সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

দুই সপ্তাহেও গ্রেপ্তার হয়নি গৃহবধু রিনা হত্যার আসামি

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০২:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
  • 128
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পশ্চিম মহেশপুর গ্রামের আলোচিত গৃহবধূ রিনা খাতুনকে (৪০) কে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরোলেও কোন আসামিকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের স্বজনেরা। তবে পুলিশের দাবী প্রধান আসামিসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৩ জুলাই উপজেলার মহেশপুর গ্রামের আসদুল মন্ডলের স্ত্রী  গৃহবধূ রিনা খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আসাদুল মন্ডলসহ ৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে রিনার বড় ভাই আছাদুল আকন্দ। মামলার আসামিরা হলেন, উপজেলার পশ্চিম মহেশপুর গ্রামের মো. গোলবার মন্ডলের ছেলে আছাদুল মন্ডল (৪৮), শহিদুল মন্ডল (৫৫),  জলিল মন্ডল (৫৮),  শহিদুল মন্ডলের স্ত্রী জিহানুর বেগম (৫০),  ছেলে জেলহক (৩২),  রাকিব (২০) ও জলিল মন্ডলের স্ত্রী মেরজাহান (৫৫)।
বাদী আছাদুল আকন্দ অভিযোগ করে বলেন, ২৫/২৬ বছর পুর্বে  আসাদুল মন্ডলের সঙ্গে রিনা খাতুনের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর বেশকিছু দিন ভালোই চলছিল তাদের সংসার। বছর দশেক পর থেকে কর্মে বিমুখ হয়ে পরে আসাদুল। খারাপ লোকদের সঙ্গে মিশতে শুরু করে। আমার বোন রিনাসহ পরিবারের লোকজন তাকে সংশোধনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই।
২৩ জুলাই  স্ত্রী,  ছেলে ও মেয়ের সাথে কোন রকম পরামর্শ ছাড়াই আসাদুল তার বসত বাড়ীর ৪ শতাংশ জায়গা ভাইদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। এতে রিনা এতে বাঁধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে রিনাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আহত রিনাকে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন মিলিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার ছেলের দক্ষিণ দুয়ারী ঘরের ধর্নার সাথে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে। এ ঘটনায় ২৪ জুলাই থানায় মামলার এজাহারে ৭ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করি। তিনি আরও বলেন, মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান উল্লাপাড়া মডেল থানার তদন্ত ওসি মো. নিয়ামুল হক। মামলা দায়েরের দুই সপ্তাহ পেরুলেও কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এব্যাপারে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা ও উল্লাপাড়া মডেল থানার তদন্ত ওসি মোঃ নিয়ামুল হক জানান, নিহতের পোস্ট মডেম রির্পোট এখনো পাইনি। তবে আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
উল্লাপাড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান শাকিল এ ব্যাপারে জানান, মামলাটি হত্যা না-কি আত্মহত্যা?  এ ব্যাপারে পুলিশ অধিক তদন্ত করে দেখছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারেও চেষ্টা করছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

দুই সপ্তাহেও গ্রেপ্তার হয়নি গৃহবধু রিনা হত্যার আসামি

আপডেট টাইম : ০২:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পশ্চিম মহেশপুর গ্রামের আলোচিত গৃহবধূ রিনা খাতুনকে (৪০) কে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরোলেও কোন আসামিকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের স্বজনেরা। তবে পুলিশের দাবী প্রধান আসামিসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৩ জুলাই উপজেলার মহেশপুর গ্রামের আসদুল মন্ডলের স্ত্রী  গৃহবধূ রিনা খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আসাদুল মন্ডলসহ ৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে রিনার বড় ভাই আছাদুল আকন্দ। মামলার আসামিরা হলেন, উপজেলার পশ্চিম মহেশপুর গ্রামের মো. গোলবার মন্ডলের ছেলে আছাদুল মন্ডল (৪৮), শহিদুল মন্ডল (৫৫),  জলিল মন্ডল (৫৮),  শহিদুল মন্ডলের স্ত্রী জিহানুর বেগম (৫০),  ছেলে জেলহক (৩২),  রাকিব (২০) ও জলিল মন্ডলের স্ত্রী মেরজাহান (৫৫)।
বাদী আছাদুল আকন্দ অভিযোগ করে বলেন, ২৫/২৬ বছর পুর্বে  আসাদুল মন্ডলের সঙ্গে রিনা খাতুনের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর বেশকিছু দিন ভালোই চলছিল তাদের সংসার। বছর দশেক পর থেকে কর্মে বিমুখ হয়ে পরে আসাদুল। খারাপ লোকদের সঙ্গে মিশতে শুরু করে। আমার বোন রিনাসহ পরিবারের লোকজন তাকে সংশোধনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই।
২৩ জুলাই  স্ত্রী,  ছেলে ও মেয়ের সাথে কোন রকম পরামর্শ ছাড়াই আসাদুল তার বসত বাড়ীর ৪ শতাংশ জায়গা ভাইদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। এতে রিনা এতে বাঁধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে রিনাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আহত রিনাকে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন মিলিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার ছেলের দক্ষিণ দুয়ারী ঘরের ধর্নার সাথে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে। এ ঘটনায় ২৪ জুলাই থানায় মামলার এজাহারে ৭ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করি। তিনি আরও বলেন, মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান উল্লাপাড়া মডেল থানার তদন্ত ওসি মো. নিয়ামুল হক। মামলা দায়েরের দুই সপ্তাহ পেরুলেও কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এব্যাপারে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা ও উল্লাপাড়া মডেল থানার তদন্ত ওসি মোঃ নিয়ামুল হক জানান, নিহতের পোস্ট মডেম রির্পোট এখনো পাইনি। তবে আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
উল্লাপাড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান শাকিল এ ব্যাপারে জানান, মামলাটি হত্যা না-কি আত্মহত্যা?  এ ব্যাপারে পুলিশ অধিক তদন্ত করে দেখছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারেও চেষ্টা করছে।