সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় শীতে কাঁপছে যমুনাপারের মানুষ

মৌসুমের সর্বনিম্ন দশ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে সিরাজগঞ্জের যমুনা পারের মানুষ। প্রচণ্ড শীতের সঙ্গে ঘণ কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় নাকাল হয়ে পড়েছে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের মানুষগুলো। হাসপাতালগুলোতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ শীতজনিতরোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

 

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে পড়লেও দেখা মেলেনি সূর্যের। ঘণ কুয়াশার চাদরে ঢাকা ঢাকা রয়েছে সিরাজগঞ্জ শহরসহ জেলার সকল প্রত্যন্ত অঞ্চল।

 

এদিকে স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়িতে। অপরদিকে তাড়াশে রেকর্ড হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এটিও ওই অঞ্চলে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

 

প্রচণ্ড শীতে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবি মানুষগুলো পড়েছে বিপাকে। তারা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে না পারায় কমে গেছে আয়।

 

রিকশা শ্রমিক আকাশ, রফিকুল, মাসুদ ও উজ্জল হোসেন বলেন, শুক্রবারে আমাদের বেশি কাজকাম হয়। শহরে অনেক মানুষ ঘুরতে আসে। কিন্তু শীতের কারণে শহরে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমাদের কেউ কেউ একশো টাকাও রোজগার করতে পারেনি।

 

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক সোহেল ও মুকুল বলেন, সকাল থেকে বসে রয়েছি। কোন ভাড়া মিলছে না। এভাবে থাকলে সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়বে।

 

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ দুঃস্থদের বাড়ি বাড়ি সশরীরে উপস্থিত হয়ে শীতবস্ত্র তুলে দিচ্ছেন।

 

বাঘাবাড়ি আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, আজকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলিসিয়াস। যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। ১০ এর নীচে নামলেই মাঝারি শৈত প্রবাহ ধরা হবে।

 

অপরদিকে তাড়াশ কৃষি আবহওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, কুয়াশার সঙ্গে উত্তরীয় বাতাস বইছে। যে কারণে শীতের তীব্রতা বেশি। আজ সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি তাড়াশে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

 

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ববধায়ক ডা. আকিকুন নাহার বলেন, প্রচন্ড শীতে শিশু ও বয়স্ক মানুষ নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া জ্বরসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতলে ভর্তি হচ্ছেন। দিন দিন রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই শীত মৌসুমে শিশু-বৃদ্ধদের সাবধানতার সঙ্গে টেক কেয়ার করার পরামর্শ দেন তিনি।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় শীতে কাঁপছে যমুনাপারের মানুষ

আপডেট টাইম : ০২:১৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

মৌসুমের সর্বনিম্ন দশ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে সিরাজগঞ্জের যমুনা পারের মানুষ। প্রচণ্ড শীতের সঙ্গে ঘণ কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় নাকাল হয়ে পড়েছে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের মানুষগুলো। হাসপাতালগুলোতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ শীতজনিতরোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

 

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে পড়লেও দেখা মেলেনি সূর্যের। ঘণ কুয়াশার চাদরে ঢাকা ঢাকা রয়েছে সিরাজগঞ্জ শহরসহ জেলার সকল প্রত্যন্ত অঞ্চল।

 

এদিকে স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়িতে। অপরদিকে তাড়াশে রেকর্ড হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এটিও ওই অঞ্চলে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

 

প্রচণ্ড শীতে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবি মানুষগুলো পড়েছে বিপাকে। তারা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে না পারায় কমে গেছে আয়।

 

রিকশা শ্রমিক আকাশ, রফিকুল, মাসুদ ও উজ্জল হোসেন বলেন, শুক্রবারে আমাদের বেশি কাজকাম হয়। শহরে অনেক মানুষ ঘুরতে আসে। কিন্তু শীতের কারণে শহরে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমাদের কেউ কেউ একশো টাকাও রোজগার করতে পারেনি।

 

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক সোহেল ও মুকুল বলেন, সকাল থেকে বসে রয়েছি। কোন ভাড়া মিলছে না। এভাবে থাকলে সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়বে।

 

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ দুঃস্থদের বাড়ি বাড়ি সশরীরে উপস্থিত হয়ে শীতবস্ত্র তুলে দিচ্ছেন।

 

বাঘাবাড়ি আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, আজকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলিসিয়াস। যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। ১০ এর নীচে নামলেই মাঝারি শৈত প্রবাহ ধরা হবে।

 

অপরদিকে তাড়াশ কৃষি আবহওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, কুয়াশার সঙ্গে উত্তরীয় বাতাস বইছে। যে কারণে শীতের তীব্রতা বেশি। আজ সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি তাড়াশে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

 

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ববধায়ক ডা. আকিকুন নাহার বলেন, প্রচন্ড শীতে শিশু ও বয়স্ক মানুষ নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া জ্বরসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতলে ভর্তি হচ্ছেন। দিন দিন রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই শীত মৌসুমে শিশু-বৃদ্ধদের সাবধানতার সঙ্গে টেক কেয়ার করার পরামর্শ দেন তিনি।