সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

মুক্তির আগেই বিতর্কে শ্রদ্ধার ‘ঈথা’

শ্রদ্ধা কাপুর। ছবি - সংগৃহীত

শ্রদ্ধা কাপুর অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ঈথা’ মুক্তির আগেই বিতর্কের মুখে পড়েছে। মহারাষ্ট্রের কিংবদন্তি তামাশা ও লাবণী শিল্পী বিথাবাই নারায়ণগাঁওকরের জীবন অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাকে ঘিরে আপত্তির মূল কারণ হয়ে উঠেছে এর নাম।

 

 

 

ভারতীয় গণমাধ্যম বলিউড লাইফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রকাশিত টিজারে শ্রদ্ধা কাপুরের নতুন লুক প্রশংসা কুড়ালেও মহারাষ্ট্রের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং বিথাবাইয়ের পরিবারের সদস্যরা সিনেমার নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

 

এনসিপির মহারাষ্ট্র শাখার চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান বাবাসাহেব পাতিলের ভাষ্য, বিথাবাই শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি মহারাষ্ট্রের লোকসংস্কৃতি এবং বিশেষ করে তামাশা ও লাবণী শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ। তাই তার জীবন নিয়ে নির্মিত সিনেমার নামও তার নামানুসারেই হওয়া উচিত। তাদের দাবি, ‘ঈথা’ নামটি বিথাবাইয়ের অবদান ও মর্যাদাকে যথাযথভাবে তুলে ধরে না।

এই দাবির সঙ্গে একমত হয়েছেন বিথাবাইয়ের দুই ছেলে কৈলাশ ও রাজেশ নারায়ণগাঁওকর এবং নাতি মোহিত নারায়ণগাঁওকর। তাদের বক্তব্য, সিনেমাটির নাম ‘বিথাবাই’ রাখাই হবে তার প্রতি প্রকৃত সম্মান।

বিথাবাই নারায়ণগাঁওকর ভারতীয় লোকশিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৫৭ ও ১৯৯০ সালে দুবার রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে ভূষিত হন। জীবনের শেষদিকে আর্থিক সংকটে পড়লেও শিল্পচর্চা থেকে সরে আসেননি তিনি। লাবণী ও তামাশা শিল্পে তার অবদান আজও কিংবদন্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

সিনেমার টিজারে বিথাবাইয়ের জীবনের একটি বহুল আলোচিত ঘটনাকে নাটকীয়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, গর্ভবতী অবস্থায় মঞ্চে নৃত্য পরিবেশনের সময় তার প্রসববেদনা শুরু হয়। তিনি মঞ্চ ছেড়ে সন্তান প্রসব করেন, নিজেই নাড়ি কাটেন এবং কিছুক্ষণ পর আবার মঞ্চে ফিরে নাচ সম্পন্ন করেন।

 

 

 

তবে বাস্তব ঘটনা কিছুটা ভিন্ন ছিল। ঐ সময় দর্শকেরাই অনুষ্ঠান বন্ধ করে তাকে বিশ্রামের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। নির্মাতারা জানিয়েছেন, এই দৃশ্যের মাধ্যমে তারা মূলত বিথাবাইয়ের অদম্য মানসিক শক্তি ও শিল্পের প্রতি অসীম নিবেদনকে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

 

 

 

চলচ্চিত্রটিতে শ্রদ্ধা কাপুরের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন রণদীপ হুদা ও মোহাম্মদ জিশান আইয়ুব। ম্যাডক ফিল্মস প্রযোজিত সিনেমাটি আগামী ২৮ আগস্ট মুক্তির কথা রয়েছে। এরই মধ্যে টিজারে শ্রদ্ধা কাপুরের লাবণী নৃত্যশিল্পীর রূপ দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকের মতে, এটি তার অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হতে পারে।

 

 

 

তবে নাম নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি পরিচালক লক্ষ্মণ উতেকর কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ম্যাডক ফিল্মস। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, মুক্তির মাত্র দুই মাস আগে সিনেমার নাম পরিবর্তন করা হলে প্রচারণার কৌশল নতুন করে সাজাতে হবে। আবার নাম অপরিবর্তিত রাখলে বিরোধিতা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

