সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

নীলফামারীতে এসএমসি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ: তদন্ত ও পুনর্গঠনের দাবি

নীলফামারীর সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠনকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিধি অনুযায়ী অভিভাবকদের অবহিত না করে সীমিতসংখ্যক ব্যক্তিকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগটি সংগলশী ইউনিয়নের দীঘলডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন-উর-রশিদের বিরুদ্ধে। গত ৩০ জুন এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের যৌথ স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগপত্র জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়।
oplus_0
বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে গিয়ে কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এসএমসি গঠনের আগে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মাইকিং, গণবিজ্ঞপ্তি বা পর্যাপ্ত প্রচারণা চালানো হয়নি। তাদের দাবি, অধিকাংশ অভিভাবক কমিটি গঠনের বিষয়টি জানতেই পারেননি। পরে নির্বাচনের পরিবর্তে সীমিতসংখ্যক অভিভাবককে নিয়ে ২৯ জুন কমিটি গঠন করা হয়। এতে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিদ্যালয় পরিচালনায় অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এসএমসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অনিয়মের মাধ্যমে কমিটি গঠন হলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বর্তমান কমিটি বাতিল করে সব অভিভাবকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পুনরায় বিধিমালা অনুযায়ী কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন-উর-রশিদ। তিনি বলেন, এসএমসি গঠনের ক্ষেত্রে আমি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছি। অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের ২৪০ জন অভিভাবকের মধ্যে ৫৮ জন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগের পর বিষয়টি এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

নীলফামারীতে এসএমসি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ: তদন্ত ও পুনর্গঠনের দাবি

আপডেট টাইম : ০৬:২৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
নীলফামারীর সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠনকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিধি অনুযায়ী অভিভাবকদের অবহিত না করে সীমিতসংখ্যক ব্যক্তিকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগটি সংগলশী ইউনিয়নের দীঘলডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন-উর-রশিদের বিরুদ্ধে। গত ৩০ জুন এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের যৌথ স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগপত্র জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়।
oplus_0
বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে গিয়ে কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এসএমসি গঠনের আগে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মাইকিং, গণবিজ্ঞপ্তি বা পর্যাপ্ত প্রচারণা চালানো হয়নি। তাদের দাবি, অধিকাংশ অভিভাবক কমিটি গঠনের বিষয়টি জানতেই পারেননি। পরে নির্বাচনের পরিবর্তে সীমিতসংখ্যক অভিভাবককে নিয়ে ২৯ জুন কমিটি গঠন করা হয়। এতে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিদ্যালয় পরিচালনায় অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এসএমসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অনিয়মের মাধ্যমে কমিটি গঠন হলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বর্তমান কমিটি বাতিল করে সব অভিভাবকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পুনরায় বিধিমালা অনুযায়ী কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন-উর-রশিদ। তিনি বলেন, এসএমসি গঠনের ক্ষেত্রে আমি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছি। অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের ২৪০ জন অভিভাবকের মধ্যে ৫৮ জন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগের পর বিষয়টি এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।