সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

মাধ্যম ছাড়া এলে পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তি গ্রাহকদের

সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে মাধ্যম ছাড়া পাসপোর্ট করতে নানা ধরণের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে গ্রাহককে। বিভিন্ন ধরণের ত্রুটি দেখিয়ে আবেদনকারীকে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার দালাল (মাধ্যম) ধরলে ওই আবেদনই গ্রহণ করার অভিযোগ উঠেছে।

 

 

পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যোগসাজসে এমনটা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারীরা।

 

 

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৯টায় পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায় আবেদন জমা দেওয়ার কাউন্টারে সামনে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। তবে কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা রেকর্ড কিপার আব্দুল কুদ্দুসকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এ সময় গ্রাহকেরা অভিযোগ করেন সকাল ৯টায় অফিসে আসার কথা থাকলেও সোয়া ৯টাতেও কাউন্টারে উপস্থিত হননি তিনি।

 

 

পাসপোর্ট ডেলিভারি কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা উচ্চমান সহকারী আবু সাঈদকেও যথা সময়ে উপস্থিত পাওয়া যায়নি।

 

 

গ্রাহকেরা বলেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ৯টায় অফিসে আসেন, সেখানে সিরাজগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারিরা যথা সময়ে আসেননি।

 

 

রেকর্ড কিপার আব্দুল কুদ্দুস দাবি করেন তিনি ৯টাতেই অফিসে এসেছেন। স্যারের রুমে কাজ ছিল এ জন্য কাউন্টারে বসতে দেরি হয়েছে। একই কথা বলেন উচ্চমান সহকারি আবু সাইদও।

 

 

এদিকে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে না থাকলেও গেটের অদুরে থাকা একাধিক কম্পিউটারের দোকানের সামনে দালালের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। সকাল পৌণে ১০টার দিকে আবেদন ফরম হাতে বেরিয়ে আসেন মনিরুল নামে এক যুবক। ত্রুটি দেখিয়ে তার আবেদনটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

 

মনিরুল বলেন, আমার এনআইডি কার্ডে ডাকঘরের যায়গায় বেতিল রয়েছে। কিন্তু পাসপোর্ট অফিসের আবেদন ফরমে বেতিল হাটখোলা লেখা হয়েছে। ওদের সফটওয়ারেই বেতিল হাটখোলা। তারপরও এটাকে ত্রুটি দেখিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে।

 

 

আবিদ হোসেন নামে এক যুবক বলেন, আমাদের জয়েন্ট ফ্যামিলি। বিদ্যুৎ লাইন আমার চাচার নামে। আমার বাবার নামে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ না থাকায় ফিরিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত টাকা দিলেই আমার আবেদন গ্রহণ করা হতো।

 

 

ইয়ামনি নামে বেলকুচির এক যুবক বলেন, নিজে নিজে আবেদন নিয়ে ঘুরলাম কোন কাজ হলো না। পরে মাধ্যম ধরেছি, আবেদন গ্রহণ হয়েছে। তিনি বলেন, নিজেরা পাসপোর্ট করলে ব্যাংক ড্রাফট আবেদনসহ ৬ হাজার টাকার মতো লাগে। আর মাধ্যম দিয়ে করলে ৮ হাজার টাকা লাগে।

 

 

স্বপন নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমার ছেলের পাসপোর্ট করার জন্য আমি ও আমার ছেলে বেশ কয়েকদিন ঘুরেছি। আমাদের আবেদনে ত্রুটি দেখিয়ে ফিরিয়ে হয়েছে। বাধ্য হয়ে মাধ্যম দিয়ে আবেদন পাঠানোর পর পাসপোর্ট হয়ে গেছে।

 

 

আবেদনকারীরা অভিযোগ করেন, আমরা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাসপোর্ট করার জন্য আসি। কিন্তু আমাদের দফায় দফায় ঘোরানো হয়। দেড় থেকে দুই হাজার টাকা বেশি দিয়ে দালালদের মাধ্যমে এলে খুব সহজেই পাসপোর্ট হয়ে যায়।

 

 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক মুনতাকিম মো. ইব্রাহিম বলেন, ত্রুটিযুক্ত ফরম নেওয়ার সুযোগ নাই। যদি ভুল থাকে আবেদনকারীকে সংশোধন করে নিয়ে আসতে হবে অথবা আমাকে ইনফর্ম করতে হবে, আমাকে জানাতে হবে এই ভুলটার কি সমাধান। আমি দেখে সমাধান দিয়ে দেব।

 

 

মাধ্যম ধরলে আবেদনকারীর আবেদন সহজে গ্রহণ করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এইটা আবেদনাকারিদের ভুল ধারণা। আমাদের এখান থেকে বোঝার উপায় নেই, বাইরে তৃতীয়পক্ষের সহযোগীতা নিয়েছেন কিনা। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করি তৃতীয়পক্ষের সাহায্য নিয়ে যেন আবেদন জমা না দেন।

 

 

তিনি বলেন, যদি কোন কর্মচারির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

অফিসের ভেতরে কারও সংশ্লিষ্ট হওয়ার সুযোগ নাই। অফিসের বাইরে বেশকিছু ফটোকপির দোকান রয়েছে। আমরা জেলা প্রশাসনকে নিয়মিত অবহিত করি। আমি চেষ্টা করবো যেন মোবাইল কোর্ট নিয়মিত করা হয়।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

