সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

বেগমগঞ্জে ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ‘বুলেট ফারুক’ গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত মো. ওমর ফারুক ওরফে ‘বুলেট ফারুক’ (৪৪) কে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও র‍্যাব-৭-এর যৌথ অভিযান দল।

বুধবার (১০ জুন ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বেগমগঞ্জ মডেল থানার জমিদারহাট পূর্ব বাজার এলাকায় ফেনী–চৌমুহনী মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ডিএনসি জেলা কার্যালয় নোয়াখালী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে র‍্যাব-৭ ফেনী টিমের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে কোমরে কস্টেপ দিয়ে লুকানো অবস্থায় ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেলের টুলবক্স থেকে আরও ৪ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

সব মিলিয়ে তার কাছ থেকে ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, একটি মোটরসাইকেল এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

ডিএনসি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর সেনবাগ, বেগমগঞ্জ ও ফেনীর দাগনভূঞা এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র মামলা ও মাদক আইনে মোট ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, তিনি নিজস্ব মোটরসাইকেল ব্যবহার করে প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা এনে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন। তার নিয়ন্ত্রণে একাধিক খুচরা মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দাগনভূঞা এলাকায় ১১ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ।

মাদকাসক্তি প্রতিরোধে করণীয় তুলে ধরলেন উপপরিচালক আনিছুর রহমান

মাদকের অপব্যবহার রোধে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে নীলফামারীতে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টায় নীলফামারী সদর উপজেলার ককই বাজার সংলগ্ন ককই মিশনে এ কর্মশালার আয়োজন করে উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্প, ককই, বিডি-০২৭৪। “নিজে বাঁচুন, পরিবারকে বাঁচান” স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রকল্পের তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান খান। তিনি মাদকের অপব্যবহার, এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদকাসক্তি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আলোচনায় তিনি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এ কারণে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রেখে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করানো হয়। পাশাপাশি “মাদককে না বলুন” লেখা সম্বলিত খাতা, কলম ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চাল-ডালসহ ৬০ পণ্যে দাম কমানোর পরিকল্পনা বাজেটে

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার যে বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে, তাতে চাল-ডাল, আলু থেকে সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার মতো ৬০টি প্রযুক্তি ও কৃষি পণ্যের দাম কমতে পারে। এসব পণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে কর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট পেশকালে এই প্রস্তাব করতে পারেন।

 

 

 

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, সরকার এই ৬০টি পণ্যের তালিকায় মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যকে প্রাধান্য দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ।

 

 

 

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা জনজীবনে স্বস্তি আনবে বলে আশা করছে সরকার।

নিত্যপণ্যের বাইরেও সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম কমার প্রস্তাব করা হচ্ছে বাজেটে। এরমধ্যে শিশুখাদ্য আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সব ধরনের মসলা ও খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হবে।

 

এছাড়াও, বাজেটে জীবন রক্ষাকারী হার্টের রিং বা স্টেন্টের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা কমতে পারে। কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ প্রায় ৮০০ টাকা কমবে।

 

 

প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতে প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর থাকা কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হতে পারে। পাশাপাশি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট মওকুফ করা হচ্ছে।

 

 

 

বিনোদন ও সংস্কৃতিখাতে তরুণ প্রজন্মের জন্য গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনের মতো বাদ্যযন্ত্র এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে।

 

 

 

সরকারের এই নতুন রাজস্ব নীতি মূলত করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, এই কর ছাড়ের ফলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমিত হবে।

 

জাল দলিলে টাকা তুলতে গিয়ে ধরা, দুজনের কারাদণ্ড

 

সিলেটে জাল দলিল ব্যবহার করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন চেষ্টার অভিযোগে দুই দালালকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিহাব বিন আমিন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধিগ্রহণ শাখায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

 

 

 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে আতিকুর রহমান (৫৬) এবং জালালাবাদ থানার চাতলীবন্দ গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে সুজন আলী (৩০)। আতিকুর রহমানকে ৪ মাস এবং সুজন আলীকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

 

সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিহাব বিন আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, জাল দলিলের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে তাদের জালিয়াতি ধরা পড়ে। পরে তাদের আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সরকারি কাজে বাধা প্রদানসহ হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়। পরে রাতে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

হলুদ জার্সিতে সিরাজগঞ্জ শহর মাতালো ব্রাজিল ভক্তরা

আর কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হচ্ছে ফুটবলের বৃহত্তম আসর ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬। এই মুহুর্তে সবকিছু ভুলে ফুটবল উন্মাদনায় মেতে উঠেছে যমুনা পাড়ের শহর সিরাজগঞ্জ।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে বিশাল র‌্যালি করেছে ব্রাজিল ভক্তরা। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শহরের মুজিব সড়কে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রিয় দলের পতাকা হাতে হলুদ জার্সি পড়ে দলে দলে আসতে থাকেন সমর্থকরা।

 

নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ বা মোটর সাইকেলযোগ, রিকশায় চেপে র‌্যালি অংশ নেয়। র‌্যালির বিশেষ আকর্ষণ ছিল ট্রাকযোগে বিশাল সাউন্ডবক্স নিয়ে ডিজে গানের তালে তালে সমর্থকদের সাম্বা নৃত্য।

 

 

 

ব্রাজিল সমর্থকেরা বলেন, আমরা এবার হেক্সা মিশনে নেমেছি। এবার ব্রাজিল দল দারুণ ফর্মে আছে। ইনশাল্লাহ এবার ৬ নম্বর বিশ্বকাপ ঘরে তুলবো আমরা।

 

 

 

অপর এক সমর্থক আর্জেন্টিনার উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের পাঁচটা আছে তাদের তিনটা। তাদের সঙ্কে আমাদের দলের তূলণাই চলে না।

 

 

 

স্বামী জার্মানী, স্ত্রী ব্রাজিল ও মেয়েকে আর্জেন্টিনার জার্সি পড়িয়ে রিকশাযোগে র্যা লীতে অংশ নেয় একটি পরিবার। জানতে চাইলে জার্মান সমর্থক স্বামী বলেন, স্ত্রী ব্রাজিল সমর্থক তাই তাকে ব্রাজিলের র‌্যালিতে নিয়ে এসেছি। আমি চাই ব্রাজিল ভালো খেলুক তবে জার্মানি ৫ম বিশ্বকাপ জিতুক। মেয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থক বলেন, এবারও আর্জেন্টিনাই কাপ জিতবে। স্ত্রী ব্রাজিল সমর্থক বলেন, আমাদের ঘরে এখন রীতিমোত গৃহযুদ্ধ লেগে গেছে।

 

 

 

র‌্যালির আয়োজকরা বলেন, আমরা শহরে দেখিয়ে দিতে চাই আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি সমর্থক রয়েছে ব্রাজিলের। আজকে সিরাজগঞ্জ শহর হলুদ জার্সির দোলায় দুলছে।

 

 

জুলাইয়ে পুলিশ হত্যাকারী সেই মাহদী আশ্রয় নিলেন থানায়

 

হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান এবার থানায় আশ্রয় নিয়েছেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধাওয়া ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় প্রবেশ করেন। 

 

 

তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

 

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের পুরাতন হাসপাতাল সড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় ফেসবুক লাইভে এসে মাহদী থানায় প্রবেশ করেন। 

 

 

লাইভে তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের জেরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া দিয়ে হামলার চেষ্টা করছেন। তবে ছাত্রদলের দাবি, মাহদীর লাইভ ভিডিওতে তার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

 

 

ভিডিওতে আশপাশে কাউকে দেখা যায়নি বলেও তারা উল্লেখ করে।

 

 

 

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক খান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

 

 

 

এ নিয়ে পুলিশের একটি জরুরি বৈঠক চলছে। পরে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিস্তারিত জানাবেন।

 

 

 

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাহদীর বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, ‘লাইভ ভিডিওতে রিকশার পেছনে কাউকে দেখা যায়নি। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ 

 

 

 

মাহদী হাসান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেওয়া একটি ফেসবুক লাইভ এবং বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন। 

 

 

 

এর আগে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসিকে ধমক দেওয়া, বানিয়াচং থানার এক উপপরিদর্শককে উদ্দেশ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। 

 

 

আদালতে আত্মসমর্পণ উপজেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদকের

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ আমল গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন আবেদন করেন।

 

 

 

তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

 

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী ও সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট রুমেল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রেজাউল করিম স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত জামিন শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা পরবর্তীতে তাদের জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে চেষ্টা করব।

 

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ নভেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল নূর বাদী হয়ে সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানসহ আওয়ামী লীগের ৪৯ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে জগন্নাথপুর থানায় এই মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় রেজাউল করিম রিজু অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন।

 

 

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

 

 

জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী

সেমিফাইনালে ছিটকে পড়বে আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স

বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন ঐতিহাসিক এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায় রচনা হতে যাচ্ছে। এবার সকল নামিদামী দলকে হারিয়ে সোনালী ট্রফি ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্ব জেতার মুকুট মাথায় পরবে ফ্রান্স। এমনই ভবিষ্যত বানী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন দেশবরেন্য জোতিষী আবদুস ছালাম শিকদার।

 

 

 

 

মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটায় তিনি এ স্ট্যাটাস দেন। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়া নিয়ে ভবিষ্যত বানী এবং ইরান ও ইসরাইল-আমেরিকার যুদ্ধ নিয়ে তার ভবিষ্যত বানী সত্য প্রমানিত হয়েছে।

 

 

 

ফেসবুকে দেয়া এই জ্যোতিষীর পোষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো। তিনি লেখেন, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে এক তুমুল উন্মাদনা। সাধারণ মানুষ যখন দলগুলোর অতীত পরিসংখ্যান আর পারফরমেন্স নিয়ে হিসাব-নিকাশ করতে ব্যস্ত, তখন প্রচলিত সব ধারণাকে পাশ কাটিয়ে এই ফুটবল মহাযজ্ঞের চূড়ান্ত নিয়তি ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে।​

 

এবারের টুর্নামেন্টে বিশ্ববাসী এমন কিছু অবিশ্বাস্য অঘটন আর চরম ট্র্যাজেডি দেখবে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কোটি ভক্তের বুকভাঙ্গা কান্না আর মাঠের রক্তক্ষয়ী লড়াই সত্ত্বেও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেনকে বিদায় নিতে হবে সেমিফাইনালের মঞ্চ থেকেই। এক নির্মম সত্যের মুখোমুখি হয়ে লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের সূর্যখ্যাত ব্রাজিল এবার ফাইনালের ঠিক আগের মুহূর্তে এসে ফুটবলের আকাশ থেকে অস্তমিত হবে।​ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক দিনে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের রণাঙ্গনে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স।একদিকে থাকবে দীর্ঘদিনের শিরোপার খরা কাটিয়ে বিশ্বজয়ে মরিয়া ইংলিশরা, আর অন্যদিকে থাকবে অপ্রতিরোধ্য শক্তির ফরাসিরা।

কিন্তু ট্রফি ছোঁয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে, কাপের একদম দ্বারপ্রান্তে গিয়ে এক অদৃশ্য দেওয়ালে ধাক্কা খাবে ইংল্যান্ডের সব স্বপ্ন। এক বুক দীর্ঘশ্বাস আর বীরোচিত পরাজয় সঙ্গী করে মাঠ ছাড়তে হবে তাদের, রানার আপের মর্যাদা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ইংলিশদের।​কারণ, ১৯শে জুলাইয়ের সেই মোক্ষম ক্ষণে এক অনন্য এবং জাদুকরী আশীর্বাদ বর্ষিত হবে ফরাসিদের ওপর। উল্লেখিত সমস্ত পরিস্থিতি আর শক্তির গতিপথকে সামনে রেখে আজ অত্যন্ত স্পষ্ট ও দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করছি- ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের দর্প চূর্ণ করে, সোনালী ট্রফি ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্ববিজেতার মুকুট মাথায় পরবে ফ্রান্স। এই ভবিষ্যৎবাণী ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন ঐতিহাসিক এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে।

 

 

তিনি আরও লেখেন, যারা সমসাময়িক খবরের কাগজের বিশ্লেষণ বা গাণিতিক পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়েও বাস্তব সত্যকে আগেভাগেই অনুধাবন করতে ভালোবাসেন, এই বার্তাটি মূলত তাঁদের কৌতূহল নিবৃত্তির জন্য। ফুটবল মাঠে বল গড়ানোর পর থেকে প্রতিটি মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ যখন এই পূর্বাভাসের সাথে অক্ষরে অক্ষরে মিলতে শুরু করবে, তখন সংশয়বাদীদের সমস্ত যুক্তিই ম্লান হয়ে যাবে।

 

 

 

১৯শে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ফাইনাল ম্যাচ শেষে এই প্রতিটি শব্দের বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সবাইকে অগ্রিম আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলাম। যুক্তিপূর্ণ যেকোনো আলোচনা বা কৌতূহল নিয়ে সরাসরি যোগাযোগের দরজা উন্মুক্ত রইলো।

 

 

 

জ্যোতিষী মো. আবদুছ ছালাম শিকদার কালবেলাকে বলেন, আমি প্রায় দুই সপ্তাহ প্রচেষ্টার পর প্রেডিকশনটি সম্পন্ন করেছি। আল্লাহর রহমতে এর আগেও আমার বিভিন্ন প্রেডিকশন সফল হয়েছিলো। আমি ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ এ্যাস্ট্রোলোজি থেকে জ্যোতিষ ডিগ্রী অর্জন করেছি। মানুষ আমাকে প্রেডিকশন করতে উৎসাহ যোগায় এজন্যই মূলত প্রেডিকশন করি।

 

 

 

জ্যোতিষী আবদুস ছালাম শিকদার ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের বাদুরতলী গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাজী মো. জালাল উদ্দিন শিকদার। ছয় ভাই বোনের মধ্যে আবদুস ছালাম জালাল উদ্দিনের দ্বিতীয় সন্তান।

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

কৃষক দল নেতাকে হত্যা, জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

বাগেরহাটের ফকিরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে কৃষক দল নেতা আনিসুর রহমান বাদল (৪০) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের নিয়তির মাঠ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বুধবার (১০ জুন) সকালে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেছেন। ঘটনার পর ১৭ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বেলা সাড়ে ৩টা) থানায় মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম।

 

 

নিহত আনিসুর রহমান বাদল মোড়ল বাগেরহাট সদর ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মৃত জাফর মোড়লের ছেলে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আব্দুল্লাহ মোড়ল। তিনি একই গ্রামের মৃত নুর ইসলাম মোড়লের ছেলে। তিনি বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

কৃষক দলের সভাপতি আনিসুর রহমান বাদল মোড়ল খুনের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি, সহযোগী ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

হত্যার প্রতিবাদে বারইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে কালো ব্যাচ ধারণ ও বেলা ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বাদ আসর স্থানীয় আড়পাড়া স্কুল মাঠে নিহতের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বাগেরহাট সদর উপজেলা থেকে বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান বাদল মোড়ল ও আব্দুল্লাহ মোড়ল ভ্যানযোগে ফকিরহাট যাচ্ছিলেন। এ সময় মূলঘর ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের নিয়তির মাঠ এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত ৭/৮ জনের একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের এলোপাথাড়ি কোপ ও ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই বাদল মোড়লের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল্লাহ মোড়লকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক ডা. সুকান্ত ম-ল।

 

 

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত মো. বাদল মোড়লের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু করেছে।

 

 

জেলা বিএনপি নেতা খান মনিরুল ইসলাম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বারুইপাড়া ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় ১১ জন বিএনপি নেতাকর্মী গুরুতর জখম হয়েছিল। আবারও এই হামলা পূর্ব পরিকল্পনার অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখতে আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই।

 

 

হৃদরোগীদের জন্য সুখবর! কমলো হার্টের রিংয়ের দাম

 

হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। বেশিরভাগ রিংয়ের দাম পূর্বের তুলনায় ৩ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৮ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। ট্যাক্স, ভ্যাট, বিভিন্ন চার্জ, কমিশন এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তিসংগত মুনাফা বিবেচনা করে এই মূল্য সংশোধন করা হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোাহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

নতুন নির্ধারিত এই মূল্য অবিলম্বে কার্যকর হবে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের আলোকে এই মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে মোট ২৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হার্টের রিংয়ের পূর্ববর্তী মূল্য এবং নতুন অনুমোদিত মূল্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় দেখা যায়, বেশিরভাগ রিংয়ের দাম পূর্বের তুলনায় ৩ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

 

