সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

‘টয় স্টোরি ৫’ প্রিমিয়ারে নজর কাড়লেন টেইলর সুইফট

হলিউডে যেন বসেছিল তারার মেলা। বহু প্রতীক্ষিত অ্যানিমেশন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘টয় স্টোরি’র পঞ্চম কিস্তির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার ঘিরে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে বসেছিল তারকাদের মহামিলনমেলা। তবে জমকালো এই আয়োজনের সব আলো কেড়ে নেন পপ সম্রাজ্ঞী টেইলর সুইফট। একেবারে আকস্মিক উপস্থিতিতে ভক্তদের বিস্ময়ে ভাসিয়ে দিয়ে তিনি প্রিমিয়ারের সবচেয়ে বড় চমক হয়ে ওঠেন। আর সেই মুহূর্তে ‘টয় স্টোরি ৫’ ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা যেন পৌঁছে যায় নতুন উচ্চতায়।

 

 

শুধু লাল গালিচায় হাঁটাই নয়, মঞ্চে উঠে সরাসরি পারফর্মও করেন তিনি। এই সিনেমার সাউন্ডট্র্যাকের জন্য তৈরি নিজের মৌলিক গান ‘আই নিউ ইট, আই নিউ ইউ’ গেয়ে শোনান সুইফট।

 

 

পারফরম্যান্সের সময় তার সঙ্গে মঞ্চে যোগ দেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজির কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক ও অস্কারজয়ী সুরকার র‌্যান্ডি নিউম্যান। নিউম্যানের পিয়ানোর সুরে সুইফটের কণ্ঠের মেলবন্ধন উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। শুধু নিজের গানই নয়, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির চিরচেনা থিম সং ‘ইউ’ভ গট আ ফ্রেন্ড ইন মি’ গেয়েও হলভর্তি দর্শক মাতান টেলর সুইফট।

ডিজনি ও পিক্সারের ‘টয় স্টোরি ৫’ সিনেমার গল্পে এবার থাকছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। প্রিয় চরিত্র উডি (টম হ্যাংকস), বাজ লাইটইয়ার (টিম অ্যালেন) এবং জেসি (জোয়ান কিউস্যাক) সহ পুরো খেলনা দলটিকে এবার এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের ছোট্ট বন্ধু বনির ঘরে আগমন ঘটে লিলি প্যাড (গ্রেটা লি) নামের একটি আধুনিক ট্যাবলেট ডিভাইসের। বনির জন্য আসলে কোনটি ভালো—তা নিয়ে খেলনাদের চিরন্তন ভাবনার বিপরীতে একদম নিজস্ব কিছু আইডিয়া নিয়ে হাজির হয় এই ট্যাবলেটটি। আর এ নিয়েই জমজমাট রূপ নেয় সিনেমার গল্প।

 

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী জনপ্রিয় পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্যান্টন, যার ঝুলিতে রয়েছে ‘ওয়াল-ই’, ‘ফাইন্ডিং নেমো’ এবং ‘ফাইন্ডিং ডোরি’র মতো মাস্টারপিস। সহ-পরিচালক হিসেবে তার সঙ্গে আছেন কেন্না হ্যারিস। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন লিন্ডসে কলিন্স। বরাবরের মতোই এর আবহ সংগীতের দায়িত্বে আছেন অস্কারজয়ী র্যান্ডি নিউম্যান, এটি টয় স্টোরি ফ্র্যাঞ্চাইজির কোনো সিনেমায় তার পঞ্চম কাজ।

জমকালো এই প্রিমিয়ারে সিনেমার মূল কণ্ঠশিল্পীরা হাজির হয়েছিলেন। লাল গালিচায় দেখা মেলে টম হ্যাংকস, টিম অ্যালেন, জোয়ান কিউস্যাক, কোনান ও’ব্রায়েন, গ্রেটা লি, ক্রেগ রবিনসন, টনি হেল এবং স্কারলেট স্পিয়ার্সের মতো তারকাদের।

প্রযুক্তিনির্ভর শান্তিরক্ষা মিশনের রূপরেখা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ দিন দিন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। তাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে।

 

 

মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে সারা বিশ্বের সেই সাহসীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান, যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয় জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।

 

 

কিন্তু এ পথ বন্ধুর ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা সহজ ছিলো না। শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এই মহান ও মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাদের।

 

 

শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে একটি প্রতিকূল পরিবেশে আপনারা নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের এই অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে দেশের সামরিক বাহিনীর অবদান তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে শহীদ হওয়া শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহতদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩ টি দেশের প্রায় ৬৩ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেয়ারও প্রস্তুতি চলছে।

 

 

তিনি বলেন, পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য সাহসের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আমাদের এই গৌরবের ইতিহাস একদিনে রচিত হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী একটি আস্থা ও নির্ভরতার নাম।

 

 

সশস্ত্রবাহিনী একটি দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। তাই এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয় সেটি রক্ষা করা সশস্ত্রবাহিনীর কর্তব্য।

 

 

তিনি বলেন, তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে, দেশে সশস্ত্রবাহিনীর কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কিছু অপতৎপরতা কখনো কখনো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে। দেশে বিদেশে সশস্ত্রবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট করতে নানা তৎপরতাও বিদ্যমান ছিল। তবে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ১৯৭৫ এর সাত নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

 

 

তারেক রহমান বলেন, এরপরও বিভিন্ন সময়ে নানারকম ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর ঐক্য বিনষ্টের তৎপরতা চলেছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্রবাহিনীর ওপর সর্বগ্রাসী আঘাতটি এসেছিল। সেই আঘাতের ফলে বাংলাদেশে কি ঘটেছিলো সেটি আমাদের সবার জানা। তাই, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রধান বার্তাটি হলো, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড’ ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুই অতীত চর্চা নয় বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে স্বমহিমায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা সশস্ত্রবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে বা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা দেশে বা বিদেশে যেখানে যে দায়িত্ব পালন করছি, সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

 

 

বর্তমান বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায়।

 

 

বাংলাদেশ সব সময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর। এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিম-লে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনী আধুনিক করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধানে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের প্রতি যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, আমরা তা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যে কোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

 

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা তাদের আন্তরিকতা, কর্তব্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের গৌরবোজ্জ¦ল দৃষ্টান্ত বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিটি সদস্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি, দেশের মান-সম্মানের বাহক। আশা করি, আগামী দিনেও যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালন করতে বিভিন্ন দেশে যাবেন, তারা একইভাবে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সুনাম সমুন্নত রাখবেন।

 

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রমুখ।

 

 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ সশস্ত্রবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ ১০ জুন এটি পালিত হচ্ছে।

 

পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে ১৯ জন গ্রেপ্তার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

 

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

 

 

পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার অবৈধ থ্রি-হুইলার আটককে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্ত হাইওয়ে পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- বিল্লাল হোসেন, ইউসুফ মিয়া, হাসান, রিফাত, হাবিব, মফিজ, আক্তার হোসেন, সিফাত, রবিউল, আবু ইউসুফ ইকরাম, জুয়েল, সারোয়ার হোসেন, নুপুর সাহা, সোহাগ মিয়া, বিল্লাহ, সোহেল মিয়া, ইব্রাহিম খলিল, দেলোয়ার হোসেন ও আজিজুল।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

পুলিশ সুপার বলেন, মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

দুর্গম যাত্রায় ভালোবাসার সন্ধান, আসছে মিমের ‘লাইফলাইন’

ভালোবাসার জন্য মানুষ কত দূর যেতে পারে, কত ত্যাগ স্বীকার করতে পারে—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। শহুরে এক তরুণীর ভালোবাসার খোঁজে অজানার পথে ছুটে চলার গল্প নিয়ে নির্মিত এই ছবিটি আগামী ২১ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাবে। নির্মাতা কাজী আসাদের এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম।

 

 

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে প্রকাশিত হয়েছে ‘লাইফলাইন’-এর ট্রেলার। সেখানে দেখা যায়, অনন্যা নামের এক তরুণী কাউকে খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে দুর্গম পথে যাত্রা শুরু করেন। তার এই অভিযানে সঙ্গী হন রিজওয়ান পারভেজ। মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন অজানা গন্তব্যে ছুটে চলার পাশাপাশি তাদের মধ্যে তৈরি হয় নানা দ্বন্দ্ব ও তর্ক-বিতর্ক, যা গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

 

নির্মাতা কাজী আসাদ জানান, ড্রামা ও সোশ্যাল ড্রামা ঘরানার গল্প তার বরাবরের পছন্দ। গল্পের ধারণা শোনার পরই তিনি এটিকে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা দেখেছিলেন। তার ভাষায়, “গল্পটির মধ্যে যেমন সামাজিক সচেতনতার বিষয় রয়েছে, তেমনি আছে আবেগ ও মানবিক সম্পর্কের গভীরতা।”

অভিনেতা রিজওয়ান পারভেজের মতে, ‘লাইফলাইন’ শুধু ভালোবাসার গল্প নয়, এটি দায়িত্ববোধ ও অনুভূতিরও গল্প। তিনি বিশ্বাস করেন, চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মধ্যে নতুন ধরনের উপলব্ধি তৈরি করবে।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, উঁচু-নিচু মাটির রাস্তা ও তীব্র গরমের কারণে কাজ করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। তবে দৃশ্য ভালোভাবে সম্পন্ন হওয়ার আনন্দই পুরো ইউনিটকে নতুন উদ্যমে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে।

‘লাইফলাইন’-এ মিম ও রিজওয়ান পারভেজের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আ খ ম হাসান, খায়রুল আলম সবুজ, নাজনীন হাসান চুমকি, আনিসা নূর আয়াত এবং ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা। ছবিটির গল্প লিখেছেন মাহমুদুল হাসান টিপু ও কাজী আসাদ। চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনায় কাজী আসাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আসাদুজ্জামান আবীর।

 

হিলিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিস্তারে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনাজপুরের হিলিতে ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় হাকিমপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ও অতিথিরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সাধারণ কৃষকদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে টেকসই কৃষির উন্নয়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অডিটোরিয়াম চত্বরে তিনটি বিশেষ স্টলের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন ফলন ও কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়।
​উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা শাহ আলম, হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা খাতুন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানাসহ স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রগতিশীল কৃষকবৃন্দ।

ওমান উপকূলে অগ্নিকাণ্ডের কবলে তেলবাহী জাহাজ, নিখোঁজ দুই নাবিক

ওমানের উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগার পর জাহাজটির দুই ক্রু সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওমানের সোহারের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার (২০ নটিক্যাল মাইল) দূরে অবস্থানরত একটি ট্যাঙ্কারের ইঞ্জিন কক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়।

 

 

সংস্থাটি জানায়, ঘটনায় অন্তত একজন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কেও কোনো তথ্য জানায়নি যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস।

এদিকে, এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনী উভয় পক্ষই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষের আরোপিত দ্বৈত অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হাজার হাজার জাহাজ আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ভারতের নতুন হাইকমিশনারের ঢাকা সফর শুক্রবার

আগামী শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকায় পৌঁছাবেন ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

 

 

গেল ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লেটার্স অব ক্রিডেনশিয়ালস (পত্রাধিকার) গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পালনের আইনি ও কূটনৈতিক অনুমোদন লাভ করেন। এপ্রিল মাসে নিয়োগ ঘোষণার পর থেকে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং এখন ঢাকায় এসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে ক্রিডেনশিয়ালস উপস্থাপন করে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশন শুরু করবেন।

 

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক নেতাকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানো দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে দীনেশ ত্রিবেদীর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের নিয়োগ এবং আগমন উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দীনেশ ত্রিবেদী ১৯৫০ সালের ৪ জুন নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তার বয়স ৭৬ বছর। তিনি গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও কলকাতায় বেড়ে উঠেছেন এবং বাংলা সংস্কৃতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতা থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়, অস্টিন থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। কংগ্রেস দিয়ে শুরু করে জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন—রাজ্যসভায় দুবার (১৯৯০-৯৬ এবং ২০০২-০৮) এবং লোকসভায় ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তিনি রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬-১৭ সালে তিনি ‘অসামান্য সংসদ সদস্য’ পুরস্কার লাভ করেন।

গেল এপ্রিলে ভারত সরকার দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা করে। তিনি ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। এটি একটি ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক নিয়োগ। সাধারণত কূটনৈতিক পদে ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাটদের পাঠানো হয়, কিন্তু বর্তমান স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বেছে নিয়েছেন।

 

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ত্রিবেদী যেহেতু বাংলা ভাষায় সাবলীল এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও সংস্কৃতির গভীর জ্ঞান রাখেন। তাই বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোদী সরকার দীনেশকেই ঢাকায় পাঠাচ্ছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র কালবেলাকে জানান, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কয়েকটি মূল চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি নবায়ন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা, জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য এমন একজন ‘পলিটিক্যাল এনভয়’ প্রয়োজন ছিল যিনি উভয় দেশের রাজনৈতিক মহলে সহজে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন।

 

 

ত্রিবেদীর পশ্চিমবঙ্গের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং বাংলা ভাষার দক্ষতা এখানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিয়োগের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, দু দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত করতে চায় ভারত।

 

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শুধু দুই সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটির মূল ভিত্তি দুই দেশের জনগণের মধ্যে। এই নিয়োগ একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। দীনেশ ত্রিবেদী শুধু একজন কূটনীতিক নন, তিনি একজন রাজনৈতিক যোগাযোগকারী। তার মাধ্যমে দিল্লি এবং ঢাকার মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক স্তরের আলোচনা সহজ হবে। দীনেশ ত্রিবেদী যদি এই মানুষে মানুষে যোগাযোগকে শক্তিশালী করতে পারেন, তাহলে তার মিশন সফল বলে বিবেচিত হবে।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এমপি রতন, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার নির্দেশ

গতকালকের ঘূর্ণিঝড়ে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বড় বড় গাছপালা উপড়ে গিয়ে বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটির ওপর পড়ে। এতে প্রায় ১০ থেকে ১২টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যায় এবং এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন বাউশিয়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
এ সময় গজারিয়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।পরিদর্শনকালে এমপি রতন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তিনি বিএনপির গজারিয়া উপজেলার সকল নেতা-কর্মীকেও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।এ সময় গজারিয়া জোনাল অফিসের ডি জি এম আশরাফুল আলম উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ খুঁটি ও তার মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং এলাকাবাসীকে যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

