সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম, দেখা করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪ আসামি। ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম। সেই পরিচয়ের সূত্রে ময়মনসিংহের ভালুকায় দেখা করতে গিয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

সোমবার (১৪ মার্চ) রাতে উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

 

গ্রেপ্তাররা হলেন- পাঁচগাও এলাকার আশু মিয়ার ছেলে মো. হোসাইন (২১), আব্দুল মোতালিবের ছেলে মো. ফারুক আহাম্মেদ (১৭), মো. শহীদের মো. আরিফ (১৭), মঞ্জুরুল হকের মো. মেহেদী হাসান (২০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। মা-বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সে গত ১০ বছর সৎ মায়ের কাছে বড় হয়েছেন। দুই মাস আগে সৎ মায়ের নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাড়ি ছেড়ে ময়মনসিংহে চলে আসে।

সেখানে ময়মনসিংহ শহরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করে।

 

এদিকে গত ছয় মাস ধরে ‘জিসান ইসলাম’ নামের একটি ফেসবুক আইডির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই আইডির সঙ্গে দেখা করতে ১৪ মার্চ রাত ৯টায় সে ময়মনসিংহ থেকে বাসযোগে ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে আসে। সেখানে এক ব্যক্তি তাকে রিসিভ করে সিএনজিতে তুলে পাঁচগাঁওয়ের দিকে নিয়ে যায়।

 

 

ভুক্তভোগীর সন্দেহ হলে যেতে অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক পাঁচগাঁও খালের পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত আরও ৩ জনসহ চারজন মিলে তাকে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং খালের পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

 

 

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং মামলা রুজু করে। ময়মনসিংহ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। ডিবি ও থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

 

 

জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

ট্যাগ :

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম, দেখা করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার

আপডেট টাইম : ০১:৫৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম। সেই পরিচয়ের সূত্রে ময়মনসিংহের ভালুকায় দেখা করতে গিয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

সোমবার (১৪ মার্চ) রাতে উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

 

গ্রেপ্তাররা হলেন- পাঁচগাও এলাকার আশু মিয়ার ছেলে মো. হোসাইন (২১), আব্দুল মোতালিবের ছেলে মো. ফারুক আহাম্মেদ (১৭), মো. শহীদের মো. আরিফ (১৭), মঞ্জুরুল হকের মো. মেহেদী হাসান (২০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। মা-বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সে গত ১০ বছর সৎ মায়ের কাছে বড় হয়েছেন। দুই মাস আগে সৎ মায়ের নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাড়ি ছেড়ে ময়মনসিংহে চলে আসে।

সেখানে ময়মনসিংহ শহরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করে।

 

এদিকে গত ছয় মাস ধরে ‘জিসান ইসলাম’ নামের একটি ফেসবুক আইডির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই আইডির সঙ্গে দেখা করতে ১৪ মার্চ রাত ৯টায় সে ময়মনসিংহ থেকে বাসযোগে ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে আসে। সেখানে এক ব্যক্তি তাকে রিসিভ করে সিএনজিতে তুলে পাঁচগাঁওয়ের দিকে নিয়ে যায়।

 

 

ভুক্তভোগীর সন্দেহ হলে যেতে অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক পাঁচগাঁও খালের পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত আরও ৩ জনসহ চারজন মিলে তাকে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং খালের পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

 

 

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং মামলা রুজু করে। ময়মনসিংহ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। ডিবি ও থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

 

 

জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।