হাসপাতালগুলোর জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ৪ নির্দেশনা নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি দেশের সব কার্ডিয়াক চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী হাসপাতালের জন্য ৪টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে অধিদপ্তর। সেগুলো হলো- ১. স্টেন্টসমূহের হালনাগাদ মূল্য তালিকা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য সংশ্লিষ্ট সব হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ২. সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য অনুসরণ করে রিং ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। ৩. স্টেন্টের নাম, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে রোগীকে পৃথক ক্যাশমেমো দিতে হবে। ৪. অস্ত্রোপচারের পর ব্যবহৃত স্টেন্টের খালি প্যাকেট বাধ্যতামূলকভাবে রোগীকে সরবরাহ করতে হবে।

 

 

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের সব কার্ডিয়াক হাসপাতালে হার্টের রিং সরবরাহ এবং তা অনুমোদিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কি না— তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।

 

 

 

বাজারে বিভিন্ন দামের স্টেন্ট পাওয়া যায়। নতুন তালিকায় সর্বনিম্ন ১৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের স্টেন্টও রয়েছে।

 

 

 

বাংলাদেশে রিং আসে দেশের বাইরে থেকে। সাধারণত ইউরোপ-আমেরিকা থেকে এগুলো আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জার্মানি, পোল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ড থেকে রিং আসে বাংলাদেশে। এছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকেও রিং আমদানি করা হয়।

 

 

‘টয় স্টোরি ৫’ প্রিমিয়ারে নজর কাড়লেন টেইলর সুইফট

হলিউডে যেন বসেছিল তারার মেলা। বহু প্রতীক্ষিত অ্যানিমেশন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘টয় স্টোরি’র পঞ্চম কিস্তির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার ঘিরে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে বসেছিল তারকাদের মহামিলনমেলা। তবে জমকালো এই আয়োজনের সব আলো কেড়ে নেন পপ সম্রাজ্ঞী টেইলর সুইফট। একেবারে আকস্মিক উপস্থিতিতে ভক্তদের বিস্ময়ে ভাসিয়ে দিয়ে তিনি প্রিমিয়ারের সবচেয়ে বড় চমক হয়ে ওঠেন। আর সেই মুহূর্তে ‘টয় স্টোরি ৫’ ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা যেন পৌঁছে যায় নতুন উচ্চতায়।

 

 

শুধু লাল গালিচায় হাঁটাই নয়, মঞ্চে উঠে সরাসরি পারফর্মও করেন তিনি। এই সিনেমার সাউন্ডট্র্যাকের জন্য তৈরি নিজের মৌলিক গান ‘আই নিউ ইট, আই নিউ ইউ’ গেয়ে শোনান সুইফট।

 

 

পারফরম্যান্সের সময় তার সঙ্গে মঞ্চে যোগ দেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজির কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক ও অস্কারজয়ী সুরকার র‌্যান্ডি নিউম্যান। নিউম্যানের পিয়ানোর সুরে সুইফটের কণ্ঠের মেলবন্ধন উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। শুধু নিজের গানই নয়, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির চিরচেনা থিম সং ‘ইউ’ভ গট আ ফ্রেন্ড ইন মি’ গেয়েও হলভর্তি দর্শক মাতান টেলর সুইফট।

ডিজনি ও পিক্সারের ‘টয় স্টোরি ৫’ সিনেমার গল্পে এবার থাকছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। প্রিয় চরিত্র উডি (টম হ্যাংকস), বাজ লাইটইয়ার (টিম অ্যালেন) এবং জেসি (জোয়ান কিউস্যাক) সহ পুরো খেলনা দলটিকে এবার এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের ছোট্ট বন্ধু বনির ঘরে আগমন ঘটে লিলি প্যাড (গ্রেটা লি) নামের একটি আধুনিক ট্যাবলেট ডিভাইসের। বনির জন্য আসলে কোনটি ভালো—তা নিয়ে খেলনাদের চিরন্তন ভাবনার বিপরীতে একদম নিজস্ব কিছু আইডিয়া নিয়ে হাজির হয় এই ট্যাবলেটটি। আর এ নিয়েই জমজমাট রূপ নেয় সিনেমার গল্প।

 

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী জনপ্রিয় পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্যান্টন, যার ঝুলিতে রয়েছে ‘ওয়াল-ই’, ‘ফাইন্ডিং নেমো’ এবং ‘ফাইন্ডিং ডোরি’র মতো মাস্টারপিস। সহ-পরিচালক হিসেবে তার সঙ্গে আছেন কেন্না হ্যারিস। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন লিন্ডসে কলিন্স। বরাবরের মতোই এর আবহ সংগীতের দায়িত্বে আছেন অস্কারজয়ী র্যান্ডি নিউম্যান, এটি টয় স্টোরি ফ্র্যাঞ্চাইজির কোনো সিনেমায় তার পঞ্চম কাজ।

জমকালো এই প্রিমিয়ারে সিনেমার মূল কণ্ঠশিল্পীরা হাজির হয়েছিলেন। লাল গালিচায় দেখা মেলে টম হ্যাংকস, টিম অ্যালেন, জোয়ান কিউস্যাক, কোনান ও’ব্রায়েন, গ্রেটা লি, ক্রেগ রবিনসন, টনি হেল এবং স্কারলেট স্পিয়ার্সের মতো তারকাদের।

প্রযুক্তিনির্ভর শান্তিরক্ষা মিশনের রূপরেখা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ দিন দিন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। তাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে।

 

 

মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে সারা বিশ্বের সেই সাহসীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান, যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয় জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।

 

 

কিন্তু এ পথ বন্ধুর ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা সহজ ছিলো না। শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এই মহান ও মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাদের।

 

 

শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে একটি প্রতিকূল পরিবেশে আপনারা নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের এই অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে দেশের সামরিক বাহিনীর অবদান তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে শহীদ হওয়া শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহতদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩ টি দেশের প্রায় ৬৩ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেয়ারও প্রস্তুতি চলছে।

 

 

তিনি বলেন, পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য সাহসের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আমাদের এই গৌরবের ইতিহাস একদিনে রচিত হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী একটি আস্থা ও নির্ভরতার নাম।

 

 

সশস্ত্রবাহিনী একটি দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। তাই এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয় সেটি রক্ষা করা সশস্ত্রবাহিনীর কর্তব্য।

 

 

তিনি বলেন, তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে, দেশে সশস্ত্রবাহিনীর কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কিছু অপতৎপরতা কখনো কখনো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে। দেশে বিদেশে সশস্ত্রবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট করতে নানা তৎপরতাও বিদ্যমান ছিল। তবে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ১৯৭৫ এর সাত নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

 

 

তারেক রহমান বলেন, এরপরও বিভিন্ন সময়ে নানারকম ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর ঐক্য বিনষ্টের তৎপরতা চলেছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্রবাহিনীর ওপর সর্বগ্রাসী আঘাতটি এসেছিল। সেই আঘাতের ফলে বাংলাদেশে কি ঘটেছিলো সেটি আমাদের সবার জানা। তাই, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রধান বার্তাটি হলো, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড’ ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুই অতীত চর্চা নয় বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে স্বমহিমায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা সশস্ত্রবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে বা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা দেশে বা বিদেশে যেখানে যে দায়িত্ব পালন করছি, সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

 

 

বর্তমান বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায়।

 

 

বাংলাদেশ সব সময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর। এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিম-লে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনী আধুনিক করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধানে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের প্রতি যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, আমরা তা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যে কোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

 

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা তাদের আন্তরিকতা, কর্তব্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের গৌরবোজ্জ¦ল দৃষ্টান্ত বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিটি সদস্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি, দেশের মান-সম্মানের বাহক। আশা করি, আগামী দিনেও যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালন করতে বিভিন্ন দেশে যাবেন, তারা একইভাবে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সুনাম সমুন্নত রাখবেন।

 

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রমুখ।

 

 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ সশস্ত্রবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ ১০ জুন এটি পালিত হচ্ছে।

 

পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে ১৯ জন গ্রেপ্তার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

 

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

 

 

পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার অবৈধ থ্রি-হুইলার আটককে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্ত হাইওয়ে পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- বিল্লাল হোসেন, ইউসুফ মিয়া, হাসান, রিফাত, হাবিব, মফিজ, আক্তার হোসেন, সিফাত, রবিউল, আবু ইউসুফ ইকরাম, জুয়েল, সারোয়ার হোসেন, নুপুর সাহা, সোহাগ মিয়া, বিল্লাহ, সোহেল মিয়া, ইব্রাহিম খলিল, দেলোয়ার হোসেন ও আজিজুল।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

পুলিশ সুপার বলেন, মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

দুর্গম যাত্রায় ভালোবাসার সন্ধান, আসছে মিমের ‘লাইফলাইন’

ভালোবাসার জন্য মানুষ কত দূর যেতে পারে, কত ত্যাগ স্বীকার করতে পারে—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। শহুরে এক তরুণীর ভালোবাসার খোঁজে অজানার পথে ছুটে চলার গল্প নিয়ে নির্মিত এই ছবিটি আগামী ২১ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাবে। নির্মাতা কাজী আসাদের এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম।

 

 

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে প্রকাশিত হয়েছে ‘লাইফলাইন’-এর ট্রেলার। সেখানে দেখা যায়, অনন্যা নামের এক তরুণী কাউকে খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে দুর্গম পথে যাত্রা শুরু করেন। তার এই অভিযানে সঙ্গী হন রিজওয়ান পারভেজ। মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন অজানা গন্তব্যে ছুটে চলার পাশাপাশি তাদের মধ্যে তৈরি হয় নানা দ্বন্দ্ব ও তর্ক-বিতর্ক, যা গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

 

নির্মাতা কাজী আসাদ জানান, ড্রামা ও সোশ্যাল ড্রামা ঘরানার গল্প তার বরাবরের পছন্দ। গল্পের ধারণা শোনার পরই তিনি এটিকে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা দেখেছিলেন। তার ভাষায়, “গল্পটির মধ্যে যেমন সামাজিক সচেতনতার বিষয় রয়েছে, তেমনি আছে আবেগ ও মানবিক সম্পর্কের গভীরতা।”

অভিনেতা রিজওয়ান পারভেজের মতে, ‘লাইফলাইন’ শুধু ভালোবাসার গল্প নয়, এটি দায়িত্ববোধ ও অনুভূতিরও গল্প। তিনি বিশ্বাস করেন, চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মধ্যে নতুন ধরনের উপলব্ধি তৈরি করবে।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, উঁচু-নিচু মাটির রাস্তা ও তীব্র গরমের কারণে কাজ করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। তবে দৃশ্য ভালোভাবে সম্পন্ন হওয়ার আনন্দই পুরো ইউনিটকে নতুন উদ্যমে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে।

‘লাইফলাইন’-এ মিম ও রিজওয়ান পারভেজের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আ খ ম হাসান, খায়রুল আলম সবুজ, নাজনীন হাসান চুমকি, আনিসা নূর আয়াত এবং ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা। ছবিটির গল্প লিখেছেন মাহমুদুল হাসান টিপু ও কাজী আসাদ। চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনায় কাজী আসাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আসাদুজ্জামান আবীর।

 

হিলিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিস্তারে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনাজপুরের হিলিতে ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় হাকিমপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ও অতিথিরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সাধারণ কৃষকদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে টেকসই কৃষির উন্নয়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অডিটোরিয়াম চত্বরে তিনটি বিশেষ স্টলের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন ফলন ও কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়।
​উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা শাহ আলম, হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা খাতুন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানাসহ স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রগতিশীল কৃষকবৃন্দ।

ওমান উপকূলে অগ্নিকাণ্ডের কবলে তেলবাহী জাহাজ, নিখোঁজ দুই নাবিক

ওমানের উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগার পর জাহাজটির দুই ক্রু সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওমানের সোহারের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার (২০ নটিক্যাল মাইল) দূরে অবস্থানরত একটি ট্যাঙ্কারের ইঞ্জিন কক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়।

 

 

সংস্থাটি জানায়, ঘটনায় অন্তত একজন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কেও কোনো তথ্য জানায়নি যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস।

এদিকে, এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনী উভয় পক্ষই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষের আরোপিত দ্বৈত অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হাজার হাজার জাহাজ আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ভারতের নতুন হাইকমিশনারের ঢাকা সফর শুক্রবার

আগামী শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকায় পৌঁছাবেন ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

 

 

গেল ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লেটার্স অব ক্রিডেনশিয়ালস (পত্রাধিকার) গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পালনের আইনি ও কূটনৈতিক অনুমোদন লাভ করেন। এপ্রিল মাসে নিয়োগ ঘোষণার পর থেকে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং এখন ঢাকায় এসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে ক্রিডেনশিয়ালস উপস্থাপন করে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশন শুরু করবেন।

 

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক নেতাকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানো দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে দীনেশ ত্রিবেদীর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের নিয়োগ এবং আগমন উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দীনেশ ত্রিবেদী ১৯৫০ সালের ৪ জুন নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তার বয়স ৭৬ বছর। তিনি গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও কলকাতায় বেড়ে উঠেছেন এবং বাংলা সংস্কৃতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতা থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়, অস্টিন থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। কংগ্রেস দিয়ে শুরু করে জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন—রাজ্যসভায় দুবার (১৯৯০-৯৬ এবং ২০০২-০৮) এবং লোকসভায় ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তিনি রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬-১৭ সালে তিনি ‘অসামান্য সংসদ সদস্য’ পুরস্কার লাভ করেন।

গেল এপ্রিলে ভারত সরকার দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা করে। তিনি ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। এটি একটি ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক নিয়োগ। সাধারণত কূটনৈতিক পদে ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাটদের পাঠানো হয়, কিন্তু বর্তমান স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বেছে নিয়েছেন।

 

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ত্রিবেদী যেহেতু বাংলা ভাষায় সাবলীল এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও সংস্কৃতির গভীর জ্ঞান রাখেন। তাই বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোদী সরকার দীনেশকেই ঢাকায় পাঠাচ্ছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র কালবেলাকে জানান, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কয়েকটি মূল চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি নবায়ন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা, জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য এমন একজন ‘পলিটিক্যাল এনভয়’ প্রয়োজন ছিল যিনি উভয় দেশের রাজনৈতিক মহলে সহজে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন।

 

 

ত্রিবেদীর পশ্চিমবঙ্গের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং বাংলা ভাষার দক্ষতা এখানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিয়োগের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, দু দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত করতে চায় ভারত।

 

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শুধু দুই সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটির মূল ভিত্তি দুই দেশের জনগণের মধ্যে। এই নিয়োগ একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। দীনেশ ত্রিবেদী শুধু একজন কূটনীতিক নন, তিনি একজন রাজনৈতিক যোগাযোগকারী। তার মাধ্যমে দিল্লি এবং ঢাকার মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক স্তরের আলোচনা সহজ হবে। দীনেশ ত্রিবেদী যদি এই মানুষে মানুষে যোগাযোগকে শক্তিশালী করতে পারেন, তাহলে তার মিশন সফল বলে বিবেচিত হবে।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এমপি রতন, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার নির্দেশ

গতকালকের ঘূর্ণিঝড়ে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বড় বড় গাছপালা উপড়ে গিয়ে বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটির ওপর পড়ে। এতে প্রায় ১০ থেকে ১২টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যায় এবং এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন বাউশিয়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
এ সময় গজারিয়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।পরিদর্শনকালে এমপি রতন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তিনি বিএনপির গজারিয়া উপজেলার সকল নেতা-কর্মীকেও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।এ সময় গজারিয়া জোনাল অফিসের ডি জি এম আশরাফুল আলম উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ খুঁটি ও তার মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং এলাকাবাসীকে যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

