সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ফুলজোর নদী থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

ফুলজোর নদী থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার সাহেবগঞ্জ নলছিয়া এলাকার ফুলজোর নদী থেকে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয় লোকজন ফুলজোর নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি সলঙ্গা থানায় অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহটি উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী জানান, “স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”
তিনি আরও জানান, মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি মরদেহটির পরিচয় সম্পর্কে তথ্য জানলে সলঙ্গা থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ফেসবুক লাইভে এসে শরীয়তপুরে আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ মিছিল

ফেসবুক লাইভে এসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শরীয়তপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। শনিবার (৬ জুন) বিকালে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের প্রেমতলা এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সূত্রে জানা যায়, ‘শেখ সেলিম’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে মিছিলটি প্রচার করা হয়। মিছিলে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।

 

 

 

ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলের সামনে একজন জাতীয় পতাকা বহন করছেন এবং তার পেছনে ব্যানার হাতে নেতাকর্মীরা সড়ক প্রদক্ষিণ করছেন। এসময় তারা“শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর পক্ষেও স্লোগান দিতে শোনা যায়।

 

 

ফেসবুক লাইভে প্রচারিত মিছিলের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

 

এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, “বিষয়টি আমিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। দুপুরের দিকে প্রেমতলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

 

শরীয়তপুরে পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সীমানা ও শর্ত না মেনে শত শত ড্রেজার, কাটার মেশিন বসিয়ে দিন রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সামনের বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙ্গনের চরম আতঙ্কে রয়েছেন চরঅঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

 

 

 

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর নড়িয়া উপজেলার চরাত্রা চরের বালুর স্তূপ থেকে ১০ কোটি ঘনফুট বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে উপজেলা প্রশাসন। প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য ০.৪৯ টাকা হিসেবে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকায় কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ফরিদ উদ্দিন রয়েল মাঝি। তবে রযেল মাঝির ইনভেস্টর হলেন সখিপুর থানার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ঢাকায় অবস্থানরত পেশাদার সুদের ব্যবসায়ী এবং শেয়ার মার্কেটের জুয়াড়ি ফরিদ আহমেদ মাল।

 

 

 

নিলামের শর্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র স্তূপ থাকা বালু অপসারণের অনুমতি থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, স্তূপের বালুর পরিবর্তে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর গভীরতা ও পানির ধারণক্ষমতা আকস্মিকভাবে বেড়ে গিয়ে পানির তীব্র স্রোত সরাসরি নদীতীরে আঘাত হানছে। ফলে নদীর তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা, ফসলি জমি ও বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

 

সরেজমিনে নৌপথে ঘুরে দেখা যায়, নড়িয়া উপজেলার চারাত্রায় বালুর স্তূপের নিচে ও স্তূপের আগ থেকেই প্রায় প্রায় ৫০-৬০ টি কাটার ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগ ধরে পদ্মার ভয়াল ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে আসছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার তীরবর্তী জনপদ। বিশেষ করে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ের ভয়াবহ নদীভাঙনে নড়িয়ায় প্রায় ৩০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারি বেসরকারি নানা স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। নদীভাঙনের হাত থেকে নড়িয়া-জাজিরার মানুষকে রক্ষা করতে ২০১৯ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) “নড়িয়া-জাজিরা পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্প” বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের আওতায় জাজিরার শফিকাজীর মোড় থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।
এ ছাড়া প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার নদীপথে চর খননের কাজও করা হয়। পাশাপাশি নির্মিত বাঁধ আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে নড়িয়ার সুরেশ্বর থেকে মুলফৎগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় নদীতে ফেলা হয়েছে ১১ লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগ। এ কাজে ব্যয় হয়েছে আরও প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

 

 

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক বলেন, নদীর ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে বালু কাটতে থাকলে আমরা আর এখানে টিকে থাকতে পারব না। ফসলি জমিতে ধান চাষ করা যাবে না, কৃষিকাজও হুমকির মুখে পড়বে। বালুর স্তুপ অপসারণের নামে তারা আসলে নদীর তলদেশ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা ঝুঁকির মধ্যে আছি। এর জন্য দায়ী বিএনপি নেতা রয়েল মাঝি এবং সুদের ব্যবসায়ী ও জুয়াড়ি ফরিদ মাল। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানাই এবং এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

 

 

 

 

এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ফরিদ উদ্দিন রয়েল মাঝি বলেন, আমরা নিলামের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছি এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করছি। মাঝখানে প্রায় সাত মাস কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে নিয়ম মেনেই বালুর স্তূপ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

 

 

 

আর ফরিদ আহমেদ মাল বলেন, আমি বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে কোনো টাকা দেইনি। এসব অপপ্রচার, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

 

 

 

 

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, বালু উত্তোলনের কাজের তদারকির জন্য উপজেলা তিনটি দপ্তর নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে আমাদের রিপোর্ট দিবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের বিষয় আমরা খতিয়ে দেখবো। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাপন গ্রহন করবো।

 

 

টেকসই উন্নয়নে বিএসটিআইকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা হবে: শিল্পমন্ত্রী

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএসটিআইকে আরো শক্তিশালী করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি পণ্যের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুণগত মান, পরিমাপ সঠিক আছে কি-না তা নিশ্চিত করতে বিএসটিআই বদ্ধ পরিকর। ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রত্যেকটা পণ্যের উচ্চ গুণগত মান নিশ্চিতের দিকে অগ্রসর হতে হবে।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) ‘বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ বছর বিশ্ব মেট্রোলজি দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- ‘নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’।

 

 

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্বরত এবং এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো: আবদুর রহিম খান। এছাড়া অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, দপ্তর সংস্থার গ্রধানগণ, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

শিল্পমন্ত্রী বলেন, গুণগত মানসম্পন্ন এবং সঠিক ওজনের পণ্য প্রাপ্তি জনসাধারণের নাগরিক অধিকার। জনগণের এই অধিকার রক্ষায় বিএসটিআই-কে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। জনগণ ভোগ্যপণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিএসটিআই’র মানচিহ্নকে আস্থার প্রতীক মনে করে।

 

 

শিল্প সচিব বলেন, মানুষের আস্থার জায়গায় বিএসটিআই পৌছাতে পেরেছে। বিএসটিআই’র ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি রয়েছে। আধুনিক ল্যাব স্থাপনের কার্যক্রম চলমান। খুলনা ও চট্রগ্রামে ১০ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ভবন ও ল্যাবরেটরি নির্মান, ১০ জেলায় আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলাগুলোতেও করা হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠানের সভাপতি কাজী ইমদাদুল হক বলেন, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও মুক্ত বাণিজ্য অর্থনীতিতে দেশীয় পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে বিএসটিআই’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক আধুনিকায়ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে- দেশের ১১টি জেলায় পূর্ণাঙ্গ ল্যাবরেটরিসহ আঞ্চলিক ভবন নির্মাণ, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। আরও ৪২টি জেলায় সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; পাশাপাশি প্রধান কার্যালয়ে নতুন ১৩ তলা ভবনসহ রসায়ন ও পদার্থ উইংয়ে ৬৭টি অত্যাধুনিক ল্যাব এবং ২১টি মেট্রোলজি ল্যাব স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। হালাল পণ্যে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কাথাও তুলে ধরেণ বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব)। এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেন, বিএসটিআই বাসস্থান, খাদ্যপণ্যসহ সকল বিষয়ে গ্রহণযোগ্য মান প্রণয়ন করে। প্রতিষ্ঠানটি সরকারের নীতি কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

উল্লাপাড়ায় ব্র্যাক সিড এন্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

উল্লাপাড়ায় ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে হাইব্রিড ধান চাষের আধুনিক কলাকৌশল ও অধিক ফলন নিশ্চিতকরণ শীর্ষক দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন ) উপজেলার কৃষকগঞ্জ বাজারে এ কর্মশালায় স্থানীয় কৃষকদের হাইব্রিড ধান চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও রোগবালাই দমনে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিডের বগুড়া রিজিওনাল সেলস্ ম্যানেজার মানিক রাহা। উল্লাপাড়ার টেরিটোরি সেলস অফিসার আল আমিনের সঞ্চালনায় ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উল্লাপাড়া টেরিটোরির বেলকুচি উপজেলার কান্দাপাড়া বাজারের ডিলার মো: রইচ উদ্দিন, উল্লাপাড়া টেরিটোরির সেলস অফিসার মধুসূদন কুমার মন্ডল প্রমুখ।

 

 

 

