সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ভারত থেকে আমদানি করা চালে ক্যানসারের উপাদান, বিতরণ স্থগিত

ভারত থেকে আমদানি করা চালের নমুনায় সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী বিষাক্ত উপাদান আফলাটক্সিনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম ও ঢাকার দুটি সরকারি গুদামে রাখা চালের নমুনা পরীক্ষায় এ উপাদান পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর অধিকতর পরীক্ষার জন্য চালানের বাকি ৯ হাজার ৫০০ টন চালের বিতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে খাদ্য অধিদপ্তর।

দেশের একটি বেসরকারি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কাজী শিরীন আক্তার জাহান ওই গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত চালে আফলাটক্সিন তৈরি হতে পারে। নমুনায় যে পরিমাণ আফলাটক্সিন পাওয়া গেছে, তা সহনীয় মাত্রার মধ্যেই রয়েছে। তবে এই মাত্রা অতিক্রম করলে উপাদানটি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপোর (সিএসডি) চালের স্তূপ থেকে তিন সদস্যের একটি ব্রি প্রতিনিধিদল নমুনা সংগ্রহ করে। পরীক্ষায় হালিশহর এবং ঢাকার একটি সরকারি গুদামে সংরক্ষিত চালের নমুনায় আফলাটক্সিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

এমন ফলাফলের পর ওই চালান থেকে গ্রহণ করা বাকি ৯ হাজার ৫০০ টন চালের বিতরণ স্থগিত করে খাদ্য অধিদপ্তর। অধিকতর পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর চালের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এই লটের চাল দুবার পরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষার পর ডিপো কর্তৃপক্ষকে চাল বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনো ডিপোতে পৌঁছায়নি।

চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক রেজওয়ান সাকিবও চাল বিতরণ বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আফলাটক্সিন হলো একধরনের বিষাক্ত পদার্থ, যা সাধারণত কিছু ছত্রাকের মাধ্যমে খাদ্যশস্যে তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আর্দ্র পরিবেশে দীর্ঘদিন খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করা হলে এ ধরনের দূষণের ঝুঁকি তৈরি হয়। নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি আফলাটক্সিনযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তবে নমুনায় উপাদানটির উপস্থিতি পাওয়া গেলেও এর মাত্রা সহনীয় সীমার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। ফলে চালের নিরাপত্তা ও বিতরণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অধিকতর পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

জনতার কণ্ঠ / কেএম

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত থেকে আমদানি করা চালে ক্যানসারের উপাদান, বিতরণ স্থগিত

আপডেট টাইম : ০৯:৩২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ভারত থেকে আমদানি করা চালের নমুনায় সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী বিষাক্ত উপাদান আফলাটক্সিনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম ও ঢাকার দুটি সরকারি গুদামে রাখা চালের নমুনা পরীক্ষায় এ উপাদান পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর অধিকতর পরীক্ষার জন্য চালানের বাকি ৯ হাজার ৫০০ টন চালের বিতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে খাদ্য অধিদপ্তর।

দেশের একটি বেসরকারি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কাজী শিরীন আক্তার জাহান ওই গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত চালে আফলাটক্সিন তৈরি হতে পারে। নমুনায় যে পরিমাণ আফলাটক্সিন পাওয়া গেছে, তা সহনীয় মাত্রার মধ্যেই রয়েছে। তবে এই মাত্রা অতিক্রম করলে উপাদানটি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপোর (সিএসডি) চালের স্তূপ থেকে তিন সদস্যের একটি ব্রি প্রতিনিধিদল নমুনা সংগ্রহ করে। পরীক্ষায় হালিশহর এবং ঢাকার একটি সরকারি গুদামে সংরক্ষিত চালের নমুনায় আফলাটক্সিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

এমন ফলাফলের পর ওই চালান থেকে গ্রহণ করা বাকি ৯ হাজার ৫০০ টন চালের বিতরণ স্থগিত করে খাদ্য অধিদপ্তর। অধিকতর পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর চালের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এই লটের চাল দুবার পরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষার পর ডিপো কর্তৃপক্ষকে চাল বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনো ডিপোতে পৌঁছায়নি।

চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক রেজওয়ান সাকিবও চাল বিতরণ বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আফলাটক্সিন হলো একধরনের বিষাক্ত পদার্থ, যা সাধারণত কিছু ছত্রাকের মাধ্যমে খাদ্যশস্যে তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আর্দ্র পরিবেশে দীর্ঘদিন খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করা হলে এ ধরনের দূষণের ঝুঁকি তৈরি হয়। নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি আফলাটক্সিনযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তবে নমুনায় উপাদানটির উপস্থিতি পাওয়া গেলেও এর মাত্রা সহনীয় সীমার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। ফলে চালের নিরাপত্তা ও বিতরণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অধিকতর পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

জনতার কণ্ঠ / কেএম