কুড়িগ্রামে এনসিপির জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ

কুড়িগ্রাম জেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি’র) জাতীয় নারীশক্তির পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত কমিটিতে আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিবসহ মোট ৯২ সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ৯ জুন কেন্দ্রীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ মুখ্য সংগঠকের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ৯২ সদস্যবিশিষ্ট বিশাল আকারের কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। রাতে কেন্দ্রীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু স্বাক্ষর করার পর মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম উক্ত কমিটির তালিকা প্রকাশ করেন। কমিটিতে জেলার আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাসিরা খন্দকার নিসা এবং সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোছাঃ মেরিনা পারভিন।
ছয় মাস মেয়াদি প্রকাশিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছেন মাহবুবা বেগম। এছাড়াও যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন মোছাঃ ফিরোজা খাতুন, মোছাঃ শেফালী বেগম, মোছাঃ উম্মে কুলসুম তিথি, মোছাঃ শাহিদা বেগম, মোছাঃ ঝরনা আক্তার, মোছাঃ তাবাসসুম শরিফা, আয়েশা সিদ্দিকা ও ছাবিনা ইয়ামিন।
উক্ত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসাবে রয়েছেন মোসলেমা আক্তার। এবং যুগ্ম সদস্য সচিব পদে নির্বাচিত হয়েছেন চামেলী আক্তার, মোছাঃ লাভলী খাতুন, মোছাঃ ফাতেমা তুজ জোহরা ইতি, মোছাঃ তাফরিন জাহান জুই, মোছাঃ কবিতা আক্তার ও মোছাঃ সাবিনা ইয়াসমিন।
জাতীয় নারীশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছেন মোছাঃ নাজমা আক্তার নীলা, হাবিবা আক্তার প্রিয়া, মোছাঃ সাবিনা খাতুন, আফরোজা খাতুন, রুবিনা খাতুন, মোছাঃ কল্পনা খাতুন, এশা মনি, মোছাঃ মরিয়ম খাতুন, মারিয়া খাতুন, অপু কালি বকশি হাসি, হেনা পারভীন। কমিটিতে সদস্য পদে রয়েছেন আরও অনেকে।
রাতে কমিটির তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরপরই জেলা জুড়ে শুরু হয় আনন্দ উদ্দীপনা। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত নেত্রীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম ২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ। এছাড়াও আরও অভিনন্দন জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়াসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীবৃন্দ।
এ বিষয়ে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়া বলেন, আমরা নারীদের নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানাই। দেশে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের নেতৃত্ব দেশ এবং জাতিকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কুড়িগ্রাম জেলার অবহেলিত দুস্থ নারীদের নিয়ে কাজ করবে আমাদের এই নতুন নেত্রীরা। নারীদের কিভাবে সামনের সারিতে অগ্রসর হতে হবে সে নেতৃত্ব দিবেন নবাগত কমিটির সদস্যরা।
নবাগত কমিটির জাতীয় নারীশক্তির সদস্য সচিব মোছাঃ মেরিনা পারভিন বলেন, প্রথমে ধন্যবাদ জানাই কুড়িগ্রাম জেলার সর্বস্তরের মানুষদের। যারা আমাদের এই নারীদের নেতৃত্বকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের পাশে ছিলেন। আমরা জাতীয় নারীশক্তির পদ কে বড় মনে করব না। আমরা যেন এই পদের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করতে পারি, সব সময় সেই চেষ্টাই করব। আমরা কুড়িগ্রাম জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত নারীদের নিয়ে কাজ করব। আমরা নারীদের কর্মমুখী করতে এবং নারীদের শিক্ষা-দীক্ষায় পরিপূর্ণ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সর্বদা সোচ্চার থাকব। যেন আমরা নারীরা কোন ক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার না হই। এবং নারী নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্ষণ, শোষণ ইত্যাদির হাত থেকে নারীদের রক্ষায় কাজ করে যাব সব সময়।

রাণীনগরে দেড় মাস ধরে নিখোঁজ মজনু, সন্ধান পেতে পরিবারের আকুতি

নওগাঁর রাণীনগরে মজনু সাখিদার (৪০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি গত দেড় মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার গোনা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের হুরমত সাখিদারের ছেলে।

মজনু সাখিদার মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত তাকে খুঁজে পেতে পুলিশ-প্রশাসন ও জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছেন তার পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দেড় মাস আগে মজনু সাখিদার হঠাৎ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফিরেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি।

নিখোঁজ মজনু সাখিদারের বাবা হুরমত সাখিদার ও মাতা রাশেদা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা মজনুকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন। মজনু সাখিদারের ছেলে আলামিন জানান, পরিবারের সবাই তার বাবা মজনুকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন। তিনি সমাজের সকল মানুষের কাছে মজনুর সন্ধান পেতে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তার পরিবার জানায়, মজনু সাখিদার মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তিনি কোথায় আছেন বা কী অবস্থায় আছেন তা নিয়ে তারা অত্যন্ত চিন্তিত। দ্রুত তাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ-প্রশাসন ও জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছেন।

যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি মজনু সাখিদারের সন্ধান পান তাহলে তার ছেলে আলামিনের এই (০১৩৩৮-০২৬৮৪১) মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, মজনু সাখিদার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় কেউ কোন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেনি। তারপরেও আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। তার সন্ধান পেতে পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগীতা করা হবে।

মাদক কারবারের অভিযোগে আটক ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

 

জামালপুরের মেলান্দহে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ তিন মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

 

 

 

গত সোমবার (৮ জুন) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে পুলিশ।

 

 

 

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন— মো. মোস্তফা (৫০), ৮ নং ফুলকোচা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫২) এবং মো. মিনহাজ উদ্দিন (৪১)।

 

জানা গেছে, মেলান্দহ উপজেলার ৭নং চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের ভাবকী সিঙ্গের কান্দা এলাকা থেকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হওয়ায় স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযুক্ত নেতার দ্রুত বহিষ্কার দাবি করেছেন।

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

এদিকে, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসার পর স্থানীয় নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, মাদকের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে না। তাই অভিযোগের সত্যতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

 

 

 

জামালপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

এসএসসি পাসেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরির সুযোগ

 

এসএসসি পাসেই চাকরি দিচ্ছে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অধীনস্থ বিভিন্ন অফিসসমূহে ৪টি পদে ১৮ জনকে নিয়োগ দেবে। আবেদন শুরু হয়েছে ৩ জুন সকাল ১০টা থেকে, চলবে ৩০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

পদের বিবরণ

আবেদন শুরু: ৩ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা

আবেদনের শেষ তারিখ: ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

চাকরির ধরন: অস্থায়ী

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

কর্মস্থল: মাদারীপুর

বয়স: ১ মার্চ ২০২৬ তারিখ ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহনযোগ্য হবে না।

 

 

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

 

 

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ প্রতিটি পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, তালিকায় ১৭ জেলা

 

দেশের ১৭ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

 

দেশের ১৭ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কবার্তা দেখাতে বলা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

 

 

 

একইসঙ্গে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

ব্যভিচার মামলা থেকে খালাস পেলেন নাসির হোসেন ও তামিমা

 

অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, তালাক ছাড়া বিয়ে, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।

 

 

 

এর আগে বেলা ১১টা ৪৭ মিনিটের দিকে তামিমার হাত ধরে এজলাসে হাজির হন নাসির। এসময় উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলাটিতে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।

 

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন।

 

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির। তাম্মি ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী কন্যা মারাত্মভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

 

 

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নিয়ে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক ‘ইসলাম’ নয়, জামায়াতে ইসলামীও ‘ইসলাম’ নয়। সুতরাং সবকিছুতে ইসলামের দোহাই দেবেন না।

 

 

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের তৃতীয় দিন ৬৮ বিধিতে দেওয়া ইসলামী ব্যাংকসংক্রান্ত বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের নোটিশের জবাবে তিনি একথা বলেন।

 

 

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলাম নাকি ব্যাংকের মালিক না। আবার তারা বলছে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। কয়দিন আগে জামায়াতে ইসলামের এক বন্ধুর সঙ্গে কথা হয়েছে, সে এ কথা বলেছে। আমি তার নাম নিলে আবার এখানে (সংসদ) তিনি দাঁড়াতে পারেন। এছাড়া জামায়াতের দুজন এমপিও ছিলেন, তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এদের একজন পরাজিত এমপি, আরেকজন জামায়াত নেতা ছিলেন।’

 

স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা বলে দিচ্ছেন ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। মাননীয় স্পিকার- ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের ওপর হাত দেবেন না, দোহাই দেওয়া কিন্তু ঠিক নয়।

 

জামায়াতে ইসলামী একবার ইসলামী ব্যাংক দখলে রেখেছিল, সেটা এখন বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এর যন্ত্রণা বুঝতে পারছেন বলে জানান মন্ত্রী।

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এবার পয়েন্ট টু পয়েন্টে আসি। এখন একবার যেই ব্যাংক আজান দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে- এ যাতনা তো আমরা বুঝি। সুতরাং যারা পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহক বলে রাস্তায় আন্দোলন করছে। ভিডিওটা দেখেন তাদের রাজনৈতিক পরিচয়। আমাদের মধ্যে অনেকে গ্রাহক আছে। গ্রাহককে বলা হচ্ছে বলেন আপনার অ্যাকাউন্ট আছে।’

 

বছরে বাস্তুহারা লক্ষাধিক মানুষ

নদীভাঙনে ছোট হয়ে আসছে বরিশাল

 

নদীবেষ্টিত অঞ্চল বরিশাল। কীর্তনখোলা, পদ্মা, মেঘনা, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ, তেঁতুলিয়া, সন্ধ্যা, কারখানাসহ অসংখ্য নদী বয়ে চলেছে বরিশালের চারদিক থেকে। ফলে বছরজুড়েই নদীভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে বরিশালের মানচিত্র। নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

 

 

 

স্যাটেলাইট চিত্র বলছে, নদীভাঙনের কারণে বরিশালের ভৌগোলিক মানচিত্র ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। বর্তমানে বরিশাল বিভাগের প্রায় ১০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মকভাবে ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে।

 

 

 

অন্যদিকে, পরিবেশবিদ ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বলছে, শুধু গত পাঁচ বছরেই বরিশালের মানচিত্র থেকে নদীতে বিলীন হয়েছে অন্তত ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা।

মূলত অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ইটভাটার জন্য নদীর তীর কেটে নেওয়া এবং যথাযথভাবে নদীশাসনের অভাবেই প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহলের।

 

জানা গেছে, বরিশাল জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুই উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জ এবং হিজলা। এ দুটি উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে গেছে পদ্মা, মেঘনা, কালাবদর, তেঁতুলিয়াসহ বেশ কিছু শাখা নদী। ফলে বছরজুড়েই দুটি উপজেলার একের পর এক গ্রাম নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে।

 

 

স্থানীয়দের দাবি- গত ৩০ বছর ধরে মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়ন। উপজেলার সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ মোল্লা জানালেন, মেঘনার বিশাল জলরাশির দিকে তাকিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন হারিয়ে যাওয়া বসতভিটার।

 

 

 

 

অশ্রুসজল চোখে নুর মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, ‘যে মাটিতে আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে, আজ তার পুরোটাই মেঘনা নদীর গর্ভে। পাকা ঘরবাড়ি, ধানি জমি, বাপ-দাদার ভিটে সবকিছুই চোখের সামনে তলিয়ে গেছে।’

 

 

 

একই এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বেগমের আশঙ্কা, নদী যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে দ্রুত বাঁধ না দিলে পুরো ইউনিয়নই একদিন মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। তারা ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহায়তা নয়, শেষ সম্বল রক্ষায় মেঘনায় টেকসই বাঁধ চান।

 

 

 

অন্যদিকে হিজলা এবং মেহেন্দিগঞ্জের মতোই সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে দিশেহারা পার্শ্ববর্তী মুলাদী এবং বাবুগঞ্জ উপজেলাবাসী। বিশেষ করে যুগ যুগ ধরে সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁর তীব্র ভাঙনে বাবুগঞ্জের মানচিত্র থেকে হারাতে বসেছে একের পর এক গ্রাম। স্থানীয়দের দাবি—নদীবেষ্টিত এই উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে মাধবপাশা ছাড়া বাকি সব কটি ‘কেদারপুর, চাঁদপাশা, দেহেরগতি, রহমতপুর ও জাহাঙ্গীরনগর’ ইউনিয়নে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

এ ছাড়া কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বরিশাল সদর উপজেলার একের পর এক গ্রাম। বিশেষ করে চরবাড়িয়া, শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন। এর মধ্যে কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরবাড়িয়া ইউনিয়ন। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরও গত বর্ষা মৌসুমে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

 

 

 

চরবাড়িয়ার বাসিন্দা আবদুল ছালাম গাজী বলেন, নদী আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে। তিনবার বাড়ি হারিয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন এই জায়গাটাও ভাঙনের মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের নদীতে ডুবে মরা ছাড়া উপায় থাকবে না।

 

 

 

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৮৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বছরের পর বছর নদীভাঙনের কারণে সংকুচিত হচ্ছে বরিশালের মানচিত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন এই ঝুঁকিকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরও অনেক এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

 

 

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর বরিশাল বিভাগীয় আহ্বায়ক রফিকুল আলম বলেন, অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই প্রতি বছর বরিশালে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১০২ কিলোমিটার বাঁধ বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিগত ৫-৮ বছরে নদীভাঙন রোধে অন্তত ১০টির মতো প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যার অধিকাংশই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আটকে গেছে। যে কারণে নদীভাঙনের কবল থেকে বরিশাল রক্ষা শুধু প্রতিশ্রুতিতেই আটকে আছে।

 

 

 

এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য কয়েকটি বড় প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

শূন্য বেকারত্বের কথায় ভুলিয়ে ইউনূস তৈরি করেন শূন্য জনআস্থা

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেড় বছরের শাসনামলে দেশে সৃষ্টি হয় নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলার। সুশাসন বিনষ্ট হয়। হারায় বাকস্বাধীনতা। গণমাধ্যমেও অস্থিরতা দেখা দেয়। সেখানে নেমে এসেছিল ত্রাস। জবাবদিহির অনুপস্থিতি, দুর্নীতি-অনিয়মের মচ্ছবের অভিযোগ ওঠে। রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহারসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভঙ্গুর করার সব পাঁয়তারা লক্ষ করা যায়। যেন গণতান্ত্রিক চর্চার এক বিপরীত যাত্রা। মানুষের জান-মাল-মান-মর্যাদা রক্ষায় সর্বত্র ব্যর্থ হয় সরকার। সমালোচকরা তাকে মব সন্ত্রাসের জনকও বলে। চাপে পড়ে ভোট আয়োজন করলেও দেশের সার্বিক অবস্থা হয় শোচনীয়। ড. ইউনূসের বহুল উচ্চারিত ‘থ্রি জিরো’র বিপরীতে দেশে জন্ম নেয় নতুন তিন শূন্যের— শূন্য জবাবদিহি, শূন্য জনআস্থা, শূন্য গণতন্ত্র। অর্থাৎ ইউনূস দায়িত্ব ছাড়েন নতুন তিন শূন্যের জন্ম দিয়ে। তিন পর্বের বিশেষ লেখার আজ ছাপা হলো দ্বিতীয় কিস্তি অন্তর্বর্তী সরকারের রুটিন দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার তা শুরু থেকেই অগ্রাহ্য করে গেছে। দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে তারা বেশি বেশি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগের দিকে ধাবিত হয়।

 

 

 

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্বলতা খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয় সংস্কার কমিশন। অমীমাংসিত কাঠামোগত প্রশ্নগুলোর সমাধানের লক্ষ্যে সাংবিধানিক পর্যালোচনা-আলোচনা চালানো হয়। আইনের শাসনকে শক্তিশালী করার কথা বলে প্রস্তাব করা হয় বিচার বিভাগীয় সংস্কারের উদ্যোগ। রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও জনসেবার মানোন্নয়নের উপায় হিসেবে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য এ ধরনের বিশাল কর্মসূচি গ্রহণ করেনি।

অথচ তাদের স্মরণে রাখা উচিত ছিল যে, অন্তর্বর্তী সরকার এ এখতিয়ার রাখে কি না?

