সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইলেকশন ইঞ্জিরিয়ারিংয়ের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লাকে হারিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন।

 

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী প্রচার অভিযান শুরুর পর থেকেই একটি দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। তারা নিষিদ্ধ পিভিসি ব্যবহার করে পোস্টার করেছে। আমাদের প্রচারকর্মীদের বাঁধা, হুমকি ও হয়রানি করা হয়েছে। আমাদের নারী কর্মীদের হেনস্ত ও গালিগালাজ করেছেন। প্রশাসনকে অবহিত করলেও পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একেবারেই নির্লিপ্ত ছিল।

 

তিনি বলেন, আমাদের কতগুলো অফিস আগুন দেওয়া হয়েছে ভাংচুর করা হয়েছে। সে ব্যাপারে অদ্যাবধি পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই। নির্বাচনের আগে জুলাই যোদ্ধা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাসে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণ করেছে। প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই।

 

জাহিদুল ইসলোম আরও বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনের আগের দিনও উঠোন বৈঠক, সমাবেশ ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষদেরকে নিয়ে মতবিনিময় করেছে আমাদের প্রতিপক্ষ। প্রিজাইডিং অফিসারদেরকে নিয়ে তারা মিটিং করেছে। প্রশাসনকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

 

আমরা সুস্পষ্টভাবে অভিযোগ করেছি কোথায় অস্ত্র আছে, কোথায় অস্ত্র তৈরি হচ্ছে এবং কোথায় সন্ত্রাসীরা আছে এবং কারা ভোটকেন্দ্র দখলের হুমকি দিয়েছে। আমরা লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন অস্ত্র উদ্ধার বা গ্রেপ্তার করা হয় নাই।

 

 

এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে একটি রাজনৈতিক দলের অবাধ বিচরণ ছিল। অথচ আমি একটি প্রার্থী হিসেবে একটি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করি তখন প্রশাসন বাঁধা দেয়। একটি ভোটকেন্দ্রে দেখলাম আমার প্রতিপক্ষের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করছেন প্রিজাইডিং অফিসার। আবার আমি এমনও অনেক জায়গায় গিয়েছি প্রিজাইডিং অফিসার আমার সঙ্গে সৌজন্যমূলক করমর্দনও করেন নাই। এটা প্রশাসনের দ্বি-চারিতা। এই দ্বি-চারিতার কারণে নিঃসন্দেহে বলতে পারি ওনারা ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে।

 

 

প্রতিটি বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ১৩টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল শীটে টেম্পারিং করা হয়েছে। অধিকাংশ সেন্টারে সন্ধ্যার পরপরই ভোট গণনা শেষ হয়েছে। কিন্তু কিছু সেন্টারে ফলাফল দেওয়া হচ্ছিল না। আমাদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে অতিরিক্ত ব্যালট ঢুকিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভোট বেশি দেখানো হয়েছে।

 

 

ভোটকেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ ভোট কাউন্ট হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা ফলাফলে দেখছি ৭০ শতাংশ ভোট কাউন্ট হয়েছে। আমাদের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের অধিকাংশ সিল বাতিল করা হয়েছে। ধানের শীষের কোন ভোট বাতিল করে নাই। বাতিলকৃত ভোটের পরিমাণ প্রায় পৌণে ২ শতাংশ। ভোট গণনার সময় ধানের শীষের ৯০ ভোটকে ১০০ দেখানো। দাঁড়িপাল্লার ১২০টিকে ১০০ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্টরা পক্ষপাতিত্ব করেছেন বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আমরা হতাশ এই কারণে সিরাজগঞ্জ ও কামারখন্দের মানুষ যাকে ভোট দিয়েছে তাকে প্রতিনিধি হিসেবে পায় নাই। নির্বাচনের পরও জামায়াত নেতাকর্মীদের উপর একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

এ সময় জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমীর আব্দুল লতিফ, কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতের আমীর ইউসুফ আলী, এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী হযরত আলী ওসমান ও পৌর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. শামীম রেজা উপস্থিত ছিলেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইলেকশন ইঞ্জিরিয়ারিংয়ের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

