নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছী পাথরকুটা গ্রামে প্রবাসী নুরুল ইসলামের নগদ ৩০ লাখ টাকা ও প্রায় ১৩ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও হয়েছেন তার স্ত্রী চাঁদনী বানু। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে চাঁদনী বানুকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের নামে আদালতে মামলা করেছেন।
শনিবার (২ আগষ্ট) মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদী নুরুল ইসলাম। এর আগে গত ২৩ জুন চাঁদনী বানু তার প্রবাসী স্বামী নুরুল ইসলামের পাঠানো নগদ ৩০ লাখ টাকা ও ১৩ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় প্রতিকারের আশায় ৮ জুলাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন নুরুল ইসলাম। থানা পুলিশের কাছ থেকে স্ত্রীর সন্ধান না পেয়ে সম্প্রতি আদালতে মামলা করেন তিনি।
ঘটনাটি সদর উপজেলার দোগাছী পাথরকুটা গ্রামে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ বছর আগে দোগাছী (পাথরকুটা) গ্রামের মৃত সফির উদ্দিনের ছেলে প্রবাসী নুরুল ইসলামের সঙ্গে একই গ্রামের মোস্তাকিমের মেয়ে চাঁদনী বানুর বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম হয়। স্ত্রী সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে বিদেশে কাজ করতে যান নুরুল ইসলাম। এরপর প্রবাসে থেকে স্বামী নুরুল ইসলাম জমি কেনার জন্য তার স্ত্রীকে টাকা পাঠালে ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর ৫ শতক এবং ওই বছরের ১৬ এপ্রিলে আরও ৩ শতক জমি ক্রয় করে নিজের নামে নামজারি করে নেয় স্ত্রী চাঁদনী বানু।
পরে স্বামী নুরুল ইসলামের নামে রেজিস্ট্রার করে দিতে চাইলেও দেশে আসার পর জমি রেজিস্ট্রার করে দিতে কালক্ষেপণ করতে থাকে স্ত্রী চাঁদনী।
এদিকে নুরুল ইসলাম লোকমারফতে জানতে পারেন তার স্ত্রী পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়েছেন। বিষয়টি জানার পর তার স্ত্রীকে বাঁধা প্রদান করেন এবং পুনরায় প্রবাসে যান স্বামী। স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী চাঁদনী বানু আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে৷ আস্তে আস্তে স্বামীর পাঠানো নগদ ৩০ লাখ টাকা, আনুমানিক ১৩ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার, ৮শতক জমির দলিল এবং ৫০ হাজার টাকা মূল্যের দুইটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান স্ত্রী।
এরপর স্বামী দেশে ফিরে তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মুঠোফোনে বন্ধ পায়। ঘটনার পর থেকে ব্যাপক হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন স্বামী নুরুল ইসলাম। পরে আইনি সহায়তার জন্য ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে স্ত্রীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। প্রতিকার না পেয়ে সর্বশেষ আদালতে মামলা করেছেন নুরুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম বলেন, আমি বিদেশে রোজগার করে টাকা পয়সা শুধু তার কাছে পাঠিয়েছি৷ কিন্তু সে যে পরকিয়া প্রেমে লিপ্ত ছিলো এটা আমার জানা ছিল না। জানার পর সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাকে একাধিক বার নিষেধ করেছি। কয়েকমাস আগে আমাকে তালাক নোটিশ পাঠালে দেশে আসার পর কাগজটি হাতে পাই। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাচ্ছি। স্ত্রীর পরিবারে যোগাযোগ করলে তারা কিছু বলেনা। নিরুপায় হয়ে থানা পুলিশের সাহায্য নিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশের তেমন কোন ভূমিকা নেই। নেই আসামিদের খোঁজার তৎপরতা। তাই বাধ্য হয়ে এবার আদালতে মামলা করেছি। আশা করছি এবার সুষ্ঠু বিচার পাবো। অভিযুক্ত চাঁদনী বানুর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।
জানতে চাইলে নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নুরে আলম সিদ্দিকী মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। কে তদন্ত করছে, তার কাছ থেকে জেনে নিতে বলেন এই কর্মকর্তা।
জানতে চাইলে নওগাঁ পিবিআই এর পুলিশ ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আদালতে নুরুল ইসলামের করা মামলার তদন্ত আমার কাছে আছে। ইতিমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে।

রিপোর্টার: 


















