সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

বিদেশে থাকা ব্যক্তির জমি রেজিষ্ট্রির ঘটনায় তদন্ত শুরু, ক্রেতার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি সাব-রেজিস্টার অফিসে জাল স্বাক্ষরে ভারতে থাকা এক ব্যক্তির জমি রেজিষ্ট্রি করে নেওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে ওই জমির ক্রেতা বীরেন্দ্র নাথ পোদ্দারের হঠাৎ রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্টার শরীফ তোরাফ হোসেন জানান, বেলকুচির সাব-রেজিস্টার অফিসে জাল স্বাক্ষরে বিদেশে থাকা এক ব্যক্তির জমি দলিলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরে ঘটনাটি তদন্ত শাহজাদপুর সাব-রেজিস্টার রবিউল ইসলামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহজাদপুর সাব-রেজিস্টার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা তদন্ত শুরু করে দিয়েছি। ইতিমধ্যে ওই দলিলের ঘটনায় সংশ্লিস্ট সকলকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে জাল দলিলকাণ্ডের মূল হোতা মেয়ের জামাই সমীরন মন্ডলের বাড়িতে বীরেন্দ্রনাথ পোদ্দারের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। একমাত্র ওয়ারিশ সমীরন নিজের স্বার্থ হাসিলের বীরেন্দ্রকে হত্যা করতে পারে বলে স্বজনদের ধারণা।

 

জীতেন্দ্রনাথ পোদ্দারের ভাতিজা উত্তম কুমার পোদ্দার জানান, সমীরন মন্ডলের বাড়িতে হঠাৎ করেই মারা গেছেন বীরেন্দ্রনাথ পোদ্দার। মৃত্যুর পরে ফোনে আমাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। জাল স্বাক্ষরে জমি দলিলের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরপরই ক্রেতা বীরেন্দ্রনাথের মৃত্যু স্বাভাবিক হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমীরন মন্ডল বলেন, আমার শ্বশুর বীরেন্দ্রনাথ পোদ্দার বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ্য ছিলেন। আপনারা তো জমির বিষয় নিয়ে নিউজ করেছেন, এখন সাংবাদিকতা না করে একটু বিবেক দিয়ে বোঝেন।

 

এদিকে দলিল লেখক আব্দুল মতিন বলেন, আপনারা তো নিউজ করে আমার যা ক্ষতি সেটা তো করে দিয়েছেন। আপনার বিরুদ্ধে এমন জাল দলিল করার আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে মতিন বলেন, আমাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেন।

 

বেলকুচি সাব-রেজিষ্টার মো. মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি বিব্রত। আমি তার মৃত্যুর খবর শুনেছি। কেউ বলছে অস্বাভাবিক মৃত্যু আবার কেউ বলছে স্বাভাবিক মৃত্যু। আসলে জমির জন্য মানুষ যে পশু হয়েও যেতে পারে।

 

প্রসঙ্গত, প্রায় ২০ বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছেন বেলকুচি উপজেলার গাবগাছী গ্রামের মৃত বেনী মাধব পোদ্দারের ছেলে জিতেন্দ্র নাথ পোদ্দার। তিনি দেশে না আসলেও চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি তার নামে রেকর্ডীয় বাড়ি ও ফসলী জমির ২৮.৩৮৩ শতাংশ রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছেন বীরেন্দ্র নাথ পোদ্দার। অভিযোগ উঠেছে সাব-রেজিষ্ট্রার মাসুদ রানা, অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম ও দলিল লেখক আব্দুল মতিনের যোগসাজসে ভুয়া ক্রেতার জাল স্বাক্ষরে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের জমি রেজিষ্ট্রি করা হয়। আর এর মূল হোতা বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার সমীরন মণ্ডল নামে এক প্রতারক।

 

এ বিষয়ে দলিল বাতিলের জন্য জেলা রেজিস্টার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জিতেন্দ্রনাথ পোদ্দারের ভাতিজা উত্তম কুমার পোদ্দার।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