আপডেট টাইম : ০৫:১১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লাকে হারিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন।

 

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী প্রচার অভিযান শুরুর পর থেকেই একটি দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। তারা নিষিদ্ধ পিভিসি ব্যবহার করে পোস্টার করেছে। আমাদের প্রচারকর্মীদের বাঁধা, হুমকি ও হয়রানি করা হয়েছে। আমাদের নারী কর্মীদের হেনস্ত ও গালিগালাজ করেছেন। প্রশাসনকে অবহিত করলেও পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একেবারেই নির্লিপ্ত ছিল।

 

তিনি বলেন, আমাদের কতগুলো অফিস আগুন দেওয়া হয়েছে ভাংচুর করা হয়েছে। সে ব্যাপারে অদ্যাবধি পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই। নির্বাচনের আগে জুলাই যোদ্ধা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাসে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণ করেছে। প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই।

 

জাহিদুল ইসলোম আরও বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনের আগের দিনও উঠোন বৈঠক, সমাবেশ ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষদেরকে নিয়ে মতবিনিময় করেছে আমাদের প্রতিপক্ষ। প্রিজাইডিং অফিসারদেরকে নিয়ে তারা মিটিং করেছে। প্রশাসনকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

 

আমরা সুস্পষ্টভাবে অভিযোগ করেছি কোথায় অস্ত্র আছে, কোথায় অস্ত্র তৈরি হচ্ছে এবং কোথায় সন্ত্রাসীরা আছে এবং কারা ভোটকেন্দ্র দখলের হুমকি দিয়েছে। আমরা লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন অস্ত্র উদ্ধার বা গ্রেপ্তার করা হয় নাই।

 

 

এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে একটি রাজনৈতিক দলের অবাধ বিচরণ ছিল। অথচ আমি একটি প্রার্থী হিসেবে একটি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করি তখন প্রশাসন বাঁধা দেয়। একটি ভোটকেন্দ্রে দেখলাম আমার প্রতিপক্ষের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করছেন প্রিজাইডিং অফিসার। আবার আমি এমনও অনেক জায়গায় গিয়েছি প্রিজাইডিং অফিসার আমার সঙ্গে সৌজন্যমূলক করমর্দনও করেন নাই। এটা প্রশাসনের দ্বি-চারিতা। এই দ্বি-চারিতার কারণে নিঃসন্দেহে বলতে পারি ওনারা ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে।

 

 

প্রতিটি বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ১৩টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল শীটে টেম্পারিং করা হয়েছে। অধিকাংশ সেন্টারে সন্ধ্যার পরপরই ভোট গণনা শেষ হয়েছে। কিন্তু কিছু সেন্টারে ফলাফল দেওয়া হচ্ছিল না। আমাদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে অতিরিক্ত ব্যালট ঢুকিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভোট বেশি দেখানো হয়েছে।

 

 

ভোটকেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ ভোট কাউন্ট হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা ফলাফলে দেখছি ৭০ শতাংশ ভোট কাউন্ট হয়েছে। আমাদের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের অধিকাংশ সিল বাতিল করা হয়েছে। ধানের শীষের কোন ভোট বাতিল করে নাই। বাতিলকৃত ভোটের পরিমাণ প্রায় পৌণে ২ শতাংশ। ভোট গণনার সময় ধানের শীষের ৯০ ভোটকে ১০০ দেখানো। দাঁড়িপাল্লার ১২০টিকে ১০০ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্টরা পক্ষপাতিত্ব করেছেন বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আমরা হতাশ এই কারণে সিরাজগঞ্জ ও কামারখন্দের মানুষ যাকে ভোট দিয়েছে তাকে প্রতিনিধি হিসেবে পায় নাই। নির্বাচনের পরও জামায়াত নেতাকর্মীদের উপর একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

এ সময় জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমীর আব্দুল লতিফ, কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতের আমীর ইউসুফ আলী, এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী হযরত আলী ওসমান ও পৌর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. শামীম রেজা উপস্থিত ছিলেন।