
যমুনা সেতুতে ৬ দিনে ২০ কোটি টাকা টোল আদায়
- নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১২:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের চাপে গত ছয় দিনে যমুনা সেতুতে ২ লাখ ৬২ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করেছে। এই ছয়দিনে টোল আদায় হয়েছে ২০ কোটি টাকারও বেশি।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গত ২২ মে থেকে ২৭ মে রাত ১২টা পর্যন্ত যমুনা সেতুতে যানবাহন চলাচল করেছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০৮টি। এর মধ্যে পূর্ব টোলপ্লাজায় (উত্তরবঙ্গগামী) ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৪৩টি ও পশ্চিম টোলপ্লাজায় (ঢাকামুখী লেন) ১ লাখ ৩ হাজার ৬৬৫টি যানবাহন চলাচল করেছে।
মোট টোল আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ১০০ টাকা। পূর্ব টোলপ্লাজায় ১১ কোটি ৩০ লাখ ২৮ হাজার ৯০০ ও পশ্চিম টোলপ্লাজা আদায় হয়েছে ৯ কোটি ৪ লাখ ১৮ হাজার ২০০ টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী গত ২২ মে ৩৪ হাজার ৯৬৬টি যানবাহন চলাচল করেছে বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪০০ টাকা। ২৩ মে ৩২ হাজার ৬৪৯টি যানবাহনে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা, ২৪ মে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহনে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা, ২৫ মে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন চলেছে বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা, ২৬ মে ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহনে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২৭ মে ৪৫ হাজার ৮৮৯ টি যানবাহন চলাচলের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোাটি ৩৪ লাখ ৭১ হাজার ৩৫০ টাকা।
যমুনা সেতুর রক্ষণাবেক্ষন ও পরিচালন শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরে ফেরা মানুষের চাপে সেতুর ওপর দিয়ে স্বাভাবিকের তুলণায় দুই থেকে চার গুণ যানবাহন চলাচল করেছে। ৬দিন ধরেই মহাসড়কে গাড়ীর চাপ ছিল। বুধবার বিকেল থেকেই মহাসড়ক ফাঁকা হতে থাকে।
তিনি বলেন অতিরিক্ত গাড়ীর চাপ সামলাতে টোল প্লাজায় নিয়মিত ১৪টি বুথের সঙ্গে অতিরিক্ত চারটি বুথ স্থাপন করা হয়েছিল।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের উদ্যোগ: ঈদের দিন হলের শিক্ষার্থীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন
- নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:৩৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। ঈদের দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহীদ ওসমান হাদী হল’-এ অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মাঝে এই প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দূরত্বের কারণে যেসব শিক্ষার্থী ঈদের ছুটিতে বাড়ি যেতে পারেননি, কিংবা আর্থিক ও অন্যান্য প্রতিকূলতার কারণে হলে রয়ে গেছেন, মূলত তাদের ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হলটিতে অবস্থানরত ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের কথাও বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে এই আয়োজনে।
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ বলেন: ”ঈদ আমাদের মাঝে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে গেলেও অনেকেই নানা সীমাবদ্ধতা বা দূরত্বের কারণে হলে থেকে যান। উৎসবের এই দিনে তারা যেন নিজেদের একা বা পরিবারহীন মনে না করেন, সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমরা চাই হলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর মুখে ঈদের দিন অন্তত কিছুটা হলেও আনন্দের হাসি ফুটুক।”
উল্লেখ্য, ঈদের দিন দুপুরে শহীদ ওসমান হাদী হলের ডাইনিং/নির্ধারিত স্থানে এই প্রীতিভোজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ছাত্রশিবিরের এমন ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

নারী-শিশু নির্যাতনকারীরা সমাজের শত্রু: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
- হাসান আলী হাকিমপুর দিনাজপুর প্রতিনিধি: জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৮:০১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

যুদ্ধ পরিস্থিতির আড়ালে ঘনীভূত হচ্ছে আহমাদিনেজাদ রহস্য
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৭:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে যুদ্ধ-পরবর্তী সম্ভাব্য নেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিবেচনা করেছিল।
