সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ফুলজোড়-করতোয়া-বাঙ্গালী নদী দূষণ বন্ধে হাইকোর্টের রুল

ছবি: হাইকোর্ট ভবন।

বগুড়ায় এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও মজুমদার প্রোডাক্টস—এ দুই কারখানার মাধ্যমে ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদী দূষণ বন্ধে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে।
বেলার দায়ের করা এক রিট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক, এই দুই জেলার পুলিশ সুপার, দুই জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট), রাজশাহী বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর এবং এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রুলে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার রাজাপুর ও ছোনকা গ্রামের ওই দুই শিল্প-প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত, ঝুঁকিপূর্ণ ও দূষণকারী কার্যক্রম বন্ধে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন সংবিধান ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী, বেআইনি, আইনগত কর্তৃত্ববিহীন এবং জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে আদালত পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দুই প্রতিষ্ঠানের বিপজ্জনক কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদীকে পুনরায় দূষণের হাত থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন।
রুল জারির পাশাপাশি আদালত এসআর কেমিক্যাল ও মজুমদার প্রোডাক্টসের দায়ের করা রিটের সঙ্গে চলমান মামলা একত্রে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদী সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এসআর কেমিক্যাল ও মজুমদার প্রোডাক্টস (রাইস ব্রান অয়েল) দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ করে আসছে। এতে এই তিন নদী এবং সংশ্লিষ্ট জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে মাছ মরে ভেসে উঠছে এবং সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুকসহ নানা জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া, মহেশপুর ও চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বেড়াবাজুয়া এলাকায় নদীর পানির রং পরিবর্তিত হয়ে দুর্গন্ধযুক্ত ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দূষণের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে জরিমানাও করেছে।
বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফুলজোড় নদীর ২৫ কিলোমিটার এলাকাকে দূষণমুক্ত রাখতে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটি এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজকে ১১টি অবশ্য পালনীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নের সুপারিশ করলেও প্রতিষ্ঠানটি তা অনুসরণ না করে দূষণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে জানায় বেলা।
সূত্র :ডেইলি স্টার

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ফুলজোড়-করতোয়া-বাঙ্গালী নদী দূষণ বন্ধে হাইকোর্টের রুল

আপডেট টাইম : ১১:২১:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
বগুড়ায় এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও মজুমদার প্রোডাক্টস—এ দুই কারখানার মাধ্যমে ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদী দূষণ বন্ধে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে।
বেলার দায়ের করা এক রিট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক, এই দুই জেলার পুলিশ সুপার, দুই জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট), রাজশাহী বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর এবং এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রুলে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার রাজাপুর ও ছোনকা গ্রামের ওই দুই শিল্প-প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত, ঝুঁকিপূর্ণ ও দূষণকারী কার্যক্রম বন্ধে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন সংবিধান ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী, বেআইনি, আইনগত কর্তৃত্ববিহীন এবং জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে আদালত পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দুই প্রতিষ্ঠানের বিপজ্জনক কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদীকে পুনরায় দূষণের হাত থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন।
রুল জারির পাশাপাশি আদালত এসআর কেমিক্যাল ও মজুমদার প্রোডাক্টসের দায়ের করা রিটের সঙ্গে চলমান মামলা একত্রে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদী সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এসআর কেমিক্যাল ও মজুমদার প্রোডাক্টস (রাইস ব্রান অয়েল) দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ করে আসছে। এতে এই তিন নদী এবং সংশ্লিষ্ট জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে মাছ মরে ভেসে উঠছে এবং সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুকসহ নানা জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া, মহেশপুর ও চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বেড়াবাজুয়া এলাকায় নদীর পানির রং পরিবর্তিত হয়ে দুর্গন্ধযুক্ত ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দূষণের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে জরিমানাও করেছে।
বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফুলজোড় নদীর ২৫ কিলোমিটার এলাকাকে দূষণমুক্ত রাখতে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটি এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজকে ১১টি অবশ্য পালনীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নের সুপারিশ করলেও প্রতিষ্ঠানটি তা অনুসরণ না করে দূষণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে জানায় বেলা।
সূত্র :ডেইলি স্টার