কুড়িগ্রামে এনসিপির জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ

কুড়িগ্রাম জেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি’র) জাতীয় নারীশক্তির পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত কমিটিতে আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিবসহ মোট ৯২ সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ৯ জুন কেন্দ্রীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ মুখ্য সংগঠকের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ৯২ সদস্যবিশিষ্ট বিশাল আকারের কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। রাতে কেন্দ্রীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু স্বাক্ষর করার পর মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম উক্ত কমিটির তালিকা প্রকাশ করেন। কমিটিতে জেলার আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাসিরা খন্দকার নিসা এবং সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোছাঃ মেরিনা পারভিন।
ছয় মাস মেয়াদি প্রকাশিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছেন মাহবুবা বেগম। এছাড়াও যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন মোছাঃ ফিরোজা খাতুন, মোছাঃ শেফালী বেগম, মোছাঃ উম্মে কুলসুম তিথি, মোছাঃ শাহিদা বেগম, মোছাঃ ঝরনা আক্তার, মোছাঃ তাবাসসুম শরিফা, আয়েশা সিদ্দিকা ও ছাবিনা ইয়ামিন।
উক্ত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসাবে রয়েছেন মোসলেমা আক্তার। এবং যুগ্ম সদস্য সচিব পদে নির্বাচিত হয়েছেন চামেলী আক্তার, মোছাঃ লাভলী খাতুন, মোছাঃ ফাতেমা তুজ জোহরা ইতি, মোছাঃ তাফরিন জাহান জুই, মোছাঃ কবিতা আক্তার ও মোছাঃ সাবিনা ইয়াসমিন।
জাতীয় নারীশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছেন মোছাঃ নাজমা আক্তার নীলা, হাবিবা আক্তার প্রিয়া, মোছাঃ সাবিনা খাতুন, আফরোজা খাতুন, রুবিনা খাতুন, মোছাঃ কল্পনা খাতুন, এশা মনি, মোছাঃ মরিয়ম খাতুন, মারিয়া খাতুন, অপু কালি বকশি হাসি, হেনা পারভীন। কমিটিতে সদস্য পদে রয়েছেন আরও অনেকে।
রাতে কমিটির তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরপরই জেলা জুড়ে শুরু হয় আনন্দ উদ্দীপনা। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত নেত্রীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম ২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ। এছাড়াও আরও অভিনন্দন জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়াসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীবৃন্দ।
এ বিষয়ে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়া বলেন, আমরা নারীদের নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানাই। দেশে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের নেতৃত্ব দেশ এবং জাতিকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কুড়িগ্রাম জেলার অবহেলিত দুস্থ নারীদের নিয়ে কাজ করবে আমাদের এই নতুন নেত্রীরা। নারীদের কিভাবে সামনের সারিতে অগ্রসর হতে হবে সে নেতৃত্ব দিবেন নবাগত কমিটির সদস্যরা।
নবাগত কমিটির জাতীয় নারীশক্তির সদস্য সচিব মোছাঃ মেরিনা পারভিন বলেন, প্রথমে ধন্যবাদ জানাই কুড়িগ্রাম জেলার সর্বস্তরের মানুষদের। যারা আমাদের এই নারীদের নেতৃত্বকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের পাশে ছিলেন। আমরা জাতীয় নারীশক্তির পদ কে বড় মনে করব না। আমরা যেন এই পদের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করতে পারি, সব সময় সেই চেষ্টাই করব। আমরা কুড়িগ্রাম জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত নারীদের নিয়ে কাজ করব। আমরা নারীদের কর্মমুখী করতে এবং নারীদের শিক্ষা-দীক্ষায় পরিপূর্ণ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সর্বদা সোচ্চার থাকব। যেন আমরা নারীরা কোন ক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার না হই। এবং নারী নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্ষণ, শোষণ ইত্যাদির হাত থেকে নারীদের রক্ষায় কাজ করে যাব সব সময়।

রাণীনগরে দেড় মাস ধরে নিখোঁজ মজনু, সন্ধান পেতে পরিবারের আকুতি

নওগাঁর রাণীনগরে মজনু সাখিদার (৪০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি গত দেড় মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার গোনা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের হুরমত সাখিদারের ছেলে।

মজনু সাখিদার মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত তাকে খুঁজে পেতে পুলিশ-প্রশাসন ও জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছেন তার পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দেড় মাস আগে মজনু সাখিদার হঠাৎ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফিরেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি।

নিখোঁজ মজনু সাখিদারের বাবা হুরমত সাখিদার ও মাতা রাশেদা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা মজনুকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন। মজনু সাখিদারের ছেলে আলামিন জানান, পরিবারের সবাই তার বাবা মজনুকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন। তিনি সমাজের সকল মানুষের কাছে মজনুর সন্ধান পেতে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তার পরিবার জানায়, মজনু সাখিদার মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তিনি কোথায় আছেন বা কী অবস্থায় আছেন তা নিয়ে তারা অত্যন্ত চিন্তিত। দ্রুত তাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ-প্রশাসন ও জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছেন।

যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি মজনু সাখিদারের সন্ধান পান তাহলে তার ছেলে আলামিনের এই (০১৩৩৮-০২৬৮৪১) মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, মজনু সাখিদার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় কেউ কোন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেনি। তারপরেও আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। তার সন্ধান পেতে পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগীতা করা হবে।

মাদক কারবারের অভিযোগে আটক ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

 

জামালপুরের মেলান্দহে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ তিন মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

 

 

 

গত সোমবার (৮ জুন) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে পুলিশ।

 

 

 

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন— মো. মোস্তফা (৫০), ৮ নং ফুলকোচা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫২) এবং মো. মিনহাজ উদ্দিন (৪১)।

 

জানা গেছে, মেলান্দহ উপজেলার ৭নং চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের ভাবকী সিঙ্গের কান্দা এলাকা থেকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হওয়ায় স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযুক্ত নেতার দ্রুত বহিষ্কার দাবি করেছেন।

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

এদিকে, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসার পর স্থানীয় নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, মাদকের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে না। তাই অভিযোগের সত্যতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

 

 

 

জামালপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

এসএসসি পাসেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরির সুযোগ

 

এসএসসি পাসেই চাকরি দিচ্ছে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অধীনস্থ বিভিন্ন অফিসসমূহে ৪টি পদে ১৮ জনকে নিয়োগ দেবে। আবেদন শুরু হয়েছে ৩ জুন সকাল ১০টা থেকে, চলবে ৩০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

পদের বিবরণ

আবেদন শুরু: ৩ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা

আবেদনের শেষ তারিখ: ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

চাকরির ধরন: অস্থায়ী

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

কর্মস্থল: মাদারীপুর

বয়স: ১ মার্চ ২০২৬ তারিখ ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহনযোগ্য হবে না।

 

 

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

 

 

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ প্রতিটি পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, তালিকায় ১৭ জেলা

 

দেশের ১৭ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

 

দেশের ১৭ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কবার্তা দেখাতে বলা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

 

 

 

একইসঙ্গে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

ব্যভিচার মামলা থেকে খালাস পেলেন নাসির হোসেন ও তামিমা

 

অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, তালাক ছাড়া বিয়ে, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।

 

 

 

এর আগে বেলা ১১টা ৪৭ মিনিটের দিকে তামিমার হাত ধরে এজলাসে হাজির হন নাসির। এসময় উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলাটিতে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।

 

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন।

 

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির। তাম্মি ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী কন্যা মারাত্মভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

 

 

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নিয়ে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক ‘ইসলাম’ নয়, জামায়াতে ইসলামীও ‘ইসলাম’ নয়। সুতরাং সবকিছুতে ইসলামের দোহাই দেবেন না।

 

 

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের তৃতীয় দিন ৬৮ বিধিতে দেওয়া ইসলামী ব্যাংকসংক্রান্ত বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের নোটিশের জবাবে তিনি একথা বলেন।

 

 

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলাম নাকি ব্যাংকের মালিক না। আবার তারা বলছে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। কয়দিন আগে জামায়াতে ইসলামের এক বন্ধুর সঙ্গে কথা হয়েছে, সে এ কথা বলেছে। আমি তার নাম নিলে আবার এখানে (সংসদ) তিনি দাঁড়াতে পারেন। এছাড়া জামায়াতের দুজন এমপিও ছিলেন, তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এদের একজন পরাজিত এমপি, আরেকজন জামায়াত নেতা ছিলেন।’

 

স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা বলে দিচ্ছেন ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। মাননীয় স্পিকার- ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের ওপর হাত দেবেন না, দোহাই দেওয়া কিন্তু ঠিক নয়।

 

জামায়াতে ইসলামী একবার ইসলামী ব্যাংক দখলে রেখেছিল, সেটা এখন বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এর যন্ত্রণা বুঝতে পারছেন বলে জানান মন্ত্রী।

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এবার পয়েন্ট টু পয়েন্টে আসি। এখন একবার যেই ব্যাংক আজান দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে- এ যাতনা তো আমরা বুঝি। সুতরাং যারা পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহক বলে রাস্তায় আন্দোলন করছে। ভিডিওটা দেখেন তাদের রাজনৈতিক পরিচয়। আমাদের মধ্যে অনেকে গ্রাহক আছে। গ্রাহককে বলা হচ্ছে বলেন আপনার অ্যাকাউন্ট আছে।’

 

 

বছরে বাস্তুহারা লক্ষাধিক মানুষ

নদীভাঙনে ছোট হয়ে আসছে বরিশাল

 

নদীবেষ্টিত অঞ্চল বরিশাল। কীর্তনখোলা, পদ্মা, মেঘনা, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ, তেঁতুলিয়া, সন্ধ্যা, কারখানাসহ অসংখ্য নদী বয়ে চলেছে বরিশালের চারদিক থেকে। ফলে বছরজুড়েই নদীভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে বরিশালের মানচিত্র। নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

 

 

 

স্যাটেলাইট চিত্র বলছে, নদীভাঙনের কারণে বরিশালের ভৌগোলিক মানচিত্র ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। বর্তমানে বরিশাল বিভাগের প্রায় ১০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মকভাবে ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে।

 

 

 

অন্যদিকে, পরিবেশবিদ ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বলছে, শুধু গত পাঁচ বছরেই বরিশালের মানচিত্র থেকে নদীতে বিলীন হয়েছে অন্তত ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা।

মূলত অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ইটভাটার জন্য নদীর তীর কেটে নেওয়া এবং যথাযথভাবে নদীশাসনের অভাবেই প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহলের।

 

জানা গেছে, বরিশাল জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুই উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জ এবং হিজলা। এ দুটি উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে গেছে পদ্মা, মেঘনা, কালাবদর, তেঁতুলিয়াসহ বেশ কিছু শাখা নদী। ফলে বছরজুড়েই দুটি উপজেলার একের পর এক গ্রাম নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে।

 

 

স্থানীয়দের দাবি- গত ৩০ বছর ধরে মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়ন। উপজেলার সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ মোল্লা জানালেন, মেঘনার বিশাল জলরাশির দিকে তাকিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন হারিয়ে যাওয়া বসতভিটার।

 

 

 

 

অশ্রুসজল চোখে নুর মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, ‘যে মাটিতে আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে, আজ তার পুরোটাই মেঘনা নদীর গর্ভে। পাকা ঘরবাড়ি, ধানি জমি, বাপ-দাদার ভিটে সবকিছুই চোখের সামনে তলিয়ে গেছে।’

 

 

 

একই এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বেগমের আশঙ্কা, নদী যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে দ্রুত বাঁধ না দিলে পুরো ইউনিয়নই একদিন মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। তারা ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহায়তা নয়, শেষ সম্বল রক্ষায় মেঘনায় টেকসই বাঁধ চান।

 

 

 

অন্যদিকে হিজলা এবং মেহেন্দিগঞ্জের মতোই সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে দিশেহারা পার্শ্ববর্তী মুলাদী এবং বাবুগঞ্জ উপজেলাবাসী। বিশেষ করে যুগ যুগ ধরে সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁর তীব্র ভাঙনে বাবুগঞ্জের মানচিত্র থেকে হারাতে বসেছে একের পর এক গ্রাম। স্থানীয়দের দাবি—নদীবেষ্টিত এই উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে মাধবপাশা ছাড়া বাকি সব কটি ‘কেদারপুর, চাঁদপাশা, দেহেরগতি, রহমতপুর ও জাহাঙ্গীরনগর’ ইউনিয়নে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

এ ছাড়া কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বরিশাল সদর উপজেলার একের পর এক গ্রাম। বিশেষ করে চরবাড়িয়া, শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন। এর মধ্যে কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরবাড়িয়া ইউনিয়ন। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরও গত বর্ষা মৌসুমে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

 

 

 

চরবাড়িয়ার বাসিন্দা আবদুল ছালাম গাজী বলেন, নদী আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে। তিনবার বাড়ি হারিয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন এই জায়গাটাও ভাঙনের মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের নদীতে ডুবে মরা ছাড়া উপায় থাকবে না।

 

 

 

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৮৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বছরের পর বছর নদীভাঙনের কারণে সংকুচিত হচ্ছে বরিশালের মানচিত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন এই ঝুঁকিকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরও অনেক এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

 

 

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর বরিশাল বিভাগীয় আহ্বায়ক রফিকুল আলম বলেন, অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই প্রতি বছর বরিশালে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১০২ কিলোমিটার বাঁধ বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিগত ৫-৮ বছরে নদীভাঙন রোধে অন্তত ১০টির মতো প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যার অধিকাংশই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আটকে গেছে। যে কারণে নদীভাঙনের কবল থেকে বরিশাল রক্ষা শুধু প্রতিশ্রুতিতেই আটকে আছে।

 

 

 

এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য কয়েকটি বড় প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

শূন্য বেকারত্বের কথায় ভুলিয়ে ইউনূস তৈরি করেন শূন্য জনআস্থা

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেড় বছরের শাসনামলে দেশে সৃষ্টি হয় নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলার। সুশাসন বিনষ্ট হয়। হারায় বাকস্বাধীনতা। গণমাধ্যমেও অস্থিরতা দেখা দেয়। সেখানে নেমে এসেছিল ত্রাস। জবাবদিহির অনুপস্থিতি, দুর্নীতি-অনিয়মের মচ্ছবের অভিযোগ ওঠে। রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহারসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভঙ্গুর করার সব পাঁয়তারা লক্ষ করা যায়। যেন গণতান্ত্রিক চর্চার এক বিপরীত যাত্রা। মানুষের জান-মাল-মান-মর্যাদা রক্ষায় সর্বত্র ব্যর্থ হয় সরকার। সমালোচকরা তাকে মব সন্ত্রাসের জনকও বলে। চাপে পড়ে ভোট আয়োজন করলেও দেশের সার্বিক অবস্থা হয় শোচনীয়। ড. ইউনূসের বহুল উচ্চারিত ‘থ্রি জিরো’র বিপরীতে দেশে জন্ম নেয় নতুন তিন শূন্যের— শূন্য জবাবদিহি, শূন্য জনআস্থা, শূন্য গণতন্ত্র। অর্থাৎ ইউনূস দায়িত্ব ছাড়েন নতুন তিন শূন্যের জন্ম দিয়ে। তিন পর্বের বিশেষ লেখার আজ ছাপা হলো দ্বিতীয় কিস্তি অন্তর্বর্তী সরকারের রুটিন দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার তা শুরু থেকেই অগ্রাহ্য করে গেছে। দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে তারা বেশি বেশি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগের দিকে ধাবিত হয়।

 

 

 

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্বলতা খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয় সংস্কার কমিশন। অমীমাংসিত কাঠামোগত প্রশ্নগুলোর সমাধানের লক্ষ্যে সাংবিধানিক পর্যালোচনা-আলোচনা চালানো হয়। আইনের শাসনকে শক্তিশালী করার কথা বলে প্রস্তাব করা হয় বিচার বিভাগীয় সংস্কারের উদ্যোগ। রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও জনসেবার মানোন্নয়নের উপায় হিসেবে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য এ ধরনের বিশাল কর্মসূচি গ্রহণ করেনি।

অথচ তাদের স্মরণে রাখা উচিত ছিল যে, অন্তর্বর্তী সরকার এ এখতিয়ার রাখে কি না?

