সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

পাখিরা কেন বৈদ্যুতিক তারে বসতে পছন্দ করে, কেন তারা শক খায় না?

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৬:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
  • 127

লাইফস্টাইল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

শহরের রাস্তাঘাট কিংবা গ্রামীণ জনপথ; যেদিকেই তাকান, চোখে পড়বে বৈদ্যুতিক তারে সারি সারি পাখি বসে আছে। কখনো একসঙ্গে অনেকগুলো, আবার কখনো দু-একটা একা একা। দৃশ্যটা যেমন পরিচিত, তেমনি কৌতূহলও জাগায়— পাখিরা কেন বারবার তারের ওপর বসে? আর তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, তাদের শরীর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না কেন? কেন তারা শকে মারা যায় না? এই রহস্যময় প্রশ্নের জবাব খুঁজেছেন বিজ্ঞানীরা, আর সেই ব্যাখ্যা বেশ চমকপ্রদ।

কেন পাখিরা শক খায় না?

এটি বোঝার জন্য প্রথমে জানতে হবে বিদ্যুৎ কীভাবে কাজ করে। যখন বিদ্যুৎ কোনো কন্ডাক্টরের (যেমন তারের) ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন সেটি সবচেয়ে কম প্রতিবন্ধকতার পথ বেছে নেয়। বৈদ্যুতিক তারের ভেতরে থাকে তামার তার, যা বিদ্যুৎ প্রবাহকে অবিরাম গতিতে এগিয়ে দেয়।

একটি পাখি যখন তারের ওপর বসে, তখন তার দুই পা একই জায়গায় থাকে। ফলে বিদ্যুতের ইলেকট্রন তার শরীর দিয়ে প্রবাহিত হয় না। সহজভাবে বললে, বিদ্যুৎ শরীরের ভেতর দিয়ে অন্য কোথাও যাওয়ার পথ না পেলে শরীরে শক লাগে না।

তবে যদি পাখির শরীরের কোনো অংশ একসঙ্গে তার ও বৈদ্যুতিক খুঁটি (বা অন্য কোনো ভিন্ন ভোল্টেজের বস্তু) স্পর্শ করে, সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শরীর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।

তাহলে তারে বসে কী লাভ হয় পাখিদের?

পাখিরা বিজ্ঞান বোঝে না, তবে তাদের তারে বসার পেছনে রয়েছে প্রাকৃতিক ও বেঁচে থাকার নানা কারণ।

১. উষ্ণতা পাওয়ার জন্য

শীতকালে বৈদ্যুতিক তারে অনেক পাখি একসঙ্গে বসে। এতে তারা শরীরের কিছুটা উষ্ণতা ধরে রাখতে পারে। পাশাপাশি একসঙ্গে জড়ো হয়ে বসলে শরীরের তাপ সংরক্ষিত হয়।

২. শিকারি থেকে নিরাপত্তা

শিকারি প্রাণী থেকে বাঁচতে পাখিরা উঁচু তারকে নিরাপদ মনে করে। সেখান থেকে তাদের শিকার করা তুলনামূলক কঠিন।

৩. খাদ্যের খোঁজ সহজ হয়

উঁচু জায়গা থেকে তারা সহজেই চারপাশে খাবারের খোঁজ করতে পারে; পোকামাকড়, ফল বা বীজ তাদের চোখে সহজেই ধরা পড়ে।

৪. সামাজিক মিলনক্ষেত্র

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, তারে বসা পাখিদের জন্য একধরনের সামাজিক মেলামেশার সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে যেসব পাখি বারবার হিজরত (অভিবাসন) করে, তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ও মিলনের জন্যও তারে বসে।

মোটকথা

পাখিরা তারে বসে কারণ এতে তারা নিরাপত্তা, উষ্ণতা, খাদ্যের সুবিধা ও সামাজিক সংযোগ পায়। আর বিদ্যুতের শক খায় না কেবল এজন্য যে, তাদের শরীর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহের বিকল্প পথ তৈরি হয় না। তবে শরীর একসঙ্গে তার ও অন্য কোনো পরিবাহক স্পর্শ করলে বিপদ এড়ানো যায় না।

ট্যাগ :

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

পাখিরা কেন বৈদ্যুতিক তারে বসতে পছন্দ করে, কেন তারা শক খায় না?

