সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

পাবনায় সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া যুবক জামায়াতকর্মী

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের জগির মোড় ও চর আলহাজ মোড় এলাকায়  সংঘর্ষের ঘটনায় পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলসহ উভয় দলের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

 

এদিকে সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া ওই যুবকের পরিচয় মিলেছে। সংঘর্ষের বেশ কিছু ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সামনে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে এক যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায়।

 

আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া ওই যুবকের  নাম তুষার মণ্ডল। তিনি ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মণ্ডলের ছেলে ও পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের অন্যতম সহচর এবং জামায়াতের সক্রিয় কর্মী।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, জামায়াত কর্মী তুষার মণ্ডল প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলি করেছে। এরই মধ্যে সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তুষার জামায়াত নেতা তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের অন্যতম সহযোগী।

সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান হামদু মেম্বার বলেন, আজকে জামায়াতের পূর্ব নির্ধারিত কোনো গণসংযোগ ছিল না। গণসংযোগে কেউ কখনো গাড়িভর্তি করে অস্ত্র নিয়ে আসে না। মূলত পুরোনো ঘটনার সূত্র ধরেই আজকে মক্কেল মৃধা ও তার ছেলের ওপর হামলা করে তালেব মণ্ডল ও তার সমর্থকরা। তালেব মণ্ডল নিজে গাড়ি থেকে অস্ত্র বের করে তার কর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা গাড়িতে করে অস্ত্র নিয়ে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। পরে ঐক্যবদ্ধ গ্রামবাসীর ধাওয়ার মুখে নিজেদের গাড়িবহর ফেলে পালিয়েছে তারা। এ সময় সশস্ত্র জামায়াত কর্মীরা সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি করে সেই দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।

 

তবে অস্ত্র হাতে ভাইরাল ওই যুবক জামায়াতের কর্মী নন বলে দাবি করেছেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মণ্ডল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অস্ত্র হাতে ওই যুবক আমাদের দলের কেউ না।

 

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, বিএনপি-জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

পাবনায় সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া যুবক জামায়াতকর্মী

আপডেট টাইম : ১২:৩১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের জগির মোড় ও চর আলহাজ মোড় এলাকায়  সংঘর্ষের ঘটনায় পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলসহ উভয় দলের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

 

এদিকে সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া ওই যুবকের পরিচয় মিলেছে। সংঘর্ষের বেশ কিছু ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সামনে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে এক যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায়।

 

আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া ওই যুবকের  নাম তুষার মণ্ডল। তিনি ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মণ্ডলের ছেলে ও পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের অন্যতম সহচর এবং জামায়াতের সক্রিয় কর্মী।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, জামায়াত কর্মী তুষার মণ্ডল প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলি করেছে। এরই মধ্যে সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তুষার জামায়াত নেতা তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের অন্যতম সহযোগী।

সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান হামদু মেম্বার বলেন, আজকে জামায়াতের পূর্ব নির্ধারিত কোনো গণসংযোগ ছিল না। গণসংযোগে কেউ কখনো গাড়িভর্তি করে অস্ত্র নিয়ে আসে না। মূলত পুরোনো ঘটনার সূত্র ধরেই আজকে মক্কেল মৃধা ও তার ছেলের ওপর হামলা করে তালেব মণ্ডল ও তার সমর্থকরা। তালেব মণ্ডল নিজে গাড়ি থেকে অস্ত্র বের করে তার কর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা গাড়িতে করে অস্ত্র নিয়ে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। পরে ঐক্যবদ্ধ গ্রামবাসীর ধাওয়ার মুখে নিজেদের গাড়িবহর ফেলে পালিয়েছে তারা। এ সময় সশস্ত্র জামায়াত কর্মীরা সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি করে সেই দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।

 

তবে অস্ত্র হাতে ভাইরাল ওই যুবক জামায়াতের কর্মী নন বলে দাবি করেছেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মণ্ডল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অস্ত্র হাতে ওই যুবক আমাদের দলের কেউ না।

 

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, বিএনপি-জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।