কর্মশালায় বক্তারা গুণগত মানসম্পন্ন হাইব্রিড ধানের উৎপাদন ও ফলন বৃদ্ধিতে ব্র্যাকের বীজর গুরুত্ব তুলে ধরেন। চাষাবাদের আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে মাটি নির্বাচন, মাটির পিএইচ পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ, জমি শোধন এবং সঠিক দূরত্বে বীজ রোপণের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী সারের সঠিক ব্যবহার এবং সেচ প্রয়োগের সময়সূচী মেনে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে হাইব্রিড ধানের মড়ক বা ‘ধানের শিষ ব্লাষ্ট রোগসহ কাণ্ডপচা রোগের আধুনিক প্রতিকার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে জাব পোকা (এফিড) দমনের রাসায়নিক ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিগুলো কৃষকদের হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হয়। আরও বলেন ফসল সংগ্রহের আগের ও পরের ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত জরুরি।

 

 

 

ব্র্যাক সিড জানায়, দেশব্যাপী কৃষক পর্যায়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ হয়ে উঠবে। এর ফলে হাইব্রিড ধান চাষে ঝুঁকি কমবে এবং হাইব্রিড জাতের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠান শেষে ব্র্যাক সিডের হাইব্রিড ধান রাজা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

 

উঠানের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে ছাগল হত্যা, প্রতিবাদে গৃহবধূ নিহত

আশুলিয়ার তাজপুরে ছাগলের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর দায়ের কোপে প্রাণ হারিয়েছেন এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

 

 

 

শনিবার (০৬ জুন) দুপুরে আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রূপবান বেগমের মৃত্যু হয়।

 

 

 

নিহত রূপবান বেগম (৪৫) নামে আশুলিয়ার তাজপুর এলাকার বাসিন্দা ও জয়নাল সরকারের স্ত্রী। মামলার প্রধান আসামি আলিয়া সরকার একই এলাকার মৃত সুলতান সরকারের ছেলে।

 

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে রূপবান বেগমের একটি ছাগল আলিয়া সরকারের বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে ঘাস খায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে ছাগলটিকেই কুপিয়ে মেরে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে রূপবান বেগমের সঙ্গে আলিয়া সরকারের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আলিয়া সরকার তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে রুপবানের পায়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।

 

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।

 

 

আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী জীবিত থাকাকালে তার স্বামী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আলিয়া সরকারকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা নেওয়া হয়। পরে রূপবান বেগমের মৃত্যুর হওয়ায় মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

 

 

তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই বর্তমানে পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

ডেনিম শিল্পের বৃহৎ প্রদর্শনী ১০-১১ জুন, ঢাকা প্রস্তুত

বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর ২০তম আসর আগামী ১০ ও ১১ জুন ২০২৬ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের ডেনিম শিল্পকে প্রস্তুত করতে এই আয়োজন বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদির ১০ জুন দুই দিনব্যাপী এই এক্সপোর উদ্বোধন করবেন। এতে ১০টিরও বেশি দেশের ৫০টিরও বেশি প্রদর্শক অংশ নেবেন।

 

 

বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘প্রদর্শকরা শুধু তাদের উদ্ভাবনী পণ্যই প্রদর্শন করবেন না, বরং এমন নতুন ধারণাও উপস্থাপন করবেন যা ডেনিম শিল্পের ভবিষ্যৎকে রূপ দিচ্ছে।’

 

 

এই আসরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘Frontline to Future’ (সম্মুখসারি থেকে ভবিষ্যতের পথে)। প্রতিপাদ্য সম্পর্কে মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বৈশ্বিক ফ্যাশনের সম্মুখ সারিতে দাঁড়িয়ে চাপ সামলেছে, প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং বিশ্বকে মূল্য সরবরাহ করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে ২০তম বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো হাজির হচ্ছে দৃঢ় প্রত্যয়ী প্রতিপাদ্য নিয়ে — Frontline to Future।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রতিপাদ্য কেবল বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থানেরই প্রতিফলন নয়, এটি একটি ঘোষণা — আমরা কোথায় যাচ্ছি তার। সবুজ ও দায়িত্বশীল বিনিয়োগ থেকে শুরু করে স্বল্পোন্নত দেশ উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি নেভিগেট করা, শ্রমশক্তির ন্যায়সংগত রূপান্তর থেকে পোশাকের বাইরে পণ্য বৈচিত্র্য আনা — বাংলাদেশ ভবিষ্যতের অপেক্ষায় নেই, বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ গড়ছে।’

