।

 

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শত বছরের বেশি পুরোনো অনেক ভবন এখনো টিকে আছে এবং বিভিন্ন ভূমিকম্পেও ধসে পড়েনি। তাই কাঠামোগত মানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

 

ঢাকার জন্য বাড়তি শঙ্কা ‘ব্লাইন্ড ফল্ট’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার ভেতরে কোনো পরিচিত ফল্ট লাইন নেই। তবে বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি প্রধান ফল্ট বা চ্যুতি রেখা রয়েছে।

 

 

এর মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত প্লেট বাউন্ডারি, নরসিংদীর ওপর দিয়ে যাওয়া আরেকটি প্লেট বাউন্ডারি, সিলেট হয়ে ভারতের দিকে বিস্তৃত ফল্ট অঞ্চল, ডাউকি ফল্ট এবং মধুপুর ফল্ট।

 

 

অতীতে এসব অঞ্চলে ৭ থেকে ৮ দশমিক ৫ মাত্রা পর্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে।

 

 

গবেষকদের মতে, এসব ফল্টে কয়েকশ বছর পরপর বড় ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

 

 

তবে আরও উদ্বেগের বিষয় হলো ‘ব্লাইন্ড ফল্ট’ বা অদৃশ্য ফল্ট। এ ধরনের ফল্ট ভূ-পৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায় না, ফলে সাধারণ ভূতাত্ত্বিক মানচিত্রে সহজে শনাক্ত করা যায় না।

 

 

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চলে দুটি ব্লাইন্ড ফল্ট শনাক্ত করা হয়েছে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ফল্ট শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় আগে থেকে সতর্কবার্তা পাওয়াও প্রায় অসম্ভব। তাই ভবিষ্যতের ভূমিকম্প ঝুঁকি মূল্যায়নে ব্লাইন্ড ফল্টগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার আশপাশে ঘন ঘন ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বিশেষজ্ঞদের নজর কাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে এগুলোকে দেখা হচ্ছে না।

 

 

তবে বাংলাদেশের ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থান, অতীতের শক্তিশালী ভূমিকম্পের ইতিহাস এবং বিভিন্ন সক্রিয় ও অদৃশ্য ফল্টের উপস্থিতি রাজধানীসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকাকে দীর্ঘমেয়াদে ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রেখেছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, ভবনের মান নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

 

শূন্যরেখার সংকট কাটিয়ে ফিরলেন ৬ জন, আটকে আছেন আরও ৩ জন

 

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের শিকার হওয়া ছয় বাংলাদেশি নাগরিকের সবাই অবশেষে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছেন।

 

 

 

তবে একই ঘটনায় সীমান্তের আরেক পয়েন্টে পুশইনের শিকার হওয়া আরও তিন বাংলাদেশি এখনো আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

 

 

 

বিজিবি ও বিএসএফের কড়া নজরদারির মধ্যে দীর্ঘ ১০ দিন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানের পর বুধবার (২৪ জুন) ভোরে সেখান থেকে সরে যান দুই যুবক। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়, তারা নিরাপদে নিজ বাড়িতে পৌঁছেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন ভোরে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক ১০৬০ মেইন পিলারের ১ এস সাব-পিলার দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা-মানকারচর জেলার ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ছয় বাংলাদেশিকে পুশইনের চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয় জনতার বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পেরে সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়েন।

 

খোলা আকাশের নিচে টানা কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল পরিবেশে অবস্থানের কারণে একই পরিবারের দুই শিশুসহ চারজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ মেডিকেল টিম তাদের চিকিৎসাসেবা দেয়।

 

 

পরে মানবিক কারণে বিজিবি ওই দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করে রৌমারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।

 

 

 

উদ্ধার হওয়া চারজন হলেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কংশেরকুল গ্রামের মো. বেলাল হোসেন (২৮), তার স্ত্রী সুমি আক্তার (২৬) এবং তাদের দুই সন্তান ফাইমা (৫ মাস) ও ফাতেমা আক্তার (৪)।

 

 

 

পরিবারের চার সদস্য বাড়ি ফিরে গেলেও বাকি দুই যুবক সীমান্তের শূন্যরেখায় দীর্ঘ ১০ দিন অবস্থান করছিলেন। তারা হলেন, একই গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে মো. সজিব হোসেন (২৫) ও মৃত শামসুল হকের ছেলে মো. হিমেল (১৮)।

 

 

 

বুধবার ভোর থেকে তাদের আর সীমান্তে দেখা না যাওয়ায় নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেন, তারাও এখন নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।

 

 

 

শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, ‘গত রাত পর্যন্ত দুই যুবক শূন্যরেখায় ছিল। সকালে গিয়ে আর তাদের দেখা যায়নি। পরে জানতে পেরেছি, তারা পরিবারের কাছে ফিরে গেছে।’

 

 

 

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছামছুল হোসাইন বলেন, ‘পুশইনের শিকার হওয়া ছয়জনই এখন বাড়িতে রয়েছে। আগে চারজন ফিরেছিল, পরে বাকি দুই যুবকও নিরাপদে বাড়ি ফিরে এসেছে।’

 

 

 

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, কাজের সন্ধানে প্রায় সাত মাস আগে তারা সীমান্তপথে ভারতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দিলে তারা এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েন।

 

 

 

তবে একদিকে ছয়জনের বাড়ি ফেরা স্বস্তি এনে দিলেও সীমান্তে এখনো অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে আরও তিন বাংলাদেশির।

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, একই দিন গভীর রাতে রৌমারী সদর ইউনিয়নের ভন্দুরচর সীমান্তে আন্তর্জাতিক ১০৬৬ মেইন পিলার এলাকা দিয়ে আরও তিন বাংলাদেশিকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির বাধার মুখে তারাও শূন্যরেখায় আটকে পড়েন।

 

 

 

গত ১১ দিন ধরে তারা বিজিবি ও বিএসএফের কড়া পাহারার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

 

 

আটকে থাকা তিনজন হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২)।

 

 

এদিকে, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুই যুবকের সরে যাওয়া এবং তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

 

 

 

লাল কার্ডের নিয়ম থাকলেও বেলিংহ্যামের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন?

