বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনী সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সফরের শুরুতে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ফুলগাজীতে বৃক্ষরোপণ, রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উদ্বোধনী মঞ্চ ও জনসভাস্থলের মঞ্চসহ প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে সব প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থলের উদ্বোধনী ফলকসহ সভাস্থল প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরশুরাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। তবে সরকারি সফর সুচি অনুযায়ী তিনি সড়কপথে পরশুরাম যাবেন বলে জানা গেছে।
জনসভাস্থলে মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলকের স্থানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ শেষ করেছে আয়োজক কমিটি। জনসভায় অংশ নেওয়া মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সভাস্থলে পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থা স্থাপন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় সৌন্দয বর্ধণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়ক মেরামত এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও চলছে।
সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কার কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পাশাপাশি পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের জনসভাস্থলের আশপাশের এলাকাতেও প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতিমূলক কাজ করা হচ্ছে। একইভাবে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ করা হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবন থেকে সড়ক পথে ফেনীর পরশুরামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি পরশুরাম উপজেলায় উপস্থিত হবেন। এর পর খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় যাবেন। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
এরপর দুপুর সোয়া ১টায় পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। দুপুর দেড়টায় মায়ের নামে প্রতিষ্টিত খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। দুপুর ২টায় ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ডাকবাংলোয় স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেবেন তিনি।
বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফেনী ত্যাগ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনী সফরে আসার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। পরে তা স্থগিত করে ১ অক্টোবর সফরের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে পরশুরাম ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া সহ গোটা ফেনীবাসী প্রস্তুত রয়েছে আগামীকাল সকালে তিনি পরশুরাম এসে প্রথমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উদ্বোধন করবেন এরপর নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিকেলে জনসভায় ফেনীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিবেন প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে এখন শুধু তার অপেক্ষার পালা।

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 



















