সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ভাইকে হত্যার পর বিদ্যুতপৃষ্টে মৃত হিসেবে প্রচারের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পূর্ব বিরোধের জের ধরে রইচ উদ্দিন নামে এক কৃষককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই সহদোর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। হত্যার পর বিদ্যুতপৃষ্টে মৃত হিসেবে প্রচার করেছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।

 

 

নিহত রইচ উদ্দিন ও অভিযুক্ত মজনু তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।  তাদের মধ্যে বিদ্যুতচালিত সেচ পাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন, নিহতের ছেলে সিয়াম হোসেন। এর আগে শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিজের সেচ পাম্প ঘর থেকে রইচ উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

সিয়াম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তার বাবা রইচ উদ্দিন ও চাচা মো. মজনুর  মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পুকুরে মাছ চাষ ও ফসলী জমিতে বিদ্যুত চালিত সেচ পাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়ে আসছে। এরই জের ধরে গত বুধবার (১১ মার্চ) তার বাবার প্রায় ৪০ শতাংশ মাছ চাষ পুকুরে জোরপূর্বক মাছ ধরেন তার ভাই মজনু,  আব্দুল লফিত ও মোতালেব।

 

 

এতে বাঁধা দিলে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে রইচ উদ্দিনকে বেধড়ক মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় রইচ উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে ছোট ভাই মজনু তাকে হত্যার হুমকিও দেন। এ ঘটনার তিনদিন পর সেচপাম্পের ঘর থেকে রইচ উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

সিয়াম হোসেন আরো বলেন, আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কারণ আমার বাবা ১৫ বছর ধরে বৈদ্যুতিক চালিত সেচ পাম্পের মাধ্যমে প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ বিঘা ফসলী জমিতে পানি দেয়। উনার কাছে থেকে লোকজন পানি নেয় না। এ নিয়ে মাঝে মধ্যেই বাবার সঙ্গে মজনু কাকার কথা কাটাকাটি হয়েছে। আবার ওই পুকুরে মাছ ধরা বাঁধা দেওয়ায় আমার বাবাকে প্রচুর মেরেছিল। যা নিয়ে থানায় অভিযোগ করেন বাবা। তারপর থেকে তিনি ৭দিনের মধ্যে মেরে ফেলার হুমকি দেন। আর গত শুক্রবার বাবাকে বৈদ্যুতিক চালিত সেচ পাম্পের ঘরে মৃত্যু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। এটা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করছি।

 

 

তবে মজনু তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভাই হয়ে কি নিজের ভাইকে মারতে পারি। এখন মানুষ নানা কথা বলতেছে। আমরা এখন কিছুই বলতে পারছি না। কি আর কমু। ভাই মরে গেছে আমাদের দেহ ফেটে যাচ্ছে।

 

 

তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল। ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে মত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। সে আইনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ভাইকে হত্যার পর বিদ্যুতপৃষ্টে মৃত হিসেবে প্রচারের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৩:০৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পূর্ব বিরোধের জের ধরে রইচ উদ্দিন নামে এক কৃষককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই সহদোর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। হত্যার পর বিদ্যুতপৃষ্টে মৃত হিসেবে প্রচার করেছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।

 

 

নিহত রইচ উদ্দিন ও অভিযুক্ত মজনু তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।  তাদের মধ্যে বিদ্যুতচালিত সেচ পাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন, নিহতের ছেলে সিয়াম হোসেন। এর আগে শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিজের সেচ পাম্প ঘর থেকে রইচ উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

সিয়াম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তার বাবা রইচ উদ্দিন ও চাচা মো. মজনুর  মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পুকুরে মাছ চাষ ও ফসলী জমিতে বিদ্যুত চালিত সেচ পাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়ে আসছে। এরই জের ধরে গত বুধবার (১১ মার্চ) তার বাবার প্রায় ৪০ শতাংশ মাছ চাষ পুকুরে জোরপূর্বক মাছ ধরেন তার ভাই মজনু,  আব্দুল লফিত ও মোতালেব।

 

 

এতে বাঁধা দিলে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে রইচ উদ্দিনকে বেধড়ক মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় রইচ উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে ছোট ভাই মজনু তাকে হত্যার হুমকিও দেন। এ ঘটনার তিনদিন পর সেচপাম্পের ঘর থেকে রইচ উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

সিয়াম হোসেন আরো বলেন, আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কারণ আমার বাবা ১৫ বছর ধরে বৈদ্যুতিক চালিত সেচ পাম্পের মাধ্যমে প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ বিঘা ফসলী জমিতে পানি দেয়। উনার কাছে থেকে লোকজন পানি নেয় না। এ নিয়ে মাঝে মধ্যেই বাবার সঙ্গে মজনু কাকার কথা কাটাকাটি হয়েছে। আবার ওই পুকুরে মাছ ধরা বাঁধা দেওয়ায় আমার বাবাকে প্রচুর মেরেছিল। যা নিয়ে থানায় অভিযোগ করেন বাবা। তারপর থেকে তিনি ৭দিনের মধ্যে মেরে ফেলার হুমকি দেন। আর গত শুক্রবার বাবাকে বৈদ্যুতিক চালিত সেচ পাম্পের ঘরে মৃত্যু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। এটা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করছি।

 

 

তবে মজনু তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভাই হয়ে কি নিজের ভাইকে মারতে পারি। এখন মানুষ নানা কথা বলতেছে। আমরা এখন কিছুই বলতে পারছি না। কি আর কমু। ভাই মরে গেছে আমাদের দেহ ফেটে যাচ্ছে।

 

 

তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল। ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে মত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। সে আইনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।