এক্সপোর দুই দিনে প্রদর্শনীর পাশাপাশি ৫টি প্যানেল আলোচনা আয়োজন করা হবে। আলোচনার বিষয়গুলো হলো :

 

১. ‘Negotiating the Future: Trade Agreements and Bangladesh Apparel in the Post-LDC Era’ (ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা: স্বল্পোন্নত দেশ উত্তরণ-পরবর্তী যুগে বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক শিল্প)

২. ‘Stitching the Future: Just Transition in Bangladesh’s Apparel Industry’ (ভবিষ্যৎ সেলাই: বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ন্যায়সংগত রূপান্তর)

৩. ‘Beyond Apparel: Product Diversification as the Key to the Future Economy’ (পোশাকের বাইরে: ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চাবিকাঠি হিসেবে পণ্য বৈচিত্র্য)

৪. ‘Financing the Future: Unlocking Green and Responsible Investment in Bangladesh’s Denim & Apparel Sector’ (ভবিষ্যতের অর্থায়ন: বাংলাদেশের ডেনিম ও পোশাক খাতে সবুজ ও দায়িত্বশীল বিনিয়োগ) এ ছাড়া বেটার ওয়ার্ক বাংলাদেশ ‘Better Work Bangladesh’ এর উদ্যোগে ‘Woven in Data: The Past and Future of Bangladesh’s Global Competitiveness’ (তথ্যের বুননে: বাংলাদেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতার অতীত ও ভবিষ্যৎ) শিরোনামে একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনাও আয়োজন করা হবে।

 

 

দেশ-বিদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারক, ক্রেতা, শিল্প নেতা এবং বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে প‍্যানেল আলোচনাগুলোতে অংশগ্রহন করবেন।

 

অভিযানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ২৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ২৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও পুলিশের দাবি, তাদের মধ্যে ৯ জন যুবলীগ এবং ১৫ জন ছাত্রলীগের নেতা রয়েছে।

 

 

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মিছিলের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়ার পর আগেই বাঁধেরহাট বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। নির্ধারিত স্থানে কর্মসূচি পালন করতে না পেরে পরে তারা বাজারের বাইরে মিছিল করে। ঘটনার পরপরই রাতভর অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

One thought on “ফুলজোর নদী থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ফুলজোর নদী থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

আপডেট টাইম : ০৯:২৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার সাহেবগঞ্জ নলছিয়া এলাকার ফুলজোর নদী থেকে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয় লোকজন ফুলজোর নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি সলঙ্গা থানায় অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহটি উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী জানান, “স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”
তিনি আরও জানান, মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি মরদেহটির পরিচয় সম্পর্কে তথ্য জানলে সলঙ্গা থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ফেসবুক লাইভে এসে শরীয়তপুরে আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ মিছিল

ফেসবুক লাইভে এসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শরীয়তপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। শনিবার (৬ জুন) বিকালে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের প্রেমতলা এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সূত্রে জানা যায়, ‘শেখ সেলিম’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে মিছিলটি প্রচার করা হয়। মিছিলে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।

 

 

 

ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলের সামনে একজন জাতীয় পতাকা বহন করছেন এবং তার পেছনে ব্যানার হাতে নেতাকর্মীরা সড়ক প্রদক্ষিণ করছেন। এসময় তারা“শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর পক্ষেও স্লোগান দিতে শোনা যায়।

 

 

ফেসবুক লাইভে প্রচারিত মিছিলের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

 

এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, “বিষয়টি আমিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। দুপুরের দিকে প্রেমতলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

 

শরীয়তপুরে পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সীমানা ও শর্ত না মেনে শত শত ড্রেজার, কাটার মেশিন বসিয়ে দিন রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সামনের বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙ্গনের চরম আতঙ্কে রয়েছেন চরঅঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

 

 

 

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর নড়িয়া উপজেলার চরাত্রা চরের বালুর স্তূপ থেকে ১০ কোটি ঘনফুট বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে উপজেলা প্রশাসন। প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য ০.৪৯ টাকা হিসেবে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকায় কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ফরিদ উদ্দিন রয়েল মাঝি। তবে রযেল মাঝির ইনভেস্টর হলেন সখিপুর থানার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ঢাকায় অবস্থানরত পেশাদার সুদের ব্যবসায়ী এবং শেয়ার মার্কেটের জুয়াড়ি ফরিদ আহমেদ মাল।

 

 

 