মুক্তির আগেই বিতর্কে শ্রদ্ধার ‘ঈথা’

আপডেট টাইম : ০৫:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

শ্রদ্ধা কাপুর অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ঈথা’ মুক্তির আগেই বিতর্কের মুখে পড়েছে। মহারাষ্ট্রের কিংবদন্তি তামাশা ও লাবণী শিল্পী বিথাবাই নারায়ণগাঁওকরের জীবন অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাকে ঘিরে আপত্তির মূল কারণ হয়ে উঠেছে এর নাম।

 

 

 

ভারতীয় গণমাধ্যম বলিউড লাইফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রকাশিত টিজারে শ্রদ্ধা কাপুরের নতুন লুক প্রশংসা কুড়ালেও মহারাষ্ট্রের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং বিথাবাইয়ের পরিবারের সদস্যরা সিনেমার নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

 

এনসিপির মহারাষ্ট্র শাখার চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান বাবাসাহেব পাতিলের ভাষ্য, বিথাবাই শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি মহারাষ্ট্রের লোকসংস্কৃতি এবং বিশেষ করে তামাশা ও লাবণী শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ। তাই তার জীবন নিয়ে নির্মিত সিনেমার নামও তার নামানুসারেই হওয়া উচিত। তাদের দাবি, ‘ঈথা’ নামটি বিথাবাইয়ের অবদান ও মর্যাদাকে যথাযথভাবে তুলে ধরে না।

এই দাবির সঙ্গে একমত হয়েছেন বিথাবাইয়ের দুই ছেলে কৈলাশ ও রাজেশ নারায়ণগাঁওকর এবং নাতি মোহিত নারায়ণগাঁওকর। তাদের বক্তব্য, সিনেমাটির নাম ‘বিথাবাই’ রাখাই হবে তার প্রতি প্রকৃত সম্মান।

বিথাবাই নারায়ণগাঁওকর ভারতীয় লোকশিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৫৭ ও ১৯৯০ সালে দুবার রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে ভূষিত হন। জীবনের শেষদিকে আর্থিক সংকটে পড়লেও শিল্পচর্চা থেকে সরে আসেননি তিনি। লাবণী ও তামাশা শিল্পে তার অবদান আজও কিংবদন্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

সিনেমার টিজারে বিথাবাইয়ের জীবনের একটি বহুল আলোচিত ঘটনাকে নাটকীয়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, গর্ভবতী অবস্থায় মঞ্চে নৃত্য পরিবেশনের সময় তার প্রসববেদনা শুরু হয়। তিনি মঞ্চ ছেড়ে সন্তান প্রসব করেন, নিজেই নাড়ি কাটেন এবং কিছুক্ষণ পর আবার মঞ্চে ফিরে নাচ সম্পন্ন করেন।

 

 

 

তবে বাস্তব ঘটনা কিছুটা ভিন্ন ছিল। ঐ সময় দর্শকেরাই অনুষ্ঠান বন্ধ করে তাকে বিশ্রামের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। নির্মাতারা জানিয়েছেন, এই দৃশ্যের মাধ্যমে তারা মূলত বিথাবাইয়ের অদম্য মানসিক শক্তি ও শিল্পের প্রতি অসীম নিবেদনকে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

 

 

 

চলচ্চিত্রটিতে শ্রদ্ধা কাপুরের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন রণদীপ হুদা ও মোহাম্মদ জিশান আইয়ুব। ম্যাডক ফিল্মস প্রযোজিত সিনেমাটি আগামী ২৮ আগস্ট মুক্তির কথা রয়েছে। এরই মধ্যে টিজারে শ্রদ্ধা কাপুরের লাবণী নৃত্যশিল্পীর রূপ দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকের মতে, এটি তার অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হতে পারে।

 

 

 

তবে নাম নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি পরিচালক লক্ষ্মণ উতেকর কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ম্যাডক ফিল্মস। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, মুক্তির মাত্র দুই মাস আগে সিনেমার নাম পরিবর্তন করা হলে প্রচারণার কৌশল নতুন করে সাজাতে হবে। আবার নাম অপরিবর্তিত রাখলে বিরোধিতা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।