কারও প্রতিটি সুপারিশ বা প্রস্তাবের সঙ্গেই সবার একমত হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছিল। সব বিষয়ে যেন তাদের সঙ্গে একমত হতে হবে। সরকারের তৎপরতায় মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের সমস্যাগুলো রাজনৈতিক নয়, প্রাতিষ্ঠানিক। তার মানে তারা বোঝাতে চাইছিল যে, দেশে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য শুধু সরকার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; এজন্য প্রয়োজন সরকারের কার্যপদ্ধতির সংস্কার। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, জনগণ যদি বিশ্বাস করে যে, প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং প্রকৃত অর্থেই তা অন্তর্ভুক্তিমূলক, শুধু তখনই সংস্কার সফল হয়। আর সেখানেই ইউনূস সরকার বেশি ব্যর্থ হয়।

 

 

বাংলাদেশের নতুন ‘তিনটি শূন্য’-এর প্রথমটি যদি হয় ‘শূন্য জবাবদিহি’, তবে দ্বিতীয়টিকে বলা যেতে পারে ‘শূন্য জনআস্থা’। পরিহাসের বিষয় হলো, সেই সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন জনগণের আস্থাই ছিল তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

 

 

 

বছরের পর বছর রাজনৈতিক সংঘাতের পর বাংলাদেশের অনেক মানুষ একটি শান্তিপর্বের আশা করেছিল। জনগণ অন্তহীন সংঘাত চক্রের অবসান চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোয় মৌলিক পরিবর্তন আসবে। রাজনৈতিক বিভাজন কিংবা পরিচয় নির্বিশেষে সবার সম্মান অর্জন করতে সক্ষম হবে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা এমন একটি সরকার চেয়েছিল, যে সরকার বিরাজমান সব শত্রুতা বৈরিতার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের ভবিষ্যৎকে শান্তির পথে চালিত করতে পারবে। এক কথায়, একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করেছিল জনগণ।

 

 

 

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে খ্যাতি নিয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তা সাধারণত রাজনীতিবিদের থাকে না। কয়েক দশক ধরে তিনি একজন সংস্কারক, উদ্ভাবক এবং সামাজিক অগ্রগতির প্রবক্তা হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেন বলে মনে করা হয়। দেশের অনেক মানুষ তাকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে কাজ করতে সক্ষম এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখতে চেয়েছিল। জনগণ এমন আস্থাই রাখতে চেয়েছিল। নির্দ্বিধায় তার ওপর এ আস্থা ছিল এক অসাধারণ সুযোগ। মনে রাখা জরুরি, আস্থা কিন্তু স্থায়ী কিছু নয়। জনগণের এ আস্থাকে অবশ্যই কাজ, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু ঘটল—উল্টো। প্রাথমিকভাবে যারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করেছিল, দ্রুতই তারা সরকারের তৎপরতা এবং অগ্রাধিকার সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করতে থাকল। এ সংকটের বড় কারণ ছিল ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও বিরাজমান রাজনৈতিক মেরূকরণ দূর করতে না পারা। ফলে নেতৃত্বের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় ঐকমত্য ঘটবে, এ প্রত্যাশা পূরণ হলো না জনগণের। দেখা গেল ড. ইউনূসের সময় রাজনৈতিক বিভাজন সমাজের আরও গভীরে প্রোথিত হলো।

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দ্রুতই মবের রাজনীতি শুরু হয়। একের পর এক মব সহিংসতার ঘটনায় যত দ্রুত এ সরকারের প্রতি জনগণের আস্থাকে দৃশ্যমানভাবে ক্ষতি করে, তা অন্য কিছুতে ঘটেনি। দেশের মানুষ সর্বত্র একই ধরনের সহিংসতা দেখতে পায়। তারা এসব ঘটনায় স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করে, সংগঠিত গোষ্ঠীরা কোনো ধরনের আইনের তোয়াক্কা না করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে। এসব গোষ্ঠী বেআইনি উপায়ে যা যা করতে চেয়েছে, তা-ই করতে পেরেছে। বিস্ময়কর হলো, রাষ্ট্র বা সরকার তার দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। প্রতিটি ঘটনার পেছনের কারণ যা-ই থাক না কেন, দেশের সাধারণ মানুষ এ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। তারা এটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হিসেবে দেখেছে। মানুষ দেখতে পেয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে রয়েছে, তারা নিজেরাই নিরুপায়। আর যারা মব উসকে দিচ্ছে, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে, তারাই সব শক্তির কেন্দ্রে।

 

 

 

 

যে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেই সরকার কীভাবে এ ধরনের পরিকল্পিত সহিংসতায় নির্লিপ্ত থাকতে পারে? দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানুষ দেখে, মব যেসব জায়গায় সফল হচ্ছে, তার প্রতিটি জায়গায় অন্তর্বর্তী সরকার নিষ্ক্রিয়। প্রতিটি মবের ঘটনায় জবাবদিহির অনুপস্থিতি এবং আইনের শাসন প্রয়োগে ধীরগতি। এ অবস্থা ধীরে ধীরে জনগণের মধ্যে এ ধারণাই প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এসব মবগোষ্ঠীর ক্ষমতার কাছে দুর্বল হয়ে পড়ছে। মনে রাখা জরুরি, সরকারের ওপর আস্থা মানে নিরপেক্ষভাবে আইন সমুন্নত রাখার ওপর আস্থা রাখা। আর এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সদিচ্ছা ও সামর্থ্য গুরুত্বপূর্ণ। যখন জনগণ সরকারের সে অঙ্গীকার নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করে, তখন গণঅনাস্থা রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে শাসনব্যবস্থার ভিত্তিমূলে ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

 

 

ধারাবাহিকভাবে মব সহিংসতার এ প্রবণতা কমার লক্ষণ দেখা যায় না। উল্টো প্রকাশ্যে এসব সংঘাত-সহিংসতা চলতে থাকে। বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একে অন্যকে লক্ষ করে উত্তপ্ত বাক্যবাণ ছোড়েন। অব্যাহত থাকে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ। দেখা যায়, সরকারের প্রতিটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। এমন পরিবেশে সরকারের জন্য নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায় তার কার্যসম্পাদন।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকার নানা দিক থেকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে থাকে। ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকে। কেউ কেউ সরকারকে ধীরগতির সরকার হিসেবে অভিযোগ তোলে। আবার কেউ কেউ বলেন, সরকার প্রতিহিংসাপরায়ণ। অনেকে বলতেন, সরকার একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী দ্বারা অতিরিক্ত প্রভাবিত। আবার এমন অভিযোগও ছিল যে, সরকার জনগণের চাওয়ার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল নয়।

 

 

 

 

নানা স্তর থেকে আসা সমালোচনাকে ভারসাম্যের ইঙ্গিত হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। তবে জনমত অনেক সময় ভিন্নভাবে কাজ করে। যখন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা একনাগাড়ে কোনো সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন সে সমালোচনাগুলো ন্যায্য হোক বা না হোক আস্থা কমতে শুরু করবে, এটাই স্বাভাবিক। জনমত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে কোনো সরকারের বৈধতা জনমতের ওপরই নির্ভরশীল। জনগণের চাওয়াকে বুঝতে না পারার ব্যর্থতার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের এ প্রতিবন্ধকতা আরও বেড়ে যায়।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সবচেয়ে ধারাবাহিক সমালোচনাগুলোর একটি ছিল অনিশ্চয়তা নিয়ে। দেশের মানুষ বারবার কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছে। সরকারের রোডম্যাপ কী? নির্বাচনের আগে কোন সংস্কারগুলো অপরিহার্য মনে করছে সরকার? কোন সংস্কারগুলো একটি নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া যেতে পারে? সাফল্যের মাপকাঠি কী হবে? এই সরকার কতদিন স্থায়ী হবে? এ প্রশ্নগুলো ছিল খুব স্বাভাবিক। জনগণ স্বভাবতই সরকারের লক্ষ্য এবং মেয়াদের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা জানতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রশ্নের উত্তর সর্বদাই মনে হতো অসংলগ্ন ও অসম্পূর্ণ।

 

 

 

 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের পক্ষ থেকে বার্তাও পরিবর্তিত হয়েছে। তাদের অগ্রাধিকারগুলোও বদলে গেছে। বদলে গেছে প্রত্যাশাও। দেখা যায়, সমাজে বিরাজমান অনিশ্চয়তা-বিশৃঙ্খলার চেয়েও জনমনে জল্পনা-কল্পনা বাড়তে শুরু করে সরকারের মেয়াদ নিয়ে। এ সার্বিক অনিশ্চয়তা এমন একটি শূন্যতা তৈরি করে, যা পূরণ করতে রাজনীতিকরা উদগ্রীব ছিলেন। সরকার যখন নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, তখন অন্যরা সেই সুযোগ নেয়। জল্পনা-কল্পনা সন্দেহ বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে স্বভাবতই জনগণের আলোচনার বিষয়গুলো সুস্পষ্ট তথ্যের পরিবর্তে অনুমান দ্বারা চালিত হতে থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রে এর ফল বিস্তৃত হয় রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত।

 

 

 

 

জনআস্থা শুধু একটি রাজনৈতিক ভিত্তি নয়। অর্থনৈতিকও বটে। বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতের নিরাপদ পরিবেশের নিশ্চয়তা খুঁজতে থাকে এবং এর ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত নেন। পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে মনে হলেই কেবল তারা ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন। এটা স্বাভাবিক। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা না থাকলে উদ্যোক্তারা পুঁজি বিনিয়োগ করেন না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়টাতে তাই অনেক ব্যবসায়িক নেতা সতর্ক ও সন্ত্রস্ত থাকেন। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় তারা এগোয়নি। বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। কোম্পানিগুলো প্রবৃদ্ধির দিকে না তাকিয়ে তারল্য সংরক্ষণে মনোযোগী হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে ব্যবসায়ীরা বিরত থেকেছে। অনেকেই দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গতিপথ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার জন্য করতে থাকে অপেক্ষা।

 

 

 

 

 

সংকটকালে ব্যবসায়ীদের এ প্রবণতা শুধু বাংলাদেশে নয়। বিশ্বজুড়েই লক্ষ্য করা যায়। সব জায়গায়ই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কালে বিনিয়োগ গতি কমে যায়। বেসরকারি খাত সবসময় পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দেয়। পূর্বাভাস খারাপ বা অনিশ্চিত হলে সতর্কতা অবলম্বন করাই যৌক্তিক। বিনিয়োগের ধীরগতির প্রভাব খোদ সরকার কাঠামোর ভেতরেও অনুভূত হয়।

 

 

 

 

এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনিশ্চয়তাপূর্ণ পরিবেশে আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও ধীরে ধীরে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। যে কর্মকর্তারা সাধারণত প্রকল্প অনুমোদন করতেন কিংবা গতানুগতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতেন, তারা দায়িত্ব পালন করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন না। যে কোনো ফাইল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতো। ফাইল অনুমোদনে দেখা দিল ধীরগতি। যে বিষয়গুলো একসময় নিম্নস্তরেই সমাধান করা যেত, সেগুলোর জন্য ক্রমশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন পড়ল। এক ধরনের অতিসতর্কতামূলক পরিবেশের উদ্ভব ঘটল। কর্মকর্তারা এ সতর্কতা কেন অবলম্বন করলেন, তা সহজেই বোধগম্য। তারা ভাবলেন, এমন অস্থির ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো ভুল করে বসলে তারা পেশাগত ক্ষতির শিকার হতে পারেন। কিন্তু এর প্রভাব ছিল ভয়াবহ। এর ফলে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়। প্রকল্পগুলোয় আসে ধীরগতি। পিছিয়ে পড়ছিল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। নিয়মিত কাজ হয়ে উঠছিল কষ্টসাধ্য।

 

 

 

 

যেসব সরকারি কাজের জন্য দ্রুত উদ্যোগ দরকার, বিরাজমান অনিশ্চিত পরিবেশে সেসব ক্রমেই গতি হারিয়েছিল। অনেক পর্যবেক্ষক তখন এ স্থবিরতার কথা বর্ণনা করেছেন এভাবে—সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে তা স্থগিত রাখা হচ্ছিল; দায়িত্ব গ্রণের পরিবর্তে আরেক হাতে পাঠানো হচ্ছিল। অর্থাৎ, পদ্ধতিগত সতর্কতার কাছে কাজটাই আসলে হয়ে পড়ছিল গৌণ। এটা বাস্তবতা যে, আত্মবিশ্বাস আচরণকে প্রভাবিত করে। আত্মবিশ্বাস কমে গেলে মানুষ সংশয়ে পড়ে। আর এ সংশয় বিনিয়োগ, প্রশাসন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

 

 

 

 

রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও আস্থার সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। সংস্কার আপনাআপনি হয় না। কমিশন গঠন করা তুলনামূলকভাবে সহজ। সুপারিশ প্রণয়ন করা সে তুলনায় কঠিন। আর সে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা আরও কঠিন। তাই সংস্কার সফল করতে হলে জনগণের সম্মতি অনিবার্য। জনগণকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, তারা নিষ্ক্রিয় দর্শক নন। তারা এ প্রক্রিয়ার অংশ। রাজনৈতিক অংশীজনের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে, তাদের কথাও শোনা হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সংস্কারকে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টি না দেখে। প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বুঝতে পারে যে, প্রক্রিয়া বৈধ। মজার ব্যাপার হলো, এখানেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি ভয়ানকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হয়।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক সংস্কার উদ্যোগ এক্ষেত্রে একটি কার্যকর উদাহরণ। মনে রাখা জরুরি, সাংবিধানিক প্রশ্নগুলো শুধু টেকনিক্যাল বিষয় নয়। এ প্রশ্নগুলো রাজনৈতিক ক্ষমতা গঠন এবং সে ক্ষমতা প্রয়োগের মৌলিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত। ফলে এ ধরনের সংস্কার যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিকশিত হয়, সেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের কারণে বৈধতা লাভ করে।

 

 

 

 

প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন তাই দায়িত্ব, কর্তৃত্ব এবং জবাবদিহিকে প্রভাবিত করে। এমনকি সুপরিকল্পিত সংস্কারও প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে পারে যদি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা মনে করেন যে, তাদের প্রয়োজনীয় আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচনি সংস্কার উদ্যোগ সম্ভবত সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হবে। কারণ, নির্বাচনি নিয়মনীতির বৈধতা অনেকাংশে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। টেকনিক্যালি সঠিক একটি প্রস্তাবও ব্যর্থ হতে পারে যদি মূল অংশীজন প্রক্রিয়াটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বা বর্জন করার মতো মনে করেন। এসব কিন্তু সংস্কারের বিরুদ্ধের যুক্তি নয়। বরং, অর্থবহ সংস্কার অনেক সময় অতিপ্রয়োজনীয়। শিক্ষা নিতে হবে এভাবে যে, সংস্কার ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়া কিন্তু মূল লক্ষ্যের সঙ্গে বিরোধিতা করা নয়। কারণ, তারা একে অপরের পরিপূরক। ঐকমত্য ছাড়া সংস্কার ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ ছাড়া সংস্কার বিতর্কিত হয়ে ওঠে। জনআস্থা ছাড়া সংস্কারকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সুতরাং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে একটি বৃহত্তর সত্য সামনে এনেছে। সেটা হচ্ছে, জনআস্থা একটি সরকারের সবচেয়ে মূল্যবান রাজনৈতিক পুঁজি, যেখানে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

 

 

 

 

মনে রাখতে হবে, সরকার সমালোচনা সহ্য করে টিকে থাকতে পারে। নীতিগত ব্যর্থতা থেকেও রক্ষা পেতে পারে। তুমুল বিতর্ক-বাদানুবাদ তাদের বাঁচাতে পারে। কিন্তু আস্থা কমতে শুরু করলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। জনগণ সরকারের উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করলে পরবর্তী সময়ে সব সিদ্ধান্তকে টিকিয়ে রাখা তার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারের প্রতিটি সংস্কার উদ্যোগ আরও বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। প্রতিটি উদ্যোগই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। আস্থা কিন্তু সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে। সরকারের প্রতি আস্থা বেশি থাকলে জনগণ অনিশ্চয়তাও সহ্য করতে আগ্রহী। কারণ তারা বিশ্বাস করে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে। আর আস্থা কমে গেলে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্তগুলোও সন্দেহের চোখে দেখা হয়। এ বাস্তবতা কিন্তু ড. ইউনূস জানতেন। কারণ তার কর্মজীবন জুড়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আস্থার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তার সামাজিক উদ্যোগগুলো আস্থার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। আর্থিক ব্যবস্থাগুলো আস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হয়ে তিনি ভুলে গেলেন সরকারের টিকে থাকার সূত্রও ওই আস্থাই।

 

 

 

 

 

কোনো সংস্কার কমিশন আস্থা তৈরি করতে পারে না। কোনো সাংবিধানিক সংশোধনী আইন করে আস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। কোনো প্রশাসনিক অধ্যাদেশ বৈধতা সৃষ্টি করতে পারে না। এসব স্বচ্ছতা, দৃঢ়তা, জবাবদিহি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক তৎপরতার মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় ছিল মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ। প্রাতিষ্ঠানিক, সাংবিধানিক কিংবা প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ নয়। তাই দেশে বিরাজিত গভীর অনিশ্চয়তা ও টালমাটাল সময়ে উচ্চাভিলাষী সংস্কার সাধনের জন্য জনগণের আস্থা বজায় রাখাই ছিল সরকারের বড় দায়িত্ব। যে কোনো সরকারের জন্যেই এ চ্যালেঞ্জ থাকে। ফলে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আইন পরিবর্তন করা নয়, বরং জনগণের আস্থা অর্জন করা।

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

3 thoughts on “বেগমগঞ্জে ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ‘বুলেট ফারুক’ গ্রেপ্তার