কারও প্রতিটি সুপারিশ বা প্রস্তাবের সঙ্গেই সবার একমত হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছিল। সব বিষয়ে যেন তাদের সঙ্গে একমত হতে হবে। সরকারের তৎপরতায় মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের সমস্যাগুলো রাজনৈতিক নয়, প্রাতিষ্ঠানিক। তার মানে তারা বোঝাতে চাইছিল যে, দেশে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য শুধু সরকার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; এজন্য প্রয়োজন সরকারের কার্যপদ্ধতির সংস্কার। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, জনগণ যদি বিশ্বাস করে যে, প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং প্রকৃত অর্থেই তা অন্তর্ভুক্তিমূলক, শুধু তখনই সংস্কার সফল হয়। আর সেখানেই ইউনূস সরকার বেশি ব্যর্থ হয়।

 

 

বাংলাদেশের নতুন ‘তিনটি শূন্য’-এর প্রথমটি যদি হয় ‘শূন্য জবাবদিহি’, তবে দ্বিতীয়টিকে বলা যেতে পারে ‘শূন্য জনআস্থা’। পরিহাসের বিষয় হলো, সেই সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন জনগণের আস্থাই ছিল তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

 

 

 

বছরের পর বছর রাজনৈতিক সংঘাতের পর বাংলাদেশের অনেক মানুষ একটি শান্তিপর্বের আশা করেছিল। জনগণ অন্তহীন সংঘাত চক্রের অবসান চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোয় মৌলিক পরিবর্তন আসবে। রাজনৈতিক বিভাজন কিংবা পরিচয় নির্বিশেষে সবার সম্মান অর্জন করতে সক্ষম হবে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা এমন একটি সরকার চেয়েছিল, যে সরকার বিরাজমান সব শত্রুতা বৈরিতার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের ভবিষ্যৎকে শান্তির পথে চালিত করতে পারবে। এক কথায়, একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করেছিল জনগণ।

 

 

 

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে খ্যাতি নিয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তা সাধারণত রাজনীতিবিদের থাকে না। কয়েক দশক ধরে তিনি একজন সংস্কারক, উদ্ভাবক এবং সামাজিক অগ্রগতির প্রবক্তা হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেন বলে মনে করা হয়। দেশের অনেক মানুষ তাকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে কাজ করতে সক্ষম এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখতে চেয়েছিল। জনগণ এমন আস্থাই রাখতে চেয়েছিল। নির্দ্বিধায় তার ওপর এ আস্থা ছিল এক অসাধারণ সুযোগ। মনে রাখা জরুরি, আস্থা কিন্তু স্থায়ী কিছু নয়। জনগণের এ আস্থাকে অবশ্যই কাজ, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু ঘটল—উল্টো। প্রাথমিকভাবে যারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করেছিল, দ্রুতই তারা সরকারের তৎপরতা এবং অগ্রাধিকার সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করতে থাকল। এ সংকটের বড় কারণ ছিল ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও বিরাজমান রাজনৈতিক মেরূকরণ দূর করতে না পারা। ফলে নেতৃত্বের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় ঐকমত্য ঘটবে, এ প্রত্যাশা পূরণ হলো না জনগণের। দেখা গেল ড. ইউনূসের সময় রাজনৈতিক বিভাজন সমাজের আরও গভীরে প্রোথিত হলো।

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দ্রুতই মবের রাজনীতি শুরু হয়। একের পর এক মব সহিংসতার ঘটনায় যত দ্রুত এ সরকারের প্রতি জনগণের আস্থাকে দৃশ্যমানভাবে ক্ষতি করে, তা অন্য কিছুতে ঘটেনি। দেশের মানুষ সর্বত্র একই ধরনের সহিংসতা দেখতে পায়। তারা এসব ঘটনায় স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করে, সংগঠিত গোষ্ঠীরা কোনো ধরনের আইনের তোয়াক্কা না করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে। এসব গোষ্ঠী বেআইনি উপায়ে যা যা করতে চেয়েছে, তা-ই করতে পেরেছে। বিস্ময়কর হলো, রাষ্ট্র বা সরকার তার দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। প্রতিটি ঘটনার পেছনের কারণ যা-ই থাক না কেন, দেশের সাধারণ মানুষ এ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। তারা এটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হিসেবে দেখেছে। মানুষ দেখতে পেয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে রয়েছে, তারা নিজেরাই নিরুপায়। আর যারা মব উসকে দিচ্ছে, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে, তারাই সব শক্তির কেন্দ্রে।

 

 

 

 

যে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেই সরকার কীভাবে এ ধরনের পরিকল্পিত সহিংসতায় নির্লিপ্ত থাকতে পারে? দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানুষ দেখে, মব যেসব জায়গায় সফল হচ্ছে, তার প্রতিটি জায়গায় অন্তর্বর্তী সরকার নিষ্ক্রিয়। প্রতিটি মবের ঘটনায় জবাবদিহির অনুপস্থিতি এবং আইনের শাসন প্রয়োগে ধীরগতি। এ অবস্থা ধীরে ধীরে জনগণের মধ্যে এ ধারণাই প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এসব মবগোষ্ঠীর ক্ষমতার কাছে দুর্বল হয়ে পড়ছে। মনে রাখা জরুরি, সরকারের ওপর আস্থা মানে নিরপেক্ষভাবে আইন সমুন্নত রাখার ওপর আস্থা রাখা। আর এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সদিচ্ছা ও সামর্থ্য গুরুত্বপূর্ণ। যখন জনগণ সরকারের সে অঙ্গীকার নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করে, তখন গণঅনাস্থা রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে শাসনব্যবস্থার ভিত্তিমূলে ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

 

 

ধারাবাহিকভাবে মব সহিংসতার এ প্রবণতা কমার লক্ষণ দেখা যায় না। উল্টো প্রকাশ্যে এসব সংঘাত-সহিংসতা চলতে থাকে। বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একে অন্যকে লক্ষ করে উত্তপ্ত বাক্যবাণ ছোড়েন। অব্যাহত থাকে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ। দেখা যায়, সরকারের প্রতিটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। এমন পরিবেশে সরকারের জন্য নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায় তার কার্যসম্পাদন।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকার নানা দিক থেকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে থাকে। ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকে। কেউ কেউ সরকারকে ধীরগতির সরকার হিসেবে অভিযোগ তোলে। আবার কেউ কেউ বলেন, সরকার প্রতিহিংসাপরায়ণ। অনেকে বলতেন, সরকার একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী দ্বারা অতিরিক্ত প্রভাবিত। আবার এমন অভিযোগও ছিল যে, সরকার জনগণের চাওয়ার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল নয়।

 

 

 

 

নানা স্তর থেকে আসা সমালোচনাকে ভারসাম্যের ইঙ্গিত হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। তবে জনমত অনেক সময় ভিন্নভাবে কাজ করে। যখন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা একনাগাড়ে কোনো সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন সে সমালোচনাগুলো ন্যায্য হোক বা না হোক আস্থা কমতে শুরু করবে, এটাই স্বাভাবিক। জনমত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে কোনো সরকারের বৈধতা জনমতের ওপরই নির্ভরশীল। জনগণের চাওয়াকে বুঝতে না পারার ব্যর্থতার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের এ প্রতিবন্ধকতা আরও বেড়ে যায়।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সবচেয়ে ধারাবাহিক সমালোচনাগুলোর একটি ছিল অনিশ্চয়তা নিয়ে। দেশের মানুষ বারবার কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছে। সরকারের রোডম্যাপ কী? নির্বাচনের আগে কোন সংস্কারগুলো অপরিহার্য মনে করছে সরকার? কোন সংস্কারগুলো একটি নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া যেতে পারে? সাফল্যের মাপকাঠি কী হবে? এই সরকার কতদিন স্থায়ী হবে? এ প্রশ্নগুলো ছিল খুব স্বাভাবিক। জনগণ স্বভাবতই সরকারের লক্ষ্য এবং মেয়াদের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা জানতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রশ্নের উত্তর সর্বদাই মনে হতো অসংলগ্ন ও অসম্পূর্ণ।

 

 

 

 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের পক্ষ থেকে বার্তাও পরিবর্তিত হয়েছে। তাদের অগ্রাধিকারগুলোও বদলে গেছে। বদলে গেছে প্রত্যাশাও। দেখা যায়, সমাজে বিরাজমান অনিশ্চয়তা-বিশৃঙ্খলার চেয়েও জনমনে জল্পনা-কল্পনা বাড়তে শুরু করে সরকারের মেয়াদ নিয়ে। এ সার্বিক অনিশ্চয়তা এমন একটি শূন্যতা তৈরি করে, যা পূরণ করতে রাজনীতিকরা উদগ্রীব ছিলেন। সরকার যখন নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, তখন অন্যরা সেই সুযোগ নেয়। জল্পনা-কল্পনা সন্দেহ বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে স্বভাবতই জনগণের আলোচনার বিষয়গুলো সুস্পষ্ট তথ্যের পরিবর্তে অনুমান দ্বারা চালিত হতে থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রে এর ফল বিস্তৃত হয় রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত।

 

 

 

 

জনআস্থা শুধু একটি রাজনৈতিক ভিত্তি নয়। অর্থনৈতিকও বটে। বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতের নিরাপদ পরিবেশের নিশ্চয়তা খুঁজতে থাকে এবং এর ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত নেন। পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে মনে হলেই কেবল তারা ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন। এটা স্বাভাবিক। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা না থাকলে উদ্যোক্তারা পুঁজি বিনিয়োগ করেন না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়টাতে তাই অনেক ব্যবসায়িক নেতা সতর্ক ও সন্ত্রস্ত থাকেন। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় তারা এগোয়নি। বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। কোম্পানিগুলো প্রবৃদ্ধির দিকে না তাকিয়ে তারল্য সংরক্ষণে মনোযোগী হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে ব্যবসায়ীরা বিরত থেকেছে। অনেকেই দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গতিপথ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার জন্য করতে থাকে অপেক্ষা।

 

 

 

 

 

সংকটকালে ব্যবসায়ীদের এ প্রবণতা শুধু বাংলাদেশে নয়। বিশ্বজুড়েই লক্ষ্য করা যায়। সব জায়গায়ই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কালে বিনিয়োগ গতি কমে যায়। বেসরকারি খাত সবসময় পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দেয়। পূর্বাভাস খারাপ বা অনিশ্চিত হলে সতর্কতা অবলম্বন করাই যৌক্তিক। বিনিয়োগের ধীরগতির প্রভাব খোদ সরকার কাঠামোর ভেতরেও অনুভূত হয়।

 

 

 

 

এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনিশ্চয়তাপূর্ণ পরিবেশে আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও ধীরে ধীরে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। যে কর্মকর্তারা সাধারণত প্রকল্প অনুমোদন করতেন কিংবা গতানুগতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতেন, তারা দায়িত্ব পালন করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন না। যে কোনো ফাইল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতো। ফাইল অনুমোদনে দেখা দিল ধীরগতি। যে বিষয়গুলো একসময় নিম্নস্তরেই সমাধান করা যেত, সেগুলোর জন্য ক্রমশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন পড়ল। এক ধরনের অতিসতর্কতামূলক পরিবেশের উদ্ভব ঘটল। কর্মকর্তারা এ সতর্কতা কেন অবলম্বন করলেন, তা সহজেই বোধগম্য। তারা ভাবলেন, এমন অস্থির ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো ভুল করে বসলে তারা পেশাগত ক্ষতির শিকার হতে পারেন। কিন্তু এর প্রভাব ছিল ভয়াবহ। এর ফলে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়। প্রকল্পগুলোয় আসে ধীরগতি। পিছিয়ে পড়ছিল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। নিয়মিত কাজ হয়ে উঠছিল কষ্টসাধ্য।

 

 

 

 

যেসব সরকারি কাজের জন্য দ্রুত উদ্যোগ দরকার, বিরাজমান অনিশ্চিত পরিবেশে সেসব ক্রমেই গতি হারিয়েছিল। অনেক পর্যবেক্ষক তখন এ স্থবিরতার কথা বর্ণনা করেছেন এভাবে—সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে তা স্থগিত রাখা হচ্ছিল; দায়িত্ব গ্রণের পরিবর্তে আরেক হাতে পাঠানো হচ্ছিল। অর্থাৎ, পদ্ধতিগত সতর্কতার কাছে কাজটাই আসলে হয়ে পড়ছিল গৌণ। এটা বাস্তবতা যে, আত্মবিশ্বাস আচরণকে প্রভাবিত করে। আত্মবিশ্বাস কমে গেলে মানুষ সংশয়ে পড়ে। আর এ সংশয় বিনিয়োগ, প্রশাসন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

 

 

 

 

রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও আস্থার সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। সংস্কার আপনাআপনি হয় না। কমিশন গঠন করা তুলনামূলকভাবে সহজ। সুপারিশ প্রণয়ন করা সে তুলনায় কঠিন। আর সে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা আরও কঠিন। তাই সংস্কার সফল করতে হলে জনগণের সম্মতি অনিবার্য। জনগণকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, তারা নিষ্ক্রিয় দর্শক নন। তারা এ প্রক্রিয়ার অংশ। রাজনৈতিক অংশীজনের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে, তাদের কথাও শোনা হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সংস্কারকে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টি না দেখে। প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বুঝতে পারে যে, প্রক্রিয়া বৈধ। মজার ব্যাপার হলো, এখানেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি ভয়ানকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হয়।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক সংস্কার উদ্যোগ এক্ষেত্রে একটি কার্যকর উদাহরণ। মনে রাখা জরুরি, সাংবিধানিক প্রশ্নগুলো শুধু টেকনিক্যাল বিষয় নয়। এ প্রশ্নগুলো রাজনৈতিক ক্ষমতা গঠন এবং সে ক্ষমতা প্রয়োগের মৌলিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত। ফলে এ ধরনের সংস্কার যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিকশিত হয়, সেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের কারণে বৈধতা লাভ করে।

 

 

 

 

প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন তাই দায়িত্ব, কর্তৃত্ব এবং জবাবদিহিকে প্রভাবিত করে। এমনকি সুপরিকল্পিত সংস্কারও প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে পারে যদি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা মনে করেন যে, তাদের প্রয়োজনীয় আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচনি সংস্কার উদ্যোগ সম্ভবত সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হবে। কারণ, নির্বাচনি নিয়মনীতির বৈধতা অনেকাংশে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। টেকনিক্যালি সঠিক একটি প্রস্তাবও ব্যর্থ হতে পারে যদি মূল অংশীজন প্রক্রিয়াটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বা বর্জন করার মতো মনে করেন। এসব কিন্তু সংস্কারের বিরুদ্ধের যুক্তি নয়। বরং, অর্থবহ সংস্কার অনেক সময় অতিপ্রয়োজনীয়। শিক্ষা নিতে হবে এভাবে যে, সংস্কার ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়া কিন্তু মূল লক্ষ্যের সঙ্গে বিরোধিতা করা নয়। কারণ, তারা একে অপরের পরিপূরক। ঐকমত্য ছাড়া সংস্কার ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ ছাড়া সংস্কার বিতর্কিত হয়ে ওঠে। জনআস্থা ছাড়া সংস্কারকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সুতরাং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে একটি বৃহত্তর সত্য সামনে এনেছে। সেটা হচ্ছে, জনআস্থা একটি সরকারের সবচেয়ে মূল্যবান রাজনৈতিক পুঁজি, যেখানে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

 

 

 

 

মনে রাখতে হবে, সরকার সমালোচনা সহ্য করে টিকে থাকতে পারে। নীতিগত ব্যর্থতা থেকেও রক্ষা পেতে পারে। তুমুল বিতর্ক-বাদানুবাদ তাদের বাঁচাতে পারে। কিন্তু আস্থা কমতে শুরু করলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। জনগণ সরকারের উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করলে পরবর্তী সময়ে সব সিদ্ধান্তকে টিকিয়ে রাখা তার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারের প্রতিটি সংস্কার উদ্যোগ আরও বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। প্রতিটি উদ্যোগই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। আস্থা কিন্তু সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে। সরকারের প্রতি আস্থা বেশি থাকলে জনগণ অনিশ্চয়তাও সহ্য করতে আগ্রহী। কারণ তারা বিশ্বাস করে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে। আর আস্থা কমে গেলে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্তগুলোও সন্দেহের চোখে দেখা হয়। এ বাস্তবতা কিন্তু ড. ইউনূস জানতেন। কারণ তার কর্মজীবন জুড়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আস্থার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তার সামাজিক উদ্যোগগুলো আস্থার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। আর্থিক ব্যবস্থাগুলো আস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হয়ে তিনি ভুলে গেলেন সরকারের টিকে থাকার সূত্রও ওই আস্থাই।

 

 

 

 

 

কোনো সংস্কার কমিশন আস্থা তৈরি করতে পারে না। কোনো সাংবিধানিক সংশোধনী আইন করে আস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। কোনো প্রশাসনিক অধ্যাদেশ বৈধতা সৃষ্টি করতে পারে না। এসব স্বচ্ছতা, দৃঢ়তা, জবাবদিহি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক তৎপরতার মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় ছিল মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ। প্রাতিষ্ঠানিক, সাংবিধানিক কিংবা প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ নয়। তাই দেশে বিরাজিত গভীর অনিশ্চয়তা ও টালমাটাল সময়ে উচ্চাভিলাষী সংস্কার সাধনের জন্য জনগণের আস্থা বজায় রাখাই ছিল সরকারের বড় দায়িত্ব। যে কোনো সরকারের জন্যেই এ চ্যালেঞ্জ থাকে। ফলে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আইন পরিবর্তন করা নয়, বরং জনগণের আস্থা অর্জন করা।

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

গাঁজা সেবন করায় ৪ মাসের জন্য জেলে যেতে হলো তাদের!

