নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকার একটি তরমুজ খেতের পাহারার টংঘরে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী (৩০) তিন সন্তানের জননী এবং স্বামী পরিত্যক্তা। তিনি নতুন করে বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি পরিচিত এক ব্যক্তিকে তার জন্য পাত্র খুঁজে দিতে বলেন। পরে ওই ব্যক্তি একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
পরবর্তীতে মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে অপর ব্যক্তি বিয়ের কথা বলে দেখা করার প্রস্তাব দেয় এবং তাকে খালার বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা জানায়। বিয়ের আশ্বাসে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আফাজিয়া বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগী নারীকে নলচিরা ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকার একটি তরমুজ খেতের পাহারার টংঘরে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা আরও দুজনসহ তিনজন মিলে তাকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের নাম-পরিচয় পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে বাকি দুইজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের নাম-ঠিকানা জানা গেছে এবং অন্য দুইজনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। নির্যাতনের শিকার নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।

মো. ইসমাইল হোসেন নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম 


