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

বেগমগঞ্জে ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ‘বুলেট ফারুক’ গ্রেপ্তার

আপডেট টাইম : ১০:১৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত মো. ওমর ফারুক ওরফে ‘বুলেট ফারুক’ (৪৪) কে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও র‍্যাব-৭-এর যৌথ অভিযান দল।

বুধবার (১০ জুন ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বেগমগঞ্জ মডেল থানার জমিদারহাট পূর্ব বাজার এলাকায় ফেনী–চৌমুহনী মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ডিএনসি জেলা কার্যালয় নোয়াখালী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে র‍্যাব-৭ ফেনী টিমের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে কোমরে কস্টেপ দিয়ে লুকানো অবস্থায় ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেলের টুলবক্স থেকে আরও ৪ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

সব মিলিয়ে তার কাছ থেকে ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, একটি মোটরসাইকেল এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

ডিএনসি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর সেনবাগ, বেগমগঞ্জ ও ফেনীর দাগনভূঞা এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র মামলা ও মাদক আইনে মোট ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, তিনি নিজস্ব মোটরসাইকেল ব্যবহার করে প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা এনে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন। তার নিয়ন্ত্রণে একাধিক খুচরা মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দাগনভূঞা এলাকায় ১১ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ।

মাদকাসক্তি প্রতিরোধে করণীয় তুলে ধরলেন উপপরিচালক আনিছুর রহমান

মাদকের অপব্যবহার রোধে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে নীলফামারীতে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টায় নীলফামারী সদর উপজেলার ককই বাজার সংলগ্ন ককই মিশনে এ কর্মশালার আয়োজন করে উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্প, ককই, বিডি-০২৭৪। “নিজে বাঁচুন, পরিবারকে বাঁচান” স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রকল্পের তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান খান। তিনি মাদকের অপব্যবহার, এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদকাসক্তি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আলোচনায় তিনি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এ কারণে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রেখে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করানো হয়। পাশাপাশি “মাদককে না বলুন” লেখা সম্বলিত খাতা, কলম ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চাল-ডালসহ ৬০ পণ্যে দাম কমানোর পরিকল্পনা বাজেটে

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার যে বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে, তাতে চাল-ডাল, আলু থেকে সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার মতো ৬০টি প্রযুক্তি ও কৃষি পণ্যের দাম কমতে পারে। এসব পণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে কর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট পেশকালে এই প্রস্তাব করতে পারেন।

 

 

 

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, সরকার এই ৬০টি পণ্যের তালিকায় মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যকে প্রাধান্য দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ।

 

 

 

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা জনজীবনে স্বস্তি আনবে বলে আশা করছে সরকার।

নিত্যপণ্যের বাইরেও সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম কমার প্রস্তাব করা হচ্ছে বাজেটে। এরমধ্যে শিশুখাদ্য আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সব ধরনের মসলা ও খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হবে।

 

এছাড়াও, বাজেটে জীবন রক্ষাকারী হার্টের রিং বা স্টেন্টের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা কমতে পারে। কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ প্রায় ৮০০ টাকা কমবে।

 

 

প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতে প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর থাকা কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হতে পারে। পাশাপাশি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট মওকুফ করা হচ্ছে।

 

 

 

বিনোদন ও সংস্কৃতিখাতে তরুণ প্রজন্মের জন্য গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনের মতো বাদ্যযন্ত্র এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে।

 

 

 

সরকারের এই নতুন রাজস্ব নীতি মূলত করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, এই কর ছাড়ের ফলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমিত হবে।

 

জাল দলিলে টাকা তুলতে গিয়ে ধরা, দুজনের কারাদণ্ড

 

সিলেটে জাল দলিল ব্যবহার করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন চেষ্টার অভিযোগে দুই দালালকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিহাব বিন আমিন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধিগ্রহণ শাখায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

 

 

 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে আতিকুর রহমান (৫৬) এবং জালালাবাদ থানার চাতলীবন্দ গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে সুজন আলী (৩০)। আতিকুর রহমানকে ৪ মাস এবং সুজন আলীকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

 

সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিহাব বিন আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, জাল দলিলের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে তাদের জালিয়াতি ধরা পড়ে। পরে তাদের আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সরকারি কাজে বাধা প্রদানসহ হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়। পরে রাতে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

হলুদ জার্সিতে সিরাজগঞ্জ শহর মাতালো ব্রাজিল ভক্তরা

আর কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হচ্ছে ফুটবলের বৃহত্তম আসর ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬। এই মুহুর্তে সবকিছু ভুলে ফুটবল উন্মাদনায় মেতে উঠেছে যমুনা পাড়ের শহর সিরাজগঞ্জ।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে বিশাল র‌্যালি করেছে ব্রাজিল ভক্তরা। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শহরের মুজিব সড়কে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রিয় দলের পতাকা হাতে হলুদ জার্সি পড়ে দলে দলে আসতে থাকেন সমর্থকরা।

 

নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ বা মোটর সাইকেলযোগ, রিকশায় চেপে র‌্যালি অংশ নেয়। র‌্যালির বিশেষ আকর্ষণ ছিল ট্রাকযোগে বিশাল সাউন্ডবক্স নিয়ে ডিজে গানের তালে তালে সমর্থকদের সাম্বা নৃত্য।

 

 

 

ব্রাজিল সমর্থকেরা বলেন, আমরা এবার হেক্সা মিশনে নেমেছি। এবার ব্রাজিল দল দারুণ ফর্মে আছে। ইনশাল্লাহ এবার ৬ নম্বর বিশ্বকাপ ঘরে তুলবো আমরা।

 

 

 

অপর এক সমর্থক আর্জেন্টিনার উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের পাঁচটা আছে তাদের তিনটা। তাদের সঙ্কে আমাদের দলের তূলণাই চলে না।

 

 

 

স্বামী জার্মানী, স্ত্রী ব্রাজিল ও মেয়েকে আর্জেন্টিনার জার্সি পড়িয়ে রিকশাযোগে র্যা লীতে অংশ নেয় একটি পরিবার। জানতে চাইলে জার্মান সমর্থক স্বামী বলেন, স্ত্রী ব্রাজিল সমর্থক তাই তাকে ব্রাজিলের র‌্যালিতে নিয়ে এসেছি। আমি চাই ব্রাজিল ভালো খেলুক তবে জার্মানি ৫ম বিশ্বকাপ জিতুক। মেয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থক বলেন, এবারও আর্জেন্টিনাই কাপ জিতবে। স্ত্রী ব্রাজিল সমর্থক বলেন, আমাদের ঘরে এখন রীতিমোত গৃহযুদ্ধ লেগে গেছে।

 

 

 

র‌্যালির আয়োজকরা বলেন, আমরা শহরে দেখিয়ে দিতে চাই আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি সমর্থক রয়েছে ব্রাজিলের। আজকে সিরাজগঞ্জ শহর হলুদ জার্সির দোলায় দুলছে।

 

 

জুলাইয়ে পুলিশ হত্যাকারী সেই মাহদী আশ্রয় নিলেন থানায়

 

হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান এবার থানায় আশ্রয় নিয়েছেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধাওয়া ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় প্রবেশ করেন। 

 

 

তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

 

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের পুরাতন হাসপাতাল সড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় ফেসবুক লাইভে এসে মাহদী থানায় প্রবেশ করেন। 

 

 

লাইভে তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের জেরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া দিয়ে হামলার চেষ্টা করছেন। তবে ছাত্রদলের দাবি, মাহদীর লাইভ ভিডিওতে তার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

 

 

ভিডিওতে আশপাশে কাউকে দেখা যায়নি বলেও তারা উল্লেখ করে।

 

 

 

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক খান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

 

 

 

এ নিয়ে পুলিশের একটি জরুরি বৈঠক চলছে। পরে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিস্তারিত জানাবেন।

 

 

 

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাহদীর বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, ‘লাইভ ভিডিওতে রিকশার পেছনে কাউকে দেখা যায়নি। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ 

 

 

 

মাহদী হাসান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেওয়া একটি ফেসবুক লাইভ এবং বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন। 

 

 

 

এর আগে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসিকে ধমক দেওয়া, বানিয়াচং থানার এক উপপরিদর্শককে উদ্দেশ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। 

 

 

আদালতে আত্মসমর্পণ উপজেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদকের

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ আমল গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন আবেদন করেন।

 

 

 

তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

 

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী ও সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট রুমেল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রেজাউল করিম স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত জামিন শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা পরবর্তীতে তাদের জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে চেষ্টা করব।

 

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ নভেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল নূর বাদী হয়ে সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানসহ আওয়ামী লীগের ৪৯ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে জগন্নাথপুর থানায় এই মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় রেজাউল করিম রিজু অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন।

 

 

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

 

 

জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী

সেমিফাইনালে ছিটকে পড়বে আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স

বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন ঐতিহাসিক এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায় রচনা হতে যাচ্ছে। এবার সকল নামিদামী দলকে হারিয়ে সোনালী ট্রফি ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্ব জেতার মুকুট মাথায় পরবে ফ্রান্স। এমনই ভবিষ্যত বানী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন দেশবরেন্য জোতিষী আবদুস ছালাম শিকদার।

 

 

 

 

মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটায় তিনি এ স্ট্যাটাস দেন। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়া নিয়ে ভবিষ্যত বানী এবং ইরান ও ইসরাইল-আমেরিকার যুদ্ধ নিয়ে তার ভবিষ্যত বানী সত্য প্রমানিত হয়েছে।

 

 

 

ফেসবুকে দেয়া এই জ্যোতিষীর পোষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো। তিনি লেখেন, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে এক তুমুল উন্মাদনা। সাধারণ মানুষ যখন দলগুলোর অতীত পরিসংখ্যান আর পারফরমেন্স নিয়ে হিসাব-নিকাশ করতে ব্যস্ত, তখন প্রচলিত সব ধারণাকে পাশ কাটিয়ে এই ফুটবল মহাযজ্ঞের চূড়ান্ত নিয়তি ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে।​

 

এবারের টুর্নামেন্টে বিশ্ববাসী এমন কিছু অবিশ্বাস্য অঘটন আর চরম ট্র্যাজেডি দেখবে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কোটি ভক্তের বুকভাঙ্গা কান্না আর মাঠের রক্তক্ষয়ী লড়াই সত্ত্বেও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেনকে বিদায় নিতে হবে সেমিফাইনালের মঞ্চ থেকেই। এক নির্মম সত্যের মুখোমুখি হয়ে লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের সূর্যখ্যাত ব্রাজিল এবার ফাইনালের ঠিক আগের মুহূর্তে এসে ফুটবলের আকাশ থেকে অস্তমিত হবে।​ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক দিনে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের রণাঙ্গনে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স।একদিকে থাকবে দীর্ঘদিনের শিরোপার খরা কাটিয়ে বিশ্বজয়ে মরিয়া ইংলিশরা, আর অন্যদিকে থাকবে অপ্রতিরোধ্য শক্তির ফরাসিরা।

কিন্তু ট্রফি ছোঁয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে, কাপের একদম দ্বারপ্রান্তে গিয়ে এক অদৃশ্য দেওয়ালে ধাক্কা খাবে ইংল্যান্ডের সব স্বপ্ন। এক বুক দীর্ঘশ্বাস আর বীরোচিত পরাজয় সঙ্গী করে মাঠ ছাড়তে হবে তাদের, রানার আপের মর্যাদা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ইংলিশদের।​কারণ, ১৯শে জুলাইয়ের সেই মোক্ষম ক্ষণে এক অনন্য এবং জাদুকরী আশীর্বাদ বর্ষিত হবে ফরাসিদের ওপর। উল্লেখিত সমস্ত পরিস্থিতি আর শক্তির গতিপথকে সামনে রেখে আজ অত্যন্ত স্পষ্ট ও দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করছি- ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের দর্প চূর্ণ করে, সোনালী ট্রফি ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্ববিজেতার মুকুট মাথায় পরবে ফ্রান্স। এই ভবিষ্যৎবাণী ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন ঐতিহাসিক এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে।

 

 

তিনি আরও লেখেন, যারা সমসাময়িক খবরের কাগজের বিশ্লেষণ বা গাণিতিক পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়েও বাস্তব সত্যকে আগেভাগেই অনুধাবন করতে ভালোবাসেন, এই বার্তাটি মূলত তাঁদের কৌতূহল নিবৃত্তির জন্য। ফুটবল মাঠে বল গড়ানোর পর থেকে প্রতিটি মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ যখন এই পূর্বাভাসের সাথে অক্ষরে অক্ষরে মিলতে শুরু করবে, তখন সংশয়বাদীদের সমস্ত যুক্তিই ম্লান হয়ে যাবে।

 

 

 

১৯শে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ফাইনাল ম্যাচ শেষে এই প্রতিটি শব্দের বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সবাইকে অগ্রিম আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলাম। যুক্তিপূর্ণ যেকোনো আলোচনা বা কৌতূহল নিয়ে সরাসরি যোগাযোগের দরজা উন্মুক্ত রইলো।

 

 

 

জ্যোতিষী মো. আবদুছ ছালাম শিকদার কালবেলাকে বলেন, আমি প্রায় দুই সপ্তাহ প্রচেষ্টার পর প্রেডিকশনটি সম্পন্ন করেছি। আল্লাহর রহমতে এর আগেও আমার বিভিন্ন প্রেডিকশন সফল হয়েছিলো। আমি ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ এ্যাস্ট্রোলোজি থেকে জ্যোতিষ ডিগ্রী অর্জন করেছি। মানুষ আমাকে প্রেডিকশন করতে উৎসাহ যোগায় এজন্যই মূলত প্রেডিকশন করি।

 

 

 

জ্যোতিষী আবদুস ছালাম শিকদার ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের বাদুরতলী গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাজী মো. জালাল উদ্দিন শিকদার। ছয় ভাই বোনের মধ্যে আবদুস ছালাম জালাল উদ্দিনের দ্বিতীয় সন্তান।

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

কৃষক দল নেতাকে হত্যা, জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

বাগেরহাটের ফকিরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে কৃষক দল নেতা আনিসুর রহমান বাদল (৪০) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের নিয়তির মাঠ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বুধবার (১০ জুন) সকালে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেছেন। ঘটনার পর ১৭ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বেলা সাড়ে ৩টা) থানায় মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম।

 

 

নিহত আনিসুর রহমান বাদল মোড়ল বাগেরহাট সদর ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মৃত জাফর মোড়লের ছেলে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আব্দুল্লাহ মোড়ল। তিনি একই গ্রামের মৃত নুর ইসলাম মোড়লের ছেলে। তিনি বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

কৃষক দলের সভাপতি আনিসুর রহমান বাদল মোড়ল খুনের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি, সহযোগী ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

হত্যার প্রতিবাদে বারইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে কালো ব্যাচ ধারণ ও বেলা ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বাদ আসর স্থানীয় আড়পাড়া স্কুল মাঠে নিহতের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বাগেরহাট সদর উপজেলা থেকে বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান বাদল মোড়ল ও আব্দুল্লাহ মোড়ল ভ্যানযোগে ফকিরহাট যাচ্ছিলেন। এ সময় মূলঘর ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের নিয়তির মাঠ এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত ৭/৮ জনের একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের এলোপাথাড়ি কোপ ও ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই বাদল মোড়লের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল্লাহ মোড়লকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক ডা. সুকান্ত ম-ল।

 

 

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত মো. বাদল মোড়লের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু করেছে।

 

 

জেলা বিএনপি নেতা খান মনিরুল ইসলাম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বারুইপাড়া ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় ১১ জন বিএনপি নেতাকর্মী গুরুতর জখম হয়েছিল। আবারও এই হামলা পূর্ব পরিকল্পনার অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখতে আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই।

 

 

হৃদরোগীদের জন্য সুখবর! কমলো হার্টের রিংয়ের দাম

 

হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। বেশিরভাগ রিংয়ের দাম পূর্বের তুলনায় ৩ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৮ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। ট্যাক্স, ভ্যাট, বিভিন্ন চার্জ, কমিশন এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তিসংগত মুনাফা বিবেচনা করে এই মূল্য সংশোধন করা হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোাহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

নতুন নির্ধারিত এই মূল্য অবিলম্বে কার্যকর হবে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের আলোকে এই মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে মোট ২৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হার্টের রিংয়ের পূর্ববর্তী মূল্য এবং নতুন অনুমোদিত মূল্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় দেখা যায়, বেশিরভাগ রিংয়ের দাম পূর্বের তুলনায় ৩ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