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় গাঁজা সেবনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের বাগবাড়ি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বাগবাড়ি গ্রামের আব্দুর রহমান শেখের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং ভারাঙ্গা এলাকার কাজেমুদ্দিন মণ্ডলের ছেলে সাইদুল ইসলাম (৪৬)

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে গাঁজা সেবনের সময় ওই দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লা আল মামুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

 

এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় উভয়কে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

 

কামারখন্দের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লা আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনের সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে।”

 

তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার বাড়ি থেকে বস্তা নিয়ে যায় হাসনাত আব্দুল্লাহ!

হাসনাত আব্দুল্লাহ ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার বাড়ি থেকে বস্তা নিয়ে যায়। ওই চোরের ঘরের চোরে সংসদে বড় বড় কথা বলে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে এমন কথা বলতে শোনা যায়।  হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছে টাকা পাবেন বলেও দাবী করেছেন।

 

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছে টাকা পাব, ৮০০ টাকা। ভার্সিটিতে গাড়ি নিয়ে বসতাম আমি। এসেই বলতো, ভাই চা খাওয়ান, মামা চা খাওয়ান, খাওয়াইতাম।’

 

ভিডিওতে তাকে আরো বলতে দেখা যায়, ‘সেই চোরের ঘরে চোর ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার বাড়ি থেকে বস্তা নিয়ে যায়।

 

ওই চোরের ঘরে চোরে সংসদে বড় বড় কথা বলে। চোর তো সংসদেই বসে আছে। পবিত্র জায়গাকে অপবিত্র করে ফেলছে।’

 

কামারখন্দে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়েলো ৭ দোকান: ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৭টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন দোকান মালিকগণ।

 

বুধবার (১০ জুন) ভোরে উপজেলার জামতৈল পূর্ব বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান বুধবার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে চান সুইট নামে দোকানের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধীরে ধীরে পাশের দোকানগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে আগুন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।

 

ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চান সুইটস, এন্ড মিষ্টান্ন ভান্ডার, মনোহারী দোকান, সেলুন ঘর, আধুনিক কনফেকশনারি এন্ড রকমারি আসবাবাপত্র, মৃতশিল্পের দোকান, ফ্রিজের মেকানিক্যাল দোকানসহ প্রতিটা ঘরের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

 

চান সুইটসের মালিক লাল মিয়া জানান, আমাদের একেবারে পুরো দোকান পুরে শেষ হয়ে গেছে। ঈদ উপলক্ষে আমাদের চিনি তেল সবকিছুই স্টক করা ছিল। ব্যাংক থেকে কিছু লোন নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 

কামারখন্দ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ও্যায়ার হাউজ ইন্সপেক্টর ফরিদ উদ্দিন জানান, আমরা ভোর সোয়া ছয়টায় টার দিকে খবর পেয়ে দ্রুত চলে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। পুরোপুরি আগুন নেভাতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগে। আমরা ধারণা করছি বিদ্যুতের শর্ট সার্টিকে থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বিষয়টি নিয়ে আরো আমাদের তদন্ত করতে হবে।

 

ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, আটক ৫

মাদারীপুর সদর থানায় দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

 

 

সোমবার (০৮ জুন) রাতে শহরের পুরাতন বিসিক শিল্পনগরী এলাকা থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

আটকরা হলেন— শান্ত ঢালী (২০), সালমান ঢালী (১৯), আবির ঢালী (১৯), আজিম ঢালী (১৮) এবং সাহেব বেপারী (১৭)। তাদের সবার বাড়ি নতুন মাদারীপুর এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে মাদারীপুর শহরের পুরাতন বিসিক শিল্পনগরী এলাকা থেকে শহরের বাদামতলা এলাকার সবুজ ও নতুন মাদারীপুর এলাকার আরিফ চৌকিদারকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, সবুজ একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আরিফ চৌকিদারকে আটকের কারণ জানতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন তার বিরুদ্ধে থাকা ওয়ারেন্ট দেখতে চান। এ নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ আটক দুজনকে সদর থানায় নিয়ে আসে।

 

 

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়ার সময় ও পরে পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়।

 

 

 

এদিকে আটক দুই ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের স্বজন ও সমর্থকদের একটি অংশ সদর থানার সামনে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সদর থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থানাকে ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলে।

 

 

 

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আরিফ ও সবুজ নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

 

 

হাকিমপুরে নবাগত ইউএনও জর্জ মিত্র চাকমা’র যোগদান, ফুলেল শুভেচ্ছা

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেছেন জর্জ মিত্র চাকমা।
গত ৮ জুন রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজমুস সাদাত রত্ন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে পদায়ন বা বদলি করা হয়।
আজ মঙ্গলবার(৯ জুন) তার নতুন কর্মস্থল হাকিমপুর এসে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান হাকিমপুর পৌরসভার পক্ষে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,হাকিমপুর পৌরসভার প্রধান সহকারী মোঃ সাইফুল ইসলাম, হিসাবরক্ষক (অতিঃদ্বাঃ) মোছাঃ হাবিবা বেগম, কার্য সহকারী মোঃ আরশাদ আলী সহ অনেকে।
চলতি বছরের গত (১০ মে) হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক অশোক বিক্রম চাকমা বদলী হওয়ায় পার্শ্ববর্তী বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ তানজিনা খাতুন অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব হিসেবে যোগদান করেন। এরপর দীর্ঘ প্রায় একমাস হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব পালন করেন মোছাঃ তানজিনা খাতুন।
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে থেকে বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থল দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন জর্জ মিত্র চাকমা।
রাঙ্গামাটি জেলার বাসিন্দা জর্জ মিত্র চাকমা ৩৬তম বিসিএস (প্রসাশন) ক্যাডার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন।তার ব্যাক্তিগত পরিচিতি নাম্বার ১৮৫৪২। এর আগে তিনি সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার নেজারত ডেপুটি কালেক্টর, ট্রেজারী শাখা, ফরমস, স্টেশনারী লাইব্রেরি শাখায় কর্মরত ছিলেন।
সর্বশেষ তিনি গত বছরের ২১ জানুয়ারি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন জর্জ মিত্র চাকমা।
এদিকে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যোগদান করেছেন।

স্ত্রীসহ তরুণীদের নগ্ন ছবি ধারণ করায় ছিল তার নেশা; অতপর….

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার এক তরুণীর অশ্লীল ও নগ্ন ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মোঃ আলিফ হোসেন(৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৯জুন) সন্ধ্যা ৭টায় নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

এর আগে সোমবার (৮জুন) টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিকৃত রুচির ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তার আলিফ হোসেন ওই জেলার ঘাটাইল উপজেলার চরবিরসিংহ এলাকার আজহারুল ইসলামের ছেলে।

 

পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বাবা ধামইরহাট থানায় অভিযোগ করেন কে বা কাহারা তার মেয়ের নগ্ন ও অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা হলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করার জন্য ওসিকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি এবং সাইবার বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে একটি বিশেষ টিম খুব দ্রুত সময়ে সোমবার টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরে অভিযান পরিচালনা করে আলিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। সেই সাথে তার মোবাইল জব্দ করে উক্ত ঘটনার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়।

 

এসপি আরও বলেন, এই মামলার ভুক্তভোগী তরুণীর ছবি ছাড়াও আরও তিনজন মেয়ের অশ্লীল ও নগ্ন ভিডিও-ছবি তার মোবাইলে পাওয়া যায়। এমনকি তার স্ত্রীর নগ্ন ভিডিও সেখানে পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় আলিফ হোসেন ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন ব্যবহার করে তরুণীদের সাথে বন্ধুত্ব করে তোলে। পরে কৌশলে তাদের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে মোবাইলে সংরক্ষণ করতো। এবং ধারণকৃত নগ্ন ছবি দিয়ে ভিকটিমদের জিম্মি করে বিভিন্ন ভাবে ফায়দা লুটার চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, সে এই অপরাধ করে বিকৃত আনন্দ অনুভব করতো। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নওগাঁ জেলা পুলিশ নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফির মতো যেকোনো ঘৃণ্য  অপরাধ কঠোর হস্তে দমন করবে।

এসএসসি পাস প্রার্থীদের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ

জনবল নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ৩টি পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদন শুরু হয়েছে ৭ জুন সকাল ১০টা থেকে, চলবে ২৮ জুন বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এসএসসি ও এইচএসসি পাসের চাকরি প্রার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবেন।

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

পদের বিবরণ

আবেদন শুরু: ৭ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা

আবেদনের শেষ তারিখ: ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল ৪টা

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

চাকরির ধরন: স্থায়ী

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক।

 

বয়স: ৭ জুন ২০২৬ তারিখ ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ ১-২ নং পদের জন্য ১১২ টাকা, ৩ নং পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য্য তাহ্‌মিনা আখতারের যোগদান

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন।

 

 

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) জুন অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার আনুষ্ঠানিকভাবে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

 

 

 

এর আগে সোমবার (৮ জুন) এক প্রজ্ঞাপণে তাহমিনা আখতারকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ওইদিন বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুল খালেক-এর নিকট তিনি যোগদানপত্র জমা দেন।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-এ স্থাপিত শহিদ মিনার ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার পঁয়ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পদেয় দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (ISWR)-এর পরিচালক, রোকেয়া হল, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রভোস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক, সিনেট সদস্য এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজ করেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য হিসেবেও অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ও হল সংসদের কুয়েত মৈত্রী হলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, বাংলাদেশ কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশনের মহাসচিব এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (UTAB)-এর প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব, এশিয়ান ও প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশন (APASWE)-এর সদস্য হিসেবেও তিনি সক্রিয়। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উপদেষ্টা এবং বোর্ড অফ গভর্নেন্সের সদস্য হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম আয়োজন, অংশগ্রহণ, প্রবন্ধ উপস্থাপন, সেশন চেয়ারসহ প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

 

 

তিনি Sage, Palgrave Macmillan (মালয়েশিয়া), Taylor & Francis, Oxford University Press সহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ জার্নালে পঞ্চাশটিরও অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন।

 

 

 

অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার এসএসসিতে ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থান এবং এইচএসসিতে ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় ১০ম স্থান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (ISWR) থেকে বিএসএস (সম্মান)-এ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান এবং এমএসএস-এ প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং বিষয়ে ফেলোশিপ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

 

 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এর ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর  সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অধ্যাপক তাহ্‌মিনা  আখতার বলেন, “রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং জনসম্পৃক্ততার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চার উৎকর্ষের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করতে চাই।

 

 

 

 

সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

 

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইন্নাকে নিয়ে ফেসবুকে ভুয়া তথ্য পোস্ট করায় যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম ইন্নাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দিয়ে পোস্ট করায় হাসান আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানা আমলী আদালতে শরীফুল ইসলাম ইন্না বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে আসামি হাসান আলীর বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন। এই আদালতের পেশকার স্বপন এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

 

আসামি হাসান আলী সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার একডালা মধ্যপাড়া মহল্লার জামাল উদ্দিনের ছেলে।

 

 

মামলায় বাদী উল্লেখ করেছেন, তিনি সাংবাদিকতা করে সত্য ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ করিয়া থাকেন। সত্য ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দুষ্কৃতিকারীদের বিপদের কারণ হয়ে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় আসামি হাসান আলী গত ৩০ মে তার ফেসবুক আইডি থেকে বাদী শরীফুল ইসলাম ইন্নার বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ভাইরাল (প্রকাশ) করে দেয়।

 

 

ওই ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করে ছাত্রলীগ নেতা আসিফ হত্যাকে কেন্দ্র করে মামলা বানিজ্য ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা সরদার শরীফুল ইসলাম ইন্না।

 

 

শরীফুল ইসলাম ইন্না কৌশলে মামলা বানিজ্য করে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মামলা বানিজ্যের কৌশল-প্রথমে নিহত আসিফকে বিএনপি সাজিয়ে ফেসবুকে প্রচার করে ইন্না। এরপর নিহত আসিফ এর মা আসমানীকে দিয়ে মামলা করার প্রস্তুতি গ্রহন করে ইন্না। জেলার সকল আওয়ামীলীগ নেতা ও তার পরিবারকে আসামী করা হবে মর্মে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ইন্না। অনেকে আওয়ামীলীগ নেতা ও তার পরিবারকে ইন্নার সাথে যোগাযোগ করে মোটা টাকা প্রদান করিলে সেই আওয়ামীলীগ নেতাদের নাম মামলায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে নাই ইন্না।

 

 

মামলা বানিজ্য করে ছাত্রলীগ নেতা আসিফ নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। উপরোক্ত সকল কথোপকথন সম্পূর্ন মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট। হেনরির বাসায় আগুনে পুড়ে নিহত হয় আসিফ। সেই ঘটনা দিয়ে আসিফের মা বাদী হয়ে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেই মামলায় প্রশাসন তদন্ত করে এবং আদালতে উক্ত মামলা চলমান রহিয়াছে। সেক্ষেত্রে শরীফুল ইসলাম ইন্না কিভাবে মামলা বানিজ্য এবং ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। নামিক আসামী আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে জন সম্মুখে শরীফুল ইসলাম ইন্নার ভাবমুর্তি ও সাংবাদিকতা পেশার সম্মান ক্ষুন্ন করার অসৎ উদ্দেশ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে শরীফুল ইসলাম ইন্নার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্মানহানী করেছে।

 

 

আসামী হাসান আলী ভুয়া তথ্য প্রকাশ করায় তার বিরুদ্ধে শরীফুল ইসলাম ইন্না বাদী মামলা দায়ের করেন।