আপডেট টাইম : ০৬:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

লাইফস্টাইল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

শহরের রাস্তাঘাট কিংবা গ্রামীণ জনপথ; যেদিকেই তাকান, চোখে পড়বে বৈদ্যুতিক তারে সারি সারি পাখি বসে আছে। কখনো একসঙ্গে অনেকগুলো, আবার কখনো দু-একটা একা একা। দৃশ্যটা যেমন পরিচিত, তেমনি কৌতূহলও জাগায়— পাখিরা কেন বারবার তারের ওপর বসে? আর তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, তাদের শরীর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না কেন? কেন তারা শকে মারা যায় না? এই রহস্যময় প্রশ্নের জবাব খুঁজেছেন বিজ্ঞানীরা, আর সেই ব্যাখ্যা বেশ চমকপ্রদ।

কেন পাখিরা শক খায় না?

এটি বোঝার জন্য প্রথমে জানতে হবে বিদ্যুৎ কীভাবে কাজ করে। যখন বিদ্যুৎ কোনো কন্ডাক্টরের (যেমন তারের) ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন সেটি সবচেয়ে কম প্রতিবন্ধকতার পথ বেছে নেয়। বৈদ্যুতিক তারের ভেতরে থাকে তামার তার, যা বিদ্যুৎ প্রবাহকে অবিরাম গতিতে এগিয়ে দেয়।

একটি পাখি যখন তারের ওপর বসে, তখন তার দুই পা একই জায়গায় থাকে। ফলে বিদ্যুতের ইলেকট্রন তার শরীর দিয়ে প্রবাহিত হয় না। সহজভাবে বললে, বিদ্যুৎ শরীরের ভেতর দিয়ে অন্য কোথাও যাওয়ার পথ না পেলে শরীরে শক লাগে না।

তবে যদি পাখির শরীরের কোনো অংশ একসঙ্গে তার ও বৈদ্যুতিক খুঁটি (বা অন্য কোনো ভিন্ন ভোল্টেজের বস্তু) স্পর্শ করে, সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শরীর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।

তাহলে তারে বসে কী লাভ হয় পাখিদের?

পাখিরা বিজ্ঞান বোঝে না, তবে তাদের তারে বসার পেছনে রয়েছে প্রাকৃতিক ও বেঁচে থাকার নানা কারণ।

১. উষ্ণতা পাওয়ার জন্য

শীতকালে বৈদ্যুতিক তারে অনেক পাখি একসঙ্গে বসে। এতে তারা শরীরের কিছুটা উষ্ণতা ধরে রাখতে পারে। পাশাপাশি একসঙ্গে জড়ো হয়ে বসলে শরীরের তাপ সংরক্ষিত হয়।

২. শিকারি থেকে নিরাপত্তা

শিকারি প্রাণী থেকে বাঁচতে পাখিরা উঁচু তারকে নিরাপদ মনে করে। সেখান থেকে তাদের শিকার করা তুলনামূলক কঠিন।

৩. খাদ্যের খোঁজ সহজ হয়

উঁচু জায়গা থেকে তারা সহজেই চারপাশে খাবারের খোঁজ করতে পারে; পোকামাকড়, ফল বা বীজ তাদের চোখে সহজেই ধরা পড়ে।

৪. সামাজিক মিলনক্ষেত্র

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, তারে বসা পাখিদের জন্য একধরনের সামাজিক মেলামেশার সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে যেসব পাখি বারবার হিজরত (অভিবাসন) করে, তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ও মিলনের জন্যও তারে বসে।

মোটকথা

পাখিরা তারে বসে কারণ এতে তারা নিরাপত্তা, উষ্ণতা, খাদ্যের সুবিধা ও সামাজিক সংযোগ পায়। আর বিদ্যুতের শক খায় না কেবল এজন্য যে, তাদের শরীর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহের বিকল্প পথ তৈরি হয় না। তবে শরীর একসঙ্গে তার ও অন্য কোনো পরিবাহক স্পর্শ করলে বিপদ এড়ানো যায় না।