সিরাজগঞ্জ , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবৈধ ইটভাটা নির্মাণের অভিযোগ

ইটভাটায় মানববন্ধনে পাওনাদাররা।

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে মিল্লাত (সাবেক সোনালী ব্রিকস) নামে একটি ইটভাটা। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে আগের ইটভাটা মালিকের কাছ থেকে পাওনাদাররা। পাওনা টাকা না পেলে ইটভাটা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে মানববন্ধন করছেন তারা।

 

 

 

 

 

 

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের ওই ইটভাটায় চেক ও কাগজপত্র নিয়ে জড়ো হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন শতাধিক পাওনাদার। তাদের দাবি, সোনালী ব্রিকসের মালিক ফারুকী আজমের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা পাওনা রয়েছেন।

 

 

 

 

 

জানা গেছে, মানববন্ধনে বক্তব্যদানকারী বদিউল আলম সাড়ে ৬ লাখ টাকা, বিবি শাহেদা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শিউলি আক্তার প্রায় ১ লাখ টাকা, ফারহানা আক্তার শিল্পি সাড়ে ৪ লাখ টাকা, বিবি আয়েশা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা, আব্দুল মতিন প্রায় ১০ লাখ টাকা, সিরাজ প্রায় ১০ লাখ টাকা, আব্দুল কুদ্দুস ১১ লাখ টাকা, তাহের প্রায় ৫ লাখ টাকা, নুরুল ইসলাম ৫ লাখ ২০ লাখ টাকা, ইব্রাহিম খলিল ভূইয়া ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছেন।

 

 

ইব্রাহিম খলিল ভুঁইয়া, আবু তাহের, নুরুল ইসলাম ও আব্দুল মতিনসহ কয়েকজন পাওনাদার জানান, প্রায় এক হাজার মানুষ ফারুক কোম্পানির কাছে ৫ কোটি টাকারও বেশি পাওনা রয়েছে। ব্রিকফিল্ডটি এখনও ফারুকের। ভাটার জমি ২০৩০ সাল পর্যন্ত ইজারা নেওয়া। এখানে যে ভাটা ও মাটি স্তূপ করা আছে সব ফারুকের। এই ভাটা ও মাটি থাকলে পাওনাদাররা টাকা পাবে, না হয় পাবে না। কে বা কারা এসে এখন নতুন করে ভাটা প্রস্তুত করছে। কিন্তু টাকা না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে ভাটা চালু করতে দেওয়া হবে না।

 

 

সোনালী ইটভাটার স্বত্বাধিকারী ফারুকী আজম বলেন, আমি প্রচুর টাকা দেনা রয়েছি। ওই ইটভাটা ভাড়া জমিতে স্থাপিত। আমার কিছু জমি ব্যাংকে জামানত রেখে ঋণ নিয়েছিলাম। ব্যাংক সেই জমি নিলামে দিয়েছে, আমার প্রতিষ্ঠান নয়। একটি চক্র আমার প্রতিষ্ঠান দখলে নিতে মেতে উঠেছে। আমার প্রতিষ্ঠান আমারই থাকবে।

 

 

 

 

মিল্লাত ইটভাটার স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর হোসেন বলেন, আমি ভাড়া নিয়ে ভাটা প্রস্তুত করছি। কে কার কাছ থেকে টাকা পাবে সেটা আমার জানার বিষয় না। মিল্লাত নামে ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন করতে আবেদন করেছি। কিন্তু তারা নবায়নসহ ছাড়পত্র বাতিল করেছে। এ ঘটনায় আমি আপিল করব। তবে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে ইটভাটা প্রস্তুতের বিষয়ে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।

 

 

 

 

পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হারুনুর অর রশিদ পাঠান জানান, মিল্লাত নামে একটি ইটভাটার জন্য আবেদন করলে ছাড়পত্র ও নবায়ম বাতিল করা হয়। সেখানে সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

 

 

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, নির্দেশনা অমান্য করে ইটভাটা প্রস্তুতের কাজ করা হচ্ছে। খবর পেয়ে কয়েকবার কাজ বন্ধ করা হয়েছে। এরপরও তারা নির্দেশনা মানছে না। তারা অবৈধভাবে ইটভাটা প্রস্তুত করছে। আমরা তাদেরকে কাজ করার অনুমতি দিচ্ছি না।

 

 

 

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবৈধ ইটভাটা নির্মাণের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১১:১৪:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে মিল্লাত (সাবেক সোনালী ব্রিকস) নামে একটি ইটভাটা। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে আগের ইটভাটা মালিকের কাছ থেকে পাওনাদাররা। পাওনা টাকা না পেলে ইটভাটা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে মানববন্ধন করছেন তারা।

 

 

 

 

 

 

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের ওই ইটভাটায় চেক ও কাগজপত্র নিয়ে জড়ো হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন শতাধিক পাওনাদার। তাদের দাবি, সোনালী ব্রিকসের মালিক ফারুকী আজমের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা পাওনা রয়েছেন।

 

 

 

 

 

জানা গেছে, মানববন্ধনে বক্তব্যদানকারী বদিউল আলম সাড়ে ৬ লাখ টাকা, বিবি শাহেদা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শিউলি আক্তার প্রায় ১ লাখ টাকা, ফারহানা আক্তার শিল্পি সাড়ে ৪ লাখ টাকা, বিবি আয়েশা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা, আব্দুল মতিন প্রায় ১০ লাখ টাকা, সিরাজ প্রায় ১০ লাখ টাকা, আব্দুল কুদ্দুস ১১ লাখ টাকা, তাহের প্রায় ৫ লাখ টাকা, নুরুল ইসলাম ৫ লাখ ২০ লাখ টাকা, ইব্রাহিম খলিল ভূইয়া ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছেন।

 

 

ইব্রাহিম খলিল ভুঁইয়া, আবু তাহের, নুরুল ইসলাম ও আব্দুল মতিনসহ কয়েকজন পাওনাদার জানান, প্রায় এক হাজার মানুষ ফারুক কোম্পানির কাছে ৫ কোটি টাকারও বেশি পাওনা রয়েছে। ব্রিকফিল্ডটি এখনও ফারুকের। ভাটার জমি ২০৩০ সাল পর্যন্ত ইজারা নেওয়া। এখানে যে ভাটা ও মাটি স্তূপ করা আছে সব ফারুকের। এই ভাটা ও মাটি থাকলে পাওনাদাররা টাকা পাবে, না হয় পাবে না। কে বা কারা এসে এখন নতুন করে ভাটা প্রস্তুত করছে। কিন্তু টাকা না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে ভাটা চালু করতে দেওয়া হবে না।

 

 

সোনালী ইটভাটার স্বত্বাধিকারী ফারুকী আজম বলেন, আমি প্রচুর টাকা দেনা রয়েছি। ওই ইটভাটা ভাড়া জমিতে স্থাপিত। আমার কিছু জমি ব্যাংকে জামানত রেখে ঋণ নিয়েছিলাম। ব্যাংক সেই জমি নিলামে দিয়েছে, আমার প্রতিষ্ঠান নয়। একটি চক্র আমার প্রতিষ্ঠান দখলে নিতে মেতে উঠেছে। আমার প্রতিষ্ঠান আমারই থাকবে।

 

 

 

 

মিল্লাত ইটভাটার স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর হোসেন বলেন, আমি ভাড়া নিয়ে ভাটা প্রস্তুত করছি। কে কার কাছ থেকে টাকা পাবে সেটা আমার জানার বিষয় না। মিল্লাত নামে ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন করতে আবেদন করেছি। কিন্তু তারা নবায়নসহ ছাড়পত্র বাতিল করেছে। এ ঘটনায় আমি আপিল করব। তবে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে ইটভাটা প্রস্তুতের বিষয়ে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।

 

 

 

 

পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হারুনুর অর রশিদ পাঠান জানান, মিল্লাত নামে একটি ইটভাটার জন্য আবেদন করলে ছাড়পত্র ও নবায়ম বাতিল করা হয়। সেখানে সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

 

 

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, নির্দেশনা অমান্য করে ইটভাটা প্রস্তুতের কাজ করা হচ্ছে। খবর পেয়ে কয়েকবার কাজ বন্ধ করা হয়েছে। এরপরও তারা নির্দেশনা মানছে না। তারা অবৈধভাবে ইটভাটা প্রস্তুত করছে। আমরা তাদেরকে কাজ করার অনুমতি দিচ্ছি না।

 

 

 

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