দেশের ১৭ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।
দেশের ১৭ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কবার্তা দেখাতে বলা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
একইসঙ্গে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ব্যভিচার মামলা থেকে খালাস পেলেন নাসির হোসেন ও তামিমা
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১২:৩১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, তালাক ছাড়া বিয়ে, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।
এর আগে বেলা ১১টা ৪৭ মিনিটের দিকে তামিমার হাত ধরে এজলাসে হাজির হন নাসির। এসময় উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলাটিতে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির। তাম্মি ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী কন্যা মারাত্মভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১১:৫০:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নিয়ে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক ‘ইসলাম’ নয়, জামায়াতে ইসলামীও ‘ইসলাম’ নয়। সুতরাং সবকিছুতে ইসলামের দোহাই দেবেন না।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের তৃতীয় দিন ৬৮ বিধিতে দেওয়া ইসলামী ব্যাংকসংক্রান্ত বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের নোটিশের জবাবে তিনি একথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলাম নাকি ব্যাংকের মালিক না। আবার তারা বলছে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। কয়দিন আগে জামায়াতে ইসলামের এক বন্ধুর সঙ্গে কথা হয়েছে, সে এ কথা বলেছে। আমি তার নাম নিলে আবার এখানে (সংসদ) তিনি দাঁড়াতে পারেন। এছাড়া জামায়াতের দুজন এমপিও ছিলেন, তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এদের একজন পরাজিত এমপি, আরেকজন জামায়াত নেতা ছিলেন।’
স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা বলে দিচ্ছেন ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। মাননীয় স্পিকার- ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের ওপর হাত দেবেন না, দোহাই দেওয়া কিন্তু ঠিক নয়।
জামায়াতে ইসলামী একবার ইসলামী ব্যাংক দখলে রেখেছিল, সেটা এখন বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এর যন্ত্রণা বুঝতে পারছেন বলে জানান মন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এবার পয়েন্ট টু পয়েন্টে আসি। এখন একবার যেই ব্যাংক আজান দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে- এ যাতনা তো আমরা বুঝি। সুতরাং যারা পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহক বলে রাস্তায় আন্দোলন করছে। ভিডিওটা দেখেন তাদের রাজনৈতিক পরিচয়। আমাদের মধ্যে অনেকে গ্রাহক আছে। গ্রাহককে বলা হচ্ছে বলেন আপনার অ্যাকাউন্ট আছে।’

বছরে বাস্তুহারা লক্ষাধিক মানুষ
নদীভাঙনে ছোট হয়ে আসছে বরিশাল
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১১:১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
নদীবেষ্টিত অঞ্চল বরিশাল। কীর্তনখোলা, পদ্মা, মেঘনা, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ, তেঁতুলিয়া, সন্ধ্যা, কারখানাসহ অসংখ্য নদী বয়ে চলেছে বরিশালের চারদিক থেকে। ফলে বছরজুড়েই নদীভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে বরিশালের মানচিত্র। নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
স্যাটেলাইট চিত্র বলছে, নদীভাঙনের কারণে বরিশালের ভৌগোলিক মানচিত্র ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। বর্তমানে বরিশাল বিভাগের প্রায় ১০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মকভাবে ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে।
অন্যদিকে, পরিবেশবিদ ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বলছে, শুধু গত পাঁচ বছরেই বরিশালের মানচিত্র থেকে নদীতে বিলীন হয়েছে অন্তত ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা।
মূলত অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ইটভাটার জন্য নদীর তীর কেটে নেওয়া এবং যথাযথভাবে নদীশাসনের অভাবেই প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহলের।
জানা গেছে, বরিশাল জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুই উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জ এবং হিজলা। এ দুটি উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে গেছে পদ্মা, মেঘনা, কালাবদর, তেঁতুলিয়াসহ বেশ কিছু শাখা নদী। ফলে বছরজুড়েই দুটি উপজেলার একের পর এক গ্রাম নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি- গত ৩০ বছর ধরে মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়ন। উপজেলার সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ মোল্লা জানালেন, মেঘনার বিশাল জলরাশির দিকে তাকিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন হারিয়ে যাওয়া বসতভিটার।
অশ্রুসজল চোখে নুর মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, ‘যে মাটিতে আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে, আজ তার পুরোটাই মেঘনা নদীর গর্ভে। পাকা ঘরবাড়ি, ধানি জমি, বাপ-দাদার ভিটে সবকিছুই চোখের সামনে তলিয়ে গেছে।’
একই এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বেগমের আশঙ্কা, নদী যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে দ্রুত বাঁধ না দিলে পুরো ইউনিয়নই একদিন মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। তারা ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহায়তা নয়, শেষ সম্বল রক্ষায় মেঘনায় টেকসই বাঁধ চান।
অন্যদিকে হিজলা এবং মেহেন্দিগঞ্জের মতোই সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে দিশেহারা পার্শ্ববর্তী মুলাদী এবং বাবুগঞ্জ উপজেলাবাসী। বিশেষ করে যুগ যুগ ধরে সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁর তীব্র ভাঙনে বাবুগঞ্জের মানচিত্র থেকে হারাতে বসেছে একের পর এক গ্রাম। স্থানীয়দের দাবি—নদীবেষ্টিত এই উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে মাধবপাশা ছাড়া বাকি সব কটি ‘কেদারপুর, চাঁদপাশা, দেহেরগতি, রহমতপুর ও জাহাঙ্গীরনগর’ ইউনিয়নে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়া কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বরিশাল সদর উপজেলার একের পর এক গ্রাম। বিশেষ করে চরবাড়িয়া, শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন। এর মধ্যে কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরবাড়িয়া ইউনিয়ন। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরও গত বর্ষা মৌসুমে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
চরবাড়িয়ার বাসিন্দা আবদুল ছালাম গাজী বলেন, নদী আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে। তিনবার বাড়ি হারিয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন এই জায়গাটাও ভাঙনের মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের নদীতে ডুবে মরা ছাড়া উপায় থাকবে না।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৮৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বছরের পর বছর নদীভাঙনের কারণে সংকুচিত হচ্ছে বরিশালের মানচিত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন এই ঝুঁকিকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরও অনেক এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর বরিশাল বিভাগীয় আহ্বায়ক রফিকুল আলম বলেন, অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই প্রতি বছর বরিশালে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১০২ কিলোমিটার বাঁধ বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিগত ৫-৮ বছরে নদীভাঙন রোধে অন্তত ১০টির মতো প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যার অধিকাংশই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আটকে গেছে। যে কারণে নদীভাঙনের কবল থেকে বরিশাল রক্ষা শুধু প্রতিশ্রুতিতেই আটকে আছে।
এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য কয়েকটি বড় প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
সুত্র: দৈনিক কালবেলা

শূন্য বেকারত্বের কথায় ভুলিয়ে ইউনূস তৈরি করেন শূন্য জনআস্থা
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১০:৫৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেড় বছরের শাসনামলে দেশে সৃষ্টি হয় নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলার। সুশাসন বিনষ্ট হয়। হারায় বাকস্বাধীনতা। গণমাধ্যমেও অস্থিরতা দেখা দেয়। সেখানে নেমে এসেছিল ত্রাস। জবাবদিহির অনুপস্থিতি, দুর্নীতি-অনিয়মের মচ্ছবের অভিযোগ ওঠে। রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহারসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভঙ্গুর করার সব পাঁয়তারা লক্ষ করা যায়। যেন গণতান্ত্রিক চর্চার এক বিপরীত যাত্রা। মানুষের জান-মাল-মান-মর্যাদা রক্ষায় সর্বত্র ব্যর্থ হয় সরকার। সমালোচকরা তাকে মব সন্ত্রাসের জনকও বলে। চাপে পড়ে ভোট আয়োজন করলেও দেশের সার্বিক অবস্থা হয় শোচনীয়। ড. ইউনূসের বহুল উচ্চারিত ‘থ্রি জিরো’র বিপরীতে দেশে জন্ম নেয় নতুন তিন শূন্যের— শূন্য জবাবদিহি, শূন্য জনআস্থা, শূন্য গণতন্ত্র। অর্থাৎ ইউনূস দায়িত্ব ছাড়েন নতুন তিন শূন্যের জন্ম দিয়ে। তিন পর্বের বিশেষ লেখার আজ ছাপা হলো দ্বিতীয় কিস্তি অন্তর্বর্তী সরকারের রুটিন দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার তা শুরু থেকেই অগ্রাহ্য করে গেছে। দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে তারা বেশি বেশি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগের দিকে ধাবিত হয়।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্বলতা খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয় সংস্কার কমিশন। অমীমাংসিত কাঠামোগত প্রশ্নগুলোর সমাধানের লক্ষ্যে সাংবিধানিক পর্যালোচনা-আলোচনা চালানো হয়। আইনের শাসনকে শক্তিশালী করার কথা বলে প্রস্তাব করা হয় বিচার বিভাগীয় সংস্কারের উদ্যোগ। রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও জনসেবার মানোন্নয়নের উপায় হিসেবে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য এ ধরনের বিশাল কর্মসূচি গ্রহণ করেনি।
অথচ তাদের স্মরণে রাখা উচিত ছিল যে, অন্তর্বর্তী সরকার এ এখতিয়ার রাখে কি না?
কারও প্রতিটি সুপারিশ বা প্রস্তাবের সঙ্গেই সবার একমত হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছিল। সব বিষয়ে যেন তাদের সঙ্গে একমত হতে হবে। সরকারের তৎপরতায় মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের সমস্যাগুলো রাজনৈতিক নয়, প্রাতিষ্ঠানিক। তার মানে তারা বোঝাতে চাইছিল যে, দেশে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য শুধু সরকার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; এজন্য প্রয়োজন সরকারের কার্যপদ্ধতির সংস্কার। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, জনগণ যদি বিশ্বাস করে যে, প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং প্রকৃত অর্থেই তা অন্তর্ভুক্তিমূলক, শুধু তখনই সংস্কার সফল হয়। আর সেখানেই ইউনূস সরকার বেশি ব্যর্থ হয়।
বাংলাদেশের নতুন ‘তিনটি শূন্য’-এর প্রথমটি যদি হয় ‘শূন্য জবাবদিহি’, তবে দ্বিতীয়টিকে বলা যেতে পারে ‘শূন্য জনআস্থা’। পরিহাসের বিষয় হলো, সেই সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন জনগণের আস্থাই ছিল তার সবচেয়ে বড় শক্তি।
বছরের পর বছর রাজনৈতিক সংঘাতের পর বাংলাদেশের অনেক মানুষ একটি শান্তিপর্বের আশা করেছিল। জনগণ অন্তহীন সংঘাত চক্রের অবসান চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোয় মৌলিক পরিবর্তন আসবে। রাজনৈতিক বিভাজন কিংবা পরিচয় নির্বিশেষে সবার সম্মান অর্জন করতে সক্ষম হবে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা এমন একটি সরকার চেয়েছিল, যে সরকার বিরাজমান সব শত্রুতা বৈরিতার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের ভবিষ্যৎকে শান্তির পথে চালিত করতে পারবে। এক কথায়, একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করেছিল জনগণ।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে খ্যাতি নিয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তা সাধারণত রাজনীতিবিদের থাকে না। কয়েক দশক ধরে তিনি একজন সংস্কারক, উদ্ভাবক এবং সামাজিক অগ্রগতির প্রবক্তা হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেন বলে মনে করা হয়। দেশের অনেক মানুষ তাকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে কাজ করতে সক্ষম এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখতে চেয়েছিল। জনগণ এমন আস্থাই রাখতে চেয়েছিল। নির্দ্বিধায় তার ওপর এ আস্থা ছিল এক অসাধারণ সুযোগ। মনে রাখা জরুরি, আস্থা কিন্তু স্থায়ী কিছু নয়। জনগণের এ আস্থাকে অবশ্যই কাজ, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু ঘটল—উল্টো। প্রাথমিকভাবে যারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করেছিল, দ্রুতই তারা সরকারের তৎপরতা এবং অগ্রাধিকার সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করতে থাকল। এ সংকটের বড় কারণ ছিল ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও বিরাজমান রাজনৈতিক মেরূকরণ দূর করতে না পারা। ফলে নেতৃত্বের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় ঐকমত্য ঘটবে, এ প্রত্যাশা পূরণ হলো না জনগণের। দেখা গেল ড. ইউনূসের সময় রাজনৈতিক বিভাজন সমাজের আরও গভীরে প্রোথিত হলো।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দ্রুতই মবের রাজনীতি শুরু হয়। একের পর এক মব সহিংসতার ঘটনায় যত দ্রুত এ সরকারের প্রতি জনগণের আস্থাকে দৃশ্যমানভাবে ক্ষতি করে, তা অন্য কিছুতে ঘটেনি। দেশের মানুষ সর্বত্র একই ধরনের সহিংসতা দেখতে পায়। তারা এসব ঘটনায় স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করে, সংগঠিত গোষ্ঠীরা কোনো ধরনের আইনের তোয়াক্কা না করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে। এসব গোষ্ঠী বেআইনি উপায়ে যা যা করতে চেয়েছে, তা-ই করতে পেরেছে। বিস্ময়কর হলো, রাষ্ট্র বা সরকার তার দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। প্রতিটি ঘটনার পেছনের কারণ যা-ই থাক না কেন, দেশের সাধারণ মানুষ এ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। তারা এটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হিসেবে দেখেছে। মানুষ দেখতে পেয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে রয়েছে, তারা নিজেরাই নিরুপায়। আর যারা মব উসকে দিচ্ছে, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে, তারাই সব শক্তির কেন্দ্রে।
যে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেই সরকার কীভাবে এ ধরনের পরিকল্পিত সহিংসতায় নির্লিপ্ত থাকতে পারে? দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানুষ দেখে, মব যেসব জায়গায় সফল হচ্ছে, তার প্রতিটি জায়গায় অন্তর্বর্তী সরকার নিষ্ক্রিয়। প্রতিটি মবের ঘটনায় জবাবদিহির অনুপস্থিতি এবং আইনের শাসন প্রয়োগে ধীরগতি। এ অবস্থা ধীরে ধীরে জনগণের মধ্যে এ ধারণাই প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এসব মবগোষ্ঠীর ক্ষমতার কাছে দুর্বল হয়ে পড়ছে। মনে রাখা জরুরি, সরকারের ওপর আস্থা মানে নিরপেক্ষভাবে আইন সমুন্নত রাখার ওপর আস্থা রাখা। আর এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সদিচ্ছা ও সামর্থ্য গুরুত্বপূর্ণ। যখন জনগণ সরকারের সে অঙ্গীকার নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করে, তখন গণঅনাস্থা রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে শাসনব্যবস্থার ভিত্তিমূলে ছড়িয়ে পড়ে।
ধারাবাহিকভাবে মব সহিংসতার এ প্রবণতা কমার লক্ষণ দেখা যায় না। উল্টো প্রকাশ্যে এসব সংঘাত-সহিংসতা চলতে থাকে। বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একে অন্যকে লক্ষ করে উত্তপ্ত বাক্যবাণ ছোড়েন। অব্যাহত থাকে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ। দেখা যায়, সরকারের প্রতিটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। এমন পরিবেশে সরকারের জন্য নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায় তার কার্যসম্পাদন।
অন্তর্বর্তী সরকার নানা দিক থেকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে থাকে। ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকে। কেউ কেউ সরকারকে ধীরগতির সরকার হিসেবে অভিযোগ তোলে। আবার কেউ কেউ বলেন, সরকার প্রতিহিংসাপরায়ণ। অনেকে বলতেন, সরকার একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী দ্বারা অতিরিক্ত প্রভাবিত। আবার এমন অভিযোগও ছিল যে, সরকার জনগণের চাওয়ার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল নয়।
নানা স্তর থেকে আসা সমালোচনাকে ভারসাম্যের ইঙ্গিত হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। তবে জনমত অনেক সময় ভিন্নভাবে কাজ করে। যখন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা একনাগাড়ে কোনো সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন সে সমালোচনাগুলো ন্যায্য হোক বা না হোক আস্থা কমতে শুরু করবে, এটাই স্বাভাবিক। জনমত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে কোনো সরকারের বৈধতা জনমতের ওপরই নির্ভরশীল। জনগণের চাওয়াকে বুঝতে না পারার ব্যর্থতার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের এ প্রতিবন্ধকতা আরও বেড়ে যায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সবচেয়ে ধারাবাহিক সমালোচনাগুলোর একটি ছিল অনিশ্চয়তা নিয়ে। দেশের মানুষ বারবার কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছে। সরকারের রোডম্যাপ কী? নির্বাচনের আগে কোন সংস্কারগুলো অপরিহার্য মনে করছে সরকার? কোন সংস্কারগুলো একটি নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া যেতে পারে? সাফল্যের মাপকাঠি কী হবে? এই সরকার কতদিন স্থায়ী হবে? এ প্রশ্নগুলো ছিল খুব স্বাভাবিক। জনগণ স্বভাবতই সরকারের লক্ষ্য এবং মেয়াদের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা জানতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রশ্নের উত্তর সর্বদাই মনে হতো অসংলগ্ন ও অসম্পূর্ণ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের পক্ষ থেকে বার্তাও পরিবর্তিত হয়েছে। তাদের অগ্রাধিকারগুলোও বদলে গেছে। বদলে গেছে প্রত্যাশাও। দেখা যায়, সমাজে বিরাজমান অনিশ্চয়তা-বিশৃঙ্খলার চেয়েও জনমনে জল্পনা-কল্পনা বাড়তে শুরু করে সরকারের মেয়াদ নিয়ে। এ সার্বিক অনিশ্চয়তা এমন একটি শূন্যতা তৈরি করে, যা পূরণ করতে রাজনীতিকরা উদগ্রীব ছিলেন। সরকার যখন নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, তখন অন্যরা সেই সুযোগ নেয়। জল্পনা-কল্পনা সন্দেহ বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে স্বভাবতই জনগণের আলোচনার বিষয়গুলো সুস্পষ্ট তথ্যের পরিবর্তে অনুমান দ্বারা চালিত হতে থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রে এর ফল বিস্তৃত হয় রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত।
জনআস্থা শুধু একটি রাজনৈতিক ভিত্তি নয়। অর্থনৈতিকও বটে। বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতের নিরাপদ পরিবেশের নিশ্চয়তা খুঁজতে থাকে এবং এর ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত নেন। পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে মনে হলেই কেবল তারা ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন। এটা স্বাভাবিক। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা না থাকলে উদ্যোক্তারা পুঁজি বিনিয়োগ করেন না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়টাতে তাই অনেক ব্যবসায়িক নেতা সতর্ক ও সন্ত্রস্ত থাকেন। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় তারা এগোয়নি। বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। কোম্পানিগুলো প্রবৃদ্ধির দিকে না তাকিয়ে তারল্য সংরক্ষণে মনোযোগী হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে ব্যবসায়ীরা বিরত থেকেছে। অনেকেই দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গতিপথ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার জন্য করতে থাকে অপেক্ষা।
সংকটকালে ব্যবসায়ীদের এ প্রবণতা শুধু বাংলাদেশে নয়। বিশ্বজুড়েই লক্ষ্য করা যায়। সব জায়গায়ই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কালে বিনিয়োগ গতি কমে যায়। বেসরকারি খাত সবসময় পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দেয়। পূর্বাভাস খারাপ বা অনিশ্চিত হলে সতর্কতা অবলম্বন করাই যৌক্তিক। বিনিয়োগের ধীরগতির প্রভাব খোদ সরকার কাঠামোর ভেতরেও অনুভূত হয়।
এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনিশ্চয়তাপূর্ণ পরিবেশে আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও ধীরে ধীরে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। যে কর্মকর্তারা সাধারণত প্রকল্প অনুমোদন করতেন কিংবা গতানুগতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতেন, তারা দায়িত্ব পালন করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন না। যে কোনো ফাইল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতো। ফাইল অনুমোদনে দেখা দিল ধীরগতি। যে বিষয়গুলো একসময় নিম্নস্তরেই সমাধান করা যেত, সেগুলোর জন্য ক্রমশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন পড়ল। এক ধরনের অতিসতর্কতামূলক পরিবেশের উদ্ভব ঘটল। কর্মকর্তারা এ সতর্কতা কেন অবলম্বন করলেন, তা সহজেই বোধগম্য। তারা ভাবলেন, এমন অস্থির ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো ভুল করে বসলে তারা পেশাগত ক্ষতির শিকার হতে পারেন। কিন্তু এর প্রভাব ছিল ভয়াবহ। এর ফলে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়। প্রকল্পগুলোয় আসে ধীরগতি। পিছিয়ে পড়ছিল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। নিয়মিত কাজ হয়ে উঠছিল কষ্টসাধ্য।
যেসব সরকারি কাজের জন্য দ্রুত উদ্যোগ দরকার, বিরাজমান অনিশ্চিত পরিবেশে সেসব ক্রমেই গতি হারিয়েছিল। অনেক পর্যবেক্ষক তখন এ স্থবিরতার কথা বর্ণনা করেছেন এভাবে—সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে তা স্থগিত রাখা হচ্ছিল; দায়িত্ব গ্রণের পরিবর্তে আরেক হাতে পাঠানো হচ্ছিল। অর্থাৎ, পদ্ধতিগত সতর্কতার কাছে কাজটাই আসলে হয়ে পড়ছিল গৌণ। এটা বাস্তবতা যে, আত্মবিশ্বাস আচরণকে প্রভাবিত করে। আত্মবিশ্বাস কমে গেলে মানুষ সংশয়ে পড়ে। আর এ সংশয় বিনিয়োগ, প্রশাসন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও আস্থার সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। সংস্কার আপনাআপনি হয় না। কমিশন গঠন করা তুলনামূলকভাবে সহজ। সুপারিশ প্রণয়ন করা সে তুলনায় কঠিন। আর সে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা আরও কঠিন। তাই সংস্কার সফল করতে হলে জনগণের সম্মতি অনিবার্য। জনগণকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, তারা নিষ্ক্রিয় দর্শক নন। তারা এ প্রক্রিয়ার অংশ। রাজনৈতিক অংশীজনের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে, তাদের কথাও শোনা হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সংস্কারকে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টি না দেখে। প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বুঝতে পারে যে, প্রক্রিয়া বৈধ। মজার ব্যাপার হলো, এখানেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি ভয়ানকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক সংস্কার উদ্যোগ এক্ষেত্রে একটি কার্যকর উদাহরণ। মনে রাখা জরুরি, সাংবিধানিক প্রশ্নগুলো শুধু টেকনিক্যাল বিষয় নয়। এ প্রশ্নগুলো রাজনৈতিক ক্ষমতা গঠন এবং সে ক্ষমতা প্রয়োগের মৌলিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত। ফলে এ ধরনের সংস্কার যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিকশিত হয়, সেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের কারণে বৈধতা লাভ করে।
প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন তাই দায়িত্ব, কর্তৃত্ব এবং জবাবদিহিকে প্রভাবিত করে। এমনকি সুপরিকল্পিত সংস্কারও প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে পারে যদি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা মনে করেন যে, তাদের প্রয়োজনীয় আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচনি সংস্কার উদ্যোগ সম্ভবত সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হবে। কারণ, নির্বাচনি নিয়মনীতির বৈধতা অনেকাংশে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। টেকনিক্যালি সঠিক একটি প্রস্তাবও ব্যর্থ হতে পারে যদি মূল অংশীজন প্রক্রিয়াটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বা বর্জন করার মতো মনে করেন। এসব কিন্তু সংস্কারের বিরুদ্ধের যুক্তি নয়। বরং, অর্থবহ সংস্কার অনেক সময় অতিপ্রয়োজনীয়। শিক্ষা নিতে হবে এভাবে যে, সংস্কার ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়া কিন্তু মূল লক্ষ্যের সঙ্গে বিরোধিতা করা নয়। কারণ, তারা একে অপরের পরিপূরক। ঐকমত্য ছাড়া সংস্কার ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ ছাড়া সংস্কার বিতর্কিত হয়ে ওঠে। জনআস্থা ছাড়া সংস্কারকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সুতরাং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে একটি বৃহত্তর সত্য সামনে এনেছে। সেটা হচ্ছে, জনআস্থা একটি সরকারের সবচেয়ে মূল্যবান রাজনৈতিক পুঁজি, যেখানে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
মনে রাখতে হবে, সরকার সমালোচনা সহ্য করে টিকে থাকতে পারে। নীতিগত ব্যর্থতা থেকেও রক্ষা পেতে পারে। তুমুল বিতর্ক-বাদানুবাদ তাদের বাঁচাতে পারে। কিন্তু আস্থা কমতে শুরু করলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। জনগণ সরকারের উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করলে পরবর্তী সময়ে সব সিদ্ধান্তকে টিকিয়ে রাখা তার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারের প্রতিটি সংস্কার উদ্যোগ আরও বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। প্রতিটি উদ্যোগই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। আস্থা কিন্তু সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে। সরকারের প্রতি আস্থা বেশি থাকলে জনগণ অনিশ্চয়তাও সহ্য করতে আগ্রহী। কারণ তারা বিশ্বাস করে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে। আর আস্থা কমে গেলে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্তগুলোও সন্দেহের চোখে দেখা হয়। এ বাস্তবতা কিন্তু ড. ইউনূস জানতেন। কারণ তার কর্মজীবন জুড়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আস্থার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তার সামাজিক উদ্যোগগুলো আস্থার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। আর্থিক ব্যবস্থাগুলো আস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হয়ে তিনি ভুলে গেলেন সরকারের টিকে থাকার সূত্রও ওই আস্থাই।
কোনো সংস্কার কমিশন আস্থা তৈরি করতে পারে না। কোনো সাংবিধানিক সংশোধনী আইন করে আস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। কোনো প্রশাসনিক অধ্যাদেশ বৈধতা সৃষ্টি করতে পারে না। এসব স্বচ্ছতা, দৃঢ়তা, জবাবদিহি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক তৎপরতার মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় ছিল মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ। প্রাতিষ্ঠানিক, সাংবিধানিক কিংবা প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ নয়। তাই দেশে বিরাজিত গভীর অনিশ্চয়তা ও টালমাটাল সময়ে উচ্চাভিলাষী সংস্কার সাধনের জন্য জনগণের আস্থা বজায় রাখাই ছিল সরকারের বড় দায়িত্ব। যে কোনো সরকারের জন্যেই এ চ্যালেঞ্জ থাকে। ফলে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আইন পরিবর্তন করা নয়, বরং জনগণের আস্থা অর্জন করা।
সুত্র: দৈনিক কালবেলা

গাঁজা সেবন করায় ৪ মাসের জন্য জেলে যেতে হলো তাদের!
- কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:১৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় গাঁজা সেবনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের বাগবাড়ি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বাগবাড়ি গ্রামের আব্দুর রহমান শেখের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং ভারাঙ্গা এলাকার কাজেমুদ্দিন মণ্ডলের ছেলে সাইদুল ইসলাম (৪৬)।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে গাঁজা সেবনের সময় ওই দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লা আল মামুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় উভয়কে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
কামারখন্দের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লা আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনের সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার বাড়ি থেকে বস্তা নিয়ে যায় হাসনাত আব্দুল্লাহ!
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
হাসনাত আব্দুল্লাহ ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার বাড়ি থেকে বস্তা নিয়ে যায়। ওই চোরের ঘরের চোরে সংসদে বড় বড় কথা বলে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে এমন কথা বলতে শোনা যায়। হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছে টাকা পাবেন বলেও দাবী করেছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছে টাকা পাব, ৮০০ টাকা। ভার্সিটিতে গাড়ি নিয়ে বসতাম আমি। এসেই বলতো, ভাই চা খাওয়ান, মামা চা খাওয়ান, খাওয়াইতাম।’
ভিডিওতে তাকে আরো বলতে দেখা যায়, ‘সেই চোরের ঘরে চোর ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার বাড়ি থেকে বস্তা নিয়ে যায়।
ওই চোরের ঘরে চোরে সংসদে বড় বড় কথা বলে। চোর তো সংসদেই বসে আছে। পবিত্র জায়গাকে অপবিত্র করে ফেলছে।’

কামারখন্দে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়েলো ৭ দোকান: ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি
- নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:৫৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৭টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন দোকান মালিকগণ।
বুধবার (১০ জুন) ভোরে উপজেলার জামতৈল পূর্ব বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান বুধবার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে চান সুইট নামে দোকানের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধীরে ধীরে পাশের দোকানগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে আগুন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।
ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চান সুইটস, এন্ড মিষ্টান্ন ভান্ডার, মনোহারী দোকান, সেলুন ঘর, আধুনিক কনফেকশনারি এন্ড রকমারি আসবাবাপত্র, মৃতশিল্পের দোকান, ফ্রিজের মেকানিক্যাল দোকানসহ প্রতিটা ঘরের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
চান সুইটসের মালিক লাল মিয়া জানান, আমাদের একেবারে পুরো দোকান পুরে শেষ হয়ে গেছে। ঈদ উপলক্ষে আমাদের চিনি তেল সবকিছুই স্টক করা ছিল। ব্যাংক থেকে কিছু লোন নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কামারখন্দ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ও্যায়ার হাউজ ইন্সপেক্টর ফরিদ উদ্দিন জানান, আমরা ভোর সোয়া ছয়টায় টার দিকে খবর পেয়ে দ্রুত চলে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। পুরোপুরি আগুন নেভাতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগে। আমরা ধারণা করছি বিদ্যুতের শর্ট সার্টিকে থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বিষয়টি নিয়ে আরো আমাদের তদন্ত করতে হবে।

ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, আটক ৫
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৯:২৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
মাদারীপুর সদর থানায় দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (০৮ জুন) রাতে শহরের পুরাতন বিসিক শিল্পনগরী এলাকা থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন— শান্ত ঢালী (২০), সালমান ঢালী (১৯), আবির ঢালী (১৯), আজিম ঢালী (১৮) এবং সাহেব বেপারী (১৭)। তাদের সবার বাড়ি নতুন মাদারীপুর এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে মাদারীপুর শহরের পুরাতন বিসিক শিল্পনগরী এলাকা থেকে শহরের বাদামতলা এলাকার সবুজ ও নতুন মাদারীপুর এলাকার আরিফ চৌকিদারকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, সবুজ একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আরিফ চৌকিদারকে আটকের কারণ জানতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন তার বিরুদ্ধে থাকা ওয়ারেন্ট দেখতে চান। এ নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ আটক দুজনকে সদর থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়ার সময় ও পরে পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
এদিকে আটক দুই ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের স্বজন ও সমর্থকদের একটি অংশ সদর থানার সামনে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সদর থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থানাকে ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আরিফ ও সবুজ নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

হাকিমপুরে নবাগত ইউএনও জর্জ মিত্র চাকমা’র যোগদান, ফুলেল শুভেচ্ছা
- হাসান আলী (হাকিমপুর) দিনাজপুর প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৮:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

স্ত্রীসহ তরুণীদের নগ্ন ছবি ধারণ করায় ছিল তার নেশা; অতপর….
- বিকাশ চন্দ্র প্রামানিক ব্যুরো প্রধান, নওগাঁ। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৮:১৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার এক তরুণীর অশ্লীল ও নগ্ন ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মোঃ আলিফ হোসেন(৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৯জুন) সন্ধ্যা ৭টায় নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে সোমবার (৮জুন) টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিকৃত রুচির ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আলিফ হোসেন ওই জেলার ঘাটাইল উপজেলার চরবিরসিংহ এলাকার আজহারুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বাবা ধামইরহাট থানায় অভিযোগ করেন কে বা কাহারা তার মেয়ের নগ্ন ও অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা হলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করার জন্য ওসিকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি এবং সাইবার বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে একটি বিশেষ টিম খুব দ্রুত সময়ে সোমবার টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরে অভিযান পরিচালনা করে আলিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। সেই সাথে তার মোবাইল জব্দ করে উক্ত ঘটনার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়।
এসপি আরও বলেন, এই মামলার ভুক্তভোগী তরুণীর ছবি ছাড়াও আরও তিনজন মেয়ের অশ্লীল ও নগ্ন ভিডিও-ছবি তার মোবাইলে পাওয়া যায়। এমনকি তার স্ত্রীর নগ্ন ভিডিও সেখানে পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় আলিফ হোসেন ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন ব্যবহার করে তরুণীদের সাথে বন্ধুত্ব করে তোলে। পরে কৌশলে তাদের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে মোবাইলে সংরক্ষণ করতো। এবং ধারণকৃত নগ্ন ছবি দিয়ে ভিকটিমদের জিম্মি করে বিভিন্ন ভাবে ফায়দা লুটার চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, সে এই অপরাধ করে বিকৃত আনন্দ অনুভব করতো। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নওগাঁ জেলা পুলিশ নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফির মতো যেকোনো ঘৃণ্য অপরাধ কঠোর হস্তে দমন করবে।

এসএসসি পাস প্রার্থীদের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৮:০২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
জনবল নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ৩টি পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদন শুরু হয়েছে ৭ জুন সকাল ১০টা থেকে, চলবে ২৮ জুন বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এসএসসি ও এইচএসসি পাসের চাকরি প্রার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবেন।
চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-
পদের বিবরণ
আবেদন শুরু: ৭ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা
আবেদনের শেষ তারিখ: ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল ৪টা
আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে
চাকরির ধরন: স্থায়ী
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক।
বয়স: ৭ জুন ২০২৬ তারিখ ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদন ফি: টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ ১-২ নং পদের জন্য ১১২ টাকা, ৩ নং পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।


ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম। 










































One thought on “দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, তালিকায় ১৭ জেলা”