সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভ্রমণ বিল পরিশোধে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের সরকারি কাজে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ভ্রমণ বিল এবং অগ্রিম অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন এই নিয়মে ভ্রমণ বিল পরিশোধ এবং অগ্রিম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় এবং যথাযথ প্রমাণপত্র ছাড়া এখন থেকে ভ্রমণ বিলের অর্থ ছাড় করা সম্ভব হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

গত ৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিপত্র জারি করা হয়।

 

 

 

 

পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি প্রয়োজনে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা দেশের ভেতরে এবং বাইরে ভ্রমণ করে থাকেন। তাদের এই ভ্রমণ ব্যয়ের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিগণ বিষয়ক ইউনিটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে সফরের আগে অগ্রিম বরাদ্দ অথবা সফর শেষে প্রকৃত খরচ পরিশোধের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বিল পাঠানো হয়।

তবে প্রায়ই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে দাখিল না করার কারণে বিল ছাড়করণে জটিলতা তৈরি হয়। এই জটিলতা দূর করতে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নতুন পরিপত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভ্রমণকারী মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর স্বাক্ষর ও সিলসহ প্রস্তুতকৃত বিলের সঙ্গে বেশ কিছু নির্দিষ্ট প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। সেগুলো হলো:

  • বৈদেশিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকার প্রধান কর্তৃক অনুমোদিত সারসংক্ষেপের কপি।
  • দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে জারি করা অফিস আদেশের কপি সংযুক্ত করতে হবে।
  • যাতায়াত খরচের ক্ষেত্রে যানবাহনের ভাড়ার প্রকৃত পরিমাণ উল্লেখ থাকা টিকিট।
  • আকাশপথের ভ্রমণের ক্ষেত্রে টিকিটের সঙ্গে বিমানের বোর্ডিং পাস।
  • অনুমোদিত ভ্রমণ বিবরণী ও ভ্রমণসূচি।
  • আবাসিক হোটেলের প্রকৃত পরিশোধিত বিলের মূল কপি বা প্রমাণক।
  • বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো বিল পরিশোধ করা হলে টাকার সঙ্গে বিনিময় হারের বিবরণী
  • অন্য সব আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ভাউচার বা প্রমাণপত্র।

 

 

 

অনেক সময় অনুমোদিত সময়ের বাইরেও সফরের মেয়াদ বাড়াতে হয়। এ বিষয়ে নতুন পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার প্রধানের অনুমোদিত সারসংক্ষেপে উল্লিখিত ভ্রমণকালের চেয়ে অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করা হলে তার জন্য পুনরায় অনুমোদন নিতে হবে।

 

 

 

 

এছাড়া অগ্রিম অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের সর্বশেষ জারিকৃত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করে ভ্রমণ শেষ করার পর এক মাসের মধ্যে সেই অগ্রিমের সমন্বয় বিল দাখিল করতে হবে। যদি পূর্ববর্তী কোনো ভ্রমণের অগ্রিম বিল যথাসময়ে সমন্বয় করা না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পরবর্তী ভ্রমণের জন্য কোনো নতুন অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নথি ব্যবস্থাপনা এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সহজ করতে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে বিল দাখিল করতে বলা হয়েছে।

 

 

 

 

বিল দাখিলের সময় মূল কপিসহ মোট তিন সেট বিল জমা দিতে হবে এবং সব ফটোকপি অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে।

 

 

 

 

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই নতুন পরিপত্রটি জারি করেছে। এর মাধ্যমে গত বছরের ৪ মের পরিপত্রটি প্রতিস্থাপিত হবে, যা এত দিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ভ্রমণ বিলের ক্ষেত্রে কার্যকর ছিল। নতুন পরিপত্রটি অবিলম্বে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

One thought on “ভ্রমণ বিল পরিশোধে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভ্রমণ বিল পরিশোধে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

আপডেট টাইম : ০৪:৩২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের সরকারি কাজে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ভ্রমণ বিল এবং অগ্রিম অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন এই নিয়মে ভ্রমণ বিল পরিশোধ এবং অগ্রিম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় এবং যথাযথ প্রমাণপত্র ছাড়া এখন থেকে ভ্রমণ বিলের অর্থ ছাড় করা সম্ভব হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

গত ৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিপত্র জারি করা হয়।

 

 

 

 

পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি প্রয়োজনে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা দেশের ভেতরে এবং বাইরে ভ্রমণ করে থাকেন। তাদের এই ভ্রমণ ব্যয়ের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিগণ বিষয়ক ইউনিটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে সফরের আগে অগ্রিম বরাদ্দ অথবা সফর শেষে প্রকৃত খরচ পরিশোধের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বিল পাঠানো হয়।

তবে প্রায়ই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে দাখিল না করার কারণে বিল ছাড়করণে জটিলতা তৈরি হয়। এই জটিলতা দূর করতে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নতুন পরিপত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভ্রমণকারী মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর স্বাক্ষর ও সিলসহ প্রস্তুতকৃত বিলের সঙ্গে বেশ কিছু নির্দিষ্ট প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। সেগুলো হলো:

  • বৈদেশিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকার প্রধান কর্তৃক অনুমোদিত সারসংক্ষেপের কপি।
  • দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে জারি করা অফিস আদেশের কপি সংযুক্ত করতে হবে।
  • যাতায়াত খরচের ক্ষেত্রে যানবাহনের ভাড়ার প্রকৃত পরিমাণ উল্লেখ থাকা টিকিট।
  • আকাশপথের ভ্রমণের ক্ষেত্রে টিকিটের সঙ্গে বিমানের বোর্ডিং পাস।
  • অনুমোদিত ভ্রমণ বিবরণী ও ভ্রমণসূচি।
  • আবাসিক হোটেলের প্রকৃত পরিশোধিত বিলের মূল কপি বা প্রমাণক।
  • বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো বিল পরিশোধ করা হলে টাকার সঙ্গে বিনিময় হারের বিবরণী
  • অন্য সব আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ভাউচার বা প্রমাণপত্র।

 

 

 

অনেক সময় অনুমোদিত সময়ের বাইরেও সফরের মেয়াদ বাড়াতে হয়। এ বিষয়ে নতুন পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার প্রধানের অনুমোদিত সারসংক্ষেপে উল্লিখিত ভ্রমণকালের চেয়ে অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করা হলে তার জন্য পুনরায় অনুমোদন নিতে হবে।

 

 

 

 

এছাড়া অগ্রিম অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের সর্বশেষ জারিকৃত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করে ভ্রমণ শেষ করার পর এক মাসের মধ্যে সেই অগ্রিমের সমন্বয় বিল দাখিল করতে হবে। যদি পূর্ববর্তী কোনো ভ্রমণের অগ্রিম বিল যথাসময়ে সমন্বয় করা না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পরবর্তী ভ্রমণের জন্য কোনো নতুন অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নথি ব্যবস্থাপনা এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সহজ করতে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে বিল দাখিল করতে বলা হয়েছে।

 

 

 

 

বিল দাখিলের সময় মূল কপিসহ মোট তিন সেট বিল জমা দিতে হবে এবং সব ফটোকপি অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে।

 

 

 

 

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই নতুন পরিপত্রটি জারি করেছে। এর মাধ্যমে গত বছরের ৪ মের পরিপত্রটি প্রতিস্থাপিত হবে, যা এত দিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ভ্রমণ বিলের ক্ষেত্রে কার্যকর ছিল। নতুন পরিপত্রটি অবিলম্বে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।