‘আপনাদের জানা উচিত যে এই ঘৃণ্য শাসনব্যবস্থা (ইসরায়েল) পতনের পথে এবং আল্লাহর কৃপায় এটি ভেঙে পড়বে, আর কোনো কিছুই একে রক্ষা করতে পারবে না। এই শাসনব্যবস্থা তার পথচলার শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে এবং শিগগিরই ভৌগোলিক মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।’
এ ধরনের বক্তব্য বহু বছর ধরে সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে বিশ্বে অন্যতম পরিচিত ইসরায়েলবিরোধী মুখে পরিণত করেছিল।
তিনি হলোকাস্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ইসরায়েলকে ‘মনগড়া শাসনব্যবস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
যে কারণে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রায়ই তাকে উদ্ধৃত করতেন যে কেন তারা মনে করেন ইরান একটি বাস্তব হুমকি, তা ব্যাখ্যা করতে।
তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস এখন জানিয়েছে, ‘যুদ্ধ পরবর্তী পরিকল্পনায়’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এমন একটি পরিস্থিতি বিবেচনা করেছিল, যেখানে আহমাদিনেজাদ ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে সরে গিয়ে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে উঠে আসতে পারেন।
কিন্তু টাইমসের মতে, পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয়, কারণ যুদ্ধের শুরুতে গৃহবন্দিত্ব থেকে আহমাদিনেজাদকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে চালানো হামলায় তিনি আহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই দাবির বিষয়ে আহমাদিনেজাদ বা তার সহযোগীরা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি এবং বর্তমানে তার অবস্থান অজানা।
এই সংবাদটি অনেক মার্কিন ও ইসরায়েলি বিশ্লেষকের সংশয় সৃষ্টি করেছে, যারা প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে চরম ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তির সঙ্গে কেন কোনো দেশ কাজ করার কথা ভাববে।
এই আপাত বৈপরীত্য কিছু মানুষকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে, আহমাদিনেজাদের ভাবমূর্তিটি আসলে সবসময়ই কি এতটা সরল ছিল, নাকি তা আরও জটিল?
ইসরায়েলের জন্য এক ‘উপকারী প্রতিপক্ষ’?
এই বিষয়টির সংবেদনশীলতা বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে সেই সময়গুলোতে, যখন ইরানের রাজনীতিতে আহমাদিনেজাদ প্রথম প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।
২০০৩ সালে তিনি তেহরানের মেয়র নির্বাচিত হন, যদিও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি তখন তুলনামূলকভাবে অপরিচিত ছিলেন।
২০০৫ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসেন, যেখানে সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির সমর্থন ছিল বলে মনে করা হয়।
নির্বাচনের সময় তিনি ন্যায়বিচার, সরলতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্লোগান ব্যবহার করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বৈশ্বিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন মূলত অভ্যন্তরীণ নীতির কারণে নয়, বরং ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং হলোকাস্ট নিয়ে তার বক্তব্যের কারণে।
২০০৫ সালের অক্টোবরে তেহরানে ‘ওয়ার্ল্ড উইদাউট জায়নিজম’ সম্মেলনে আহমাদিনেজাদ বলেছিলেন, ‘আমেরিকা ও জায়নিজমবিহীন একটি বিশ্ব সম্ভব।’
প্রায় এক বছর পর তেহরানে অনুষ্ঠিত হয় বিতর্কিত ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স টু রিভিউ দ্য গ্লোবাল ভিশন অব দ্য হলোকাস্ট’; যেখানে সুপরিচিত হলোকাস্ট অস্বীকারকারীরা অংশ নেন, যা আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
এর বহু বছর পর কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক প্রকাশ্যে বলেন, কঠোর বক্তব্য ও হলোকাস্ট অস্বীকারের মাধ্যমে আহমাদিনেজাদ কার্যত ইসরায়েলের পক্ষেই কাজ করেছেন।
২০০৮ সালে মোসাদের সাবেক প্রধান এফ্রাইম হালেভি তাকে ‘ইসরায়েলের জন্য ইরানের সবচেয়ে বড় উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তার বক্তব্য বিশ্বকে ইরানের হুমকিকে আরও গুরুত্ব সহকারে নিতে সহায়তা করেছে।
আহমাদিনেজাদের সমর্থকেরা এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি কেবল একটি আক্রমণাত্মক ও আদর্শিক নীতি অনুসরণ করেছেন, যা ইসরায়েল ও পশ্চিমের মুখোমুখি অবস্থান নেয়।