 

হাসপাতালগুলোর জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ৪ নির্দেশনা নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি দেশের সব কার্ডিয়াক চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী হাসপাতালের জন্য ৪টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে অধিদপ্তর। সেগুলো হলো- ১. স্টেন্টসমূহের হালনাগাদ মূল্য তালিকা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য সংশ্লিষ্ট সব হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ২. সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য অনুসরণ করে রিং ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। ৩. স্টেন্টের নাম, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে রোগীকে পৃথক ক্যাশমেমো দিতে হবে। ৪. অস্ত্রোপচারের পর ব্যবহৃত স্টেন্টের খালি প্যাকেট বাধ্যতামূলকভাবে রোগীকে সরবরাহ করতে হবে।

 

 

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের সব কার্ডিয়াক হাসপাতালে হার্টের রিং সরবরাহ এবং তা অনুমোদিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কি না— তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।

 

 

 

বাজারে বিভিন্ন দামের স্টেন্ট পাওয়া যায়। নতুন তালিকায় সর্বনিম্ন ১৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের স্টেন্টও রয়েছে।

 

 

 

বাংলাদেশে রিং আসে দেশের বাইরে থেকে। সাধারণত ইউরোপ-আমেরিকা থেকে এগুলো আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জার্মানি, পোল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ড থেকে রিং আসে বাংলাদেশে। এছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকেও রিং আমদানি করা হয়।

 

 

‘টয় স্টোরি ৫’ প্রিমিয়ারে নজর কাড়লেন টেইলর সুইফট

হলিউডে যেন বসেছিল তারার মেলা। বহু প্রতীক্ষিত অ্যানিমেশন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘টয় স্টোরি’র পঞ্চম কিস্তির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার ঘিরে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে বসেছিল তারকাদের মহামিলনমেলা। তবে জমকালো এই আয়োজনের সব আলো কেড়ে নেন পপ সম্রাজ্ঞী টেইলর সুইফট। একেবারে আকস্মিক উপস্থিতিতে ভক্তদের বিস্ময়ে ভাসিয়ে দিয়ে তিনি প্রিমিয়ারের সবচেয়ে বড় চমক হয়ে ওঠেন। আর সেই মুহূর্তে ‘টয় স্টোরি ৫’ ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা যেন পৌঁছে যায় নতুন উচ্চতায়।

 

 

শুধু লাল গালিচায় হাঁটাই নয়, মঞ্চে উঠে সরাসরি পারফর্মও করেন তিনি। এই সিনেমার সাউন্ডট্র্যাকের জন্য তৈরি নিজের মৌলিক গান ‘আই নিউ ইট, আই নিউ ইউ’ গেয়ে শোনান সুইফট।

 

 

পারফরম্যান্সের সময় তার সঙ্গে মঞ্চে যোগ দেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজির কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক ও অস্কারজয়ী সুরকার র‌্যান্ডি নিউম্যান। নিউম্যানের পিয়ানোর সুরে সুইফটের কণ্ঠের মেলবন্ধন উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। শুধু নিজের গানই নয়, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির চিরচেনা থিম সং ‘ইউ’ভ গট আ ফ্রেন্ড ইন মি’ গেয়েও হলভর্তি দর্শক মাতান টেলর সুইফট।

ডিজনি ও পিক্সারের ‘টয় স্টোরি ৫’ সিনেমার গল্পে এবার থাকছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। প্রিয় চরিত্র উডি (টম হ্যাংকস), বাজ লাইটইয়ার (টিম অ্যালেন) এবং জেসি (জোয়ান কিউস্যাক) সহ পুরো খেলনা দলটিকে এবার এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের ছোট্ট বন্ধু বনির ঘরে আগমন ঘটে লিলি প্যাড (গ্রেটা লি) নামের একটি আধুনিক ট্যাবলেট ডিভাইসের। বনির জন্য আসলে কোনটি ভালো—তা নিয়ে খেলনাদের চিরন্তন ভাবনার বিপরীতে একদম নিজস্ব কিছু আইডিয়া নিয়ে হাজির হয় এই ট্যাবলেটটি। আর এ নিয়েই জমজমাট রূপ নেয় সিনেমার গল্প।

 

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী জনপ্রিয় পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্যান্টন, যার ঝুলিতে রয়েছে ‘ওয়াল-ই’, ‘ফাইন্ডিং নেমো’ এবং ‘ফাইন্ডিং ডোরি’র মতো মাস্টারপিস। সহ-পরিচালক হিসেবে তার সঙ্গে আছেন কেন্না হ্যারিস। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন লিন্ডসে কলিন্স। বরাবরের মতোই এর আবহ সংগীতের দায়িত্বে আছেন অস্কারজয়ী র্যান্ডি নিউম্যান, এটি টয় স্টোরি ফ্র্যাঞ্চাইজির কোনো সিনেমায় তার পঞ্চম কাজ।

জমকালো এই প্রিমিয়ারে সিনেমার মূল কণ্ঠশিল্পীরা হাজির হয়েছিলেন। লাল গালিচায় দেখা মেলে টম হ্যাংকস, টিম অ্যালেন, জোয়ান কিউস্যাক, কোনান ও’ব্রায়েন, গ্রেটা লি, ক্রেগ রবিনসন, টনি হেল এবং স্কারলেট স্পিয়ার্সের মতো তারকাদের।

প্রযুক্তিনির্ভর শান্তিরক্ষা মিশনের রূপরেখা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ দিন দিন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। তাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে।

 

 

মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে সারা বিশ্বের সেই সাহসীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান, যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয় জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।

 

 

কিন্তু এ পথ বন্ধুর ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা সহজ ছিলো না। শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এই মহান ও মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাদের।

 

 

শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে একটি প্রতিকূল পরিবেশে আপনারা নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের এই অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে দেশের সামরিক বাহিনীর অবদান তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে শহীদ হওয়া শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহতদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩ টি দেশের প্রায় ৬৩ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেয়ারও প্রস্তুতি চলছে।

 

 

তিনি বলেন, পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য সাহসের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আমাদের এই গৌরবের ইতিহাস একদিনে রচিত হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী একটি আস্থা ও নির্ভরতার নাম।

 

 

সশস্ত্রবাহিনী একটি দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। তাই এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয় সেটি রক্ষা করা সশস্ত্রবাহিনীর কর্তব্য।

 

 

তিনি বলেন, তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে, দেশে সশস্ত্রবাহিনীর কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কিছু অপতৎপরতা কখনো কখনো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে। দেশে বিদেশে সশস্ত্রবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট করতে নানা তৎপরতাও বিদ্যমান ছিল। তবে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ১৯৭৫ এর সাত নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

 

 

তারেক রহমান বলেন, এরপরও বিভিন্ন সময়ে নানারকম ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর ঐক্য বিনষ্টের তৎপরতা চলেছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্রবাহিনীর ওপর সর্বগ্রাসী আঘাতটি এসেছিল। সেই আঘাতের ফলে বাংলাদেশে কি ঘটেছিলো সেটি আমাদের সবার জানা। তাই, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রধান বার্তাটি হলো, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড’ ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুই অতীত চর্চা নয় বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে স্বমহিমায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা সশস্ত্রবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে বা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা দেশে বা বিদেশে যেখানে যে দায়িত্ব পালন করছি, সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

 

 

বর্তমান বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায়।

 

 

বাংলাদেশ সব সময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর। এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিম-লে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনী আধুনিক করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধানে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের প্রতি যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, আমরা তা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যে কোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

 

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা তাদের আন্তরিকতা, কর্তব্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের গৌরবোজ্জ¦ল দৃষ্টান্ত বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিটি সদস্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি, দেশের মান-সম্মানের বাহক। আশা করি, আগামী দিনেও যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালন করতে বিভিন্ন দেশে যাবেন, তারা একইভাবে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সুনাম সমুন্নত রাখবেন।

 

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রমুখ।

 

 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ সশস্ত্রবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ ১০ জুন এটি পালিত হচ্ছে।

 

পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে ১৯ জন গ্রেপ্তার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

 

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

 

 

পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার অবৈধ থ্রি-হুইলার আটককে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্ত হাইওয়ে পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- বিল্লাল হোসেন, ইউসুফ মিয়া, হাসান, রিফাত, হাবিব, মফিজ, আক্তার হোসেন, সিফাত, রবিউল, আবু ইউসুফ ইকরাম, জুয়েল, সারোয়ার হোসেন, নুপুর সাহা, সোহাগ মিয়া, বিল্লাহ, সোহেল মিয়া, ইব্রাহিম খলিল, দেলোয়ার হোসেন ও আজিজুল।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

পুলিশ সুপার বলেন, মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

দুর্গম যাত্রায় ভালোবাসার সন্ধান, আসছে মিমের ‘লাইফলাইন’

ভালোবাসার জন্য মানুষ কত দূর যেতে পারে, কত ত্যাগ স্বীকার করতে পারে—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। শহুরে এক তরুণীর ভালোবাসার খোঁজে অজানার পথে ছুটে চলার গল্প নিয়ে নির্মিত এই ছবিটি আগামী ২১ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাবে। নির্মাতা কাজী আসাদের এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম।

 

 

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে প্রকাশিত হয়েছে ‘লাইফলাইন’-এর ট্রেলার। সেখানে দেখা যায়, অনন্যা নামের এক তরুণী কাউকে খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে দুর্গম পথে যাত্রা শুরু করেন। তার এই অভিযানে সঙ্গী হন রিজওয়ান পারভেজ। মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন অজানা গন্তব্যে ছুটে চলার পাশাপাশি তাদের মধ্যে তৈরি হয় নানা দ্বন্দ্ব ও তর্ক-বিতর্ক, যা গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

 

নির্মাতা কাজী আসাদ জানান, ড্রামা ও সোশ্যাল ড্রামা ঘরানার গল্প তার বরাবরের পছন্দ। গল্পের ধারণা শোনার পরই তিনি এটিকে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা দেখেছিলেন। তার ভাষায়, “গল্পটির মধ্যে যেমন সামাজিক সচেতনতার বিষয় রয়েছে, তেমনি আছে আবেগ ও মানবিক সম্পর্কের গভীরতা।”

অভিনেতা রিজওয়ান পারভেজের মতে, ‘লাইফলাইন’ শুধু ভালোবাসার গল্প নয়, এটি দায়িত্ববোধ ও অনুভূতিরও গল্প। তিনি বিশ্বাস করেন, চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মধ্যে নতুন ধরনের উপলব্ধি তৈরি করবে।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, উঁচু-নিচু মাটির রাস্তা ও তীব্র গরমের কারণে কাজ করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। তবে দৃশ্য ভালোভাবে সম্পন্ন হওয়ার আনন্দই পুরো ইউনিটকে নতুন উদ্যমে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে।

‘লাইফলাইন’-এ মিম ও রিজওয়ান পারভেজের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আ খ ম হাসান, খায়রুল আলম সবুজ, নাজনীন হাসান চুমকি, আনিসা নূর আয়াত এবং ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা। ছবিটির গল্প লিখেছেন মাহমুদুল হাসান টিপু ও কাজী আসাদ। চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনায় কাজী আসাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আসাদুজ্জামান আবীর।

 

হিলিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিস্তারে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনাজপুরের হিলিতে ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় হাকিমপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ও অতিথিরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সাধারণ কৃষকদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে টেকসই কৃষির উন্নয়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অডিটোরিয়াম চত্বরে তিনটি বিশেষ স্টলের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন ফলন ও কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়।
​উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা শাহ আলম, হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা খাতুন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানাসহ স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রগতিশীল কৃষকবৃন্দ।

ওমান উপকূলে অগ্নিকাণ্ডের কবলে তেলবাহী জাহাজ, নিখোঁজ দুই নাবিক

ওমানের উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগার পর জাহাজটির দুই ক্রু সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওমানের সোহারের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার (২০ নটিক্যাল মাইল) দূরে অবস্থানরত একটি ট্যাঙ্কারের ইঞ্জিন কক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়।

 

 

সংস্থাটি জানায়, ঘটনায় অন্তত একজন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কেও কোনো তথ্য জানায়নি যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস।

এদিকে, এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনী উভয় পক্ষই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষের আরোপিত দ্বৈত অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হাজার হাজার জাহাজ আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ভারতের নতুন হাইকমিশনারের ঢাকা সফর শুক্রবার

আগামী শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকায় পৌঁছাবেন ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

 

 

গেল ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লেটার্স অব ক্রিডেনশিয়ালস (পত্রাধিকার) গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পালনের আইনি ও কূটনৈতিক অনুমোদন লাভ করেন। এপ্রিল মাসে নিয়োগ ঘোষণার পর থেকে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং এখন ঢাকায় এসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে ক্রিডেনশিয়ালস উপস্থাপন করে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশন শুরু করবেন।

 

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক নেতাকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানো দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে দীনেশ ত্রিবেদীর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের নিয়োগ এবং আগমন উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দীনেশ ত্রিবেদী ১৯৫০ সালের ৪ জুন নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তার বয়স ৭৬ বছর। তিনি গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও কলকাতায় বেড়ে উঠেছেন এবং বাংলা সংস্কৃতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতা থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়, অস্টিন থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। কংগ্রেস দিয়ে শুরু করে জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন—রাজ্যসভায় দুবার (১৯৯০-৯৬ এবং ২০০২-০৮) এবং লোকসভায় ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তিনি রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬-১৭ সালে তিনি ‘অসামান্য সংসদ সদস্য’ পুরস্কার লাভ করেন।

গেল এপ্রিলে ভারত সরকার দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা করে। তিনি ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। এটি একটি ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক নিয়োগ। সাধারণত কূটনৈতিক পদে ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাটদের পাঠানো হয়, কিন্তু বর্তমান স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বেছে নিয়েছেন।

 

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ত্রিবেদী যেহেতু বাংলা ভাষায় সাবলীল এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও সংস্কৃতির গভীর জ্ঞান রাখেন। তাই বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোদী সরকার দীনেশকেই ঢাকায় পাঠাচ্ছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র কালবেলাকে জানান, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কয়েকটি মূল চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি নবায়ন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা, জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য এমন একজন ‘পলিটিক্যাল এনভয়’ প্রয়োজন ছিল যিনি উভয় দেশের রাজনৈতিক মহলে সহজে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন।

 

 

ত্রিবেদীর পশ্চিমবঙ্গের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং বাংলা ভাষার দক্ষতা এখানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিয়োগের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, দু দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত করতে চায় ভারত।

 

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শুধু দুই সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটির মূল ভিত্তি দুই দেশের জনগণের মধ্যে। এই নিয়োগ একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। দীনেশ ত্রিবেদী শুধু একজন কূটনীতিক নন, তিনি একজন রাজনৈতিক যোগাযোগকারী। তার মাধ্যমে দিল্লি এবং ঢাকার মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক স্তরের আলোচনা সহজ হবে। দীনেশ ত্রিবেদী যদি এই মানুষে মানুষে যোগাযোগকে শক্তিশালী করতে পারেন, তাহলে তার মিশন সফল বলে বিবেচিত হবে।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এমপি রতন, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার নির্দেশ

গতকালকের ঘূর্ণিঝড়ে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বড় বড় গাছপালা উপড়ে গিয়ে বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটির ওপর পড়ে। এতে প্রায় ১০ থেকে ১২টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যায় এবং এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন বাউশিয়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
এ সময় গজারিয়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।পরিদর্শনকালে এমপি রতন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তিনি বিএনপির গজারিয়া উপজেলার সকল নেতা-কর্মীকেও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।এ সময় গজারিয়া জোনাল অফিসের ডি জি এম আশরাফুল আলম উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ খুঁটি ও তার মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং এলাকাবাসীকে যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