মাধ্যম ছাড়া এলে পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তি গ্রাহকদের

আপডেট টাইম : ০৮:২৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে মাধ্যম ছাড়া পাসপোর্ট করতে নানা ধরণের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে গ্রাহককে। বিভিন্ন ধরণের ত্রুটি দেখিয়ে আবেদনকারীকে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার দালাল (মাধ্যম) ধরলে ওই আবেদনই গ্রহণ করার অভিযোগ উঠেছে।

 

 

পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যোগসাজসে এমনটা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারীরা।

 

 

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৯টায় পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায় আবেদন জমা দেওয়ার কাউন্টারে সামনে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। তবে কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা রেকর্ড কিপার আব্দুল কুদ্দুসকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এ সময় গ্রাহকেরা অভিযোগ করেন সকাল ৯টায় অফিসে আসার কথা থাকলেও সোয়া ৯টাতেও কাউন্টারে উপস্থিত হননি তিনি।

 

 

পাসপোর্ট ডেলিভারি কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা উচ্চমান সহকারী আবু সাঈদকেও যথা সময়ে উপস্থিত পাওয়া যায়নি।

 

 

গ্রাহকেরা বলেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ৯টায় অফিসে আসেন, সেখানে সিরাজগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারিরা যথা সময়ে আসেননি।

 

 

রেকর্ড কিপার আব্দুল কুদ্দুস দাবি করেন তিনি ৯টাতেই অফিসে এসেছেন। স্যারের রুমে কাজ ছিল এ জন্য কাউন্টারে বসতে দেরি হয়েছে। একই কথা বলেন উচ্চমান সহকারি আবু সাইদও।

 

 

এদিকে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে না থাকলেও গেটের অদুরে থাকা একাধিক কম্পিউটারের দোকানের সামনে দালালের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। সকাল পৌণে ১০টার দিকে আবেদন ফরম হাতে বেরিয়ে আসেন মনিরুল নামে এক যুবক। ত্রুটি দেখিয়ে তার আবেদনটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

 

মনিরুল বলেন, আমার এনআইডি কার্ডে ডাকঘরের যায়গায় বেতিল রয়েছে। কিন্তু পাসপোর্ট অফিসের আবেদন ফরমে বেতিল হাটখোলা লেখা হয়েছে। ওদের সফটওয়ারেই বেতিল হাটখোলা। তারপরও এটাকে ত্রুটি দেখিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে।

 

 

আবিদ হোসেন নামে এক যুবক বলেন, আমাদের জয়েন্ট ফ্যামিলি। বিদ্যুৎ লাইন আমার চাচার নামে। আমার বাবার নামে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ না থাকায় ফিরিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত টাকা দিলেই আমার আবেদন গ্রহণ করা হতো।

 

 

ইয়ামনি নামে বেলকুচির এক যুবক বলেন, নিজে নিজে আবেদন নিয়ে ঘুরলাম কোন কাজ হলো না। পরে মাধ্যম ধরেছি, আবেদন গ্রহণ হয়েছে। তিনি বলেন, নিজেরা পাসপোর্ট করলে ব্যাংক ড্রাফট আবেদনসহ ৬ হাজার টাকার মতো লাগে। আর মাধ্যম দিয়ে করলে ৮ হাজার টাকা লাগে।

 

 

স্বপন নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমার ছেলের পাসপোর্ট করার জন্য আমি ও আমার ছেলে বেশ কয়েকদিন ঘুরেছি। আমাদের আবেদনে ত্রুটি দেখিয়ে ফিরিয়ে হয়েছে। বাধ্য হয়ে মাধ্যম দিয়ে আবেদন পাঠানোর পর পাসপোর্ট হয়ে গেছে।

 

 

আবেদনকারীরা অভিযোগ করেন, আমরা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাসপোর্ট করার জন্য আসি। কিন্তু আমাদের দফায় দফায় ঘোরানো হয়। দেড় থেকে দুই হাজার টাকা বেশি দিয়ে দালালদের মাধ্যমে এলে খুব সহজেই পাসপোর্ট হয়ে যায়।

 

 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক মুনতাকিম মো. ইব্রাহিম বলেন, ত্রুটিযুক্ত ফরম নেওয়ার সুযোগ নাই। যদি ভুল থাকে আবেদনকারীকে সংশোধন করে নিয়ে আসতে হবে অথবা আমাকে ইনফর্ম করতে হবে, আমাকে জানাতে হবে এই ভুলটার কি সমাধান। আমি দেখে সমাধান দিয়ে দেব।

 

 

মাধ্যম ধরলে আবেদনকারীর আবেদন সহজে গ্রহণ করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এইটা আবেদনাকারিদের ভুল ধারণা। আমাদের এখান থেকে বোঝার উপায় নেই, বাইরে তৃতীয়পক্ষের সহযোগীতা নিয়েছেন কিনা। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করি তৃতীয়পক্ষের সাহায্য নিয়ে যেন আবেদন জমা না দেন।

 

 

তিনি বলেন, যদি কোন কর্মচারির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

অফিসের ভেতরে কারও সংশ্লিষ্ট হওয়ার সুযোগ নাই। অফিসের বাইরে বেশকিছু ফটোকপির দোকান রয়েছে। আমরা জেলা প্রশাসনকে নিয়মিত অবহিত করি। আমি চেষ্টা করবো যেন মোবাইল কোর্ট নিয়মিত করা হয়।