নিলামের শর্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র স্তূপ থাকা বালু অপসারণের অনুমতি থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, স্তূপের বালুর পরিবর্তে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর গভীরতা ও পানির ধারণক্ষমতা আকস্মিকভাবে বেড়ে গিয়ে পানির তীব্র স্রোত সরাসরি নদীতীরে আঘাত হানছে। ফলে নদীর তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা, ফসলি জমি ও বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

 

সরেজমিনে নৌপথে ঘুরে দেখা যায়, নড়িয়া উপজেলার চারাত্রায় বালুর স্তূপের নিচে ও স্তূপের আগ থেকেই প্রায় প্রায় ৫০-৬০ টি কাটার ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগ ধরে পদ্মার ভয়াল ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে আসছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার তীরবর্তী জনপদ। বিশেষ করে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ের ভয়াবহ নদীভাঙনে নড়িয়ায় প্রায় ৩০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারি বেসরকারি নানা স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। নদীভাঙনের হাত থেকে নড়িয়া-জাজিরার মানুষকে রক্ষা করতে ২০১৯ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) “নড়িয়া-জাজিরা পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্প” বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের আওতায় জাজিরার শফিকাজীর মোড় থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।
এ ছাড়া প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার নদীপথে চর খননের কাজও করা হয়। পাশাপাশি নির্মিত বাঁধ আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে নড়িয়ার সুরেশ্বর থেকে মুলফৎগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় নদীতে ফেলা হয়েছে ১১ লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগ। এ কাজে ব্যয় হয়েছে আরও প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

 

 

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক বলেন, নদীর ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে বালু কাটতে থাকলে আমরা আর এখানে টিকে থাকতে পারব না। ফসলি জমিতে ধান চাষ করা যাবে না, কৃষিকাজও হুমকির মুখে পড়বে। বালুর স্তুপ অপসারণের নামে তারা আসলে নদীর তলদেশ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা ঝুঁকির মধ্যে আছি। এর জন্য দায়ী বিএনপি নেতা রয়েল মাঝি এবং সুদের ব্যবসায়ী ও জুয়াড়ি ফরিদ মাল। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানাই এবং এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

 

 

 

 

এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ফরিদ উদ্দিন রয়েল মাঝি বলেন, আমরা নিলামের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছি এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করছি। মাঝখানে প্রায় সাত মাস কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে নিয়ম মেনেই বালুর স্তূপ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

 

 

 

আর ফরিদ আহমেদ মাল বলেন, আমি বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে কোনো টাকা দেইনি। এসব অপপ্রচার, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

 

 

 

 

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, বালু উত্তোলনের কাজের তদারকির জন্য উপজেলা তিনটি দপ্তর নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে আমাদের রিপোর্ট দিবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের বিষয় আমরা খতিয়ে দেখবো। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাপন গ্রহন করবো।

 

 

টেকসই উন্নয়নে বিএসটিআইকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা হবে: শিল্পমন্ত্রী

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএসটিআইকে আরো শক্তিশালী করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি পণ্যের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুণগত মান, পরিমাপ সঠিক আছে কি-না তা নিশ্চিত করতে বিএসটিআই বদ্ধ পরিকর। ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রত্যেকটা পণ্যের উচ্চ গুণগত মান নিশ্চিতের দিকে অগ্রসর হতে হবে।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) ‘বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ বছর বিশ্ব মেট্রোলজি দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- ‘নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’।

 

 

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্বরত এবং এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো: আবদুর রহিম খান। এছাড়া অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, দপ্তর সংস্থার গ্রধানগণ, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

শিল্পমন্ত্রী বলেন, গুণগত মানসম্পন্ন এবং সঠিক ওজনের পণ্য প্রাপ্তি জনসাধারণের নাগরিক অধিকার। জনগণের এই অধিকার রক্ষায় বিএসটিআই-কে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। জনগণ ভোগ্যপণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিএসটিআই’র মানচিহ্নকে আস্থার প্রতীক মনে করে।

 

 