কুড়িগ্রামে এনসিপির জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ

কুড়িগ্রাম জেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি’র) জাতীয় নারীশক্তির পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত কমিটিতে আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিবসহ মোট ৯২ সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ৯ জুন কেন্দ্রীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ মুখ্য সংগঠকের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ৯২ সদস্যবিশিষ্ট বিশাল আকারের কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। রাতে কেন্দ্রীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু স্বাক্ষর করার পর মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম উক্ত কমিটির তালিকা প্রকাশ করেন। কমিটিতে জেলার আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাসিরা খন্দকার নিসা এবং সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোছাঃ মেরিনা পারভিন।
ছয় মাস মেয়াদি প্রকাশিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছেন মাহবুবা বেগম। এছাড়াও যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন মোছাঃ ফিরোজা খাতুন, মোছাঃ শেফালী বেগম, মোছাঃ উম্মে কুলসুম তিথি, মোছাঃ শাহিদা বেগম, মোছাঃ ঝরনা আক্তার, মোছাঃ তাবাসসুম শরিফা, আয়েশা সিদ্দিকা ও ছাবিনা ইয়ামিন।
উক্ত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসাবে রয়েছেন মোসলেমা আক্তার। এবং যুগ্ম সদস্য সচিব পদে নির্বাচিত হয়েছেন চামেলী আক্তার, মোছাঃ লাভলী খাতুন, মোছাঃ ফাতেমা তুজ জোহরা ইতি, মোছাঃ তাফরিন জাহান জুই, মোছাঃ কবিতা আক্তার ও মোছাঃ সাবিনা ইয়াসমিন।
জাতীয় নারীশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছেন মোছাঃ নাজমা আক্তার নীলা, হাবিবা আক্তার প্রিয়া, মোছাঃ সাবিনা খাতুন, আফরোজা খাতুন, রুবিনা খাতুন, মোছাঃ কল্পনা খাতুন, এশা মনি, মোছাঃ মরিয়ম খাতুন, মারিয়া খাতুন, অপু কালি বকশি হাসি, হেনা পারভীন। কমিটিতে সদস্য পদে রয়েছেন আরও অনেকে।
রাতে কমিটির তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরপরই জেলা জুড়ে শুরু হয় আনন্দ উদ্দীপনা। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত নেত্রীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম ২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ। এছাড়াও আরও অভিনন্দন জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়াসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীবৃন্দ।
এ বিষয়ে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়া বলেন, আমরা নারীদের নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানাই। দেশে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের নেতৃত্ব দেশ এবং জাতিকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কুড়িগ্রাম জেলার অবহেলিত দুস্থ নারীদের নিয়ে কাজ করবে আমাদের এই নতুন নেত্রীরা। নারীদের কিভাবে সামনের সারিতে অগ্রসর হতে হবে সে নেতৃত্ব দিবেন নবাগত কমিটির সদস্যরা।
নবাগত কমিটির জাতীয় নারীশক্তির সদস্য সচিব মোছাঃ মেরিনা পারভিন বলেন, প্রথমে ধন্যবাদ জানাই কুড়িগ্রাম জেলার সর্বস্তরের মানুষদের। যারা আমাদের এই নারীদের নেতৃত্বকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের পাশে ছিলেন। আমরা জাতীয় নারীশক্তির পদ কে বড় মনে করব না। আমরা যেন এই পদের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করতে পারি, সব সময় সেই চেষ্টাই করব। আমরা কুড়িগ্রাম জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত নারীদের নিয়ে কাজ করব। আমরা নারীদের কর্মমুখী করতে এবং নারীদের শিক্ষা-দীক্ষায় পরিপূর্ণ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সর্বদা সোচ্চার থাকব। যেন আমরা নারীরা কোন ক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার না হই। এবং নারী নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্ষণ, শোষণ ইত্যাদির হাত থেকে নারীদের রক্ষায় কাজ করে যাব সব সময়।

রাণীনগরে দেড় মাস ধরে নিখোঁজ মজনু, সন্ধান পেতে পরিবারের আকুতি

নওগাঁর রাণীনগরে মজনু সাখিদার (৪০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি গত দেড় মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার গোনা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের হুরমত সাখিদারের ছেলে।

মজনু সাখিদার মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত তাকে খুঁজে পেতে পুলিশ-প্রশাসন ও জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছেন তার পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দেড় মাস আগে মজনু সাখিদার হঠাৎ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফিরেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি।

নিখোঁজ মজনু সাখিদারের বাবা হুরমত সাখিদার ও মাতা রাশেদা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা মজনুকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন। মজনু সাখিদারের ছেলে আলামিন জানান, পরিবারের সবাই তার বাবা মজনুকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন। তিনি সমাজের সকল মানুষের কাছে মজনুর সন্ধান পেতে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তার পরিবার জানায়, মজনু সাখিদার মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তিনি কোথায় আছেন বা কী অবস্থায় আছেন তা নিয়ে তারা অত্যন্ত চিন্তিত। দ্রুত তাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ-প্রশাসন ও জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছেন।

যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি মজনু সাখিদারের সন্ধান পান তাহলে তার ছেলে আলামিনের এই (০১৩৩৮-০২৬৮৪১) মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, মজনু সাখিদার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় কেউ কোন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেনি। তারপরেও আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। তার সন্ধান পেতে পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগীতা করা হবে।

মাদক কারবারের অভিযোগে আটক ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

 

জামালপুরের মেলান্দহে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ তিন মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

 

 

 

গত সোমবার (৮ জুন) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে পুলিশ।

 

 

 

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন— মো. মোস্তফা (৫০), ৮ নং ফুলকোচা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫২) এবং মো. মিনহাজ উদ্দিন (৪১)।

 

জানা গেছে, মেলান্দহ উপজেলার ৭নং চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের ভাবকী সিঙ্গের কান্দা এলাকা থেকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হওয়ায় স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযুক্ত নেতার দ্রুত বহিষ্কার দাবি করেছেন।

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

এদিকে, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসার পর স্থানীয় নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, মাদকের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে না। তাই অভিযোগের সত্যতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

 

 

 

জামালপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

এসএসসি পাসেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরির সুযোগ

 

এসএসসি পাসেই চাকরি দিচ্ছে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অধীনস্থ বিভিন্ন অফিসসমূহে ৪টি পদে ১৮ জনকে নিয়োগ দেবে। আবেদন শুরু হয়েছে ৩ জুন সকাল ১০টা থেকে, চলবে ৩০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

পদের বিবরণ

আবেদন শুরু: ৩ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা

আবেদনের শেষ তারিখ: ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

চাকরির ধরন: অস্থায়ী

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

কর্মস্থল: মাদারীপুর

বয়স: ১ মার্চ ২০২৬ তারিখ ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহনযোগ্য হবে না।

 

 

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

 

 

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ প্রতিটি পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, তালিকায় ১৭ জেলা

 

দেশের ১৭ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

 

দেশের ১৭ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কবার্তা দেখাতে বলা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

 

 

 

একইসঙ্গে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

ব্যভিচার মামলা থেকে খালাস পেলেন নাসির হোসেন ও তামিমা

 

অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, তালাক ছাড়া বিয়ে, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।

 

 

 

এর আগে বেলা ১১টা ৪৭ মিনিটের দিকে তামিমার হাত ধরে এজলাসে হাজির হন নাসির। এসময় উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলাটিতে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।

 

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন।

 

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির। তাম্মি ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী কন্যা মারাত্মভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

 

 

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নিয়ে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক ‘ইসলাম’ নয়, জামায়াতে ইসলামীও ‘ইসলাম’ নয়। সুতরাং সবকিছুতে ইসলামের দোহাই দেবেন না।

 

 

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের তৃতীয় দিন ৬৮ বিধিতে দেওয়া ইসলামী ব্যাংকসংক্রান্ত বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের নোটিশের জবাবে তিনি একথা বলেন।

 

 

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলাম নাকি ব্যাংকের মালিক না। আবার তারা বলছে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। কয়দিন আগে জামায়াতে ইসলামের এক বন্ধুর সঙ্গে কথা হয়েছে, সে এ কথা বলেছে। আমি তার নাম নিলে আবার এখানে (সংসদ) তিনি দাঁড়াতে পারেন। এছাড়া জামায়াতের দুজন এমপিও ছিলেন, তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এদের একজন পরাজিত এমপি, আরেকজন জামায়াত নেতা ছিলেন।’

 

স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা বলে দিচ্ছেন ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। মাননীয় স্পিকার- ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের ওপর হাত দেবেন না, দোহাই দেওয়া কিন্তু ঠিক নয়।

 

জামায়াতে ইসলামী একবার ইসলামী ব্যাংক দখলে রেখেছিল, সেটা এখন বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এর যন্ত্রণা বুঝতে পারছেন বলে জানান মন্ত্রী।

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এবার পয়েন্ট টু পয়েন্টে আসি। এখন একবার যেই ব্যাংক আজান দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে- এ যাতনা তো আমরা বুঝি। সুতরাং যারা পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহক বলে রাস্তায় আন্দোলন করছে। ভিডিওটা দেখেন তাদের রাজনৈতিক পরিচয়। আমাদের মধ্যে অনেকে গ্রাহক আছে। গ্রাহককে বলা হচ্ছে বলেন আপনার অ্যাকাউন্ট আছে।’

 

 

বছরে বাস্তুহারা লক্ষাধিক মানুষ

নদীভাঙনে ছোট হয়ে আসছে বরিশাল

 

নদীবেষ্টিত অঞ্চল বরিশাল। কীর্তনখোলা, পদ্মা, মেঘনা, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ, তেঁতুলিয়া, সন্ধ্যা, কারখানাসহ অসংখ্য নদী বয়ে চলেছে বরিশালের চারদিক থেকে। ফলে বছরজুড়েই নদীভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে বরিশালের মানচিত্র। নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

 

 

 

স্যাটেলাইট চিত্র বলছে, নদীভাঙনের কারণে বরিশালের ভৌগোলিক মানচিত্র ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। বর্তমানে বরিশাল বিভাগের প্রায় ১০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মকভাবে ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে।

 

 

 

অন্যদিকে, পরিবেশবিদ ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বলছে, শুধু গত পাঁচ বছরেই বরিশালের মানচিত্র থেকে নদীতে বিলীন হয়েছে অন্তত ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা।

মূলত অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ইটভাটার জন্য নদীর তীর কেটে নেওয়া এবং যথাযথভাবে নদীশাসনের অভাবেই প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহলের।

 

জানা গেছে, বরিশাল জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুই উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জ এবং হিজলা। এ দুটি উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে গেছে পদ্মা, মেঘনা, কালাবদর, তেঁতুলিয়াসহ বেশ কিছু শাখা নদী। ফলে বছরজুড়েই দুটি উপজেলার একের পর এক গ্রাম নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে।

 

 

স্থানীয়দের দাবি- গত ৩০ বছর ধরে মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়ন। উপজেলার সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ মোল্লা জানালেন, মেঘনার বিশাল জলরাশির দিকে তাকিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন হারিয়ে যাওয়া বসতভিটার।

 

 

 

 

অশ্রুসজল চোখে নুর মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, ‘যে মাটিতে আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে, আজ তার পুরোটাই মেঘনা নদীর গর্ভে। পাকা ঘরবাড়ি, ধানি জমি, বাপ-দাদার ভিটে সবকিছুই চোখের সামনে তলিয়ে গেছে।’

 

 

 

একই এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বেগমের আশঙ্কা, নদী যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে দ্রুত বাঁধ না দিলে পুরো ইউনিয়নই একদিন মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। তারা ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহায়তা নয়, শেষ সম্বল রক্ষায় মেঘনায় টেকসই বাঁধ চান।

 

 

 

অন্যদিকে হিজলা এবং মেহেন্দিগঞ্জের মতোই সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে দিশেহারা পার্শ্ববর্তী মুলাদী এবং বাবুগঞ্জ উপজেলাবাসী। বিশেষ করে যুগ যুগ ধরে সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁর তীব্র ভাঙনে বাবুগঞ্জের মানচিত্র থেকে হারাতে বসেছে একের পর এক গ্রাম। স্থানীয়দের দাবি—নদীবেষ্টিত এই উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে মাধবপাশা ছাড়া বাকি সব কটি ‘কেদারপুর, চাঁদপাশা, দেহেরগতি, রহমতপুর ও জাহাঙ্গীরনগর’ ইউনিয়নে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

এ ছাড়া কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বরিশাল সদর উপজেলার একের পর এক গ্রাম। বিশেষ করে চরবাড়িয়া, শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন। এর মধ্যে কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরবাড়িয়া ইউনিয়ন। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরও গত বর্ষা মৌসুমে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

 

 

 

চরবাড়িয়ার বাসিন্দা আবদুল ছালাম গাজী বলেন, নদী আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে। তিনবার বাড়ি হারিয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন এই জায়গাটাও ভাঙনের মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের নদীতে ডুবে মরা ছাড়া উপায় থাকবে না।

 

 

 

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৮৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বছরের পর বছর নদীভাঙনের কারণে সংকুচিত হচ্ছে বরিশালের মানচিত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন এই ঝুঁকিকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরও অনেক এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

 

 

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর বরিশাল বিভাগীয় আহ্বায়ক রফিকুল আলম বলেন, অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই প্রতি বছর বরিশালে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১০২ কিলোমিটার বাঁধ বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিগত ৫-৮ বছরে নদীভাঙন রোধে অন্তত ১০টির মতো প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যার অধিকাংশই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আটকে গেছে। যে কারণে নদীভাঙনের কবল থেকে বরিশাল রক্ষা শুধু প্রতিশ্রুতিতেই আটকে আছে।

 

 

 

এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য কয়েকটি বড় প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

শূন্য বেকারত্বের কথায় ভুলিয়ে ইউনূস তৈরি করেন শূন্য জনআস্থা

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেড় বছরের শাসনামলে দেশে সৃষ্টি হয় নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলার। সুশাসন বিনষ্ট হয়। হারায় বাকস্বাধীনতা। গণমাধ্যমেও অস্থিরতা দেখা দেয়। সেখানে নেমে এসেছিল ত্রাস। জবাবদিহির অনুপস্থিতি, দুর্নীতি-অনিয়মের মচ্ছবের অভিযোগ ওঠে। রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহারসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভঙ্গুর করার সব পাঁয়তারা লক্ষ করা যায়। যেন গণতান্ত্রিক চর্চার এক বিপরীত যাত্রা। মানুষের জান-মাল-মান-মর্যাদা রক্ষায় সর্বত্র ব্যর্থ হয় সরকার। সমালোচকরা তাকে মব সন্ত্রাসের জনকও বলে। চাপে পড়ে ভোট আয়োজন করলেও দেশের সার্বিক অবস্থা হয় শোচনীয়। ড. ইউনূসের বহুল উচ্চারিত ‘থ্রি জিরো’র বিপরীতে দেশে জন্ম নেয় নতুন তিন শূন্যের— শূন্য জবাবদিহি, শূন্য জনআস্থা, শূন্য গণতন্ত্র। অর্থাৎ ইউনূস দায়িত্ব ছাড়েন নতুন তিন শূন্যের জন্ম দিয়ে। তিন পর্বের বিশেষ লেখার আজ ছাপা হলো দ্বিতীয় কিস্তি অন্তর্বর্তী সরকারের রুটিন দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার তা শুরু থেকেই অগ্রাহ্য করে গেছে। দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে তারা বেশি বেশি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগের দিকে ধাবিত হয়।

 

 

 

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্বলতা খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয় সংস্কার কমিশন। অমীমাংসিত কাঠামোগত প্রশ্নগুলোর সমাধানের লক্ষ্যে সাংবিধানিক পর্যালোচনা-আলোচনা চালানো হয়। আইনের শাসনকে শক্তিশালী করার কথা বলে প্রস্তাব করা হয় বিচার বিভাগীয় সংস্কারের উদ্যোগ। রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও জনসেবার মানোন্নয়নের উপায় হিসেবে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য এ ধরনের বিশাল কর্মসূচি গ্রহণ করেনি।

অথচ তাদের স্মরণে রাখা উচিত ছিল যে, অন্তর্বর্তী সরকার এ এখতিয়ার রাখে কি না?