২০১৩ সালে পদ ছাড়ার পর তিনি ক্রমশই সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং ইরানের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের অংশ, যেমন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান।
পরে ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল তাকে একাধিকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন সম্পর্কে এক্স-এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান ও শিয়া অ্যাক্সিস প্রোগ্রামের প্রধান রাজ জিম্মিত বলেন, আহমাদিনেজাদ প্রায়ই পরস্পরবিরোধী ও অপ্রত্যাশিত অবস্থান গ্রহণ করতেন। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে আহমাদিনেজাদ ছিলেন জনতাবাদ ও সুযোগ সন্ধানী এক মিশ্রণ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক মাধ্যমে আহমাদিনেজাদ তার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও পুনর্গঠন করেছেন। তিনি ইংরেজিতে টুইট করেছেন, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং মার্কিন র্যাপ শিল্পী টুপাক শাকুরের উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছেন।
এমনকি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমেরিকায় রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রশংসাও করেছেন।
তবে জিম্মিত স্বীকার করেন, পশ্চিমা শ্রোতা ও ইরানের অভ্যন্তরে একটি তুলনামূলক সংযত ভাবমূর্তি তৈরির এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, আহমাদিনেজাদের এমন সমর্থন কখনোই ছিল না, যা তাকে ৯ কোটির বেশি জনগণের দেশে ক্ষমতা দখলের সুযোগ দিতে পারে।
মার্কিন বিশেষজ্ঞদের সংশয়
বিবিসি পার্সিয়ানের সাথে কথা বলা তিন মার্কিন বিশেষজ্ঞও আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় ফেরানোর গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক ও কাউন্টার-টেররিজম বিশেষজ্ঞ ম্যাক্স আব্রাহমস বলেন, এই বিবরণকে অত্যন্ত সন্দেহের সঙ্গে দেখা উচিত, কারণ যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট ভুল তথ্যের মাত্রা খুব বেশি।
তিনি মনে করেন, হলোকাস্ট অস্বীকার ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ভূমিকার কারণে ইসরায়েল আহমাদিনেজাদের প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাবে, এটার সম্ভাবনা কম। একইভাবে ট্রাম্পের জন্যও আহমাদিনেজাদ সফল শাসন পরিবর্তনের বর্ণনার সঙ্গে খাপ খায় না।
আমেরিকান ফরেন পলিসি কাউন্সিলের ইলান বারম্যানও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনার ধারণাকে অসম্ভব মনে করেন। তাঁর মতে, নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে এলেও আহমাদিনেজাদ প্রথম পছন্দ হতেন না।
আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের মাইকেল রুবিন এই বিবরণকে কল্পনাপ্রসূত বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, নিউ ইয়র্ক টাইমস অতিরিক্তভাবে অজ্ঞাত সূত্রের ওপর নির্ভর করেছে।
তবে তার মতে, পশ্চিমে অনেকে এখনো পুরোপুরি বোঝেন না কেন আহমাদিনেজাদ ইরানের সমাজের কিছু অংশে জনপ্রিয় ছিলেন।
এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমস এক্স-এ জানিয়েছে, তারা তাদের প্রতিবেদনের বিষয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। সেই সাথে তারা আরো বলেছে যে, এটি মার্কিন, ইসরায়েলি ও ইরানি কর্মকর্তাসহ অবহিত সূত্রের সঙ্গে কথোপকথনের ওপর ভিত্তি করে করা।
ইসরায়েলের ভেতরের প্রতিক্রিয়া
কিছু ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এই ধরনের একটি সম্ভাবনা ইরান সম্পর্কে ইসরায়েলের ধারণা নিয়ে কী বোঝায়, সে দিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।
ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ড্যানি সিট্রিনোভিজ এক্স-এ লিখেছেন, আহমাদিনেজাদকে মুকুট পরানোর চেষ্টা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর ভুল বোঝাবুঝির পরিচায়ক হবে।
তিনি বলেন, আহমাদিনেজাদের কোনো বাস্তব ক্ষমতার ভিত্তি নেই এবং ইরানের অভিজাত সশস্ত্র বাহিনী আইআরজিসি কখনোই তাকে সমর্থন করবে না। ফলে তিনি কেবল তখনই ক্ষমতা নিতে পারতেন, যদি ইরানের বিদ্যমান পুরো ক্ষমতা কাঠামো ভেঙে পড়ত, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ঘটেনি।
অভিজ্ঞ ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইয়োসি মেলম্যানও এক্স-এ লিখেছেন, এই গল্পটি বহু দিক থেকে উন্মাদনাপূর্ণ।
তিনি বলেন, সংখ্যালঘু বিদ্রোহ ও বিমান হামলার মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা ধসিয়ে দেওয়া সম্ভব, এমন ধারণা দেখায় যে পরিকল্পনাকারীরা একটি কল্পনার জগতে বাস করছিলেন।
কেন আদৌ আহমাদিনেজাদের নাম উঠে এলো?
