সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

মুসলিম বিশ্বকে জাগিয়ে তুলেছে ইসরায়েল

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 47

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের লাগাতার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অস্থির হয়ে উঠেছে গোটা অঞ্চল। ফিলিস্তিনের পর এখন লেবানন, সিরিয়া, তিউনিসিয়া এমনকি ইয়েমেনও এ হামলার শিকার হচ্ছে। এতদিন গাজাকে কেন্দ্র করে সীমিত অভিযান চালালেও এবার তা ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের দেশগুলোতে।

আর এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই ইসরায়েল এমন এক দেশকে টার্গেট করেছে, যার সঙ্গে সরাসরি কোনো সংঘাত ছিল না। সেই দেশটি হলো— মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশ কাতার।

গত মঙ্গলবার দোহায় হঠাৎই ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কেঁপে ওঠে আকাশ। টার্গেট ছিল এক সভাকক্ষ, যেখানে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী নেতারা শান্তি আলোচনা করছিলেন। মুহূর্তেই সেই স্থান রক্তে, ধুলোয় আর ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনি নেতৃত্বকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।

এই হামলার পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে। কাতারের উদ্যোগে সোমবার অনুষ্ঠিত হয় এক জরুরি আরব-ইসলামিক সম্মেলন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন আরব লীগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা–ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতারা।

সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জোরালো কণ্ঠে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের দীর্ঘস্থায়ী সমর্থনই ইসরায়েলকে কাতারে হামলার সাহস জুগিয়েছে। তার মতে, এই আঘাত আসলে শক্তি প্রদর্শনের নাম করে ইসরায়েলের গভীর হতাশার বহিঃপ্রকাশ।

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল আসলে মুসলিম বিশ্বকে জাগিয়ে তুলেছে। গাজা, লেবানন, কাতার ও ইরানের ধ্বংসস্তূপ থেকেই একদিন নতুন বিশ্বব্যবস্থা জন্ম নেবে। শুধু কথার সমর্থন দিয়ে ইসরায়েলের বর্বরতা ঠেকানো সম্ভব নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে মুসলিম দেশগুলোকে।’

তিনি সতর্ক করে দেন, পশ্চিমা সমর্থনের ছায়াতেই ইসরায়েল আগ্রাসন চালাচ্ছে। এ হামলাকে যারা মেনে নিচ্ছে বা সমর্থন দিচ্ছে, তাদের অপরাধও ইতিহাসে লেখা থাকবে। পেজেশকিয়ানের আহ্বান—কোনো আরব বা ইসলামি দেশই জায়নিস্ট হামলা থেকে নিরাপদ নয়, তাই এখন সময় একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দোহায় ইসরায়েলের এ হামলা শুধু কাতার নয়, গোটা মুসলিম বিশ্বকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। আঞ্চলিক সংঘাত এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল, যার প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতেও গভীর ছাপ ফেলতে পারে।

ট্যাগ :

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

মুসলিম বিশ্বকে জাগিয়ে তুলেছে ইসরায়েল

আপডেট টাইম : ০৬:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের লাগাতার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অস্থির হয়ে উঠেছে গোটা অঞ্চল। ফিলিস্তিনের পর এখন লেবানন, সিরিয়া, তিউনিসিয়া এমনকি ইয়েমেনও এ হামলার শিকার হচ্ছে। এতদিন গাজাকে কেন্দ্র করে সীমিত অভিযান চালালেও এবার তা ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের দেশগুলোতে।

আর এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই ইসরায়েল এমন এক দেশকে টার্গেট করেছে, যার সঙ্গে সরাসরি কোনো সংঘাত ছিল না। সেই দেশটি হলো— মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশ কাতার।

গত মঙ্গলবার দোহায় হঠাৎই ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কেঁপে ওঠে আকাশ। টার্গেট ছিল এক সভাকক্ষ, যেখানে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী নেতারা শান্তি আলোচনা করছিলেন। মুহূর্তেই সেই স্থান রক্তে, ধুলোয় আর ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনি নেতৃত্বকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।

এই হামলার পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে। কাতারের উদ্যোগে সোমবার অনুষ্ঠিত হয় এক জরুরি আরব-ইসলামিক সম্মেলন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন আরব লীগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা–ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতারা।

সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জোরালো কণ্ঠে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের দীর্ঘস্থায়ী সমর্থনই ইসরায়েলকে কাতারে হামলার সাহস জুগিয়েছে। তার মতে, এই আঘাত আসলে শক্তি প্রদর্শনের নাম করে ইসরায়েলের গভীর হতাশার বহিঃপ্রকাশ।

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল আসলে মুসলিম বিশ্বকে জাগিয়ে তুলেছে। গাজা, লেবানন, কাতার ও ইরানের ধ্বংসস্তূপ থেকেই একদিন নতুন বিশ্বব্যবস্থা জন্ম নেবে। শুধু কথার সমর্থন দিয়ে ইসরায়েলের বর্বরতা ঠেকানো সম্ভব নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে মুসলিম দেশগুলোকে।’

তিনি সতর্ক করে দেন, পশ্চিমা সমর্থনের ছায়াতেই ইসরায়েল আগ্রাসন চালাচ্ছে। এ হামলাকে যারা মেনে নিচ্ছে বা সমর্থন দিচ্ছে, তাদের অপরাধও ইতিহাসে লেখা থাকবে। পেজেশকিয়ানের আহ্বান—কোনো আরব বা ইসলামি দেশই জায়নিস্ট হামলা থেকে নিরাপদ নয়, তাই এখন সময় একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দোহায় ইসরায়েলের এ হামলা শুধু কাতার নয়, গোটা মুসলিম বিশ্বকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। আঞ্চলিক সংঘাত এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল, যার প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতেও গভীর ছাপ ফেলতে পারে।