কারও প্রতিটি সুপারিশ বা প্রস্তাবের সঙ্গেই সবার একমত হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছিল। সব বিষয়ে যেন তাদের সঙ্গে একমত হতে হবে। সরকারের তৎপরতায় মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের সমস্যাগুলো রাজনৈতিক নয়, প্রাতিষ্ঠানিক। তার মানে তারা বোঝাতে চাইছিল যে, দেশে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য শুধু সরকার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; এজন্য প্রয়োজন সরকারের কার্যপদ্ধতির সংস্কার। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, জনগণ যদি বিশ্বাস করে যে, প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং প্রকৃত অর্থেই তা অন্তর্ভুক্তিমূলক, শুধু তখনই সংস্কার সফল হয়। আর সেখানেই ইউনূস সরকার বেশি ব্যর্থ হয়।

 

 

বাংলাদেশের নতুন ‘তিনটি শূন্য’-এর প্রথমটি যদি হয় ‘শূন্য জবাবদিহি’, তবে দ্বিতীয়টিকে বলা যেতে পারে ‘শূন্য জনআস্থা’। পরিহাসের বিষয় হলো, সেই সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন জনগণের আস্থাই ছিল তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

 

 

 

বছরের পর বছর রাজনৈতিক সংঘাতের পর বাংলাদেশের অনেক মানুষ একটি শান্তিপর্বের আশা করেছিল। জনগণ অন্তহীন সংঘাত চক্রের অবসান চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোয় মৌলিক পরিবর্তন আসবে। রাজনৈতিক বিভাজন কিংবা পরিচয় নির্বিশেষে সবার সম্মান অর্জন করতে সক্ষম হবে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা এমন একটি সরকার চেয়েছিল, যে সরকার বিরাজমান সব শত্রুতা বৈরিতার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের ভবিষ্যৎকে শান্তির পথে চালিত করতে পারবে। এক কথায়, একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করেছিল জনগণ।

 

 

 

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে খ্যাতি নিয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তা সাধারণত রাজনীতিবিদের থাকে না। কয়েক দশক ধরে তিনি একজন সংস্কারক, উদ্ভাবক এবং সামাজিক অগ্রগতির প্রবক্তা হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেন বলে মনে করা হয়। দেশের অনেক মানুষ তাকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে কাজ করতে সক্ষম এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখতে চেয়েছিল। জনগণ এমন আস্থাই রাখতে চেয়েছিল। নির্দ্বিধায় তার ওপর এ আস্থা ছিল এক অসাধারণ সুযোগ। মনে রাখা জরুরি, আস্থা কিন্তু স্থায়ী কিছু নয়। জনগণের এ আস্থাকে অবশ্যই কাজ, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু ঘটল—উল্টো। প্রাথমিকভাবে যারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করেছিল, দ্রুতই তারা সরকারের তৎপরতা এবং অগ্রাধিকার সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করতে থাকল। এ সংকটের বড় কারণ ছিল ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও বিরাজমান রাজনৈতিক মেরূকরণ দূর করতে না পারা। ফলে নেতৃত্বের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় ঐকমত্য ঘটবে, এ প্রত্যাশা পূরণ হলো না জনগণের। দেখা গেল ড. ইউনূসের সময় রাজনৈতিক বিভাজন সমাজের আরও গভীরে প্রোথিত হলো।

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দ্রুতই মবের রাজনীতি শুরু হয়। একের পর এক মব সহিংসতার ঘটনায় যত দ্রুত এ সরকারের প্রতি জনগণের আস্থাকে দৃশ্যমানভাবে ক্ষতি করে, তা অন্য কিছুতে ঘটেনি। দেশের মানুষ সর্বত্র একই ধরনের সহিংসতা দেখতে পায়। তারা এসব ঘটনায় স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করে, সংগঠিত গোষ্ঠীরা কোনো ধরনের আইনের তোয়াক্কা না করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে। এসব গোষ্ঠী বেআইনি উপায়ে যা যা করতে চেয়েছে, তা-ই করতে পেরেছে। বিস্ময়কর হলো, রাষ্ট্র বা সরকার তার দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। প্রতিটি ঘটনার পেছনের কারণ যা-ই থাক না কেন, দেশের সাধারণ মানুষ এ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। তারা এটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হিসেবে দেখেছে। মানুষ দেখতে পেয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে রয়েছে, তারা নিজেরাই নিরুপায়। আর যারা মব উসকে দিচ্ছে, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে, তারাই সব শক্তির কেন্দ্রে।

 

 

 

 

যে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেই সরকার কীভাবে এ ধরনের পরিকল্পিত সহিংসতায় নির্লিপ্ত থাকতে পারে? দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানুষ দেখে, মব যেসব জায়গায় সফল হচ্ছে, তার প্রতিটি জায়গায় অন্তর্বর্তী সরকার নিষ্ক্রিয়। প্রতিটি মবের ঘটনায় জবাবদিহির অনুপস্থিতি এবং আইনের শাসন প্রয়োগে ধীরগতি। এ অবস্থা ধীরে ধীরে জনগণের মধ্যে এ ধারণাই প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এসব মবগোষ্ঠীর ক্ষমতার কাছে দুর্বল হয়ে পড়ছে। মনে রাখা জরুরি, সরকারের ওপর আস্থা মানে নিরপেক্ষভাবে আইন সমুন্নত রাখার ওপর আস্থা রাখা। আর এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সদিচ্ছা ও সামর্থ্য গুরুত্বপূর্ণ। যখন জনগণ সরকারের সে অঙ্গীকার নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করে, তখন গণঅনাস্থা রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে শাসনব্যবস্থার ভিত্তিমূলে ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

 

 

ধারাবাহিকভাবে মব সহিংসতার এ প্রবণতা কমার লক্ষণ দেখা যায় না। উল্টো প্রকাশ্যে এসব সংঘাত-সহিংসতা চলতে থাকে। বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একে অন্যকে লক্ষ করে উত্তপ্ত বাক্যবাণ ছোড়েন। অব্যাহত থাকে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ। দেখা যায়, সরকারের প্রতিটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। এমন পরিবেশে সরকারের জন্য নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায় তার কার্যসম্পাদন।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকার নানা দিক থেকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে থাকে। ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকে। কেউ কেউ সরকারকে ধীরগতির সরকার হিসেবে অভিযোগ তোলে। আবার কেউ কেউ বলেন, সরকার প্রতিহিংসাপরায়ণ। অনেকে বলতেন, সরকার একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী দ্বারা অতিরিক্ত প্রভাবিত। আবার এমন অভিযোগও ছিল যে, সরকার জনগণের চাওয়ার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল নয়।

 

 

 

 

নানা স্তর থেকে আসা সমালোচনাকে ভারসাম্যের ইঙ্গিত হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। তবে জনমত অনেক সময় ভিন্নভাবে কাজ করে। যখন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা একনাগাড়ে কোনো সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন সে সমালোচনাগুলো ন্যায্য হোক বা না হোক আস্থা কমতে শুরু করবে, এটাই স্বাভাবিক। জনমত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে কোনো সরকারের বৈধতা জনমতের ওপরই নির্ভরশীল। জনগণের চাওয়াকে বুঝতে না পারার ব্যর্থতার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের এ প্রতিবন্ধকতা আরও বেড়ে যায়।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সবচেয়ে ধারাবাহিক সমালোচনাগুলোর একটি ছিল অনিশ্চয়তা নিয়ে। দেশের মানুষ বারবার কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছে। সরকারের রোডম্যাপ কী? নির্বাচনের আগে কোন সংস্কারগুলো অপরিহার্য মনে করছে সরকার? কোন সংস্কারগুলো একটি নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া যেতে পারে? সাফল্যের মাপকাঠি কী হবে? এই সরকার কতদিন স্থায়ী হবে? এ প্রশ্নগুলো ছিল খুব স্বাভাবিক। জনগণ স্বভাবতই সরকারের লক্ষ্য এবং মেয়াদের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা জানতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রশ্নের উত্তর সর্বদাই মনে হতো অসংলগ্ন ও অসম্পূর্ণ।

 

 

 

 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের পক্ষ থেকে বার্তাও পরিবর্তিত হয়েছে। তাদের অগ্রাধিকারগুলোও বদলে গেছে। বদলে গেছে প্রত্যাশাও। দেখা যায়, সমাজে বিরাজমান অনিশ্চয়তা-বিশৃঙ্খলার চেয়েও জনমনে জল্পনা-কল্পনা বাড়তে শুরু করে সরকারের মেয়াদ নিয়ে। এ সার্বিক অনিশ্চয়তা এমন একটি শূন্যতা তৈরি করে, যা পূরণ করতে রাজনীতিকরা উদগ্রীব ছিলেন। সরকার যখন নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, তখন অন্যরা সেই সুযোগ নেয়। জল্পনা-কল্পনা সন্দেহ বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে স্বভাবতই জনগণের আলোচনার বিষয়গুলো সুস্পষ্ট তথ্যের পরিবর্তে অনুমান দ্বারা চালিত হতে থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রে এর ফল বিস্তৃত হয় রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত।

 

 

 

 

জনআস্থা শুধু একটি রাজনৈতিক ভিত্তি নয়। অর্থনৈতিকও বটে। বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতের নিরাপদ পরিবেশের নিশ্চয়তা খুঁজতে থাকে এবং এর ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত নেন। পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে মনে হলেই কেবল তারা ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন। এটা স্বাভাবিক। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা না থাকলে উদ্যোক্তারা পুঁজি বিনিয়োগ করেন না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়টাতে তাই অনেক ব্যবসায়িক নেতা সতর্ক ও সন্ত্রস্ত থাকেন। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় তারা এগোয়নি। বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। কোম্পানিগুলো প্রবৃদ্ধির দিকে না তাকিয়ে তারল্য সংরক্ষণে মনোযোগী হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে ব্যবসায়ীরা বিরত থেকেছে। অনেকেই দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গতিপথ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার জন্য করতে থাকে অপেক্ষা।

 

 

 

 

 

সংকটকালে ব্যবসায়ীদের এ প্রবণতা শুধু বাংলাদেশে নয়। বিশ্বজুড়েই লক্ষ্য করা যায়। সব জায়গায়ই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কালে বিনিয়োগ গতি কমে যায়। বেসরকারি খাত সবসময় পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দেয়। পূর্বাভাস খারাপ বা অনিশ্চিত হলে সতর্কতা অবলম্বন করাই যৌক্তিক। বিনিয়োগের ধীরগতির প্রভাব খোদ সরকার কাঠামোর ভেতরেও অনুভূত হয়।

 

 

 

 

এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনিশ্চয়তাপূর্ণ পরিবেশে আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও ধীরে ধীরে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। যে কর্মকর্তারা সাধারণত প্রকল্প অনুমোদন করতেন কিংবা গতানুগতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতেন, তারা দায়িত্ব পালন করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন না। যে কোনো ফাইল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতো। ফাইল অনুমোদনে দেখা দিল ধীরগতি। যে বিষয়গুলো একসময় নিম্নস্তরেই সমাধান করা যেত, সেগুলোর জন্য ক্রমশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন পড়ল। এক ধরনের অতিসতর্কতামূলক পরিবেশের উদ্ভব ঘটল। কর্মকর্তারা এ সতর্কতা কেন অবলম্বন করলেন, তা সহজেই বোধগম্য। তারা ভাবলেন, এমন অস্থির ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো ভুল করে বসলে তারা পেশাগত ক্ষতির শিকার হতে পারেন। কিন্তু এর প্রভাব ছিল ভয়াবহ। এর ফলে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়। প্রকল্পগুলোয় আসে ধীরগতি। পিছিয়ে পড়ছিল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। নিয়মিত কাজ হয়ে উঠছিল কষ্টসাধ্য।

 

 

 

 

যেসব সরকারি কাজের জন্য দ্রুত উদ্যোগ দরকার, বিরাজমান অনিশ্চিত পরিবেশে সেসব ক্রমেই গতি হারিয়েছিল। অনেক পর্যবেক্ষক তখন এ স্থবিরতার কথা বর্ণনা করেছেন এভাবে—সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে তা স্থগিত রাখা হচ্ছিল; দায়িত্ব গ্রণের পরিবর্তে আরেক হাতে পাঠানো হচ্ছিল। অর্থাৎ, পদ্ধতিগত সতর্কতার কাছে কাজটাই আসলে হয়ে পড়ছিল গৌণ। এটা বাস্তবতা যে, আত্মবিশ্বাস আচরণকে প্রভাবিত করে। আত্মবিশ্বাস কমে গেলে মানুষ সংশয়ে পড়ে। আর এ সংশয় বিনিয়োগ, প্রশাসন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

 

 

 

 

রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও আস্থার সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। সংস্কার আপনাআপনি হয় না। কমিশন গঠন করা তুলনামূলকভাবে সহজ। সুপারিশ প্রণয়ন করা সে তুলনায় কঠিন। আর সে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা আরও কঠিন। তাই সংস্কার সফল করতে হলে জনগণের সম্মতি অনিবার্য। জনগণকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, তারা নিষ্ক্রিয় দর্শক নন। তারা এ প্রক্রিয়ার অংশ। রাজনৈতিক অংশীজনের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে, তাদের কথাও শোনা হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সংস্কারকে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টি না দেখে। প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বুঝতে পারে যে, প্রক্রিয়া বৈধ। মজার ব্যাপার হলো, এখানেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি ভয়ানকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হয়।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক সংস্কার উদ্যোগ এক্ষেত্রে একটি কার্যকর উদাহরণ। মনে রাখা জরুরি, সাংবিধানিক প্রশ্নগুলো শুধু টেকনিক্যাল বিষয় নয়। এ প্রশ্নগুলো রাজনৈতিক ক্ষমতা গঠন এবং সে ক্ষমতা প্রয়োগের মৌলিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত। ফলে এ ধরনের সংস্কার যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিকশিত হয়, সেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের কারণে বৈধতা লাভ করে।

 

 

 

 

প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন তাই দায়িত্ব, কর্তৃত্ব এবং জবাবদিহিকে প্রভাবিত করে। এমনকি সুপরিকল্পিত সংস্কারও প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে পারে যদি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা মনে করেন যে, তাদের প্রয়োজনীয় আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচনি সংস্কার উদ্যোগ সম্ভবত সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হবে। কারণ, নির্বাচনি নিয়মনীতির বৈধতা অনেকাংশে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। টেকনিক্যালি সঠিক একটি প্রস্তাবও ব্যর্থ হতে পারে যদি মূল অংশীজন প্রক্রিয়াটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বা বর্জন করার মতো মনে করেন। এসব কিন্তু সংস্কারের বিরুদ্ধের যুক্তি নয়। বরং, অর্থবহ সংস্কার অনেক সময় অতিপ্রয়োজনীয়। শিক্ষা নিতে হবে এভাবে যে, সংস্কার ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়া কিন্তু মূল লক্ষ্যের সঙ্গে বিরোধিতা করা নয়। কারণ, তারা একে অপরের পরিপূরক। ঐকমত্য ছাড়া সংস্কার ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ ছাড়া সংস্কার বিতর্কিত হয়ে ওঠে। জনআস্থা ছাড়া সংস্কারকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সুতরাং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে একটি বৃহত্তর সত্য সামনে এনেছে। সেটা হচ্ছে, জনআস্থা একটি সরকারের সবচেয়ে মূল্যবান রাজনৈতিক পুঁজি, যেখানে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

 

 

 

 

মনে রাখতে হবে, সরকার সমালোচনা সহ্য করে টিকে থাকতে পারে। নীতিগত ব্যর্থতা থেকেও রক্ষা পেতে পারে। তুমুল বিতর্ক-বাদানুবাদ তাদের বাঁচাতে পারে। কিন্তু আস্থা কমতে শুরু করলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। জনগণ সরকারের উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করলে পরবর্তী সময়ে সব সিদ্ধান্তকে টিকিয়ে রাখা তার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারের প্রতিটি সংস্কার উদ্যোগ আরও বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। প্রতিটি উদ্যোগই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। আস্থা কিন্তু সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে। সরকারের প্রতি আস্থা বেশি থাকলে জনগণ অনিশ্চয়তাও সহ্য করতে আগ্রহী। কারণ তারা বিশ্বাস করে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে। আর আস্থা কমে গেলে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্তগুলোও সন্দেহের চোখে দেখা হয়। এ বাস্তবতা কিন্তু ড. ইউনূস জানতেন। কারণ তার কর্মজীবন জুড়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আস্থার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তার সামাজিক উদ্যোগগুলো আস্থার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। আর্থিক ব্যবস্থাগুলো আস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হয়ে তিনি ভুলে গেলেন সরকারের টিকে থাকার সূত্রও ওই আস্থাই।

 

 

 

 

 

কোনো সংস্কার কমিশন আস্থা তৈরি করতে পারে না। কোনো সাংবিধানিক সংশোধনী আইন করে আস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। কোনো প্রশাসনিক অধ্যাদেশ বৈধতা সৃষ্টি করতে পারে না। এসব স্বচ্ছতা, দৃঢ়তা, জবাবদিহি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক তৎপরতার মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় ছিল মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ। প্রাতিষ্ঠানিক, সাংবিধানিক কিংবা প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ নয়। তাই দেশে বিরাজিত গভীর অনিশ্চয়তা ও টালমাটাল সময়ে উচ্চাভিলাষী সংস্কার সাধনের জন্য জনগণের আস্থা বজায় রাখাই ছিল সরকারের বড় দায়িত্ব। যে কোনো সরকারের জন্যেই এ চ্যালেঞ্জ থাকে। ফলে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আইন পরিবর্তন করা নয়, বরং জনগণের আস্থা অর্জন করা।

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা