সিরাজগঞ্জ , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

ভুটানের ‘মাইন্ডফুলনেস’ নগরে এক দিনেই নির্মিত ১০৮ বৌদ্ধ স্তূপ

ভুটানের গেলেফুতে এক দিনে ১০৮টি বৌদ্ধ স্তূপ নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি স্তূপ তৈরি করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। ১ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: এএফপি

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং তরুণদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা কমাতে ভুটানে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘মাইন্ডফুলনেস’ নগর। এর অংশ হিসেবে এক দিনে ১০৮টি বৌদ্ধ স্তূপ বা ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী।

 

 

 

 

 

রোববার ভারত সীমান্তের কাছে গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটির নির্ধারিত এলাকায় নদীর ১২ কিলোমিটার তীরজুড়ে এসব স্তূপ স্থাপন করা হয়। প্রতিটি স্তূপের উচ্চতা ১৫ মিটার।

 

 

 

 

 

 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যরাতের পর থেকেই নির্মাণকাজ শুরু করেন ৪০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী। বৌদ্ধধর্মে ১০৮ সংখ্যাটিকে পবিত্র মনে করা হয়। ভুটানেও এ ধর্ম ব্যাপকভাবে প্রচলিত। আয়োজকদের ভাষায়, স্তূপগুলো পাথর ও মাটিতে স্থায়ী রূপ দেওয়া প্রার্থনার প্রতীক।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রায় দুই লাখ মানুষ অংশ নেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক বলেন, এক দিনে ১০৮টি স্তূপ নির্মাণের পরিকল্পনা সফল হবে কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

 

 

 

রাজার উদ্যোগে ২০২৪ সালে বিশেষ রাজকীয় সনদের মাধ্যমে গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। ডেনমার্কের স্থপতিরা শহরটির নকশা তৈরি করছেন। টেকসই ব্যবসা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, শিক্ষা, পর্যটন ও আর্থিক সেবায় বিনিয়োগ আকর্ষণ করে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

 

 

 

 

 

বর্তমানে গেলেফু প্রায় ১০ হাজার মানুষের একটি ছোট শহর। ভুটানের রাজধানী থিম্পু থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে, ভারতের সীমান্তঘেঁষা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এর অবস্থান।

 

 

 

 

বেকারত্ব, জন্মহার কমে যাওয়া এবং দক্ষ কর্মীদের বিদেশে চলে যাওয়ার মতো নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে ভুটান। নতুন শহরটি তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং তাদের দেশে থাকতে উৎসাহিত করবে বলে আশা করছে দেশটির সরকার।

 

 

 

 

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অবশ্য বিশ্লেষকদের সংশয় রয়েছে। তবে ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানি জানুয়ারিতে প্রকল্পটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। শহরটিকে ভারতের আসাম রাজ্যের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৯ সালে সেখানে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ

ট্যাগ :

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুটানের ‘মাইন্ডফুলনেস’ নগরে এক দিনেই নির্মিত ১০৮ বৌদ্ধ স্তূপ

আপডেট টাইম : ১১:২২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং তরুণদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা কমাতে ভুটানে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘মাইন্ডফুলনেস’ নগর। এর অংশ হিসেবে এক দিনে ১০৮টি বৌদ্ধ স্তূপ বা ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী।

 

 

 

 

 

রোববার ভারত সীমান্তের কাছে গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটির নির্ধারিত এলাকায় নদীর ১২ কিলোমিটার তীরজুড়ে এসব স্তূপ স্থাপন করা হয়। প্রতিটি স্তূপের উচ্চতা ১৫ মিটার।

 

 

 

 

 

 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যরাতের পর থেকেই নির্মাণকাজ শুরু করেন ৪০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী। বৌদ্ধধর্মে ১০৮ সংখ্যাটিকে পবিত্র মনে করা হয়। ভুটানেও এ ধর্ম ব্যাপকভাবে প্রচলিত। আয়োজকদের ভাষায়, স্তূপগুলো পাথর ও মাটিতে স্থায়ী রূপ দেওয়া প্রার্থনার প্রতীক।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রায় দুই লাখ মানুষ অংশ নেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক বলেন, এক দিনে ১০৮টি স্তূপ নির্মাণের পরিকল্পনা সফল হবে কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

 

 

 

রাজার উদ্যোগে ২০২৪ সালে বিশেষ রাজকীয় সনদের মাধ্যমে গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। ডেনমার্কের স্থপতিরা শহরটির নকশা তৈরি করছেন। টেকসই ব্যবসা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, শিক্ষা, পর্যটন ও আর্থিক সেবায় বিনিয়োগ আকর্ষণ করে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

 

 

 

 

 

বর্তমানে গেলেফু প্রায় ১০ হাজার মানুষের একটি ছোট শহর। ভুটানের রাজধানী থিম্পু থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে, ভারতের সীমান্তঘেঁষা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এর অবস্থান।

 

 

 

 

বেকারত্ব, জন্মহার কমে যাওয়া এবং দক্ষ কর্মীদের বিদেশে চলে যাওয়ার মতো নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে ভুটান। নতুন শহরটি তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং তাদের দেশে থাকতে উৎসাহিত করবে বলে আশা করছে দেশটির সরকার।

 

 

 

 

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অবশ্য বিশ্লেষকদের সংশয় রয়েছে। তবে ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানি জানুয়ারিতে প্রকল্পটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। শহরটিকে ভারতের আসাম রাজ্যের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৯ সালে সেখানে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