বিদেশে থাকা ব্যক্তির জমি রেজিষ্ট্রির ঘটনায় তদন্ত শুরু, ক্রেতার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

আপডেট টাইম : ০২:১৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি সাব-রেজিস্টার অফিসে জাল স্বাক্ষরে ভারতে থাকা এক ব্যক্তির জমি রেজিষ্ট্রি করে নেওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে ওই জমির ক্রেতা বীরেন্দ্র নাথ পোদ্দারের হঠাৎ রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্টার শরীফ তোরাফ হোসেন জানান, বেলকুচির সাব-রেজিস্টার অফিসে জাল স্বাক্ষরে বিদেশে থাকা এক ব্যক্তির জমি দলিলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরে ঘটনাটি তদন্ত শাহজাদপুর সাব-রেজিস্টার রবিউল ইসলামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহজাদপুর সাব-রেজিস্টার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা তদন্ত শুরু করে দিয়েছি। ইতিমধ্যে ওই দলিলের ঘটনায় সংশ্লিস্ট সকলকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে জাল দলিলকাণ্ডের মূল হোতা মেয়ের জামাই সমীরন মন্ডলের বাড়িতে বীরেন্দ্রনাথ পোদ্দারের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। একমাত্র ওয়ারিশ সমীরন নিজের স্বার্থ হাসিলের বীরেন্দ্রকে হত্যা করতে পারে বলে স্বজনদের ধারণা।

 

জীতেন্দ্রনাথ পোদ্দারের ভাতিজা উত্তম কুমার পোদ্দার জানান, সমীরন মন্ডলের বাড়িতে হঠাৎ করেই মারা গেছেন বীরেন্দ্রনাথ পোদ্দার। মৃত্যুর পরে ফোনে আমাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। জাল স্বাক্ষরে জমি দলিলের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরপরই ক্রেতা বীরেন্দ্রনাথের মৃত্যু স্বাভাবিক হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমীরন মন্ডল বলেন, আমার শ্বশুর বীরেন্দ্রনাথ পোদ্দার বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ্য ছিলেন। আপনারা তো জমির বিষয় নিয়ে নিউজ করেছেন, এখন সাংবাদিকতা না করে একটু বিবেক দিয়ে বোঝেন।

 

এদিকে দলিল লেখক আব্দুল মতিন বলেন, আপনারা তো নিউজ করে আমার যা ক্ষতি সেটা তো করে দিয়েছেন। আপনার বিরুদ্ধে এমন জাল দলিল করার আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে মতিন বলেন, আমাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেন।

 

বেলকুচি সাব-রেজিষ্টার মো. মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি বিব্রত। আমি তার মৃত্যুর খবর শুনেছি। কেউ বলছে অস্বাভাবিক মৃত্যু আবার কেউ বলছে স্বাভাবিক মৃত্যু। আসলে জমির জন্য মানুষ যে পশু হয়েও যেতে পারে।

 

প্রসঙ্গত, প্রায় ২০ বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছেন বেলকুচি উপজেলার গাবগাছী গ্রামের মৃত বেনী মাধব পোদ্দারের ছেলে জিতেন্দ্র নাথ পোদ্দার। তিনি দেশে না আসলেও চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি তার নামে রেকর্ডীয় বাড়ি ও ফসলী জমির ২৮.৩৮৩ শতাংশ রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছেন বীরেন্দ্র নাথ পোদ্দার। অভিযোগ উঠেছে সাব-রেজিষ্ট্রার মাসুদ রানা, অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম ও দলিল লেখক আব্দুল মতিনের যোগসাজসে ভুয়া ক্রেতার জাল স্বাক্ষরে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের জমি রেজিষ্ট্রি করা হয়। আর এর মূল হোতা বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার সমীরন মণ্ডল নামে এক প্রতারক।

 

এ বিষয়ে দলিল বাতিলের জন্য জেলা রেজিস্টার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জিতেন্দ্রনাথ পোদ্দারের ভাতিজা উত্তম কুমার পোদ্দার।