One thought on “‘টয় স্টোরি ৫’ প্রিমিয়ারে নজর কাড়লেন টেইলর সুইফট

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

‘টয় স্টোরি ৫’ প্রিমিয়ারে নজর কাড়লেন টেইলর সুইফট

আপডেট টাইম : ০৬:২৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

হলিউডে যেন বসেছিল তারার মেলা। বহু প্রতীক্ষিত অ্যানিমেশন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘টয় স্টোরি’র পঞ্চম কিস্তির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার ঘিরে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে বসেছিল তারকাদের মহামিলনমেলা। তবে জমকালো এই আয়োজনের সব আলো কেড়ে নেন পপ সম্রাজ্ঞী টেইলর সুইফট। একেবারে আকস্মিক উপস্থিতিতে ভক্তদের বিস্ময়ে ভাসিয়ে দিয়ে তিনি প্রিমিয়ারের সবচেয়ে বড় চমক হয়ে ওঠেন। আর সেই মুহূর্তে ‘টয় স্টোরি ৫’ ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা যেন পৌঁছে যায় নতুন উচ্চতায়।

 

 

শুধু লাল গালিচায় হাঁটাই নয়, মঞ্চে উঠে সরাসরি পারফর্মও করেন তিনি। এই সিনেমার সাউন্ডট্র্যাকের জন্য তৈরি নিজের মৌলিক গান ‘আই নিউ ইট, আই নিউ ইউ’ গেয়ে শোনান সুইফট।

 

 

পারফরম্যান্সের সময় তার সঙ্গে মঞ্চে যোগ দেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজির কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক ও অস্কারজয়ী সুরকার র‌্যান্ডি নিউম্যান। নিউম্যানের পিয়ানোর সুরে সুইফটের কণ্ঠের মেলবন্ধন উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। শুধু নিজের গানই নয়, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির চিরচেনা থিম সং ‘ইউ’ভ গট আ ফ্রেন্ড ইন মি’ গেয়েও হলভর্তি দর্শক মাতান টেলর সুইফট।

ডিজনি ও পিক্সারের ‘টয় স্টোরি ৫’ সিনেমার গল্পে এবার থাকছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। প্রিয় চরিত্র উডি (টম হ্যাংকস), বাজ লাইটইয়ার (টিম অ্যালেন) এবং জেসি (জোয়ান কিউস্যাক) সহ পুরো খেলনা দলটিকে এবার এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের ছোট্ট বন্ধু বনির ঘরে আগমন ঘটে লিলি প্যাড (গ্রেটা লি) নামের একটি আধুনিক ট্যাবলেট ডিভাইসের। বনির জন্য আসলে কোনটি ভালো—তা নিয়ে খেলনাদের চিরন্তন ভাবনার বিপরীতে একদম নিজস্ব কিছু আইডিয়া নিয়ে হাজির হয় এই ট্যাবলেটটি। আর এ নিয়েই জমজমাট রূপ নেয় সিনেমার গল্প।

 

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী জনপ্রিয় পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্যান্টন, যার ঝুলিতে রয়েছে ‘ওয়াল-ই’, ‘ফাইন্ডিং নেমো’ এবং ‘ফাইন্ডিং ডোরি’র মতো মাস্টারপিস। সহ-পরিচালক হিসেবে তার সঙ্গে আছেন কেন্না হ্যারিস। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন লিন্ডসে কলিন্স। বরাবরের মতোই এর আবহ সংগীতের দায়িত্বে আছেন অস্কারজয়ী র্যান্ডি নিউম্যান, এটি টয় স্টোরি ফ্র্যাঞ্চাইজির কোনো সিনেমায় তার পঞ্চম কাজ।

জমকালো এই প্রিমিয়ারে সিনেমার মূল কণ্ঠশিল্পীরা হাজির হয়েছিলেন। লাল গালিচায় দেখা মেলে টম হ্যাংকস, টিম অ্যালেন, জোয়ান কিউস্যাক, কোনান ও’ব্রায়েন, গ্রেটা লি, ক্রেগ রবিনসন, টনি হেল এবং স্কারলেট স্পিয়ার্সের মতো তারকাদের।

প্রযুক্তিনির্ভর শান্তিরক্ষা মিশনের রূপরেখা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ দিন দিন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। তাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে।

 

 

মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে সারা বিশ্বের সেই সাহসীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান, যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয় জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।

 

 

কিন্তু এ পথ বন্ধুর ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা সহজ ছিলো না। শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এই মহান ও মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাদের।

 

 

শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে একটি প্রতিকূল পরিবেশে আপনারা নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের এই অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে দেশের সামরিক বাহিনীর অবদান তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে শহীদ হওয়া শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহতদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩ টি দেশের প্রায় ৬৩ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেয়ারও প্রস্তুতি চলছে।

 

 

তিনি বলেন, পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য সাহসের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আমাদের এই গৌরবের ইতিহাস একদিনে রচিত হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী একটি আস্থা ও নির্ভরতার নাম।

 

 

সশস্ত্রবাহিনী একটি দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। তাই এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয় সেটি রক্ষা করা সশস্ত্রবাহিনীর কর্তব্য।

 

 

তিনি বলেন, তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে, দেশে সশস্ত্রবাহিনীর কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কিছু অপতৎপরতা কখনো কখনো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে। দেশে বিদেশে সশস্ত্রবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট করতে নানা তৎপরতাও বিদ্যমান ছিল। তবে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ১৯৭৫ এর সাত নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

 

 

তারেক রহমান বলেন, এরপরও বিভিন্ন সময়ে নানারকম ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর ঐক্য বিনষ্টের তৎপরতা চলেছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্রবাহিনীর ওপর সর্বগ্রাসী আঘাতটি এসেছিল। সেই আঘাতের ফলে বাংলাদেশে কি ঘটেছিলো সেটি আমাদের সবার জানা। তাই, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রধান বার্তাটি হলো, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড’ ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুই অতীত চর্চা নয় বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে স্বমহিমায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা সশস্ত্রবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে বা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা দেশে বা বিদেশে যেখানে যে দায়িত্ব পালন করছি, সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

 

 

বর্তমান বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায়।

 

 

বাংলাদেশ সব সময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর। এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিম-লে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনী আধুনিক করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধানে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের প্রতি যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, আমরা তা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যে কোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

 

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা তাদের আন্তরিকতা, কর্তব্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের গৌরবোজ্জ¦ল দৃষ্টান্ত বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিটি সদস্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি, দেশের মান-সম্মানের বাহক। আশা করি, আগামী দিনেও যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালন করতে বিভিন্ন দেশে যাবেন, তারা একইভাবে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সুনাম সমুন্নত রাখবেন।

 

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রমুখ।

 

 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ সশস্ত্রবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ ১০ জুন এটি পালিত হচ্ছে।

 

পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে ১৯ জন গ্রেপ্তার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

 

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

 

 

পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার অবৈধ থ্রি-হুইলার আটককে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্ত হাইওয়ে পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- বিল্লাল হোসেন, ইউসুফ মিয়া, হাসান, রিফাত, হাবিব, মফিজ, আক্তার হোসেন, সিফাত, রবিউল, আবু ইউসুফ ইকরাম, জুয়েল, সারোয়ার হোসেন, নুপুর সাহা, সোহাগ মিয়া, বিল্লাহ, সোহেল মিয়া, ইব্রাহিম খলিল, দেলোয়ার হোসেন ও আজিজুল।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

পুলিশ সুপার বলেন, মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

দুর্গম যাত্রায় ভালোবাসার সন্ধান, আসছে মিমের ‘লাইফলাইন’

ভালোবাসার জন্য মানুষ কত দূর যেতে পারে, কত ত্যাগ স্বীকার করতে পারে—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। শহুরে এক তরুণীর ভালোবাসার খোঁজে অজানার পথে ছুটে চলার গল্প নিয়ে নির্মিত এই ছবিটি আগামী ২১ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাবে। নির্মাতা কাজী আসাদের এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম।

 

 

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে প্রকাশিত হয়েছে ‘লাইফলাইন’-এর ট্রেলার। সেখানে দেখা যায়, অনন্যা নামের এক তরুণী কাউকে খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে দুর্গম পথে যাত্রা শুরু করেন। তার এই অভিযানে সঙ্গী হন রিজওয়ান পারভেজ। মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন অজানা গন্তব্যে ছুটে চলার পাশাপাশি তাদের মধ্যে তৈরি হয় নানা দ্বন্দ্ব ও তর্ক-বিতর্ক, যা গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

 

নির্মাতা কাজী আসাদ জানান, ড্রামা ও সোশ্যাল ড্রামা ঘরানার গল্প তার বরাবরের পছন্দ। গল্পের ধারণা শোনার পরই তিনি এটিকে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা দেখেছিলেন। তার ভাষায়, “গল্পটির মধ্যে যেমন সামাজিক সচেতনতার বিষয় রয়েছে, তেমনি আছে আবেগ ও মানবিক সম্পর্কের গভীরতা।”

অভিনেতা রিজওয়ান পারভেজের মতে, ‘লাইফলাইন’ শুধু ভালোবাসার গল্প নয়, এটি দায়িত্ববোধ ও অনুভূতিরও গল্প। তিনি বিশ্বাস করেন, চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মধ্যে নতুন ধরনের উপলব্ধি তৈরি করবে।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, উঁচু-নিচু মাটির রাস্তা ও তীব্র গরমের কারণে কাজ করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। তবে দৃশ্য ভালোভাবে সম্পন্ন হওয়ার আনন্দই পুরো ইউনিটকে নতুন উদ্যমে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে।

‘লাইফলাইন’-এ মিম ও রিজওয়ান পারভেজের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আ খ ম হাসান, খায়রুল আলম সবুজ, নাজনীন হাসান চুমকি, আনিসা নূর আয়াত এবং ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা। ছবিটির গল্প লিখেছেন মাহমুদুল হাসান টিপু ও কাজী আসাদ। চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনায় কাজী আসাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আসাদুজ্জামান আবীর।

 

হিলিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিস্তারে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনাজপুরের হিলিতে ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় হাকিমপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ও অতিথিরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সাধারণ কৃষকদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে টেকসই কৃষির উন্নয়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অডিটোরিয়াম চত্বরে তিনটি বিশেষ স্টলের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন ফলন ও কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়।
​উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা শাহ আলম, হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা খাতুন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানাসহ স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রগতিশীল কৃষকবৃন্দ।

ওমান উপকূলে অগ্নিকাণ্ডের কবলে তেলবাহী জাহাজ, নিখোঁজ দুই নাবিক

ওমানের উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগার পর জাহাজটির দুই ক্রু সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওমানের সোহারের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার (২০ নটিক্যাল মাইল) দূরে অবস্থানরত একটি ট্যাঙ্কারের ইঞ্জিন কক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়।

 

 

সংস্থাটি জানায়, ঘটনায় অন্তত একজন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কেও কোনো তথ্য জানায়নি যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস।

এদিকে, এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনী উভয় পক্ষই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষের আরোপিত দ্বৈত অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হাজার হাজার জাহাজ আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ভারতের নতুন হাইকমিশনারের ঢাকা সফর শুক্রবার

আগামী শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকায় পৌঁছাবেন ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

 

 

গেল ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লেটার্স অব ক্রিডেনশিয়ালস (পত্রাধিকার) গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পালনের আইনি ও কূটনৈতিক অনুমোদন লাভ করেন। এপ্রিল মাসে নিয়োগ ঘোষণার পর থেকে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং এখন ঢাকায় এসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে ক্রিডেনশিয়ালস উপস্থাপন করে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশন শুরু করবেন।

 

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক নেতাকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানো দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে দীনেশ ত্রিবেদীর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের নিয়োগ এবং আগমন উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দীনেশ ত্রিবেদী ১৯৫০ সালের ৪ জুন নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তার বয়স ৭৬ বছর। তিনি গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও কলকাতায় বেড়ে উঠেছেন এবং বাংলা সংস্কৃতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতা থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়, অস্টিন থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। কংগ্রেস দিয়ে শুরু করে জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন—রাজ্যসভায় দুবার (১৯৯০-৯৬ এবং ২০০২-০৮) এবং লোকসভায় ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তিনি রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬-১৭ সালে তিনি ‘অসামান্য সংসদ সদস্য’ পুরস্কার লাভ করেন।

গেল এপ্রিলে ভারত সরকার দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা করে। তিনি ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। এটি একটি ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক নিয়োগ। সাধারণত কূটনৈতিক পদে ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাটদের পাঠানো হয়, কিন্তু বর্তমান স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বেছে নিয়েছেন।

 

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ত্রিবেদী যেহেতু বাংলা ভাষায় সাবলীল এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও সংস্কৃতির গভীর জ্ঞান রাখেন। তাই বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোদী সরকার দীনেশকেই ঢাকায় পাঠাচ্ছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র কালবেলাকে জানান, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কয়েকটি মূল চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি নবায়ন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা, জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য এমন একজন ‘পলিটিক্যাল এনভয়’ প্রয়োজন ছিল যিনি উভয় দেশের রাজনৈতিক মহলে সহজে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন।

 

 

ত্রিবেদীর পশ্চিমবঙ্গের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং বাংলা ভাষার দক্ষতা এখানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিয়োগের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, দু দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত করতে চায় ভারত।

 

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শুধু দুই সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটির মূল ভিত্তি দুই দেশের জনগণের মধ্যে। এই নিয়োগ একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। দীনেশ ত্রিবেদী শুধু একজন কূটনীতিক নন, তিনি একজন রাজনৈতিক যোগাযোগকারী। তার মাধ্যমে দিল্লি এবং ঢাকার মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক স্তরের আলোচনা সহজ হবে। দীনেশ ত্রিবেদী যদি এই মানুষে মানুষে যোগাযোগকে শক্তিশালী করতে পারেন, তাহলে তার মিশন সফল বলে বিবেচিত হবে।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এমপি রতন, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার নির্দেশ

গতকালকের ঘূর্ণিঝড়ে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বড় বড় গাছপালা উপড়ে গিয়ে বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটির ওপর পড়ে। এতে প্রায় ১০ থেকে ১২টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যায় এবং এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন বাউশিয়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
এ সময় গজারিয়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।পরিদর্শনকালে এমপি রতন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তিনি বিএনপির গজারিয়া উপজেলার সকল নেতা-কর্মীকেও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।এ সময় গজারিয়া জোনাল অফিসের ডি জি এম আশরাফুল আলম উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ খুঁটি ও তার মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং এলাকাবাসীকে যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

কুড়িগ্রামে এনসিপির জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ

কুড়িগ্রাম জেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি’র) জাতীয় নারীশক্তির পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত কমিটিতে আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিবসহ মোট ৯২ সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ৯ জুন কেন্দ্রীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ মুখ্য সংগঠকের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ৯২ সদস্যবিশিষ্ট বিশাল আকারের কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। রাতে কেন্দ্রীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু স্বাক্ষর করার পর মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম উক্ত কমিটির তালিকা প্রকাশ করেন। কমিটিতে জেলার আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাসিরা খন্দকার নিসা এবং সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোছাঃ মেরিনা পারভিন।
ছয় মাস মেয়াদি প্রকাশিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছেন মাহবুবা বেগম। এছাড়াও যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন মোছাঃ ফিরোজা খাতুন, মোছাঃ শেফালী বেগম, মোছাঃ উম্মে কুলসুম তিথি, মোছাঃ শাহিদা বেগম, মোছাঃ ঝরনা আক্তার, মোছাঃ তাবাসসুম শরিফা, আয়েশা সিদ্দিকা ও ছাবিনা ইয়ামিন।
উক্ত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসাবে রয়েছেন মোসলেমা আক্তার। এবং যুগ্ম সদস্য সচিব পদে নির্বাচিত হয়েছেন চামেলী আক্তার, মোছাঃ লাভলী খাতুন, মোছাঃ ফাতেমা তুজ জোহরা ইতি, মোছাঃ তাফরিন জাহান জুই, মোছাঃ কবিতা আক্তার ও মোছাঃ সাবিনা ইয়াসমিন।
জাতীয় নারীশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছেন মোছাঃ নাজমা আক্তার নীলা, হাবিবা আক্তার প্রিয়া, মোছাঃ সাবিনা খাতুন, আফরোজা খাতুন, রুবিনা খাতুন, মোছাঃ কল্পনা খাতুন, এশা মনি, মোছাঃ মরিয়ম খাতুন, মারিয়া খাতুন, অপু কালি বকশি হাসি, হেনা পারভীন। কমিটিতে সদস্য পদে রয়েছেন আরও অনেকে।
রাতে কমিটির তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরপরই জেলা জুড়ে শুরু হয় আনন্দ উদ্দীপনা। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত নেত্রীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম ২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ। এছাড়াও আরও অভিনন্দন জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়াসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীবৃন্দ।
এ বিষয়ে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়া বলেন, আমরা নারীদের নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানাই। দেশে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের নেতৃত্ব দেশ এবং জাতিকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কুড়িগ্রাম জেলার অবহেলিত দুস্থ নারীদের নিয়ে কাজ করবে আমাদের এই নতুন নেত্রীরা। নারীদের কিভাবে সামনের সারিতে অগ্রসর হতে হবে সে নেতৃত্ব দিবেন নবাগত কমিটির সদস্যরা।
নবাগত কমিটির জাতীয় নারীশক্তির সদস্য সচিব মোছাঃ মেরিনা পারভিন বলেন, প্রথমে ধন্যবাদ জানাই কুড়িগ্রাম জেলার সর্বস্তরের মানুষদের। যারা আমাদের এই নারীদের নেতৃত্বকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের পাশে ছিলেন। আমরা জাতীয় নারীশক্তির পদ কে বড় মনে করব না। আমরা যেন এই পদের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করতে পারি, সব সময় সেই চেষ্টাই করব। আমরা কুড়িগ্রাম জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত নারীদের নিয়ে কাজ করব। আমরা নারীদের কর্মমুখী করতে এবং নারীদের শিক্ষা-দীক্ষায় পরিপূর্ণ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সর্বদা সোচ্চার থাকব। যেন আমরা নারীরা কোন ক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার না হই। এবং নারী নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্ষণ, শোষণ ইত্যাদির হাত থেকে নারীদের রক্ষায় কাজ করে যাব সব সময়।

রাণীনগরে দেড় মাস ধরে নিখোঁজ মজনু, সন্ধান পেতে পরিবারের আকুতি

নওগাঁর রাণীনগরে মজনু সাখিদার (৪০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি গত দেড় মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার গোনা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের হুরমত সাখিদারের ছেলে।

মজনু সাখিদার মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত তাকে খুঁজে পেতে পুলিশ-প্রশাসন ও জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছেন তার পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দেড় মাস আগে মজনু সাখিদার হঠাৎ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফিরেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি।

নিখোঁজ মজনু সাখিদারের বাবা হুরমত সাখিদার ও মাতা রাশেদা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা মজনুকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন। মজনু সাখিদারের ছেলে আলামিন জানান, পরিবারের সবাই তার বাবা মজনুকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন। তিনি সমাজের সকল মানুষের কাছে মজনুর সন্ধান পেতে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তার পরিবার জানায়, মজনু সাখিদার মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তিনি কোথায় আছেন বা কী অবস্থায় আছেন তা নিয়ে তারা অত্যন্ত চিন্তিত। দ্রুত তাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ-প্রশাসন ও জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছেন।

যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি মজনু সাখিদারের সন্ধান পান তাহলে তার ছেলে আলামিনের এই (০১৩৩৮-০২৬৮৪১) মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, মজনু সাখিদার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় কেউ কোন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেনি। তারপরেও আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। তার সন্ধান পেতে পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগীতা করা হবে।

মাদক কারবারের অভিযোগে আটক ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

 

জামালপুরের মেলান্দহে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ তিন মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

 

 

 

গত সোমবার (৮ জুন) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে পুলিশ।

 

 

 

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন— মো. মোস্তফা (৫০), ৮ নং ফুলকোচা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫২) এবং মো. মিনহাজ উদ্দিন (৪১)।

 

জানা গেছে, মেলান্দহ উপজেলার ৭নং চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের ভাবকী সিঙ্গের কান্দা এলাকা থেকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হওয়ায় স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযুক্ত নেতার দ্রুত বহিষ্কার দাবি করেছেন।

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

এদিকে, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসার পর স্থানীয় নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, মাদকের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে না। তাই অভিযোগের সত্যতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

 

 

 

জামালপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

এসএসসি পাসেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরির সুযোগ

 

এসএসসি পাসেই চাকরি দিচ্ছে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অধীনস্থ বিভিন্ন অফিসসমূহে ৪টি পদে ১৮ জনকে নিয়োগ দেবে। আবেদন শুরু হয়েছে ৩ জুন সকাল ১০টা থেকে, চলবে ৩০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

পদের বিবরণ

আবেদন শুরু: ৩ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা

আবেদনের শেষ তারিখ: ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

চাকরির ধরন: অস্থায়ী

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

কর্মস্থল: মাদারীপুর

বয়স: ১ মার্চ ২০২৬ তারিখ ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহনযোগ্য হবে না।

 

 

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

 

 

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ প্রতিটি পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, তালিকায় ১৭ জেলা

 

দেশের ১৭ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

 

দেশের ১৭ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কবার্তা দেখাতে বলা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

 

 

 

একইসঙ্গে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

ব্যভিচার মামলা থেকে খালাস পেলেন নাসির হোসেন ও তামিমা

 

অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, তালাক ছাড়া বিয়ে, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।

 

 

 

এর আগে বেলা ১১টা ৪৭ মিনিটের দিকে তামিমার হাত ধরে এজলাসে হাজির হন নাসির। এসময় উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলাটিতে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।

 

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন।

 

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির। তাম্মি ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী কন্যা মারাত্মভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

 

 

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নিয়ে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক ‘ইসলাম’ নয়, জামায়াতে ইসলামীও ‘ইসলাম’ নয়। সুতরাং সবকিছুতে ইসলামের দোহাই দেবেন না।

 

 

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের তৃতীয় দিন ৬৮ বিধিতে দেওয়া ইসলামী ব্যাংকসংক্রান্ত বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের নোটিশের জবাবে তিনি একথা বলেন।

 

 

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলাম নাকি ব্যাংকের মালিক না। আবার তারা বলছে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। কয়দিন আগে জামায়াতে ইসলামের এক বন্ধুর সঙ্গে কথা হয়েছে, সে এ কথা বলেছে। আমি তার নাম নিলে আবার এখানে (সংসদ) তিনি দাঁড়াতে পারেন। এছাড়া জামায়াতের দুজন এমপিও ছিলেন, তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এদের একজন পরাজিত এমপি, আরেকজন জামায়াত নেতা ছিলেন।’

 

স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা বলে দিচ্ছেন ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। মাননীয় স্পিকার- ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের ওপর হাত দেবেন না, দোহাই দেওয়া কিন্তু ঠিক নয়।

 

জামায়াতে ইসলামী একবার ইসলামী ব্যাংক দখলে রেখেছিল, সেটা এখন বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এর যন্ত্রণা বুঝতে পারছেন বলে জানান মন্ত্রী।

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এবার পয়েন্ট টু পয়েন্টে আসি। এখন একবার যেই ব্যাংক আজান দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে- এ যাতনা তো আমরা বুঝি। সুতরাং যারা পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহক বলে রাস্তায় আন্দোলন করছে। ভিডিওটা দেখেন তাদের রাজনৈতিক পরিচয়। আমাদের মধ্যে অনেকে গ্রাহক আছে। গ্রাহককে বলা হচ্ছে বলেন আপনার অ্যাকাউন্ট আছে।’

 

বছরে বাস্তুহারা লক্ষাধিক মানুষ

নদীভাঙনে ছোট হয়ে আসছে বরিশাল

 

নদীবেষ্টিত অঞ্চল বরিশাল। কীর্তনখোলা, পদ্মা, মেঘনা, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ, তেঁতুলিয়া, সন্ধ্যা, কারখানাসহ অসংখ্য নদী বয়ে চলেছে বরিশালের চারদিক থেকে। ফলে বছরজুড়েই নদীভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে বরিশালের মানচিত্র। নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

 

 

 

স্যাটেলাইট চিত্র বলছে, নদীভাঙনের কারণে বরিশালের ভৌগোলিক মানচিত্র ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। বর্তমানে বরিশাল বিভাগের প্রায় ১০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মকভাবে ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে।

 

 

 

অন্যদিকে, পরিবেশবিদ ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বলছে, শুধু গত পাঁচ বছরেই বরিশালের মানচিত্র থেকে নদীতে বিলীন হয়েছে অন্তত ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা।

মূলত অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ইটভাটার জন্য নদীর তীর কেটে নেওয়া এবং যথাযথভাবে নদীশাসনের অভাবেই প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহলের।

 

জানা গেছে, বরিশাল জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুই উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জ এবং হিজলা। এ দুটি উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে গেছে পদ্মা, মেঘনা, কালাবদর, তেঁতুলিয়াসহ বেশ কিছু শাখা নদী। ফলে বছরজুড়েই দুটি উপজেলার একের পর এক গ্রাম নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে।

 

 

স্থানীয়দের দাবি- গত ৩০ বছর ধরে মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়ন। উপজেলার সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ মোল্লা জানালেন, মেঘনার বিশাল জলরাশির দিকে তাকিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন হারিয়ে যাওয়া বসতভিটার।

 

 

 

 

অশ্রুসজল চোখে নুর মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, ‘যে মাটিতে আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে, আজ তার পুরোটাই মেঘনা নদীর গর্ভে। পাকা ঘরবাড়ি, ধানি জমি, বাপ-দাদার ভিটে সবকিছুই চোখের সামনে তলিয়ে গেছে।’

 

 

 

একই এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বেগমের আশঙ্কা, নদী যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে দ্রুত বাঁধ না দিলে পুরো ইউনিয়নই একদিন মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। তারা ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহায়তা নয়, শেষ সম্বল রক্ষায় মেঘনায় টেকসই বাঁধ চান।

 

 

 

অন্যদিকে হিজলা এবং মেহেন্দিগঞ্জের মতোই সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে দিশেহারা পার্শ্ববর্তী মুলাদী এবং বাবুগঞ্জ উপজেলাবাসী। বিশেষ করে যুগ যুগ ধরে সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁর তীব্র ভাঙনে বাবুগঞ্জের মানচিত্র থেকে হারাতে বসেছে একের পর এক গ্রাম। স্থানীয়দের দাবি—নদীবেষ্টিত এই উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে মাধবপাশা ছাড়া বাকি সব কটি ‘কেদারপুর, চাঁদপাশা, দেহেরগতি, রহমতপুর ও জাহাঙ্গীরনগর’ ইউনিয়নে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

এ ছাড়া কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বরিশাল সদর উপজেলার একের পর এক গ্রাম। বিশেষ করে চরবাড়িয়া, শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন। এর মধ্যে কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরবাড়িয়া ইউনিয়ন। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরও গত বর্ষা মৌসুমে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

 

 

 

চরবাড়িয়ার বাসিন্দা আবদুল ছালাম গাজী বলেন, নদী আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে। তিনবার বাড়ি হারিয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন এই জায়গাটাও ভাঙনের মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের নদীতে ডুবে মরা ছাড়া উপায় থাকবে না।

 

 

 

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৮৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বছরের পর বছর নদীভাঙনের কারণে সংকুচিত হচ্ছে বরিশালের মানচিত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন এই ঝুঁকিকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরও অনেক এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

 

 

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর বরিশাল বিভাগীয় আহ্বায়ক রফিকুল আলম বলেন, অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই প্রতি বছর বরিশালে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১০২ কিলোমিটার বাঁধ বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিগত ৫-৮ বছরে নদীভাঙন রোধে অন্তত ১০টির মতো প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যার অধিকাংশই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আটকে গেছে। যে কারণে নদীভাঙনের কবল থেকে বরিশাল রক্ষা শুধু প্রতিশ্রুতিতেই আটকে আছে।

 

 

 

এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য কয়েকটি বড় প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

শূন্য বেকারত্বের কথায় ভুলিয়ে ইউনূস তৈরি করেন শূন্য জনআস্থা

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেড় বছরের শাসনামলে দেশে সৃষ্টি হয় নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলার। সুশাসন বিনষ্ট হয়। হারায় বাকস্বাধীনতা। গণমাধ্যমেও অস্থিরতা দেখা দেয়। সেখানে নেমে এসেছিল ত্রাস। জবাবদিহির অনুপস্থিতি, দুর্নীতি-অনিয়মের মচ্ছবের অভিযোগ ওঠে। রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহারসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভঙ্গুর করার সব পাঁয়তারা লক্ষ করা যায়। যেন গণতান্ত্রিক চর্চার এক বিপরীত যাত্রা। মানুষের জান-মাল-মান-মর্যাদা রক্ষায় সর্বত্র ব্যর্থ হয় সরকার। সমালোচকরা তাকে মব সন্ত্রাসের জনকও বলে। চাপে পড়ে ভোট আয়োজন করলেও দেশের সার্বিক অবস্থা হয় শোচনীয়। ড. ইউনূসের বহুল উচ্চারিত ‘থ্রি জিরো’র বিপরীতে দেশে জন্ম নেয় নতুন তিন শূন্যের— শূন্য জবাবদিহি, শূন্য জনআস্থা, শূন্য গণতন্ত্র। অর্থাৎ ইউনূস দায়িত্ব ছাড়েন নতুন তিন শূন্যের জন্ম দিয়ে। তিন পর্বের বিশেষ লেখার আজ ছাপা হলো দ্বিতীয় কিস্তি অন্তর্বর্তী সরকারের রুটিন দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার তা শুরু থেকেই অগ্রাহ্য করে গেছে। দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে তারা বেশি বেশি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগের দিকে ধাবিত হয়।

 

 

 

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্বলতা খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয় সংস্কার কমিশন। অমীমাংসিত কাঠামোগত প্রশ্নগুলোর সমাধানের লক্ষ্যে সাংবিধানিক পর্যালোচনা-আলোচনা চালানো হয়। আইনের শাসনকে শক্তিশালী করার কথা বলে প্রস্তাব করা হয় বিচার বিভাগীয় সংস্কারের উদ্যোগ। রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও জনসেবার মানোন্নয়নের উপায় হিসেবে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য এ ধরনের বিশাল কর্মসূচি গ্রহণ করেনি।

অথচ তাদের স্মরণে রাখা উচিত ছিল যে, অন্তর্বর্তী সরকার এ এখতিয়ার রাখে কি না?

কারও প্রতিটি সুপারিশ বা প্রস্তাবের সঙ্গেই সবার একমত হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছিল। সব বিষয়ে যেন তাদের সঙ্গে একমত হতে হবে। সরকারের তৎপরতায় মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের সমস্যাগুলো রাজনৈতিক নয়, প্রাতিষ্ঠানিক। তার মানে তারা বোঝাতে চাইছিল যে, দেশে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য শুধু সরকার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; এজন্য প্রয়োজন সরকারের কার্যপদ্ধতির সংস্কার। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, জনগণ যদি বিশ্বাস করে যে, প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং প্রকৃত অর্থেই তা অন্তর্ভুক্তিমূলক, শুধু তখনই সংস্কার সফল হয়। আর সেখানেই ইউনূস সরকার বেশি ব্যর্থ হয়।

 

 

বাংলাদেশের নতুন ‘তিনটি শূন্য’-এর প্রথমটি যদি হয় ‘শূন্য জবাবদিহি’, তবে দ্বিতীয়টিকে বলা যেতে পারে ‘শূন্য জনআস্থা’। পরিহাসের বিষয় হলো, সেই সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন জনগণের আস্থাই ছিল তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

 

 

 

বছরের পর বছর রাজনৈতিক সংঘাতের পর বাংলাদেশের অনেক মানুষ একটি শান্তিপর্বের আশা করেছিল। জনগণ অন্তহীন সংঘাত চক্রের অবসান চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোয় মৌলিক পরিবর্তন আসবে। রাজনৈতিক বিভাজন কিংবা পরিচয় নির্বিশেষে সবার সম্মান অর্জন করতে সক্ষম হবে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা এমন একটি সরকার চেয়েছিল, যে সরকার বিরাজমান সব শত্রুতা বৈরিতার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের ভবিষ্যৎকে শান্তির পথে চালিত করতে পারবে। এক কথায়, একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করেছিল জনগণ।

 

 

 

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে খ্যাতি নিয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তা সাধারণত রাজনীতিবিদের থাকে না। কয়েক দশক ধরে তিনি একজন সংস্কারক, উদ্ভাবক এবং সামাজিক অগ্রগতির প্রবক্তা হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেন বলে মনে করা হয়। দেশের অনেক মানুষ তাকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে কাজ করতে সক্ষম এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখতে চেয়েছিল। জনগণ এমন আস্থাই রাখতে চেয়েছিল। নির্দ্বিধায় তার ওপর এ আস্থা ছিল এক অসাধারণ সুযোগ। মনে রাখা জরুরি, আস্থা কিন্তু স্থায়ী কিছু নয়। জনগণের এ আস্থাকে অবশ্যই কাজ, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু ঘটল—উল্টো। প্রাথমিকভাবে যারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করেছিল, দ্রুতই তারা সরকারের তৎপরতা এবং অগ্রাধিকার সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করতে থাকল। এ সংকটের বড় কারণ ছিল ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও বিরাজমান রাজনৈতিক মেরূকরণ দূর করতে না পারা। ফলে নেতৃত্বের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় ঐকমত্য ঘটবে, এ প্রত্যাশা পূরণ হলো না জনগণের। দেখা গেল ড. ইউনূসের সময় রাজনৈতিক বিভাজন সমাজের আরও গভীরে প্রোথিত হলো।

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দ্রুতই মবের রাজনীতি শুরু হয়। একের পর এক মব সহিংসতার ঘটনায় যত দ্রুত এ সরকারের প্রতি জনগণের আস্থাকে দৃশ্যমানভাবে ক্ষতি করে, তা অন্য কিছুতে ঘটেনি। দেশের মানুষ সর্বত্র একই ধরনের সহিংসতা দেখতে পায়। তারা এসব ঘটনায় স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করে, সংগঠিত গোষ্ঠীরা কোনো ধরনের আইনের তোয়াক্কা না করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে। এসব গোষ্ঠী বেআইনি উপায়ে যা যা করতে চেয়েছে, তা-ই করতে পেরেছে। বিস্ময়কর হলো, রাষ্ট্র বা সরকার তার দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। প্রতিটি ঘটনার পেছনের কারণ যা-ই থাক না কেন, দেশের সাধারণ মানুষ এ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। তারা এটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হিসেবে দেখেছে। মানুষ দেখতে পেয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে রয়েছে, তারা নিজেরাই নিরুপায়। আর যারা মব উসকে দিচ্ছে, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে, তারাই সব শক্তির কেন্দ্রে।

 

 

 

 

যে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেই সরকার কীভাবে এ ধরনের পরিকল্পিত সহিংসতায় নির্লিপ্ত থাকতে পারে? দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানুষ দেখে, মব যেসব জায়গায় সফল হচ্ছে, তার প্রতিটি জায়গায় অন্তর্বর্তী সরকার নিষ্ক্রিয়। প্রতিটি মবের ঘটনায় জবাবদিহির অনুপস্থিতি এবং আইনের শাসন প্রয়োগে ধীরগতি। এ অবস্থা ধীরে ধীরে জনগণের মধ্যে এ ধারণাই প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এসব মবগোষ্ঠীর ক্ষমতার কাছে দুর্বল হয়ে পড়ছে। মনে রাখা জরুরি, সরকারের ওপর আস্থা মানে নিরপেক্ষভাবে আইন সমুন্নত রাখার ওপর আস্থা রাখা। আর এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সদিচ্ছা ও সামর্থ্য গুরুত্বপূর্ণ। যখন জনগণ সরকারের সে অঙ্গীকার নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করে, তখন গণঅনাস্থা রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে শাসনব্যবস্থার ভিত্তিমূলে ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

 

 

ধারাবাহিকভাবে মব সহিংসতার এ প্রবণতা কমার লক্ষণ দেখা যায় না। উল্টো প্রকাশ্যে এসব সংঘাত-সহিংসতা চলতে থাকে। বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একে অন্যকে লক্ষ করে উত্তপ্ত বাক্যবাণ ছোড়েন। অব্যাহত থাকে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ। দেখা যায়, সরকারের প্রতিটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। এমন পরিবেশে সরকারের জন্য নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায় তার কার্যসম্পাদন।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকার নানা দিক থেকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে থাকে। ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকে। কেউ কেউ সরকারকে ধীরগতির সরকার হিসেবে অভিযোগ তোলে। আবার কেউ কেউ বলেন, সরকার প্রতিহিংসাপরায়ণ। অনেকে বলতেন, সরকার একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী দ্বারা অতিরিক্ত প্রভাবিত। আবার এমন অভিযোগও ছিল যে, সরকার জনগণের চাওয়ার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল নয়।

 

 

 

 

নানা স্তর থেকে আসা সমালোচনাকে ভারসাম্যের ইঙ্গিত হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। তবে জনমত অনেক সময় ভিন্নভাবে কাজ করে। যখন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা একনাগাড়ে কোনো সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন সে সমালোচনাগুলো ন্যায্য হোক বা না হোক আস্থা কমতে শুরু করবে, এটাই স্বাভাবিক। জনমত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে কোনো সরকারের বৈধতা জনমতের ওপরই নির্ভরশীল। জনগণের চাওয়াকে বুঝতে না পারার ব্যর্থতার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের এ প্রতিবন্ধকতা আরও বেড়ে যায়।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সবচেয়ে ধারাবাহিক সমালোচনাগুলোর একটি ছিল অনিশ্চয়তা নিয়ে। দেশের মানুষ বারবার কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছে। সরকারের রোডম্যাপ কী? নির্বাচনের আগে কোন সংস্কারগুলো অপরিহার্য মনে করছে সরকার? কোন সংস্কারগুলো একটি নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া যেতে পারে? সাফল্যের মাপকাঠি কী হবে? এই সরকার কতদিন স্থায়ী হবে? এ প্রশ্নগুলো ছিল খুব স্বাভাবিক। জনগণ স্বভাবতই সরকারের লক্ষ্য এবং মেয়াদের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা জানতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রশ্নের উত্তর সর্বদাই মনে হতো অসংলগ্ন ও অসম্পূর্ণ।

 

 

 

 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের পক্ষ থেকে বার্তাও পরিবর্তিত হয়েছে। তাদের অগ্রাধিকারগুলোও বদলে গেছে। বদলে গেছে প্রত্যাশাও। দেখা যায়, সমাজে বিরাজমান অনিশ্চয়তা-বিশৃঙ্খলার চেয়েও জনমনে জল্পনা-কল্পনা বাড়তে শুরু করে সরকারের মেয়াদ নিয়ে। এ সার্বিক অনিশ্চয়তা এমন একটি শূন্যতা তৈরি করে, যা পূরণ করতে রাজনীতিকরা উদগ্রীব ছিলেন। সরকার যখন নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, তখন অন্যরা সেই সুযোগ নেয়। জল্পনা-কল্পনা সন্দেহ বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে স্বভাবতই জনগণের আলোচনার বিষয়গুলো সুস্পষ্ট তথ্যের পরিবর্তে অনুমান দ্বারা চালিত হতে থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রে এর ফল বিস্তৃত হয় রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত।

 

 

 

 

জনআস্থা শুধু একটি রাজনৈতিক ভিত্তি নয়। অর্থনৈতিকও বটে। বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতের নিরাপদ পরিবেশের নিশ্চয়তা খুঁজতে থাকে এবং এর ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত নেন। পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে মনে হলেই কেবল তারা ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন। এটা স্বাভাবিক। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা না থাকলে উদ্যোক্তারা পুঁজি বিনিয়োগ করেন না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়টাতে তাই অনেক ব্যবসায়িক নেতা সতর্ক ও সন্ত্রস্ত থাকেন। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় তারা এগোয়নি। বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। কোম্পানিগুলো প্রবৃদ্ধির দিকে না তাকিয়ে তারল্য সংরক্ষণে মনোযোগী হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে ব্যবসায়ীরা বিরত থেকেছে। অনেকেই দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গতিপথ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার জন্য করতে থাকে অপেক্ষা।

 

 

 

 

 

সংকটকালে ব্যবসায়ীদের এ প্রবণতা শুধু বাংলাদেশে নয়। বিশ্বজুড়েই লক্ষ্য করা যায়। সব জায়গায়ই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কালে বিনিয়োগ গতি কমে যায়। বেসরকারি খাত সবসময় পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দেয়। পূর্বাভাস খারাপ বা অনিশ্চিত হলে সতর্কতা অবলম্বন করাই যৌক্তিক। বিনিয়োগের ধীরগতির প্রভাব খোদ সরকার কাঠামোর ভেতরেও অনুভূত হয়।

 

 

 

 

এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনিশ্চয়তাপূর্ণ পরিবেশে আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও ধীরে ধীরে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। যে কর্মকর্তারা সাধারণত প্রকল্প অনুমোদন করতেন কিংবা গতানুগতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতেন, তারা দায়িত্ব পালন করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন না। যে কোনো ফাইল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতো। ফাইল অনুমোদনে দেখা দিল ধীরগতি। যে বিষয়গুলো একসময় নিম্নস্তরেই সমাধান করা যেত, সেগুলোর জন্য ক্রমশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন পড়ল। এক ধরনের অতিসতর্কতামূলক পরিবেশের উদ্ভব ঘটল। কর্মকর্তারা এ সতর্কতা কেন অবলম্বন করলেন, তা সহজেই বোধগম্য। তারা ভাবলেন, এমন অস্থির ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো ভুল করে বসলে তারা পেশাগত ক্ষতির শিকার হতে পারেন। কিন্তু এর প্রভাব ছিল ভয়াবহ। এর ফলে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়। প্রকল্পগুলোয় আসে ধীরগতি। পিছিয়ে পড়ছিল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। নিয়মিত কাজ হয়ে উঠছিল কষ্টসাধ্য।

 

 

 

 

যেসব সরকারি কাজের জন্য দ্রুত উদ্যোগ দরকার, বিরাজমান অনিশ্চিত পরিবেশে সেসব ক্রমেই গতি হারিয়েছিল। অনেক পর্যবেক্ষক তখন এ স্থবিরতার কথা বর্ণনা করেছেন এভাবে—সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে তা স্থগিত রাখা হচ্ছিল; দায়িত্ব গ্রণের পরিবর্তে আরেক হাতে পাঠানো হচ্ছিল। অর্থাৎ, পদ্ধতিগত সতর্কতার কাছে কাজটাই আসলে হয়ে পড়ছিল গৌণ। এটা বাস্তবতা যে, আত্মবিশ্বাস আচরণকে প্রভাবিত করে। আত্মবিশ্বাস কমে গেলে মানুষ সংশয়ে পড়ে। আর এ সংশয় বিনিয়োগ, প্রশাসন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

 

 

 

 

রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও আস্থার সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। সংস্কার আপনাআপনি হয় না। কমিশন গঠন করা তুলনামূলকভাবে সহজ। সুপারিশ প্রণয়ন করা সে তুলনায় কঠিন। আর সে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা আরও কঠিন। তাই সংস্কার সফল করতে হলে জনগণের সম্মতি অনিবার্য। জনগণকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, তারা নিষ্ক্রিয় দর্শক নন। তারা এ প্রক্রিয়ার অংশ। রাজনৈতিক অংশীজনের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে, তাদের কথাও শোনা হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সংস্কারকে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টি না দেখে। প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বুঝতে পারে যে, প্রক্রিয়া বৈধ। মজার ব্যাপার হলো, এখানেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি ভয়ানকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হয়।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক সংস্কার উদ্যোগ এক্ষেত্রে একটি কার্যকর উদাহরণ। মনে রাখা জরুরি, সাংবিধানিক প্রশ্নগুলো শুধু টেকনিক্যাল বিষয় নয়। এ প্রশ্নগুলো রাজনৈতিক ক্ষমতা গঠন এবং সে ক্ষমতা প্রয়োগের মৌলিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত। ফলে এ ধরনের সংস্কার যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিকশিত হয়, সেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের কারণে বৈধতা লাভ করে।

 

 

 

 

প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন তাই দায়িত্ব, কর্তৃত্ব এবং জবাবদিহিকে প্রভাবিত করে। এমনকি সুপরিকল্পিত সংস্কারও প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে পারে যদি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা মনে করেন যে, তাদের প্রয়োজনীয় আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচনি সংস্কার উদ্যোগ সম্ভবত সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হবে। কারণ, নির্বাচনি নিয়মনীতির বৈধতা অনেকাংশে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। টেকনিক্যালি সঠিক একটি প্রস্তাবও ব্যর্থ হতে পারে যদি মূল অংশীজন প্রক্রিয়াটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বা বর্জন করার মতো মনে করেন। এসব কিন্তু সংস্কারের বিরুদ্ধের যুক্তি নয়। বরং, অর্থবহ সংস্কার অনেক সময় অতিপ্রয়োজনীয়। শিক্ষা নিতে হবে এভাবে যে, সংস্কার ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়া কিন্তু মূল লক্ষ্যের সঙ্গে বিরোধিতা করা নয়। কারণ, তারা একে অপরের পরিপূরক। ঐকমত্য ছাড়া সংস্কার ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ ছাড়া সংস্কার বিতর্কিত হয়ে ওঠে। জনআস্থা ছাড়া সংস্কারকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সুতরাং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে একটি বৃহত্তর সত্য সামনে এনেছে। সেটা হচ্ছে, জনআস্থা একটি সরকারের সবচেয়ে মূল্যবান রাজনৈতিক পুঁজি, যেখানে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

 

 

 

 

মনে রাখতে হবে, সরকার সমালোচনা সহ্য করে টিকে থাকতে পারে। নীতিগত ব্যর্থতা থেকেও রক্ষা পেতে পারে। তুমুল বিতর্ক-বাদানুবাদ তাদের বাঁচাতে পারে। কিন্তু আস্থা কমতে শুরু করলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। জনগণ সরকারের উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করলে পরবর্তী সময়ে সব সিদ্ধান্তকে টিকিয়ে রাখা তার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারের প্রতিটি সংস্কার উদ্যোগ আরও বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। প্রতিটি উদ্যোগই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। আস্থা কিন্তু সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে। সরকারের প্রতি আস্থা বেশি থাকলে জনগণ অনিশ্চয়তাও সহ্য করতে আগ্রহী। কারণ তারা বিশ্বাস করে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে। আর আস্থা কমে গেলে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্তগুলোও সন্দেহের চোখে দেখা হয়। এ বাস্তবতা কিন্তু ড. ইউনূস জানতেন। কারণ তার কর্মজীবন জুড়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আস্থার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তার সামাজিক উদ্যোগগুলো আস্থার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। আর্থিক ব্যবস্থাগুলো আস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হয়ে তিনি ভুলে গেলেন সরকারের টিকে থাকার সূত্রও ওই আস্থাই।

 

 

 

 

 

কোনো সংস্কার কমিশন আস্থা তৈরি করতে পারে না। কোনো সাংবিধানিক সংশোধনী আইন করে আস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। কোনো প্রশাসনিক অধ্যাদেশ বৈধতা সৃষ্টি করতে পারে না। এসব স্বচ্ছতা, দৃঢ়তা, জবাবদিহি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক তৎপরতার মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় ছিল মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ। প্রাতিষ্ঠানিক, সাংবিধানিক কিংবা প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ নয়। তাই দেশে বিরাজিত গভীর অনিশ্চয়তা ও টালমাটাল সময়ে উচ্চাভিলাষী সংস্কার সাধনের জন্য জনগণের আস্থা বজায় রাখাই ছিল সরকারের বড় দায়িত্ব। যে কোনো সরকারের জন্যেই এ চ্যালেঞ্জ থাকে। ফলে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আইন পরিবর্তন করা নয়, বরং জনগণের আস্থা অর্জন করা।

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

গাঁজা সেবন করায় ৪ মাসের জন্য জেলে যেতে হলো তাদের!

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় গাঁজা সেবনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের বাগবাড়ি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বাগবাড়ি গ্রামের আব্দুর রহমান শেখের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং ভারাঙ্গা এলাকার কাজেমুদ্দিন মণ্ডলের ছেলে সাইদুল ইসলাম (৪৬)

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে গাঁজা সেবনের সময় ওই দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লা আল মামুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

 

এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় উভয়কে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

 

কামারখন্দের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লা আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনের সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে।”

 

তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার বাড়ি থেকে বস্তা নিয়ে যায় হাসনাত আব্দুল্লাহ!

হাসনাত আব্দুল্লাহ ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার বাড়ি থেকে বস্তা নিয়ে যায়। ওই চোরের ঘরের চোরে সংসদে বড় বড় কথা বলে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে এমন কথা বলতে শোনা যায়।  হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছে টাকা পাবেন বলেও দাবী করেছেন।

 

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছে টাকা পাব, ৮০০ টাকা। ভার্সিটিতে গাড়ি নিয়ে বসতাম আমি। এসেই বলতো, ভাই চা খাওয়ান, মামা চা খাওয়ান, খাওয়াইতাম।’

 

ভিডিওতে তাকে আরো বলতে দেখা যায়, ‘সেই চোরের ঘরে চোর ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার বাড়ি থেকে বস্তা নিয়ে যায়।

 

ওই চোরের ঘরে চোরে সংসদে বড় বড় কথা বলে। চোর তো সংসদেই বসে আছে। পবিত্র জায়গাকে অপবিত্র করে ফেলছে।’

 

কামারখন্দে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়েলো ৭ দোকান: ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৭টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন দোকান মালিকগণ।

 

বুধবার (১০ জুন) ভোরে উপজেলার জামতৈল পূর্ব বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান বুধবার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে চান সুইট নামে দোকানের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধীরে ধীরে পাশের দোকানগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে আগুন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।

 

ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চান সুইটস, এন্ড মিষ্টান্ন ভান্ডার, মনোহারী দোকান, সেলুন ঘর, আধুনিক কনফেকশনারি এন্ড রকমারি আসবাবাপত্র, মৃতশিল্পের দোকান, ফ্রিজের মেকানিক্যাল দোকানসহ প্রতিটা ঘরের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

 

চান সুইটসের মালিক লাল মিয়া জানান, আমাদের একেবারে পুরো দোকান পুরে শেষ হয়ে গেছে। ঈদ উপলক্ষে আমাদের চিনি তেল সবকিছুই স্টক করা ছিল। ব্যাংক থেকে কিছু লোন নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 

কামারখন্দ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ও্যায়ার হাউজ ইন্সপেক্টর ফরিদ উদ্দিন জানান, আমরা ভোর সোয়া ছয়টায় টার দিকে খবর পেয়ে দ্রুত চলে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। পুরোপুরি আগুন নেভাতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগে। আমরা ধারণা করছি বিদ্যুতের শর্ট সার্টিকে থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বিষয়টি নিয়ে আরো আমাদের তদন্ত করতে হবে।

 

ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, আটক ৫

মাদারীপুর সদর থানায় দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

 

 

সোমবার (০৮ জুন) রাতে শহরের পুরাতন বিসিক শিল্পনগরী এলাকা থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

আটকরা হলেন— শান্ত ঢালী (২০), সালমান ঢালী (১৯), আবির ঢালী (১৯), আজিম ঢালী (১৮) এবং সাহেব বেপারী (১৭)। তাদের সবার বাড়ি নতুন মাদারীপুর এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে মাদারীপুর শহরের পুরাতন বিসিক শিল্পনগরী এলাকা থেকে শহরের বাদামতলা এলাকার সবুজ ও নতুন মাদারীপুর এলাকার আরিফ চৌকিদারকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, সবুজ একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আরিফ চৌকিদারকে আটকের কারণ জানতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন তার বিরুদ্ধে থাকা ওয়ারেন্ট দেখতে চান। এ নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ আটক দুজনকে সদর থানায় নিয়ে আসে।

 

 

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়ার সময় ও পরে পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়।

 

 

 

এদিকে আটক দুই ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের স্বজন ও সমর্থকদের একটি অংশ সদর থানার সামনে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সদর থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থানাকে ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলে।

 

 

 

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আরিফ ও সবুজ নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

 

 

হাকিমপুরে নবাগত ইউএনও জর্জ মিত্র চাকমা’র যোগদান, ফুলেল শুভেচ্ছা

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেছেন জর্জ মিত্র চাকমা।
গত ৮ জুন রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজমুস সাদাত রত্ন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে পদায়ন বা বদলি করা হয়।
আজ মঙ্গলবার(৯ জুন) তার নতুন কর্মস্থল হাকিমপুর এসে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান হাকিমপুর পৌরসভার পক্ষে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,হাকিমপুর পৌরসভার প্রধান সহকারী মোঃ সাইফুল ইসলাম, হিসাবরক্ষক (অতিঃদ্বাঃ) মোছাঃ হাবিবা বেগম, কার্য সহকারী মোঃ আরশাদ আলী সহ অনেকে।
চলতি বছরের গত (১০ মে) হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক অশোক বিক্রম চাকমা বদলী হওয়ায় পার্শ্ববর্তী বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ তানজিনা খাতুন অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব হিসেবে যোগদান করেন। এরপর দীর্ঘ প্রায় একমাস হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব পালন করেন মোছাঃ তানজিনা খাতুন।
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে থেকে বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থল দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন জর্জ মিত্র চাকমা।
রাঙ্গামাটি জেলার বাসিন্দা জর্জ মিত্র চাকমা ৩৬তম বিসিএস (প্রসাশন) ক্যাডার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন।তার ব্যাক্তিগত পরিচিতি নাম্বার ১৮৫৪২। এর আগে তিনি সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার নেজারত ডেপুটি কালেক্টর, ট্রেজারী শাখা, ফরমস, স্টেশনারী লাইব্রেরি শাখায় কর্মরত ছিলেন।
সর্বশেষ তিনি গত বছরের ২১ জানুয়ারি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন জর্জ মিত্র চাকমা।
এদিকে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যোগদান করেছেন।

স্ত্রীসহ তরুণীদের নগ্ন ছবি ধারণ করায় ছিল তার নেশা; অতপর….

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার এক তরুণীর অশ্লীল ও নগ্ন ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মোঃ আলিফ হোসেন(৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৯জুন) সন্ধ্যা ৭টায় নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

এর আগে সোমবার (৮জুন) টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিকৃত রুচির ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তার আলিফ হোসেন ওই জেলার ঘাটাইল উপজেলার চরবিরসিংহ এলাকার আজহারুল ইসলামের ছেলে।

 

পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বাবা ধামইরহাট থানায় অভিযোগ করেন কে বা কাহারা তার মেয়ের নগ্ন ও অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা হলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করার জন্য ওসিকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি এবং সাইবার বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে একটি বিশেষ টিম খুব দ্রুত সময়ে সোমবার টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরে অভিযান পরিচালনা করে আলিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। সেই সাথে তার মোবাইল জব্দ করে উক্ত ঘটনার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়।

 

এসপি আরও বলেন, এই মামলার ভুক্তভোগী তরুণীর ছবি ছাড়াও আরও তিনজন মেয়ের অশ্লীল ও নগ্ন ভিডিও-ছবি তার মোবাইলে পাওয়া যায়। এমনকি তার স্ত্রীর নগ্ন ভিডিও সেখানে পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় আলিফ হোসেন ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন ব্যবহার করে তরুণীদের সাথে বন্ধুত্ব করে তোলে। পরে কৌশলে তাদের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে মোবাইলে সংরক্ষণ করতো। এবং ধারণকৃত নগ্ন ছবি দিয়ে ভিকটিমদের জিম্মি করে বিভিন্ন ভাবে ফায়দা লুটার চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, সে এই অপরাধ করে বিকৃত আনন্দ অনুভব করতো। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নওগাঁ জেলা পুলিশ নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফির মতো যেকোনো ঘৃণ্য  অপরাধ কঠোর হস্তে দমন করবে।

এসএসসি পাস প্রার্থীদের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ

জনবল নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ৩টি পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদন শুরু হয়েছে ৭ জুন সকাল ১০টা থেকে, চলবে ২৮ জুন বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এসএসসি ও এইচএসসি পাসের চাকরি প্রার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবেন।

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

পদের বিবরণ

আবেদন শুরু: ৭ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা

আবেদনের শেষ তারিখ: ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল ৪টা

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

চাকরির ধরন: স্থায়ী

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক।

 

বয়স: ৭ জুন ২০২৬ তারিখ ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ ১-২ নং পদের জন্য ১১২ টাকা, ৩ নং পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য্য তাহ্‌মিনা আখতারের যোগদান

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন।

 

 

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) জুন অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার আনুষ্ঠানিকভাবে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

 

 

 

এর আগে সোমবার (৮ জুন) এক প্রজ্ঞাপণে তাহমিনা আখতারকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ওইদিন বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুল খালেক-এর নিকট তিনি যোগদানপত্র জমা দেন।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-এ স্থাপিত শহিদ মিনার ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার পঁয়ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পদেয় দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (ISWR)-এর পরিচালক, রোকেয়া হল, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রভোস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক, সিনেট সদস্য এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজ করেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য হিসেবেও অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ও হল সংসদের কুয়েত মৈত্রী হলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, বাংলাদেশ কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশনের মহাসচিব এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (UTAB)-এর প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব, এশিয়ান ও প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশন (APASWE)-এর সদস্য হিসেবেও তিনি সক্রিয়। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উপদেষ্টা এবং বোর্ড অফ গভর্নেন্সের সদস্য হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম আয়োজন, অংশগ্রহণ, প্রবন্ধ উপস্থাপন, সেশন চেয়ারসহ প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

 

 

তিনি Sage, Palgrave Macmillan (মালয়েশিয়া), Taylor & Francis, Oxford University Press সহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ জার্নালে পঞ্চাশটিরও অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন।

 

 

 

অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার এসএসসিতে ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থান এবং এইচএসসিতে ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় ১০ম স্থান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (ISWR) থেকে বিএসএস (সম্মান)-এ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান এবং এমএসএস-এ প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং বিষয়ে ফেলোশিপ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

 

 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এর ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর  সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অধ্যাপক তাহ্‌মিনা  আখতার বলেন, “রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং জনসম্পৃক্ততার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চার উৎকর্ষের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করতে চাই।

 

 

 

 

সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

 

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইন্নাকে নিয়ে ফেসবুকে ভুয়া তথ্য পোস্ট করায় যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম ইন্নাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দিয়ে পোস্ট করায় হাসান আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানা আমলী আদালতে শরীফুল ইসলাম ইন্না বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে আসামি হাসান আলীর বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন। এই আদালতের পেশকার স্বপন এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

 

আসামি হাসান আলী সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার একডালা মধ্যপাড়া মহল্লার জামাল উদ্দিনের ছেলে।

 

 

মামলায় বাদী উল্লেখ করেছেন, তিনি সাংবাদিকতা করে সত্য ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ করিয়া থাকেন। সত্য ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দুষ্কৃতিকারীদের বিপদের কারণ হয়ে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় আসামি হাসান আলী গত ৩০ মে তার ফেসবুক আইডি থেকে বাদী শরীফুল ইসলাম ইন্নার বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ভাইরাল (প্রকাশ) করে দেয়।

 

 

ওই ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করে ছাত্রলীগ নেতা আসিফ হত্যাকে কেন্দ্র করে মামলা বানিজ্য ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা সরদার শরীফুল ইসলাম ইন্না।

 

 

শরীফুল ইসলাম ইন্না কৌশলে মামলা বানিজ্য করে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মামলা বানিজ্যের কৌশল-প্রথমে নিহত আসিফকে বিএনপি সাজিয়ে ফেসবুকে প্রচার করে ইন্না। এরপর নিহত আসিফ এর মা আসমানীকে দিয়ে মামলা করার প্রস্তুতি গ্রহন করে ইন্না। জেলার সকল আওয়ামীলীগ নেতা ও তার পরিবারকে আসামী করা হবে মর্মে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ইন্না। অনেকে আওয়ামীলীগ নেতা ও তার পরিবারকে ইন্নার সাথে যোগাযোগ করে মোটা টাকা প্রদান করিলে সেই আওয়ামীলীগ নেতাদের নাম মামলায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে নাই ইন্না।

 

 

মামলা বানিজ্য করে ছাত্রলীগ নেতা আসিফ নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। উপরোক্ত সকল কথোপকথন সম্পূর্ন মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট। হেনরির বাসায় আগুনে পুড়ে নিহত হয় আসিফ। সেই ঘটনা দিয়ে আসিফের মা বাদী হয়ে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেই মামলায় প্রশাসন তদন্ত করে এবং আদালতে উক্ত মামলা চলমান রহিয়াছে। সেক্ষেত্রে শরীফুল ইসলাম ইন্না কিভাবে মামলা বানিজ্য এবং ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। নামিক আসামী আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে জন সম্মুখে শরীফুল ইসলাম ইন্নার ভাবমুর্তি ও সাংবাদিকতা পেশার সম্মান ক্ষুন্ন করার অসৎ উদ্দেশ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে শরীফুল ইসলাম ইন্নার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্মানহানী করেছে।

 

 

আসামী হাসান আলী ভুয়া তথ্য প্রকাশ করায় তার বিরুদ্ধে শরীফুল ইসলাম ইন্না বাদী মামলা দায়ের করেন।