পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। মাঠে রয়েছেন বিজিবি ও র্যাব সদস্যরাও। তবুও সীমান্ত দিয়ে অস্ত্রচোরাচালান পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী, পবা, বাঘা ও চারঘাট সীমান্ত থেকেও অস্ত্র প্রবেশ করছে এবং সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এসব অস্ত্র ভোটের সময় সহিংসতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান গণমাধ্যমকে বলেন, সীমান্তপথে অবৈধ অস্ত্র আনা হচ্ছে, এবং থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি। এগুলো ভোটের সময় ব্যবহার হতে পারে। ভোটার হিসেবে আমি আতঙ্কিত।
রাজশাহী-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু গণমাধ্যমকে বলেন, অবৈধ অস্ত্রধারীরা যে দলেরই হোক, তারা জাতির শত্রু। তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
নির্বাচন সামনে রেখে নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্তবর্তী ২৭ জেলায় অস্ত্র চোরাচালানে জড়িত ৭৮৭ জন লাইনম্যানের তালিকা তৈরি করেছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩ জন, জয়পুরহাটে ১৬ জন এবং নওগাঁয় ১৯ জন রয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য এলাকায়। তাদের ওপর বিশেষ নজরদারি চলছে। বিজিবি নিয়মিত নতুন অস্ত্র কারবারিদের শনাক্ত করে তালিকা হালনাগাদ করছে।
অস্ত্র চালান ধরা পড়ছে না এমন নয়। গত বছরের ২৬ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়ে আটটি বিদেশি পিস্তল, ১৪টি ম্যাগাজিন, ২৬টি গুলি, গানপাউডার ও প্লাস্টিক বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। এসব অস্ত্র সীমান্ত থেকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট রাজশাহী নগরের কাদিরগঞ্জ এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি এয়ারগান, একটি রিভলবার ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার হন মুনতাসিরুল আলম অনিন্দ্য নামের এক ব্যক্তি। তিনি নিষিদ্ধ কার্যক্রমে যুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের চাচাতো ভাই।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জব্দ হয়েছে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪১টি গুলি ও সাড়ে ৯ কেজি বিস্ফোরক। জানুয়ারির শুরুতে শিবগঞ্জের আজমতপুর সীমান্তে আমবাগান থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি ওয়ান শুটারগান। এর আগে একাধিক দফায় পিস্তল ও গুলি জব্দ হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা দাবি করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় বিশেষভাবে কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বড় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্ত অপরাধ কমেছে এবং ভোটের পরিবেশও স্বাভাবিক।
বিজিবির রাজশাহীর ১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার জানান, পদ্মা নদীতে সাতটি স্পিডবোট দিয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। ভোট উপলক্ষে সাত শতাধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 

