অনেক সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও প্রশ্নটি থেকেই যায়; কেন আহমাদিনেজাদ?
এর উত্তর হয়তো তার তিনটি বৈশিষ্ট্যের অস্বাভাবিক সমন্বয়ে নিহিত; পরিচিতি, ভেতরের অভিজ্ঞতা এবং সর্বোচ্চ নেতার থেকে দূরত্ব।
আহমাদিনেজাদ ইরানে পরিচিত, সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে, সমাজের নিম্নবর্গের একটি অংশের ভাষা বোঝেন এবং ইসলামিক রিপাবলিকের ক্ষমতার কাঠামোর সঙ্গে পরিচিত।
একই সময়ে খামেনেয়ির সঙ্গে তার বিরোধের কারণে তাঁকে কেবল শাসনব্যবস্থার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয় না।
কিছু পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিতে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাকে অস্থিরতার সময়ে ব্যবহারযোগ্য একটি ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে, মিত্র হিসেবে নয়, বরং ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য একটি অস্থায়ী চরিত্র হিসেবে।
আহমাদিনেজাদ আসলে কে?
কিছু ইরানি সমালোচক ও বিশ্লেষকের মতে, তার প্রেসিডেন্সি, বিতর্কিত বিদেশ সফর এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে নীরবতা-সব মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
তাদের মতে, তার নীতিমালা ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে, পারমাণবিক সংকটকে তীব্র করেছে এবং শেষ পর্যন্ত তেহরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সবচেয়ে কার্যকর রাজনৈতিক বার্তাগুলোর কিছু তৈরি করতে সাহায্য করেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন সেই বিতর্কগুলো আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
তবে এটি প্রথমবার নয়। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি বিতর্কিত ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর হওয়া গণবিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত রাষ্ট্রদ্রোহ অভিযোগ তুলে সংস্কারপন্থী নেতা ও সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিজের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
কিন্তু ক্ষমতা ছাড়ার পর ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি একই ব্যক্তিদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছেন, এমনকি তার পূর্বসূরিদের একজনের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগও নিয়েছিলেন, যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এই অবস্থান পরিবর্তন ও নতুন করে জোট নির্ধারণের প্রবণতা সম্ভবত অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বে কৌশলগতভাবে চলার ইঙ্গিত দেয়, বিদেশি শক্তির সঙ্গে কোনো গোপন সম্পর্কের নয়।
বাস্তবিকপক্ষে আহমাদিনেজাদের সঙ্গে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্কের প্রমাণ নেই।
তবে মূল বৈপরীত্যটি থেকেই যায়। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের জন্য পরিচিত একজন রাজনীতিক এখন কিছু প্রতিবেদনে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উঠে আসছেন, যা ইরানের রাজনীতিতে আহমাদিনেজাদকে কীভাবে বোঝা উচিত, সেই দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে মেসির ৭০ ফুট ভাস্কর্য সরানোর সিদ্ধান্ত
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৭:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় স্থাপিত আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ৭০ ফুট উঁচু একটি ভাস্কর্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৭ মে) বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাতাসে ভাস্কর্যটি দুলতে দেখা যাওয়ায় এলাকাবাসীর অভিযোগের পর পশ্চিমবঙ্গের জনপথ বিভাগ (পিডব্লিউডি) এটি পরিদর্শন করে। পরে প্রকৌশলীরা ভাস্কর্যটির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক শরদ্বত মুখার্জি বলেন, ‘আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তির এই ভাস্কর্যটি নিরাপদ নয় বলে মনে হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, এটি বাতাসে দুলছে’।
তিনি আরও জানান, ব্যস্ত সড়ক ও একটি সাবওয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে ভাস্কর্যটি অপসারণ সহজ নয়। তবে যত দ্রুত সম্ভব এটি সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফাইবারগ্লাস ও লোহার তৈরি এই বিশাল ভাস্কর্যটি আপাতত ভারী নাইলনের দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে আশপাশে ব্যারিকেডও স্থাপন করা হয়েছে।
২০২২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসির সম্মানে গত ডিসেম্বরে কলকাতায় এই ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়। মেসির ‘গোট’ (গ্রেটেস্ট অব অল টাইম) সফর উপলক্ষে এটি নির্মাণে ৪৫ সদস্যের একটি দল টানা ২৭ দিন কাজ করে।
ভার্চুয়ালি রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার করে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করেন মেসি। তবে সে সময় কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে তার উপস্থিতিকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনাও ঘটে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে কোরবানি স্থগিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৭:১৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য বিক্রি হওয়া অ্যালবিনো জাতের আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে আবারও ফেরত যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের খামারে।
বুধবার (২৭ মে) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় কেরানীগঞ্জের ক্রেতাকে মূল্য ফেরত দিয়ে মহিষটি খামারে ফেরত নেওয়া হয়েছে। আপাতত সেখানেই মহিষটি লালন-পালন করা হবে।
এর আগে, অ্যালবিনো জাতের এ মহিষটির চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় রাবেয়া এগ্রো ফার্মের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই আদর করে এর নাম রাখেন ট্রাম্প।
অদ্ভুত নামের জন্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এই বিরল অ্যালবিনো জাতের মহিষটি। তবে, ভাইরাল হওয়ার আগেই ৭০০ কেজি ওজনের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছিলেন রাজধানীর জিনজিরা এলাকার ক্রেতা সামির।
এরপর মহিষটিকে দেখতে শিশু-কিশোরর যুবকরাই নন, অনেক নারীরাও এসেছিলেন। বরিশাল, কুমিল্লাসহ দূরবর্তী জেলা থেকেও এসেছিল। অনেকে কিনতে না পেরে হতাশাও ব্যক্ত করেন সেসময়।
এমনকি, আন্তর্জাতিকভাবেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। এএফপি থেকে রয়টার্স প্রায় সব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেই জায়গা পেয়েছে এই ভাইরাল মহিষটি।
এদিকে মহিষের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, এটির ‘অসাধারণ চুল’ দেখেই তার ভাই এর নাম রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামানুসারে। জিয়া উদ্দিন জানান, মে মাসজুড়ে ঢাকার কাছে দেখতে মানুষ দলে দলে ছুটে এসেছেন।

যুদ্ধের ছায়ায় গাজার ঈদ উদযাপন
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৭:০৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এবার ঈদুল আজহা এসেছে গভীর হতাশা আর অনিশ্চয়তার আবহ নিয়ে। নতুন পোশাক, কোরবানির পশু কিংবা ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার সবকিছুই যেন নাগালের বাইরে গাজাবাসীর।
গাজার বাসিন্দা নাদিয়া আবু শামালা বলেন, ‘আমি শুধু বাজারে ঘুরে দেখতে যাই, কারণ কিছু কেনার সামর্থ্য নেই। জিনিসপত্রের দাম শুনলেই মন ভেঙে যায়।’
৪০ বছর বয়সী এই নারী উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে মধ্য গাজার দেইর আল বালাহ শহরে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সন্তানদের ন্যূনতম প্রয়োজনও পূরণ করতে না পারার কারণে এবার গাজায় ঈদের কোনো আনন্দ নেই।’
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় এখনো প্রায়ই ইসরায়েলি বিমান হামলা হচ্ছে। দীর্ঘ সংঘাতে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার অধিকাংশ মানুষ এখন মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
এদিকে, গাজায় প্রবেশের সব সীমান্তপথ নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরায়েল। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম পরিমাণ ত্রাণ ও পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় দ্রব্যমূল্য কমছে না এবং পণ্যের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
গাজার আরেক বাসিন্দা ৫৯ বছর বয়সী আবু আবদুল্লাহ আল-মোসাদার বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি আসলে বড় এক প্রতারণা। তারপরও আমরা শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছি।’
তিনি জানান, কোরবানির জন্য একটি ভেড়া কিনতে তিনি ও তার ভাই মিলে প্রায় ১৩ হাজার শেকেল ব্যয় করেছেন।

ধর্ষণ অভিযোগে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৬:৫০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় যুবদল নেতা ও তার ছোট ভাইকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোরে টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানা পুলিশ ওই যুবদল নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার মান্না সিকদার চৌহালী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর সলিমাবাদ গ্রামের জাহাঙ্গীর সিকদারের ছেলে। ধর্ষণের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে তার ছোট ভাই শান্তকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নাগরপুরের সলিমাবাদ ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে একাধিকবার ধর্ষণ করেন যুবদল নেতা মান্না সিকদার। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার ছোট ভাই শান্ত ও প্রতিবেশী মোছা. বুড়ি।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে মান্না তাকে চেনেন না এবং বিয়ে করবেন না বলে জানিয়ে দেন। বিষয়টি পরিবারের সবাই জেনে গেলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর খালাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ‘ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে প্রধান অভিযুক্তসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

বিদ্যুৎখাতে বড় স্বপ্ন—২০৫০ সালে শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন সেবা
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৬:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
বিশ্বজুড়ে ২০৫০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব বলে জানিয়েছে নতুন এক গবেষণা। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে বিশাল পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে, যার মধ্যে শুধু সৌরবিদ্যুতের জন্যই প্রয়োজন হতে পারে ৯০ লাখ হেক্টরের বেশি জমি।
টেক এক্সপ্লোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা একটি বিস্তারিত বৈশ্বিক বিদ্যুৎব্যবস্থা মডেল তৈরি করে পরীক্ষা করেছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বিশ্বের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব কি না।
নেচার এনার্জি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় পুরো বিশ্বের বিদ্যুৎ চাহিদা এক বছরের প্রতিটি ঘণ্টা ধরে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় সৌর ও বায়ুশক্তির প্রাপ্যতা, সম্ভাব্য ভূমি ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে ভোক্তা এলাকার দূরত্ব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
গবেষকদের মতে, যদি বিশ্বব্যাপী ১৫ থেকে ২০ টেরাওয়াট পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানি (ভ্যারিয়েবল রিনিউএবল এনার্জি বা ভিআরই) স্থাপন করা যায়, তাহলে নিট-শূন্য কার্বন নির্গমনভিত্তিক বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
তারা আরও জানান, অধিকাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পদ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কেন্দ্রগুলোর প্রায় ২০০ কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত, যা বিদ্যুৎ সরবরাহকে সহজ করতে পারে।
তবে গবেষণায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমিকে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু সৌর প্যানেল প্রযুক্তির জন্যই ৯০ লাখ হেক্টরের বেশি জমি প্রয়োজন হতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রাচুর্যের কারণে তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুতের সুবিধা পেতে পারে।
পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎব্যবস্থা মানুষের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সেবায় প্রবেশাধিকারও বাড়াতে পারে।
একই সঙ্গে গ্যাস, তেল ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির অস্থির বাজারের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের খরচ আরও স্থিতিশীল হতে পারে।
এছাড়া বায়ুদূষণ কমে জনস্বাস্থ্যেরও উন্নতি হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষণায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের সময় ও পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকা সময়ে গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং স্মার্ট এনার্জি ব্যবস্থার প্রয়োগ।
গবেষকদের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিদ্যুৎব্যবস্থার মোট ব্যয় প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বা বছরে প্রায় ১৮২ বিলিয়ন ডলার কমানো সম্ভব।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সবার জন্য গ্রহণযোগ্য জীবনমান নিশ্চিত করে এমন নিট-শূন্য বৈশ্বিক বিদ্যুৎব্যবস্থা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব।
তারা আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্বনমুক্ত বৈশ্বিক বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে নোয়াখালীর তিন গ্রামে ঈদ উদযাপন
- মো.ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৬:১৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

যুদ্ধের ছাপ নিয়েই ইরানে কোরবানির ঈদ
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
যুদ্ধের ক্ষত এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বুধবার (২৭ মে) দেশজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন লাখো ইরানি মুসল্লি।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিশেষ জামাতের আয়োজন করা হয়।
ইসলামি ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষে বুধবার সকালেই ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে মুসল্লিরা ঈদের নামাজে অংশ নেন।
ঈদুল আজহা ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র উৎসবগুলোর একটি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মতো ইরানেও দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয়।
রাজধানীর তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আহমাদ খাতামি।
ঈদের জামাতে রাজনৈতিক, সামরিক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
এসময় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি শান্তি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয় ইরানের বিভিন্ন মসজিদে।
এবারের ঈদ এমন এক সময়ে উদযাপন করলো ইরান, যখন দেশটি সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিঘাত থেকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একের পর এক হামলায় ইরানের জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও চাপ তৈরি হয়েছে।
তবুও সব অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়েই ধর্মীয় উৎসবের চেতনায় ঐক্য এবং ধৈর্যের বার্তা নিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছে ইরানের জনগণ।

ঈদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে গোস্ত কাটার ‘খাইট্টা’ বিক্রির ধুম
- রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি । জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:৪৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

যমুনা সেতু পশ্চিমে ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজট
- নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:৩৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

ঝড়ে লণ্ডভণ্ড বাড়ি, রায়গঞ্জে সহমর্মিতার হাত বাড়ালেন নেতারা
- রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:২২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

নরসিংদীতে শিশুর মাথা আটকে গেল পাতিলে, ওয়ার্কশপে নিয়ে অপসারণ
- সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:১১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
নরসিংদীতে খেলার ছলে পাতিলের ভেতরে মাথা ঢুকে গেছে অন্তিম নামে দুই বছরের এক শিশুর। অনেক চেষ্টার পরও মাথা থেকে পাতিল খুলতে না পেরে পরবর্তীতে ওয়ার্কশপে নিয়ে শিশুর মাথা থেকে পাতিল অপসারণ করা হয়।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে নরসিংদী শহরের ব্রাহ্মন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দুই বছরের শিশু অন্তিম খেলার ছলে মাথায় পাতিল ঢোকায়। এক পর্যায়ে তার মাথায় পাতিলটি শক্তভাবে আটকে যায়। পরবর্তীতে, পরিবারের সদস্যরা অনেক চেষ্টার পরও তা খুলতে না পেরে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের ডাক্তারেরা পাতিলটি খুলতে ব্যর্থ হলে শিশুটিকে পাশের একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটির মাথা থেকে পাতিল অপসারণ করা হয়।
এ বিষয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলসানারা কবীর বলেন, শিশুটি অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। আরও কিছু সময় এভাবে থাকলে শ্বাসকষ্টের কারণে প্রাণহানির শঙ্কা ছিল। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

নাচোলে দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের নগদ অর্থ বিতরণ
- মোঃ হেলাল উদ্দীন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:০০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

জয়পুরহাটে জমির দ্বন্দ্বে যুবক খুন, প্রধান অভিযুক্তের বাবা গ্রেপ্তার
- জয়পুরহাট প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৪:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় মাছুম হোসেন (২৩) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার তিলকপুর রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাছুম হোসেন পার্শ্ববর্তী নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের মিলন হোসেনের একমাত্র ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ গোলাম মোস্তফা ও তার ছেলে শিবলুর সঙ্গে মাছুমের পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই মাছুম ও তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে মাছুম স্থানীয় কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তিলকপুর রেলস্টেশন এলাকায় গল্প করছিলেন। পরে বন্ধু জয়কে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে আক্কেলপুর-তিলকপুর সড়কের রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে শিবলুর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল তাদের পথরোধ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন মাছুমের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় মাছুম মোটরসাইকেল থেকে সড়কে লুটিয়ে পড়েন। পরে সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৯ সালে মাছুমের প্রতিবেশী দাদা ফজলুর রহমানকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া গত বছরের ৫ আগস্টের পর ফজলুর রহমানের ছেলে রতনকেও হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। পূর্বের এই দুটি হত্যা মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাছুমের মা রুমি আক্তার বলেন, “জমিজমাকে কেন্দ্র করে তারা আমার একমাত্র ছেলেটাকে ছুরি মেরে হত্যা করেছে। আমি কোনো জমি চাই না, আমার বুকের ধনকে ফিরিয়ে দিক। যারা আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।”
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে ভোরে প্রধান অভিযুক্ত শিবলুর বাবা গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মাছুমের মা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার আওতাধীন হলেও নিহত ও অভিযুক্তদের বাড়ি নওগাঁ সদর থানা এলাকায়। নিহতের মরদেহ বর্তমানে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন, জরিমানা ৩ প্রতিষ্ঠানকে
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৪:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
পঞ্চগড়ে মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে পঞ্চগড়ের নগরকুমারী হাটে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিদুর রহমানের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর অপরাধে ‘মুনস্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’কে ৩০ হাজার টাকা, ‘আলমগীর স্টোর’কে ৩ হাজার টাকা এবং ‘তইবুল চা স্টোর’কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করে তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
এছাড়া মহাসড়কের ওপর রাখা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল আজকের মধ্যেই সরিয়ে নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে রাস্তার ওপর যত্রতত্র বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক পার্কিং না করার জন্য চালক ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিদুর রহমান জানান, রাস্তায় অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ রাস্তায় যত্রতত্র পার্কিং না করতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। জনস্বার্থে ও মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আদ-দ্বীনে শিশু মৃত্যু: তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৩:১০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় এবার মুখ খুলেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেছেন, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে ছয় শিশুর ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
মৃত্যুর কারণ ও অব্যবস্থাপনার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেবে কমিটি আর অনুযায়ী কঠোর কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, ছয় শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ আমরা হাসপাতালে এসেছি। ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। দ্রুতই বিস্তারিত তথ্য আপনাদের জানাতে পারব। এতটুকু জেনেছি, আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে বাচ্চাগুলো মারা গেছে।
এর আগে ঘটনার বিষয়ে জানাতে আদ্–দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক নাহিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের যে ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটেছে, সেই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ছিলেন। আর নবজাতক ছিল ছয়।
হাসপাতালে থাকা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এসি বন্ধ ছিল এবং নবজাতক ওয়ার্ডে উৎকট দুর্গন্ধ পান তারা। পরে নার্সকে জানালে তারা অনেককে এনআইসিইউতে পাঠান।
এসির গ্যাস লিকেজ থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন অভিভাবকরা। তবে তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিষয়টি নিয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ছয় নবজাতক শিশুসহ ১১ জন মা পোস্ট অপারেটিভ রুমে অবস্থান করছিলেন। ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় এসি বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন এক নবজাতকের মা।
পরবর্তীকালে নার্স এসি এক ঘণ্টার মতো বন্ধ রাখেন। এরপর গরম অনুভূত হওয়ায় এসি চালু করতে বললে দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর বাকি চার শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। এখানে সিআইডির ক্রাইম টিম কাজ করছে। আলামত সংগ্রহ করছে।
বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম ছয় শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঘটনাস্থলে থানা পুলিশসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন বলেও জানান ডিসি।
তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশুদের মৃত্যুর আসলে কী কারণ, তা আমরা এখনো জানি না। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে, আমি নিজেও ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। তদন্তের পর আসল তথ্য বলা যাবে।


তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 
















































































2 thoughts on “তাড়াশে যুবকদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করলেন মেয়র প্রার্থী মিলন”