ভুয়া চাহিদাপত্র তৈরি করে ফিলিং স্টেশন থেকে ৩০০ লিটার পেট্রোল ও অকটেন উত্তোলনের চেষ্টার ঘটনায় রাজশাহীর নওহাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাঁচ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের ঢাকায় ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া পাঁচজন হলেন—লিডার রবিউল আলম, গাড়িচালক আজিজুর রহমান এবং ফায়ার ফাইটার জাকির হোসেন, ইয়াসির আরাফাত ও আব্বাস আলী।
নওহাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ওয়ারহাউস ইন্সপেক্টর নিরঞ্জন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিনি ছুটিতে থাকাকালীন ঘটনাটি ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে অফিসে যোগ দিয়ে তিনি বিষয়টি অবগত হন। এর আগেই সদর দপ্তর থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তদের ক্লোজড করে ঢাকায় পাঠানো হয়। বুধবার রাত ৯টার দিকে তারা স্টেশন ত্যাগ করেন।
তিনি বলেন, “আমি রাজশাহী পৌঁছানোর আগেই তারা ঢাকায় চলে গেছে। এখন বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্টেশন প্রধানের অনুপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত লিডার রবিউল আলম অফিসের নামে একটি ভুয়া চাহিদাপত্র তৈরি করেন। পরে একটি সরকারি গাড়িতে ড্রাম ও ব্যারেল নিয়ে নিকটবর্তী একটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে প্রথমে ২০০ লিটার পেট্রোল এবং পরে আরও ১০০ লিটার অকটেন নেন।
এ সময় সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি যাচাই করেন। ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট স্টেশনে ওই সময় কোনো জ্বালানির প্রয়োজন ছিল না। পরে ঘটনাস্থল থেকেই ওই ৩০০ লিটার জ্বালানি ফেরত নেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। ঘটনাটি সরকারি সম্পদের অপব্যবহার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

রাজশাহী প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 



