শিল্প সচিব বলেন, মানুষের আস্থার জায়গায় বিএসটিআই পৌছাতে পেরেছে। বিএসটিআই’র ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি রয়েছে। আধুনিক ল্যাব স্থাপনের কার্যক্রম চলমান। খুলনা ও চট্রগ্রামে ১০ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ভবন ও ল্যাবরেটরি নির্মান, ১০ জেলায় আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলাগুলোতেও করা হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠানের সভাপতি কাজী ইমদাদুল হক বলেন, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও মুক্ত বাণিজ্য অর্থনীতিতে দেশীয় পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে বিএসটিআই’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক আধুনিকায়ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে- দেশের ১১টি জেলায় পূর্ণাঙ্গ ল্যাবরেটরিসহ আঞ্চলিক ভবন নির্মাণ, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। আরও ৪২টি জেলায় সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; পাশাপাশি প্রধান কার্যালয়ে নতুন ১৩ তলা ভবনসহ রসায়ন ও পদার্থ উইংয়ে ৬৭টি অত্যাধুনিক ল্যাব এবং ২১টি মেট্রোলজি ল্যাব স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। হালাল পণ্যে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কাথাও তুলে ধরেণ বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব)। এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেন, বিএসটিআই বাসস্থান, খাদ্যপণ্যসহ সকল বিষয়ে গ্রহণযোগ্য মান প্রণয়ন করে। প্রতিষ্ঠানটি সরকারের নীতি কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

উল্লাপাড়ায় ব্র্যাক সিড এন্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

উল্লাপাড়ায় ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে হাইব্রিড ধান চাষের আধুনিক কলাকৌশল ও অধিক ফলন নিশ্চিতকরণ শীর্ষক দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন ) উপজেলার কৃষকগঞ্জ বাজারে এ কর্মশালায় স্থানীয় কৃষকদের হাইব্রিড ধান চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও রোগবালাই দমনে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিডের বগুড়া রিজিওনাল সেলস্ ম্যানেজার মানিক রাহা। উল্লাপাড়ার টেরিটোরি সেলস অফিসার আল আমিনের সঞ্চালনায় ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উল্লাপাড়া টেরিটোরির বেলকুচি উপজেলার কান্দাপাড়া বাজারের ডিলার মো: রইচ উদ্দিন, উল্লাপাড়া টেরিটোরির সেলস অফিসার মধুসূদন কুমার মন্ডল প্রমুখ।

 

 

 

কর্মশালায় বক্তারা গুণগত মানসম্পন্ন হাইব্রিড ধানের উৎপাদন ও ফলন বৃদ্ধিতে ব্র্যাকের বীজর গুরুত্ব তুলে ধরেন। চাষাবাদের আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে মাটি নির্বাচন, মাটির পিএইচ পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ, জমি শোধন এবং সঠিক দূরত্বে বীজ রোপণের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী সারের সঠিক ব্যবহার এবং সেচ প্রয়োগের সময়সূচী মেনে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে হাইব্রিড ধানের মড়ক বা ‘ধানের শিষ ব্লাষ্ট রোগসহ কাণ্ডপচা রোগের আধুনিক প্রতিকার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে জাব পোকা (এফিড) দমনের রাসায়নিক ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিগুলো কৃষকদের হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হয়। আরও বলেন ফসল সংগ্রহের আগের ও পরের ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত জরুরি।

 

 

 

ব্র্যাক সিড জানায়, দেশব্যাপী কৃষক পর্যায়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ হয়ে উঠবে। এর ফলে হাইব্রিড ধান চাষে ঝুঁকি কমবে এবং হাইব্রিড জাতের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠান শেষে ব্র্যাক সিডের হাইব্রিড ধান রাজা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

 

উঠানের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে ছাগল হত্যা, প্রতিবাদে গৃহবধূ নিহত

আশুলিয়ার তাজপুরে ছাগলের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর দায়ের কোপে প্রাণ হারিয়েছেন এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

 

 

 

শনিবার (০৬ জুন) দুপুরে আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রূপবান বেগমের মৃত্যু হয়।

 

 

 

নিহত রূপবান বেগম (৪৫) নামে আশুলিয়ার তাজপুর এলাকার বাসিন্দা ও জয়নাল সরকারের স্ত্রী। মামলার প্রধান আসামি আলিয়া সরকার একই এলাকার মৃত সুলতান সরকারের ছেলে।

 

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে রূপবান বেগমের একটি ছাগল আলিয়া সরকারের বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে ঘাস খায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে ছাগলটিকেই কুপিয়ে মেরে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে রূপবান বেগমের সঙ্গে আলিয়া সরকারের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আলিয়া সরকার তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে রুপবানের পায়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।

 

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।

 

 

আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী জীবিত থাকাকালে তার স্বামী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আলিয়া সরকারকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা নেওয়া হয়। পরে রূপবান বেগমের মৃত্যুর হওয়ায় মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

 

 

তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই বর্তমানে পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

ডেনিম শিল্পের বৃহৎ প্রদর্শনী ১০-১১ জুন, ঢাকা প্রস্তুত

বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর ২০তম আসর আগামী ১০ ও ১১ জুন ২০২৬ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের ডেনিম শিল্পকে প্রস্তুত করতে এই আয়োজন বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদির ১০ জুন দুই দিনব্যাপী এই এক্সপোর উদ্বোধন করবেন। এতে ১০টিরও বেশি দেশের ৫০টিরও বেশি প্রদর্শক অংশ নেবেন।

 

 

বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘প্রদর্শকরা শুধু তাদের উদ্ভাবনী পণ্যই প্রদর্শন করবেন না, বরং এমন নতুন ধারণাও উপস্থাপন করবেন যা ডেনিম শিল্পের ভবিষ্যৎকে রূপ দিচ্ছে।’

 

 

এই আসরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘Frontline to Future’ (সম্মুখসারি থেকে ভবিষ্যতের পথে)। প্রতিপাদ্য সম্পর্কে মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বৈশ্বিক ফ্যাশনের সম্মুখ সারিতে দাঁড়িয়ে চাপ সামলেছে, প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং বিশ্বকে মূল্য সরবরাহ করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে ২০তম বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো হাজির হচ্ছে দৃঢ় প্রত্যয়ী প্রতিপাদ্য নিয়ে — Frontline to Future।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রতিপাদ্য কেবল বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থানেরই প্রতিফলন নয়, এটি একটি ঘোষণা — আমরা কোথায় যাচ্ছি তার। সবুজ ও দায়িত্বশীল বিনিয়োগ থেকে শুরু করে স্বল্পোন্নত দেশ উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি নেভিগেট করা, শ্রমশক্তির ন্যায়সংগত রূপান্তর থেকে পোশাকের বাইরে পণ্য বৈচিত্র্য আনা — বাংলাদেশ ভবিষ্যতের অপেক্ষায় নেই, বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ গড়ছে।’

এক্সপোর দুই দিনে প্রদর্শনীর পাশাপাশি ৫টি প্যানেল আলোচনা আয়োজন করা হবে। আলোচনার বিষয়গুলো হলো :

 

১. ‘Negotiating the Future: Trade Agreements and Bangladesh Apparel in the Post-LDC Era’ (ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা: স্বল্পোন্নত দেশ উত্তরণ-পরবর্তী যুগে বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক শিল্প)

২. ‘Stitching the Future: Just Transition in Bangladesh’s Apparel Industry’ (ভবিষ্যৎ সেলাই: বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ন্যায়সংগত রূপান্তর)

৩. ‘Beyond Apparel: Product Diversification as the Key to the Future Economy’ (পোশাকের বাইরে: ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চাবিকাঠি হিসেবে পণ্য বৈচিত্র্য)

৪. ‘Financing the Future: Unlocking Green and Responsible Investment in Bangladesh’s Denim & Apparel Sector’ (ভবিষ্যতের অর্থায়ন: বাংলাদেশের ডেনিম ও পোশাক খাতে সবুজ ও দায়িত্বশীল বিনিয়োগ) এ ছাড়া বেটার ওয়ার্ক বাংলাদেশ ‘Better Work Bangladesh’ এর উদ্যোগে ‘Woven in Data: The Past and Future of Bangladesh’s Global Competitiveness’ (তথ্যের বুননে: বাংলাদেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতার অতীত ও ভবিষ্যৎ) শিরোনামে একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনাও আয়োজন করা হবে।

 

 

দেশ-বিদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারক, ক্রেতা, শিল্প নেতা এবং বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে প‍্যানেল আলোচনাগুলোতে অংশগ্রহন করবেন।

 

অভিযানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ২৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ২৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও পুলিশের দাবি, তাদের মধ্যে ৯ জন যুবলীগ এবং ১৫ জন ছাত্রলীগের নেতা রয়েছে।

 

 

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মিছিলের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়ার পর আগেই বাঁধেরহাট বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। নির্ধারিত স্থানে কর্মসূচি পালন করতে না পেরে পরে তারা বাজারের বাইরে মিছিল করে। ঘটনার পরপরই রাতভর অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।