ফিফা বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচে ড্রয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন জুড বেলিংহ্যাম। ম্যাচ চলাকালে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় এই ইংলিশ মিডফিল্ডারকে। চলতি বিশ্বকাপে ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী এমন আচরণের জন্য সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার বিধান থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো শাস্তি পাননি তিনি।

 

 

ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় ঘানার ডাগআউটের সদস্যদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বেলিংহ্যাম। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসতে হয় সতীর্থ মর্গান রজার্সকে। এমনকি ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজের সঙ্গেও তাকে তর্ক করতে দেখা যায়।

 

 

তবে ম্যাচের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয় ঘানার ফরোয়ার্ড জর্ডান আইউর সঙ্গে বেলিংহ্যামের একটি মুহূর্ত। কথোপকথনের সময় তিনি নিজের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। আর এটিই নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

চলতি বিশ্বকাপ থেকে ফিফা একটি নতুন নিয়ম চালু করেছে। কোনো উত্তপ্ত বা বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় যদি মুখ আড়াল করে কথা বলেন, তাহলে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন। এর পেছনের যুক্তি হলো, মুখ ঢেকে কথা বললে কী বলা হচ্ছে তা বোঝা কঠিন হয়ে যায় এবং অনেক সময় আপত্তিকর মন্তব্যও আড়ালে থেকে যেতে পারে।

ইতোমধ্যে এই নিয়মের প্রয়োগও দেখা গেছে। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরনকে ভিএআরের সহায়তায় সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। ফলে বেলিংহ্যামের ঘটনাটি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

তবে ম্যাচ কর্মকর্তারা মনে করেন, জর্ডান আইউর সঙ্গে বেলিংহ্যামের কথোপকথন কোনোভাবেই উত্তপ্ত বা মারমুখী ছিল না। সেটি ছিল সাধারণ আলাপচারিতা। ফলে ঘটনাটি নতুন নিয়মের আওতায় পড়েনি এবং তাকে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি।

 

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফার রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কোলিনা জানিয়েছিলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ বা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বললে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এমন আচরণ করলে সেটি সরাসরি লাল কার্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

 

এদিকে ম্যাচে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও ঘানার রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি ইংল্যান্ড। ফলে গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে থ্রি লায়ন্সরা। দুই ম্যাচ শেষে এক জয় ও এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এল’র শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ঘানা।

 

 

গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে পানামার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে জয় পেলেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রুপ সেরা হওয়ার সুযোগও থাকবে বেলিংহ্যামদের সামনে।

 

 

 

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

চীনের রাজধানী বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় ডালিয়ান থেকে হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে করে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিং পৌঁছান। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

 

 

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ডালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এর বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন। চীনের ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নসের এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ অংশ নেন। সম্মেলনটিতে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও অধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

 

 

‘গ্রীষ্মকালীন দাভোসে’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একদিকে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের সেরা অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করবে।

 

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া সফর শেষে গত সোমবার (২২ জুন) চীনের ডালিয়ানে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সফরচিত্রে নিজের গান ব্যবহারে যা বললেন হাবিব

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের একটি ভিডিও প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘মহাজাদু’ গানটি। ভিডিওটির আবহসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কোক স্টুডিও বাংলার জনপ্রিয় এই গান। এটি গেয়েছিলেন হাবিব ওয়াহিদ ।

 

 

ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন হাবিব ওয়াহিদ। তিনি জানান, আগে থেকে এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠে মোবাইলে পাঠানো কয়েকটি লিংকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন।

 

 

 

হাবিব বলেন, ‘লিংকে ক্লিক করে দেখি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্বপূর্ণ ভিডিওতে আমার গান ব্যবহার করা হয়েছে। এটা দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের ভিডিওতে আমার গান ব্যবহৃত হওয়ায় আমি সম্মানিত বোধ করছি। নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’

গানটি ব্যবহারের বিষয়ে কেউ আগে থেকে যোগাযোগ করেননি বলেও জানান এই সংগীতশিল্পী। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে এ নিয়ে কেউ কথা বলেনি। হঠাৎ করেই বিষয়টি জানতে পেরে আমি নিজেই সারপ্রাইজ হয়ে গেছি।’

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও হাবিব জানান, তিনি নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করেন না। তাই সরাসরি প্রতিক্রিয়াগুলো দেখতে না পারলেও বিভিন্নজনের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা শুনছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভক্তদের যদি ভালো লাগে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি ভক্তদের জন্যই গান করি। তাদের ভালো লাগা মানেই আমারও ভালো লাগা।’

 

 

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার সঙ্গে কোনো সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিব স্পষ্ট করে বলেন, ‘না, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখা হয়নি, কথাও হয়নি। এ কারণেই বিষয়টি আমাকে আরও বেশি অবাক করেছে।’

 

 

বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে হাবিব ওয়াহিদ জানান, তিনি নতুন গান নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি তার ‘প্রেমের কলঙ্ক’ শিরোনামের একটি গান প্রকাশিত হয়েছে, যা শ্রোতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছে।